প্রচ্ছদ অপরাধ নন্দীগ্রাম আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের তিন মিনিট আট সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল

নন্দীগ্রাম আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের তিন মিনিট আট সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল

204
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

নন্দীগ্রাম  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নে*শা সে*বনের ভি*ডিও দৃ*শ্য প্রকাশ নিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চায়ের স্টল থেকে শুরু করে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। ভাইরাল হয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিব্রত, ক্ষুব্ধ। হাতে আসা এই ভিডিও চিত্রে আয়েশি ভঙ্গিতে সহযোগীদের নিয়ে নে*শা সে*বন করতে দেখা গেছে আলোচিত নেতা আনিছুর রহমানকে।

advertisement

জানা গেছে, বরাবর জাসদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা আনিছুর রহমান ২০১২ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর ৯ মাসের মধ্যেই পেয়ে যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। আর পদ পেয়েই বে*পরো*য়া হয়ে ওঠেন আনিছুর। এলাকার মা*দক কা*রবা*রিদের সঙ্গে সখ্য এবং প্র*কাশ্যে মা*দক সে*বনকে দৈ*নন্দিন কাজের অংশ বানিয়ে নেন। আর শুরু থেকেই সহযোগী হিসেবে পেয়ে যান উপজেলা

আওয়ামী লীগের নেতা শেখ শামীম ও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক আফতাব হোসেনকে। তাঁরা কখনো নিজ বাড়িতে, কখনো নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আবার কখনো বগুড়া শহরের বিভিন্ন বাড়িতে অবস্থান করে মা*দক সে*বন করেন।

তিন মিনিট আট সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত আনিছুর রহমান ই*য়াবা সে*বন করছেন। পাশে বসে তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন সহযোগীরা। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর চায়ের স্টল থেকে শুরু করে অফিসপাড়া পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দেখতে চায় ভারত

একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমানের মা*দক সে*বনের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এর আগেও আনিছুর রহমানের ই*য়াবা ও গাঁ*জা সে*বনের ছ*বিসহ পোস্টার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দেয়ালে দেয়ালে দেখা গেছে। পোস্টারে লেখা ছিল—‘আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান শুধু মা*দকসে*বীই নয়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মা*দক ব্*যবসাও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

অবিলম্বে কু*খ্যাত মা*দক ব্য*বসায়ী আনিছুর রহমানকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হোক। পাশাপাশি এ মা*দক ব্য*বসায়ীকে আ*ইনের আ*ওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।—প্রচারে নন্দীগ্রাম উপজেলার আওয়ামী লীগপ্রেমী ত্যাগী নেতাকর্মীবৃন্দ।’ এবার ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর নেতাকর্মীদের সেই ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক সমিতি নিয়ন্ত্রণ করেন আনিছুর রহমান। সেখানে প্রতিদিন অ*বৈধভা*বে লাখ লাখ টাকা চাঁ*দা তোলা হয়, যার একটি অংশ নিয়মিত পেয়ে যান তিনি। এ ছাড়া অটোটেম্পো মা*লিক স*মিতিসহ হাট-বাজার, রাস্তা ও ফুটপাটের চাঁ*দাবা*জিও তাঁর নিয়ন্ত্রণে।

এলাকাবাসী জানায়, উ*পজেলা*র সিমলা গ্রামে আনিছুর রহমানের জন্মস্থান। আগে সম্পদ বলতে ছিল শুধু মাটির বাড়ি। বর্তমানে এই নেতা সিমলা বাজারে নির্মাণ করেছেন তিনতলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন একটি ভবন। এর বাইরে গ্রামে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁ*দাবা*জির টাকায় নিজস্ব জমিসহ পুকুর করেছেন।

আরও পড়ুন:  যে ১০ টি বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তিনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না

আনিছুরের ভাই আসাদুজ্জামান আসাদ নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। অন্য ভাইয়েরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি সরকারের সময়ও উপজেলার বিভিন্ন পুকুর ক্ষমতাবলে দ*খল করে রেখেছিলেন আনিছুর রহমান।

নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ এ ব্যাপারে বলেন, “দলের মানসম্মান বলে আর কিছু থাকল না। তিনি সব সময় ই*য়াবা*য় মত্ত থাকেন। এ কারণে এলাকায় এই নেতার নাম ‘বাবা আনিছ’। তিনি নিজে মা*দক সে*বন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের দিয়ে মা*দকে*র কা*রবার চালান। বিগত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করায় তাঁর বিরুদ্ধে আমি কেন্দ্র ও জেলায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

অভিযুক্ত আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। কখনো মা*দক সে*বন করি না। কেউ আমার মাথা জোড়া দিয়ে ভিডিও বানিয়েছে। আমি দলে নব্য হলেও মা*দকের কা*রবার কিংবা চাঁ*দাবা*জির সঙ্গে জড়িত নই। আর উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর বিরোধিতাও করিনি।’

নন্দীগ্রাম থানার ওসি শতকত কবির বলেন, ‘শুনেছি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মা*দক সে*বন করেন। তবে কখনো নিজে এমনটা দেখিনি। আর তাঁর বিরুদ্ধে মা*দক কা*রবা*রিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও চাঁ*দা আদায়ের অভিযোগও পাইনি।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 110
    Shares
advertisement