প্রচ্ছদ অপরাধ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আ.লীগের প্রভাবশালী নেতা মিজানের অ*পরাধসাম্রাজ্য

166
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

এক সময় ছিলেন ফ্রিডম পার্টির বড় নেতা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হ*ত্যার উদ্দেশে তার বাসায় হা*মলা করেছিল যারা, সেই দলেরও একজন তিনি। অথচ সময়ের স্রোতে পাল্টে গেছে অনেক কিছু। ভোল পাল্টে গেছে তার, পাল্টে গেছে নামটি পর্যন্ত।

তিনি এখন আওয়ামী লীগের প্র*ভাবশালী নেতা; রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গড়ে তুলেছেন অ*পরাধ সাম্রাজ্য। মা*দক কা*রবার থেকে শুরু করে খু*ন-খা*রাবি পর্যন্ত নানা অ*পরাধমূলক কা-ে তার নাম উঠে এসেছে বারবার। আওয়ামী লীগের এ নেতার নাম হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান। আগে তিনিই ছিলেন মিজানুর রহমান মিজান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাবিবুর রহমান মিজানের নামে মোহাম্মদপুর থানায় ১৯৯৬ সালে ইউনূস হ*ত্যা এবং ২০১৬ সালে সাভারে জো*ড়া খু*নের মা*মলা রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্প এলাকায় মা*দক কা*রবারে*র অন্যতম নি*য়ন্ত্রণকারীও তিনি। মা*দক কা*রবারে নে*পথ্য পৃ*ষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে অ*বৈধভাবে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন।

মানুষের জমি জ*বরদ*খলের কারণে বেশ কয়েকবার জে*লও খে*টেছেন মিজান। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মাতব্বর তুহিন ই*য়াবা কা*রবার করে শূ*ন্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ধানম-ির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হা*মলা চালায় ১০-১২ জনের একটি দল।

এ দলে ছিলেন তৎকালে ফ্রিডম পার্টির বড় নেতা মিজানও। দলটি সেখানে বো*মার বি*স্ফোরণ ঘ*টিয়ে গু*লি চা*লা। এ সময় শেখ হাসিনা বাড়ির ভেতর অবস্থান করছিলেন। তার বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীরাও পা*ল্টা গু*লি চালালে হা*মলাকা*রীরা এ*কপর্যায়ে কে*টে পড়ে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ হাসিনাকে হ*ত্যাচে*ষ্টাকা*রীদের অন্যতম ছিলেন মিজানুর রহমান মিজান। এ কা-ে ধানম-ি থানায় মা*মলা হয়।

১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশের অ*পরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলার অভিযোগপত্র দেয়। এতে লে. কর্নেল (অব) সৈয়দ ফারুক, লে. কর্নেল (অব) আবদুর রশিদ ও মেজর (অব) বজলুল হুদা এবং নাজমুল মাকসুদ মুরাদসহ ১৬ জনকে আ*সামি করা হয়। অভিযোগপত্রে মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজানকে হা*মলা*র প*রিকল্পনাকারীদে*র একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মিজানের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাও ছিলেন হা*মলাকা*রী দলের সদস্য।

আরও পড়ুন:  আমি যদি ধমক দেই তাহলে নারায়ণগঞ্জে কোনো বিএনপি থাকবে না

মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোস্তফা ১৯৯৫ সালে দু*র্বৃত্তদে*র গু*লিতে নি*হত হন। শেখ হাসিনাকে হ*ত্যার চে*ষ্টা ব্যর্থ হওয়া এবং এরও পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে মিজানুর রহমান নিজের নাম পাল্টে ফেলেন, হয়ে যান হাবিবুর রহমান মিজান। পরে এক সময় ফ্রিডম পার্টি ছেড়ে ভেড়েন আওয়ামী লীগে।

তিনি এখন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, আগের কমিটিতে তিনিই ছিলেন থানার সাধারণ সম্পাদক। এলাকায় তার খুবই দা*পট। সম্প্রতি কাউন্সিল হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের। নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ না হলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ কমিটিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দেখা যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে ফ্রিডম পার্টির পক্ষ থেকে মিজান, শামীম জালালী ওরফে দারোগার ছেলে শামীম, বাবুল ওরফে পিচ্চি বাবুলসহ কয়েকজন লিবিয়া যান গেরিলা ট্রেনিং নিতে। হামলার ঘটনার সময় মিজান ছিলেন ফ্রিডম পার্টির ধানম-ি-মোহাম্মদপুর জোনের কো-অর্ডিনেটর।

সূত্র জানায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মিজান ঢাকায় এসে মোহাম্মদপুর এলাকায় শুরু করেন চাঁ*দাবা*জি, ছি*নতাই। ছি*নতাইকা*রী হিসেবেই ১৯৭৪/৭৫ সালে তার বিশেষ পরিচিতি আসে। ১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি খামারবাড়ী খেজুরবাগান এলাকায় ছি*নতা*ই করার সময় পুলিশের ধা*ওয়া খেয়ে লালমাটিয়ায় মসজিদের পাশে পুকুরে নেমে পড়েন।

পুলিশ তাকে বারবার নির্দেশ দিলেও তিনি পুকুর থেকে ওঠেননি। ৪-৫ ঘণ্টা পর তিনি পরনের কাপড় ছাড়াই উঠে আসেন। এমন আচরণে পুলিশ তাকে পাগল বলে ছেড়ে দেয়। তখন থেকেই এলাকায় তার নাম ছড়িয়ে পড়ে পাগলা মিজান নামে। এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান মিজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন:  রূপকথাকেও হার মানাবে; যেভাবে রিকশাচালক থেকে টাকার কুমির হলেন আ’লীগ নেতা সেলিম

এদিকে গত রবিবার জমি দখলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতৃত্বে একদল স*ন্ত্রাসী হা*মলা চালিয়ে ৬ জনকে গু*লি করে আ*হত করে। এদের মধ্যে একজন নি*খোঁজ হন। ঘটনার দুদিন পর গত মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল তুরাগ নদীতে তল্লাশি চালিয়ে সিলিকন রিয়েল এস্টেটের ইট সরবরাহকারী যুবক জুয়েল দাশের লাশ উদ্ধার করে।

এ হ*ত্যাকা-ে*ও উঠে এসেছে হাবিবুর রহমান মিজানের নাম। পুলিশসহ স্থানীয়রা জানান, রবিবার দুপুরে সিলিকন রিয়েল এস্টেটের জমি দ*খলকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর এলাকার যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম তুহিন, আওয়ামী লীগ নেতা পাগলা মিজান, আদাবর এলাকার ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ আহম্মেদ ও সাইফুল তাদের স*ন্ত্রাসী বা*হিনী নিয়ে হা*মলা চালায়।

এ সময় স*ন্ত্রাসী*রা সিলিকন রিয়েল এস্টেটের ৬ কর্মীকে গু*লি এবং আরও ১৪ জনকে কু*পিয়ে জ*খম করে। এ সময় স*ন্ত্রাসী*রা জুয়েল নামের এক কর্মীকে গু*লি করে আ*হত করার পর ইট দিয়ে মা*থা থেঁ*তলে হ*ত্যা করে এবং তার লা*শ তুরাগে ফেলে দেয়।

এ ব্যাপারে সিলিকন রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারোয়ার খালেদ অভিযোগ করেন, স*ন্ত্রাসী*রা তার এস্টেটের জমি অ*ন্যায়ভা*বে দ*খল করতে এলে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় বাধা দিলে দ*খলদা*ররা তার প্রতিষ্ঠানের ৬ কর্মীকে গু*লি করে, কু*পিয়ে জ*খম করে আরও ১৪ জনকে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 81
    Shares