প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

আমার চিকিৎসা হচ্ছে না, আমি নিরপরাধ, জামিন আমার হক

37
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

বেগম খালেদা জিয়া সাথে দেখা করে বিএনপির ৪ এমপি জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া তাদের বলেছেন যে তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে না। জামিন তাঁর হক। তিনি নিরপরাধ।

বুধবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা ফুলের তোড়া নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়ার চিকিৎসাধীন ইউনিটে প্রবেশ করেন এবং চারটার দিকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

৪ সংসদ সদস্য হলেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান জাহিদ, বগুড়া-৬ আসনের এমপি জিএম সিরাজ, বগুড়া-৮ আসনের মোশাররফ হোসেন এবং ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়ার কেবিনে প্রবেশ করেন বিএনপির এমপিরা। সেখান থেকে বেরিয়ে বিকেল চারটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

বিএনপি নেতা ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৮ মাস হলো আমাদের নেত্রী কারাগারে। একটা সাজানো মামলায় ফরমায়েসি রায়ে তিনি কারাবন্দী। অত্যন্ত অমানবিকভাবে ম্যাডামকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তার জামিনের বিষয়ে একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘আপনি আমলাতান্ত্রিক পরামর্শ না নিয়ে দয়া করে রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় আমাদের নেত্রীকে ছেড়ে দিন। তাকে জামিনের ব্যবস্থা করে দিন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া ম্যাডামের মুক্তি হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমস্ত শরীর তার (খালেদা জিয়া) অবশ। হাত-পা চলছে না, মাথার চুল আঁচড়াতে পারেন না, বাথরুমে নিজে যেতে পারেন না, খেতেও পারে না। সবকিছুতে তার সাহায্য নিতে হয়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই- আপনি নিজে একবার আসুন, দেখে যান আমাদের তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে। আমি নিশ্চিত; আপনি যদি একবার এসে আমাদের নেত্রীকে দেখে যান, আপনার মানবতাবোধ জাগ্রত হবে। আমি নিশ্চিত; আপনার মায়া হবে।’

আরও পড়ুন:  ঈদের আগেই কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি

এক প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি; এটা পাবলিক পারসেপশন। সেটা বুঝতে হবে। আজকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কি আপনার হবে? আজকে আমাদের হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট বিব্রত বোধ করেন তার (খালেদা জিয়া) জামিনের বিষয়ে। তো এখানে অবশ্যই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি চলে আসে।’

খালেদা জিয়াকে দেখে আসার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথমে কথা বলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম হাত নাড়তে পারছেন না। নিজে চলতে পারছেন না কোনো সাহায্য ছাড়া। এবং এখানে উনার সেরকম কোনো চিকিৎসাও হচ্ছে না। বিশেষায়িত হাসপাতালে উনার চিকিৎসা প্রয়োজন এবং আশু প্রয়োজন। উনার যে বয়স এবং শারীরিক অবস্থা যা আমরা দেখলাম; সত্যি সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চান বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে জানিয়ে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:  রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এখানে সমঝোতার কোনো বিষয় না। আজকে সামগ্রিকভাবে উনি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উনি একজন সাহসী নেত্রী। সুতরাং উনার এ অবস্থায় উনি যৌক্তিকভাবে জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। এখানে কোনো রাজনীতি নেই। আমি স্পষ্টভাবেই জানাচ্ছি, ওনার যে শারীরিক অবস্থা, গতকালকে আমি যে বিবৃতি দিয়েছি তা একেবারেই সত্য।’

বিএসএমএমইউতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন দলীয় চার এমপি
বিএসএমএমইউতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন দলীয় চার এমপি

খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে তাকে বিএনপির রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চাচ্ছেন কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘এ কথা ঠিক নয়। তিনি নানা রোগে আক্রান্ত। তার জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। সে কারণে আমরা বলেছি তাকে জামিন দেন এবং তার চিকিৎসা করাবো। এর মধ্যে কোনো মাইনাসের রাজনীতি নেই।’

সাক্ষাতে ওবায়দুল কাদের কী বলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি আজ সন্ধ্যায় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।’

এর আগে গতকাল বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে দেখা করেন চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি আমিনুল ইসলাম।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 109
    Shares