প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

‘ধরা যখন পড়েছি তখন আর চুপ থেকে ফায়দা কী‘ এবার ফেঁসে যাচ্ছেন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা

5357
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

‘স্যার, ধরা যখন পড়েছি, তখন আর চুপ থেকে ফায়দা কী। আমি সব বলব। কিন্তু আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার কইরেন না। আমি একাই দোষী নই। সম্রাট ছাড়া কিভাবে ক্যা*সিনো ব্যবসা হয়? কাউসার ও সাঈদও আমার সহযোগী। জি কে শামীমও এই কারবারে জড়িত। ক্যা*সিনো মানে জু*য়া খেলা। এখানে কাঁচা টাকা। শত শত কোটি টাকার খেলা। কাঁচা টাকা পেলে তহন সবাই হাত পাইতা দেয়। এই টাকার ভাগ পুলিশকে দিছি। পুলিশের বড় বড় স্যাররা নিছে। আমি যুবলীগের নেতা ছিলাম। সবার সঙ্গেই আমার সম্পর্ক ছিল। তাঁদের ধরেন। দেখবেন দেশে আর কেউ ক্যা*সিনো কারবার করতে পারবে না…।’

গ্রে*প্তারের পর জে*রার মুখে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গড়গড় করে গোয়েন্দা পুলিশকে বলেছেন এই কথা। খালেদের এই স্বীকারোক্তিতে বিব্রতবোধ করছেন জিজ্ঞাসাবাদকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে খালেদের তথ্যে ফেঁসে যেতে পারেন পুলিশ সদর দপ্তর ও মহানগর সদর দপ্তরের সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে অনেক শীর্ষ কর্তা; মহানগরের মতিঝিল, রমনা, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা বিভাগের অনেক পুলিশ কর্মকর্তাও। জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র বলছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকেই ক্যা*সিনো কারবারের ‘গ*ডফাদার’ দাবি করেছেন খালেদ। এর বাইরে যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাসহ ঢাকা সিটি করপোরেশনের অনেকের নাম বলেছেন খালেদ।

আরও পড়ুন:  ক্যা*সিনোর মালিক যুবলীগ নেতা খালেদ অ*স্ত্র-ই*য়াবা সহ গ্রে*প্তার

জানা গেছে, খালেদের জি*জ্ঞাসাবাদের তথ্য মা*মলার ত*দারক কর্মকর্তার কাছে জানতে পেরে বিব্রত হয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল শনিবার বিকেলে অ*পরাধবিষয়ক বিশেষ সভা ডাকেন তিনি। এই বৈঠকে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের ডিসি ও থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রাজধানীতে আর কোনো ক্যা*সিনো কারবার যাতে না চলতে পারে সে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যা*সিনো কা*রবারিদের কাছ থেকে যেসব পুলিশ সুবিধা নিয়েছেন তাঁদের বিষয়ে কার কাছে কী ধরনের তথ্য আছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ডিএমপি কমিশনার বৈঠকে বলেছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকে রাজধানীতে ক্যা*সিনো কারবার চলেছে। তবে এখন থেকে ঢাকাতে কোনো ক্যা*সিনো কারবার বা জু*য়ার আসর চলবে না।

জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব মা*মলা দায়ের করা হয়েছে তার তদন্ত করা হচ্ছে। রাজধানীর ক্যা*সিনোগুলো চলার সময় পুলিশের কোনো সহযোগিতা ছিল কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদি কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খালেদের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত অন্তত ২০ জনের নাম পেয়েছে ডিবি। এরই মধ্য তাঁরা গাঢাকা দিয়েছেন। তাঁকে জি*জ্ঞাসাবাদকা*রী পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্যা*সিনো কারবারে তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের মধ্যে অন্তত ২০ জন ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন গোড়ান এলাকার কাউন্সিলর আনিসুর রহমান, যুবলীগ দক্ষিণের সদস্য খায়রুল, উজ্জল রাজু, রইসসহ আরো অনেকে। এঁরা তাঁকে মতিঝিলের শাহজাহানপুর এলাকায় চাঁ*দাবা*জির পাশাপাশি টে*ন্ডার নি*য়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতেন।’

আরও পড়ুন:  যুবলীগের সর্ব্বোচ পদ ‘‘ চেয়ারম্যান’’ পদে সোহেল তাজ?

ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘খালেদের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছি। কিন্তু তাঁদের কেউই এলাকায় নেই।’

উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানের নিজ বাসা থেকে খালেদকে গ্*রেপ্তার করে র্যাব। ওই সময় তাঁর বাসা থেকে ২০১৭ সালের পর নবায়ন না করা একটি শটগান ও ৫৮৫ পিস ই*য়াবা উ*দ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তাঁকে গুলশান থানায় নেয় র্যাব।

তাঁর বিরুদ্ধে এই থানায় অ*স্ত্র, মা*দকদ্র*ব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মা*নি ল*ন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে চারটি মা*মলা দা*য়ের করেন র্যাব-৩-এর ও*য়ারেন্ট অফিসার গোলাম মোস্তফা। এরপর রাতেই খালেদকে আদালতে উপস্থাপন করলে অ*স্ত্র মা*মলায় চার দিন এবং মা*দকদ্*রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা দুটি মা*মলায় সাত দিনের রি*মান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে রাতেই মা*মলা দুটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডি*বি, উত্তর) হস্তান্তর করা হয়। তাঁকে জি*জ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল শনিবার ছিল রি*মান্ডের তৃতীয় দিন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 41.9K
    Shares