প্রচ্ছদ রাজনীতি অন্যান্য দল

কাঁদলেন ভিপি নুরের স্ত্রী, মুখ খুললেন ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে

78
কাঁদলেন ভিপি নুরের স্ত্রী, মুখ খুললেন ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (ঢাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, আটক ও মুক্তির বিষয়ে মুখ খুলেছেন তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার লুনা। 

রাজধানীর মিন্টো রোডে সোমবার রাতে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের লুনা বলেন, ‘আমাদের লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। এটা মিথ্যা মামলা, এটা ষড়যন্ত্র। এটা আমি কেন, আপনারাও জানেন। যারা (পুলিশ সদস্যরা) আমার স্বামীকে এখানে নিয়ে এসেছে তারাও সেটা জানেন। কী হয়েছে দেশবাসী জানে। সবাই জানে।’

নুরের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ ঘৃণ্য ও ভিত্তিহীন দাবি করে লুনা আরও বলেন, ‘আমি আমার হাসবেন্ডকে চিনি। সে ছোটবেলা থেকে কোন ধরনের কোন প্রকৃতির আমি জানি। ও কখনোই এ ধরনের কাজ করতে পারে না এবং সেটা তো সাপোর্ট করার কোনও প্রশ্নই আসে না। ওর মন-মানসিকতা, ওর মেন্টালিটি এমন না। ওর একটা মেয়ে আছে। আমার সবচেয়ে কষ্টের জায়গা এটাই- মেয়েটা (অভিযোগকারী) ওর বিরুদ্ধে এমন একটা অভিযোগ করেছে যা ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। এটা সম্পূর্ণ মানুষের প্ররোচনায় পড়ে করা হয়েছে।’

কথাগুলোতে বলতে বলতে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন ভিপি নুরের স্ত্রী। এমন অভিযোগের কারণে তার পরিবারকে সবার কাছে ছোট হতে হচ্ছে বলেও সাংবাদিকদের জানান লুনা। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫ বছরের সংসার জীবন। আমি কি বলতে পারবো না আমার স্বামী কেমন? আমার আসলে কোনও ভাষা নেই, আমি বলতে পারছি না এমন একটা মিথ্যা, গুজব মামলায় ওকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি এমন পরিস্থিতির শিকার কখনোই হইনি। আমি কখনও ভাবি নাই আমাকে এভাবে মিডিয়ার সামনে আসতে হবে।’

লুনা বলেন, ‘আমি আমার সন্তান লাইভ দেখছি ওকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমার সন্তান তখন দরজায় গিয়ে বলছে বাবা আসছে বাবা আসছে। এটা অন্যায়।’

আরও পড়ুন:  প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা ২টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারকে কিছু জানানো হয়েছিল কিনা- এমন প্রশ্নে লুনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনও কিছু জানানো হয়নি। ওকে যখন নিয়ে আসা হয় তখন বলেছে, নিউরো সার্জারি বিভাগে ভর্তি করানো হবে। কিন্তু মিথ্যা বলে ওকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে নিয়ে গেছে। গাড়ি দেখে তখন বুঝেছি, পুলিশ ওকে নিয়ে যাচ্ছে।’

‘আমার হাসবেন্ড শারীরিকভাবে এমনিতেই অসুস্থ, কয়েকবার ওকে মারা হয়েছে। ওর বুকের পাজরে সমস্যা আছে, মেরুদণ্ডের দুটি হারে ফ্র্যাকচার। আমিও আওয়ামী পরিবারের একজন সন্তান। এভাবে আমাকে আমার পরিবারকে মিডিয়ার সামনে আসতে হবে ছোট হতে হবে ভাবিনি। এটা মিথ্যা মামলা, একটা ষড়যন্ত্র।’

এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নুরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে নুর ও তার সহযোগীরা শাহবার থেকে মৎস ভবনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় নুর ও তার ৬ সহযোগীকে মৎস ভবনের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। রাত ১০টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। 

এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে নুর ও তার সহযোগী সোহরাবকে ডিবির কার্যালয়ে নেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় নুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে গাড়ির সামনে বসে স্লোগান দেন। নুরের স্ত্রী তার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে গাড়ির সাথে ঝুলে পড়েন। পরে লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে নুরকে নিয়ে যায় পুলিশ। রাত পৌনে ১টার দিকে মুছলেখা দিয়ে ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়া পান নুর। 

এরপরই গণমাধ্যমকর্মীদের নুর বলেন, ‘আমরা বুঝিনি, কী কারণে আমাদের ধরে আনা হলো আর কী কারণে ছেড়ে দেয়া হলো। যেটা মনে হচ্ছে, মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানোর জন্যই এটা করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:  জাতীয় সংসদ ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত হয়েছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম

এর আগে গত রবিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগে মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ভিপি নুরকে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

ওই মামলার দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের এ দিন ধার্য করেন। 

এদিকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ভিপি নুরের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

এদিন দুপুরে ব্রেকিংনিউজের সঙ্গে একান্ত আপালকালে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘ওই মেয়েকে টাকা দিয়ে মামলা করানো হচ্ছে। তাকে যেভাবে বলছে, সেভাবে সে কাজ করছে। মূলত আমাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এবং বর্তমান সময়ে আমাদের রাজনৈতিক যে উত্থান এটাকে নষ্ট করার জন্য সরকারি দল মামলা করাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই মেয়েকে দিয়ে কলকাঠি নাড়ানো হচ্ছে। সে এর আগে লালবাগ থানায় অভিযোগ দিলো। আবার একই তরুণী কোতওয়ালী থানায় নতুন করে ডিজিটাল আইন ও ধর্ষণে সহোযোগীতার কথা উল্লেখ করে মামলা করলো।’ 

নুর আরও বলেন, ‘আমরা যেটা জানতে পারলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি সঞ্জিত দাসের বাড়ি ময়মনসিংহে, মেয়েটির বাড়িও ময়মনসিংহে। তারা পেট্রোনাইজ করে এগুলো করাচ্ছে।’ 
নিউজটি পড়া হয়েছে 10030 বার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 13
    Shares