প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

পঞ্চম দফা বন্যার কবলে ১০ জেলা, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

8
পঞ্চম দফা বন্যার কবলে ১০ জেলা, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঢাকা : কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্দা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের অনেক এলাকা। পানিবন্দি হয়েছে অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ।

বেড়ে চলছে কুড়িগ্রামের ধরলা ও তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি। কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। দ্রুত পানি বাড়ায় কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী ও উলিপুরসহ ৯ উপজেলার শতাধিক চর নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচে আছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি।

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে লালমনিরহাটের অনেক নীচু এলাকা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁয়েছে। তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও খুলে দেয়া হয়েছে ব্যারাজের ৪৪টি গেট। তলিয়ে গেছে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নিচু এলাকার রোপা আমন।

রংপুরে পঞ্চম দফা বন্যা আর ভাঙনে গৃহহীন অন্তত ৩০০ পরিবার। ভাঙন রোধে কাজ করার কথা বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীর পানি বাড়ায় প্লাবিত হয়েছে গাইবান্ধার ৫ উপজেলা।

আরও পড়ুন:  তুই আমাকে শেষ করেছিস, আরিফকে সাবরিনা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনা বইছে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। তলিয়ে গেছে অনেক নিচু এলাকা। সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিতে কাজীপুর ও চৌহালীর নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন।

গত কয়েকদিন ধরে গড়ে প্রায় দুইশ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় সুনামগঞ্চের যাদুকাটা নদী বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপরে বইছে। টানা বৃষ্টিতে চতুর্থবারের মতো বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সুনামগঞ্জে। পাহাড়ি ঢলে এরইমধ্যে কয়েকটি সড়কে পানি উঠেছে। এতে জেলা শহরের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

আর ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত কয়েকদিন গড়ে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হওয়ায় সুরমা এবং মেঘনা অববাহিকায়ও বন্যা দেখা দেখা দিয়েছে।

জোয়ারের পানিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ১০ এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে কমলনগরের মাতাব্বরনগর তীর রক্ষা বাঁধ।

মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জের অন্তত ৫ লাখ মানুষ রয়েছে আতঙ্কে।

তবে বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যমুনা, ধরলা, তিস্তা ও যাদুকাটা নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বড় কোনো বন্যার সম্ভাবনা নেই। মৌসুমী বায়ু এখনো সক্রিয় থাকায় উজানে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে নদীর পানি বাড়ছে যা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে অক্টোবরের শুরুতে মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ নিষ্ক্রিয় হলে বন্যার সমাপ্তি ঘটবে।

আরও পড়ুন:  কাল সারা দেশে ধর্ষণবিরোধী পুলিশ সমাবেশ

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সমতলের ১০১ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ৬৬ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে অক্টোবরের শুরুতে মৌসুমী বায়ু নিষ্ক্রিয় হয়ে এলে বন্যার প্রভাব কমে যাবে। জুনের মাঝামাঝি থেকে মৌসুমীবায়ুর প্রভাব ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া বন্যা প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়। তিন দফায় বন্যা প্লাবিত হয় দেশের ৪০ জেলা।
নিউজটি পড়া হয়েছে 10018 বার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares