প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

শুধু কোভিড নয়- অনেক ভাইরাসে আক্রান্ত সরকার: নজরুল

22
শুধু কোভিড নয়- অনেক ভাইরাসে আক্রান্ত সরকার: নজরুল
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

‘শুধু কোভিড-১৯ নয়, আরও অনেক ভাইরাসে সরকার আক্রান্ত হয়েছে’ বলে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তি‌নি ব‌লেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে যেভাবে দুর্নীতি-অনাচার ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সরকারের লোকজনের উচিত দুর্নীতিবিরোধী একটি ভাইরাস প্রতিরোধকারী মাস্ক পরা।’

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে অন্যভাবে অব্যাহতি ও সিলেটের এমসি কলেজে ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। 

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যোগ্য শিক্ষককে একটি নিবন্ধন লেখার অপরাধে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর একজন শিক্ষকের কথা আপনারা শুনেছেন, যিনি সোস্যাল মিডিয়াতে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন। যার জন্য শুধু চাকরি যায়নি, তিনি দেশেও থাকতে পারেননি। একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসংখ্য মানুষ তার গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশে কারণে এই সরকারের অনুগত প্রশাসনের ধারায় চাকরিচ্যুত কিংবা অন্যভাবে বিপদাপন্ন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যারা শ্রদ্ধেয়জন হিসেবে পরিচিত, তারা কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কিন্তু তারা পারেন- যারা নামে শিক্ষক, কিন্তু আসলে প্রশাসনের অনুগত ব্যক্তি।’ 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই ভিসি তো তিনি, যিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরকারের ভাষায় সন্ত্রাসী বলেছিলেন। তাদের কাছ থেকে সুবিচার আশা করার কোনও কারণ নেই। আইন ভঙ্গ করে অন্যায়ভাবে যাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের পুনর্বহাল তো অবশ্যই আমরা দাবি করবো। আজকে যদি সেই দাবি বাস্তবায়িত না হয় ইনশাল্লাহ আগামী দিনে হবে। কিন্তু আমাদের সমস্যা তো একটা নয়। আমরা অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত। আজ করোনার ভয়ে আমরা মাস্ক পরে থাকি। কিন্তু যারা সরকারে আছেন তাদের একটা নয় আরও বেশি মাস্ক পরা দরকার। কারণ তারা শুধু কোভিড-১৯ এ নয়, আরও অনেক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:  ভেঙে গেলো গণফোরাম

তিনি বলেন, ‘এদেশে দুর্নীতি-অনাচার আজ করুণ অবস্থায় চলে গেছে। সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাঙ্গ করে বলা হচ্ছে- ‘আমরা ডিজি হতে চাই না, আমরা ডিজির ড্রাইভার হতে চাই’। এই বিশ্বের তিনজন ধনী ড্রাইভারের মধ্যে বাংলাদেশে একজন আছেন।’

বিএনপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, ‘অতিসম্প্রতি নারী নির্যাতন যেভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরেছে সেই নারী নির্যাতনের যে ভাইরাস সেটা থেকে বাঁচার জন্য এ সরকারের লোকজনের ৩ নম্বর মাস্ক পরা উচিত। এই তিনটা মাস্ক পরলে ভাইরাস থেকে তারা কিছুটা বাঁচবেন আর লজ্জা থেকে বাঁচার জন্য মুখটা ঢেকে রাখতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া সম্পর্কে তারই চালু করা একটি টেলিভিশন প্রোগ্রাম থেকে যার উত্থান তিনি একটি নাটক লিখেছেন। প্রচারিত হয়েছে একজন আওয়ামী লীগের এমপির মালিকানাধীন এক টিভি চ্যানেল থেকে। আমি শহীদ জিয়ার একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই- আপনারা তো কিছুই না। আপনাদের কত বড় বড় নেতারা বছরের পর বছর শহীদ জিয়া সম্পর্কে, খালেদা জিয়া সম্পর্কে, তারেক রহমান সম্পর্কে কত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কী লাভ হয়েছে তাতে! জনগণ কি শহীদ জিয়াকে ভুলে গেছে। জনগণের যে শ্রদ্ধা তাঁর প্রতি সেটাকে কি কমাতে পেরেছেন আপনারা? নাকি বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা কমেছে?’

তিনি বলেন, ‘যদি তাই হতো তাহলে আপনারা উঠতে-বসতে শয়নে-স্বপনে তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতেন না। এটাকে তারেক রহমান ফোবিয়া বলতে পারেন বা খালেদা জিয়া ফোবিয়া বলতে পারেন। এরও চিকিৎসা দরকার মনে হয় আপনাদের। কিন্তু টিভিতে এসব নাটক প্রচার কোনও চিকিৎসা নয়। কারণ মানুষ এটা রাজনীতিতে খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে মনে করে। খারাপ দৃষ্টান্ত আপনারা স্থাপন করলেন। এ দৃষ্টান্ত যেন আল্লাহ না করুক ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না হয়। এভাবে রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন করে আমরা রাজনীতি সম্পর্কে মানুষকে নিরুৎসাহিত করে দিচ্ছেন। যেটা দেশের জন্য ক্ষতিকর, গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।’

আরও পড়ুন:  ধানের শীষের গণসংযোগে ফের হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা জানি আপনারা গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ নন, কারণ আপনারা একবার গণতন্ত্রকে জবাই করেছেন এবং যিনি গণতন্ত্রকে জবাই করেছেন তার প্রশংসা করেছেন। তৃতীয়বার আপনারা জরুরি অবস্থার মধ্যেও নির্বাচনে যেতে রাজি হয়ে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি সেই দল যে দল একদলীয় স্বৈরশাসনের বদলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সেই দল, যে দলের নেত্রী ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। বিএনপি সেই দল, যে দল ২০০৭ সালে ঘোষণা করেছিল জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার না করলে আমরা নির্বাচনে যাব না। গণতন্ত্রের জন্য আপনাদের (সরকার) কাছে আবেগ কম, আমরা জানি। কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে গণতন্ত্রের জন্য আবেগ অনেক। গণতন্ত্র হলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল। আমরা রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র অর্জন করেছি, আগামী দিনেও গণতন্ত্র রক্ষা করবো। আমরা ঊনসত্তরে এটার প্রমাণ দিয়েছি, একাত্তরে প্রমাণ দিয়েছি, নব্বইয়ে প্রমাণ দিয়েছি। প্রয়োজনে আগামী দিনেও দেবো।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, বিএফইউজে-এর সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। 
নিউজটি পড়া হয়েছে 10032 বার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 9
    Shares