প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ যে ১০ টি বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তিনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন...

যে ১০ টি বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তিনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না

10930
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

*সাম্প্রতিক অভিযানে আওয়ামী লীগ শুধু ধরপাকড় নয় বরং দলকেও শুদ্ধ করতে চায়। দলের মধ্যে একটা শুদ্ধাচার নীতি বা কৌশল প্রণয়ন করতে চায়। আওয়ামী লীগের দা*য়িত্বশীল সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে দেশে তোলপাড় চলছে। *আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিভিন্ন ছোটবড় নেতার বাড়ি কিংবা অফিসে অভিযান চালাচ্ছে। উ*দ্ধার করছে কোটি কোটি টাকা। জাতির পি*তার আদর্শে গড়া একটি সংগঠনের জন্য এরকম কলঙ্ক দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। এ*জন্যই আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মনে করছে যে, আওয়ামী লী*গের ভিতরে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত।

advertisement

*একজন সংগঠনের নেতাকর্মী কি ক*রতে পারবেন কি করতে পারবেন না সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট গাইড লাইন থাকা দরকার। এজন্যই আগামী কাউন্সিল অধিবেশন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ একটি শুদ্ধাচার কৌ*শল প্রণয়ন করছে। এই শুদ্ধাচার কৌশল অনুসরন না করলে দলের ভিতর তা*ৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোন দল থেকে কে এসেছেন তার হিসেব করে এখন লাভ নেই।

*বড় কথা হচ্ছে তারা আওয়ামী লীগার এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তখন তারা আওয়ামী লীগপন্থী। তিনি বলেন, এই বা*স্তবতায় আমাদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কি করা যাবে কি করা যাবে না এই সম্বন্ধে নে*তাকর্মীদের সুষ্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত একটি উপকমিটিকে এই শুদ্ধাচার কৌশল প্র*ণয়ণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ*কজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এই কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০ টি বিষয়কে চিহ্নিত করেছে যে বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িত থা*কলে একজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তিনি আ*ওয়ামী লীগ করতে পারবেন না।

এই ১০টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:

১. কমিটি বাণিজ্য করা যাবে না:

*গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কমিটি বাণি*জ্য। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।  টাকার বিনিময়ে অযোগ্য সুবিধাবাদী এবং সন্ত্রাসী টেন্ডারবাজদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তারা কমিটির পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে। এই কমিটি বন্ধ করা হবে। শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে অথবা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বি*রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:  ক্ষমতা তো গেল, বেরুবেন কোন দিক দিয়ে!

২. কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া সংগঠনে কাউকে নেওয়া যাবে না:

*দেখা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার একটি বড় অংশই হা*ইব্রিড। তারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। অ*নুমোদন ছাড়া দলে সুবিধাবাদীরা জায়গা করে নিয়েছে। এটা বন্ধের জন্য আওয়ামী লীগের নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া কা*উকে দলে নেওয়া যাবে না।

৩. টেন্ডারের জন্য তদবির করা যাবে না:

*টেন্ডার বা*ণিজ্য আওয়ামী লীগের বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীরা টে*ন্ডার বা*ণিজ্যের দিকে ঝুঁকেছেন। প্রভাব বিস্তার করে টে*ন্ডার বিক্রী করে দেওয়া বা কাজ না করার একটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এজন্যই আওয়ামী লীগ তার নতুন নী*তিমালায় নির্দেশনা দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, টেন্ডারের জন্য কারো কাছে তদ্বির করা যাবে না। তবে অবশ্যই বৈধ ব্যবসা করা যাবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে টেন্ডারের কাজ পেলে কোন অসু*বিধা নেই।

৪. উন্নয়ন কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না:

*দেখা গেছে অনিয়মের সূত্রপাত হয় বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের উ*ন্নয়নগুলোতে তারা হস্তক্ষেপ করে। তখন প্রশাসন বাধ্য হয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব ওই নেতাকে কাজ দিয়ে বড় রকম ক*মিশন হাতিয়ে নেয়। এটা বন্ধ কারার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য উ*ন্নয়নকাজে প্রশাসনের উপর হস্তক্ষেপকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

৫. আটক ব্যক্তির জন্য থানায় তদবির করা যাবেনা:

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটা বড় অ*শুভ প্রবণতা দেখা দিয়েছে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ছিনতাইকারীদের জন্য থানায় তদবির করা এবং এখান থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বড় অংকের টাকা উপার্জন করে বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ গেছে। সেই জ*ন্যই আওয়ামী লীগ নতুন নীতিমালায় নির্দেশনা দিচ্ছে আটক ব্যক্তির জন্য থানায় ত*দবির করা যাবেনা।

আরও পড়ুন:  এই মুহুর্তে দলের প্রভাবশালী নেতাদের দুঃসংবাদ দিতে ইচ্ছুক নয় আওয়ামী লীগ

৬. নিয়োগ বাণিজ্য:

*আওয়ামী লীগের বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে নিয়োগ বাণিজ্য। পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নিয়োগের জন্য আওয়ামী লীগের ছোট বড় সব পর্যায়ের নে*তারাই তদবির করে থাকেন এজন্য নি*য়োগে তদবির নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

৭. মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবীদের প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা:

*সারাদেশের আইন প্রযোগকারী সংস্থার পাঠানোর তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্র*ভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ও মদদে। এজন্য মাদকসেবী এবং ব্যবসার সঙ্গে জ*ড়িত কারও সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স*ম্পর্ক রাখতে পারবেনা।

৮. সন্ত্রাসী হিসাবে মামলা আছে এমন কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা:

*আওয়ামী লীগের নেতারা বিশেষকরে উচ্চ পর্যায়ের নেতারা যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন তাদের প্রভাব বিস্তার করার জন্য এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শন করার জন্য সন্ত্রাসী পালেন এবং এজন্য আওয়ামী লীগ তার শুদ্ধাচার কৌশলে বলছে, সন্ত্রাসী হিসাবে মামলা আছে এমন কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা।

৯. জ*ঙ্গিবাদ:

আওয়ামী লীগের একটা বড় সমস্যা জ*ঙ্গিবা*দ। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে যেন জ*ঙ্গিবা*দ লালন না হয় এজন্য আওয়ামী লীগ তার শুদ্ধাচার কৌশলে বলেছে জ*ঙ্গীবাদে*র জড়িত অভিযুক্তদের পক্ষে কোন রকম তৎপরতা করা যাবেনা।

১০. নারী নি*র্যাতন কিংবা যৌ*ন হ*য়রা*নি:

এধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের কর্মী বা নেতা থাকতে পারবেনা। দলের ভিতর তার বিরুদ্ধে শা*স্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেছেন, আগামী কাউন্সিরের আগে স্থানীয় পর্যায়ে সম্মেলন গুলো হবে এই সম্মেলনে দশটি নীতি সুনির্দিষ্ট ভাবে বসানো হবে এবং যারাই এই দশটি নীতি লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শা*স্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 50.3K
    Shares
advertisement