প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ সম্রাটের জন্য শেখ হাসিনার কাছে তদবির করেছিলেন নানক

সম্রাটের জন্য শেখ হাসিনার কাছে তদবির করেছিলেন নানক

4345
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

আওয়ামী যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি করতে চাননি। যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীও সম্রাটকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর কবির নানকের অনুরোধেই সম্রাটকে দক্ষিণের সভাপতি করা হয়েছিল। আজকে যখন ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা, নেতাদের বিরুদ্ধে অন্তহীন অভিযোগ উঠছে তখন অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে ।

advertisement

যুবলীগে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজম যখন নেতৃত্বে আসেন, তখন ওমর ফারুক চৌধুরী হয়েছিলেন যুবলীগের সহ-সভাপতি। রাজনীতির ঘরোয়া আড্ডায় তাদেরকে বলা হতো ‘ত্রিরত্ন’। তারা তিনজন হরিহর আত্মা ছিলেন, একে অন্যকে ছাড়া চলতেন না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতসহ সমস্ত কর্মসূচিতে তারা তিনজন একসঙ্গেই অংশগ্রহণ করতেন।

কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের সময় জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজম পালিয়ে ভারতে চলে যান। ওমর ফারুক চৌধুরী তখন ঢাকায় ছিলেন। আর তখনই যুবলীগের নেতৃত্ব তার হাতে চলে আসে। যুবলীগকে সংগঠিত করা, ওয়ান ইলেভেনে শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করা, শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এ কারণেই ওয়ান ইলেভেনের পরে ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগের পাদপ্রদীপে আসেন।

আরও পড়ুন:  ঐক্যফ্রন্টে ভাঙন: মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী আ’লীগে আসছেন?

২০০৯ এ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসীন হলে জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী হন, আর মির্জা আজম হন এমপি এবং হুইপ। ফলে এসময় যুবলীগের পুরো কর্তৃত্ব চলে আসে ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে। আর প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরে জাহাঙ্গীর কবির নানক যুবলীগের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন।

তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওমর ফারুক চৌধুরী। কিন্তু যখন যুবলীগের কাউন্সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয় তখন জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ওমর ফারুক চৌধুরী দুইজনেই যুবলীগের চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তদবির করেছিলেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিশেষ করে মির্জা আজম সেসময় যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনঢ় অবস্থানে ছিলেন। তিনি ওমর ফারুক চৌধুরীকেই চেয়ারম্যান করেন। এসময় যুবলীগের পুরো কমিটিই ছিল নানক-আজমের কমিটি।

আরও পড়ুন:  শুদ্ধি অভিযানের ৫ দফা নির্দেশনা যেন কোন অবস্থাতেই লংঘন না হয়, ক্র*সফায়া*র নিষিদ্ধ

শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ সারাদেশের নেতৃত্ব ছিল নানক-আজমের। এজন্যই ওমর ফারুক চৌধুরী এই নেতৃত্বের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কারণ তাদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অনেক অভিযোগ ছিল। শেখ হাসিনাও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছিলেন।

কিন্তু সেসময় জাহাঙ্গীর কবির নানক শেখ হাসিনার কাছে ব্যক্তিগত অনুরোধ করেন এবং সম্রাটের বিভিন্ন ভূমিকা, অতীতে তার অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি সম্রাটকে দক্ষিণের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন। নানকের এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ওমর ফারুক চৌধুরীও তার আপত্তি তুলে নেন। ফলে সম্রাট হয় দক্ষিণের সভাপতি।

এরপরে ঘটে অন্য কাহিনী। ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তবে রাজনৈতিক মহলে জানা গেছে যে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সাংগঠনিক দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েই ওমর ফারুক চৌধুরী তার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 20.6K
    Shares
advertisement