প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য

গ্যা*সের ব্য*থা-নাকি হা*র্টের, বুঝবেন যেভাবে।

49
গ্যা*সের ব্য*থা-নাকি হা*র্টের, বুঝবেন যেভাবে।
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব অনেকেই করেন। কিন্তু সেটি কি হার্টের সমস্যা, নাকি গ্যাসের কারণে?

তা বুঝতে পারে না অনেকেই। এমন হলে প্রথমে ব্যথার ধরন বুঝতে এবং সতর্কতার স’ঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে।

এ বি’ষয়ে ব’ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগ অধ্যাপক এস এম মোস্তফা জামান গণমাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার নির্দেশনা নিচে দেয়া হলো:

হার্টের ব্যথার লক্ষণ : কিছু উপসর্গ আছে, যা হলে মনে করতে হবে হার্টের কোনো সমস্যার কারণে তা হচ্ছে এবং রোগী হার্ট অ্যাটাকের দিকে যাচ্ছে। যেমন—

# হার্টের সমস্যার কারণে ব্যথা হলে তা বুকের একেবারে মাঝখানে চাপ ধ’রা ব্যথা বা বুকের মধ্যে কিছু চেপে আছে এমনটি মনে হবে।

# হাঁটলে বা সিঁড়ি ভাঙলে বুকের এই চাপ ধ’রা ভাব বেড়ে যাব’ে। # ব্যথা ধীরে ধীরে চোয়াল, ঘাড় বা পিঠের দিকে চলে যেতে পারে। একে বলে অ্যানজাইনাল পেইন।

# শরীর প্রচণ্ড ঘেমে যাব’ে। # কোনো ক্ষেত্রে শ্বা’সকষ্ট ’হতে পারে। # মুখের রং ফ্যাকাসে বা কালচে হয়ে যেতে পারে।

# ক্রমান্বয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসবে। # এ ধরনের ব্যথা ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মতো স্থায়ী ’হতে পারে।

করণীয় : # এ রকম মনে হলে স’ঙ্গে স’ঙ্গে চারটি ডিসপ্রিন ট্যাব’লেট পানিতে গু’লে বা চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। এতে হার্ট অ্যাটাক থেকে মৃ’ত্যুর আশঙ্কা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাব’ে।

আরও পড়ুন:  খে’জুর খা’ওয়ার এই উ’পকা’রিতা গুলো জানেন কি? না জা’নলে এখুনি জে’নে নিন!

# পাশাপাশি জিবের নিচে নাইট্রেট স্প্রে বা ট্যাব’লেট দিয়ে রোগীকে দ্রুত হৃদরোগের চিকিৎসা আছে এমন হাসপাতালে নিন।

# হার্ট অ্যাটাক হলে দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে সঠিক চিকিৎসা দিলে রোগী ভালো হয়ে যায়। এর আগে ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম ও ট্রপটি-টি পরীক্ষা করালে সমস্যাগু’লো জানা যাব’ে।

সতর্কতা : ডায়াবেটিস রোগীরা অ্যানজাইনাল পেইন বুঝতে পারে না। যে নার্ভটি মস্তিষ্ক থেকে এই ধরনের ব্যথার অনুভূ’তি বহন করে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সেই নার্ভটি কাজ করে না। তবে আজকাল নন-ডায়াবেটিস রোগীরাও অনেক সময় অ্যানজাইনাল পেইন টের পায় না।

ব্যথাটি গ্যাসের ব্যথার স’ঙ্গে গু’লিয়ে ফেলে এবং সেই ধরনের ওষুধ সেবন করে। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও হার্টের সমস্যা হলে পরে তা বড় আকারের বিপদ ডেকে আনতে পারে। আসলে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা হার্টের জন্য না হলেও ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে কিন্তু হার্টের।

চিকিৎসা : # র’ক্তনালির ভেতরের কোনো জায়গায় ব্লক তৈরি হয়ে র’ক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সেটি হার্ট অ্যাটাক। তখন প্রাইমা’রি এনজিওপ্লাস্টি (বেলুন) করে ব্লক খুলে স্টেন্ট বসিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:  পা’কা পে’পের দা’নায় স’র্ব’রো’গ মু’ক্তি, জে’নে নি’ন!

# হার্টের তিনটি প্রধান ধমনি থাকে। এগু’লোতে সমস্যা হলে তাকে থ্রি ভেসেলস ডিজিজ বলে। এগু’লোর মধ্যে এলএডি আর্টারিটি (বাঁ দিকের) সবচেয়ে গু’রুত্বপূর্ণ। হার্টের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ র’ক্ত এটিই সরবরাহ করে। যদি দেখা যায় কারো এই আর্টারিগু’লো ব্লকড হয়ে হার্টে র’ক্ত চলাচল আট’কে গেছে, সেই মুহূর্তে এনজিওপ্লাস্টি করালে রোগী ভালো হয়ে যায়, যাকে বলে প্রাইমা’রি এনজিওপ্লাস্টি।

# যদি ট্রিপল ভেসেলস ডিজিজ হয় অর্থাৎ তিনটি আর্টারিই ক্ষ’তিগ্রস্ত হয়, পাশাপাশি হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়, তখন বাইপাস সার্জারি করতে হবে।

বাঁচতে হলে : # রোজ জোরে জোরে হাঁটুন অন্তত চার কিলোমিটার। # ডায়াবেটিস, উচ্চ র’ক্তচাপ থাকলে সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখু’ন।

# ভাত, রুটি, আলুর মতো কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিন। # রোজকার খাবারে তেলের পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ মিলিলিটার করুন। মাসে তিন-চার দিন নিয়মের ব্যতিক্রম হলে অসুবিধা নেই। কিন্তু বাকি দিনগু’লো এভাবেই চলতে হবে। # ধূমপান একেবারেই নয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares