প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গেল গডফাদারের নাম, মির্জা আজমের দুঃখ প্রকাশ

2268
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

জি*জ্ঞাসাবাদে শামীম গণপূর্ত অধিদফতরের ২০ জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তার নাম বলেছেন, যাদের মাসে ২-৫ লাখ টাকা দিতেন তিনি। এর বদলে তারা শামীমকে ঠিকাদারির কাজের টেন্ডার পেতে সাহায্য করতেন। সূত্র জানায়, প্রাথমিক জি*জ্ঞাসাবাদে শামীম জানান যে, ঢাকার বাসাবো ও নিকেতনে তার অন্তত পাঁচটি বাড়ি রয়েছে।

রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট আছে। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তার বাড়ি রয়েছে। তার বাসাবো ও নিকেতনের বাড়ি দুটি খুবই অত্যাধুনিক। সেখানে গণপূর্তের যুগ্ম ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে সব ধরনের ব্য*বসায়িক আ*লাপ ও লেনদেন করতেন। সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল।

সূ*ত্র আরও জানায়, প্রাথমিক জি*জ্ঞাসাবা*দে এই টেন্ডার কিং সরকারি বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘু*ষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। জি*জ্ঞাসাবাদে শামীম জানান, ঠিকাদারির কাজ পাইয়ে দিতে তিনি দুই কর্মকর্তাকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন।

জি*জ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম আরও জানান, প্রতি টেন্ডারে ৮-১০ শতাংশ কমিশন দেওয়া লাগত তার। অনেক সময় নির্দিষ্ট কমিশনের পরও ঘু*ষ দিতে হতো। পূর্ববর্তী ও ভবিষ্যতের কাজ পেতে এখন পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদফতরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে তিনি ঘুষ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা ও গণপূর্তের ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক কর্মকর্তাকেও ঘু*ষ দিয়েছেন ৪০০ কোটি টাকা- এমন দাবি করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ জেরার মুখে অনেকের নাম ফাঁ*স করেছে। যুবলীগ আওয়ামী লীগ থেকে শুরু পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও বলতে শুরু করেছে। পুলিশকে কী পরিমাণ টাকা দেওয়া হতো, তার হিসাবও দিয়েছেন ক্যাসিনো কিং খালেদ।

সূত্র জানিয়েছে, খালেদ বলেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি সম্রাটই ক্যা*সিনো*র আসল রূপকার। তাঁর হাত ধরেই ঢাকার মতিঝিল থানার বিভিন্ন এলাকার স্পোর্টস ক্লাবগুলোয় ‘হা*উজি’ আসরকে ক্যা*সিনো*তে উন্নীত করা হয়। এ কাজে সম্রাটের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান খালেদ। তার দেওয়া তথ্য মতে, এসব ক্লাবের ক্যা*সিনো*তে খেলা এবং সেগুলো পরিচালনায় যুক্ত হন আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাও।

আরও পড়ুন:  আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নাটকীয় পরিবর্তন

খালেদের এই স্বীকারোক্তিতে বিব্রতবোধ করছেন জিজ্ঞাসাবাদকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র বলেছে, এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে খালেদের তথ্যে ফেঁসে যেতে পারেন পুলিশ সদর দফতর ও মহানগর সদর দফতরের সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে অনেক শীর্ষ কর্তা; মহানগরের মতিঝিল, রমনা, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা বিভাগের অনেক পুলিশ কর্মকর্তাও।

জি*জ্ঞাসাবা*দকারী সূত্র বলছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকেই ক্যাসিনো কারবারের ‘গডফাদার’ দাবি করেছেন খালেদ। এর বাইরে যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাসহ ঢাকা সিটি করপোরেশনের অনেকের নাম বলেছেন খালেদ। অপরদিকে আ*ন্ডারওয়া*র্ল্ড কিং খ্যাত শফিকুল আলম ফিরোজ ওরফে কালা ফিরোজকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কালা ফিরোজ দেশের আ*ন্ডারওয়ার্ল্ডের নেপথ্য কারিগর। তার মূল ব্যবসা ছিল বিদেশে লোক পাঠানো। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশেই রয়েছে তার অফিস। রাজধানীর সেভেন স্টার গ্রুপের নেপথ্য গডফাদার এই কালা ফিরোজ। সুইডেন আসলামের শেল্টারদাতা কালা ফিরোজের নির্দেশে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে খুন-খারাবিসহ বড় ধরনের ঘটনাও ঘটে। তবে তিনি থেকে যেতেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ২০০৬ সালের ঘটনা। ওই সময়ে রাজধানীর পরীবাগে আলোচিত ‘দি তুর্কি অ্যাসোসিয়েটস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাঁ*দা না পেয়ে ব্রা*শফায়া*র ক*রে হ*ত্যা করা হয়েছিল রমজান আলী মাস্টার নামে এক ব্যক্তিকে।

সূত্র জানায়, আর এই হা*মলায় জড়িত অভিযোগে সরাসরি নাম উল্লেখ করে যে কয়েকজনকে আ*সামি করা হয়েছিল তাদের অন্যতম ছিল শফিকুল আলম ফিরোজ ওরফে কালা ফিরোজ। যিনি রাজধানীর কলাবাগান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

আরও পড়ুন:  আওয়ামী লীগের দু‘গ্রুপে সংঘর্ষ নিহত ২ , মন্ত্রীর সভা পন্ড

গত শুক্রবার বিকালে কলাবাগান স্পোর্টিং ক্লাবে অ*বৈধ জু*য়া বা ক্যা*সিনো পরিচালনার দায়ে র‌্যাব কালা ফিরোজকে গ্রে*ফতার করে। অবশ্য কৃষক লীগ থেকে ফিরোজকে বহিষ্কারও করা হয়। জানা গেছে, এই শফিকুল আলম ফিরোজ এক যুগ আগেও স*ন্ত্রাসী কালা ফিরোজ নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পরিচিত ছিল।

সময়ের পালাবদলে অ*পরাধ জগতের এই মানুষ খোলস পাল্টে হয়ে যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়াও তিনি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সিনিয়র সহসভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্বও দেয়। এখানেই শেষ নয়, এমন একজন চিহ্নিত স*ন্ত্রাসী গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনের জন্য ব্যাপক চেষ্টা-তদবির চালায়।

দুঃখ প্রকাশ করলেন ও লজ্জিত হলেন মির্জা আজম

সাম্প্রতিক সময়ে শুদ্ধি অভিযানে যে একের পর এক যুবলীগ নেতার নাম বেরিয়ে আসছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘২৬ বছর আমি যুবলীগের রাজনীতি করেছি। এর বেশিরভাগ সময় জুড়েই রাজপথে বিএনপি-জামাতের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি। যেকোনো অন্*যায়ের বিরুদ্ধে প্র*তিবাদ করেছি। অথচ এখন যা হচ্ছে সেটা সত্যিই দুঃখজনক।’

সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যুবলীগ সবসময়ই যেকোনো অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করেছে। যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে আন্দোলন করেছি। ২৬ বছর আমি এই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। এখন যুবলীগের রাজনীতির নামে যা ঘটছে তার জন্য আমি লজ্জিত। বিতর্কিত বিভিন্ন ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের নাম আসাটা সত্যিই লজ্জার বিষয়।

উল্লেখ্য, মির্জা আজম আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন। পরবর্তীতে আশির দশকে তিনি যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 2.9K
    Shares