প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত

লিবিয়া, বিদ্রোহী সেনা হাফতার ও নেটো সাম্রাজ্যবাদীরা

10
লিবিয়া, বিদ্রোহী সেনা হাফতার ও নেটো সাম্রাজ্যবাদীরা
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

ডক্টর এম এ আজীজ

ইরাক, ইয়েমেন, সিরিয়ার মতো লিবিয়া নামের মুসলিম দেশটিও আজ অনেকদিন ধরে জ্বলছে এক অন্তহীন যুদ্ধের আগুনে। সে-আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে ও যাচ্ছে মাত্র সাত-আট বছর আগের সমৃদ্ধ দেশটি। অথচ রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা না-থাকলেও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অভাব ছিল না দেশটিতে।১৯৬০/৭০এর দশকে তেল পাওয়ার আগে লিবিয়া তেমন স্বচ্ছল দেশ ছিল না। তবে তেলসম্পদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর দেশটিতে সর্বাত্মক উন্নয়ন শুরু হয়। সেই উন্নয়নযজ্ঞে অংশগ্রহণের মতো লোকের অভাবে অন্যান্য দেশের লাখ লাখ লোকজন আনা হয়। আমাদের বাংলাদেশেরও কয়েক লাখ সাধারণ লোকজন এবং ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার তখন লিবিয়ায় কাজ করতে যান।লিবিয়া দেশটি ভৌগোলিকভাবে উত্তর আফ্রিকায়, ভূমধ্যসাগরের তীরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত। মাঝখানে শুধু ভূমধ্যসাগর।লিবিয়ার আয়তন প্রায় ১০ লক্ষ বর্গমাইল, অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রায় ২০ গুণ বড়, অথচ লোকসংখ্যা এক কোটিরও কম, মাত্র ৭০/৮০ লাখ।১৫৫০ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত লিবিয়া ছিল তুরস্কের একটি প্রদেশ। একজন স্থায়ীভাবে বসবাসকারী তার্কী তুরস্ক খিলাফাতের পক্ষে প্রতিনিধি হিসাবে লিবিয়া শাসন করতেন। যেহেতু তখন তেল পাওয়া যায়নি, তাই লিবিয়া ছিল বেশ গরীব। যদিও আয়তনে অনেক বড়, কিন্তু এর অধিকাংশই ছিল মরুভূমি। লোকসংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখের মতো।১৯১২ সালে তুরস্কের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে দেশটি দখল করে নেয় ইটালী। তুরস্ক প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইটালী-জার্মানীর পক্ষ অবলম্বন করে। এতে অক্ষশক্তি পরাজিত হলে ইটালী ১৯৪৩ সালে মিত্রশক্তির কাছে লিবিয়া হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়।মিত্রশক্তি ১৯৫১ সালে দেশটিকে স্বাধীনতা দেয়। তারা লিবিয়াকে একজন ধর্মীয় গোত্রিয় নেতার কাছে শাসনতান্ত্রিক রাজতন্ত্র হিসাবে ছেড়ে আসে।১৯৬০ সালের দিকে লিবিয়ার দক্ষিণাংশে প্রথম তেলের খনি আবিষ্কার হয়। ১৯৬৯ সালে কর্ণেল গাদ্দাফী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। তেলসম্পদকে কাজে লাগিয়ে সামরিক শাসক কর্ণেল গাদ্দাফী অন্যান্য আরব দেশের মতো নিজের দেশকে আধুনিকভাবে গড়তে শুরু করেন।১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪২ বছর স্বৈরশাসক হিসাবে দেশ শাসন করেন গাদ্দাফী। তার আমলে ওই দেশের জনগণের জাগতিক অভাব বলতে তেমন কিছু ছিল না। কিন্তু জগতের সব স্বৈরশাসকের মতো লিবিয়ার স্বৈরশাসক কর্নেল গাদ্দাফীও ভুলে গিয়েছিলেন, মানুষ নামের প্রাণীটি শুধু ভাত-কাপড় ও অন্যান্য কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়েই তুষ্ট থাকে না। তারা ভাবতে জানে, বলতে জানে। আর তাই তারা ভাবনাগুলো বলতে চায়, প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু গাদ্দাফীর শাসনামলে লিবিয়ায় জনগণের এ আকাঙ্ক্ষা পূরণের বিন্দুমাত্র সুযোগ ছিল না।তবে তেলের কারণে অঢেল সম্পদের সরবরাহ হওয়াতে মানুষের মৌলিক চাহিদা, যথা অন্ন বস্ত্র বাসস্থান কর্মসংস্থান পানি বিদ্যুত ইত্যাদির অনেককিছুই ফ্রী সরবরাহ করতো সরকার। এমনকি বিয়ে করার জন্য পর্যন্ত নাগরিকদের প্রয়োজনীয় অর্থ দেয়া হতো। গাদ্দাফী হয়তো ভাবতেন, মানুষ তো সবই পাচ্ছে, তাদের আর কী চাই!তিনি বুঝতেন না অথবা বুঝতে চাইতেন না, মানুষ মানুষই। অন্ন বস্ত্র শিক্ষা চিকিৎসার বাইরেও তাদের আরও কিছু মৌলিক চাহিদা আছে। তারা বাকস্বাধীনতা চায়, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার অধিকার চায়, সরকার ও দেশ পরিচালনায় ন্যায্য অংশীদারিত্ব চায়। এসবই মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা।স্বৈরশাসক গাদ্দাফী অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন, কিন্তু দেশবাসীর স্বাভাবিক মানবিক চাহিদাগুলোর প্রতি কোনো তোয়াক্কাই করেননি। এমনকি দেশের নাগরিকেরা দেশে বা বিদেশে একটু স্বাধীন চিন্তা করলেই তাকে চিরতরে শেষ করে দেয়া হতো। দেশে তো কোনো কথা বলার সুযোগই ছিল না, বিদেশে অবস্থানকালেও যদি কেউ কোনোভাবে সরকারের সমালোচনা করতো, দেশে যাওয়ার সাথে সাথে বিমানবন্দর থেকেই তাকে গ্রেফতার ও জেলে যেতে হতো। নানা অকথ্য অত্যাচারে জর্জরিত হতে হতো। অনেককে বিদেশেই গুপ্তহত্যার মাধ্যমে শেষ করে দেয়া হতো। আমি লন্ডনে নিজেই এ রকম অনেক ঘটনা দেখতে পেয়েছি।গাদ্দাফী মনে করছিলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী। সব স্বৈরশাসকই একই চিন্তা করে থাকে। অথচ ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে, কোনো শাসক যখন দীর্ঘদিন শাসন করে এবং যত জনকল্যাণমূলক কাজ করুক না কেন, এক সময় জনগণ মুখ ফিরিয়ে নেয়, যদিও ক্ষমতার মোহে অন্ধ ও চাটুকার পরিবেষ্টিত স্বৈরশাসক সেটা বুঝতে পারেন না।ইতিহাসের নিয়মে বল একসময় জনগণের কোর্টে যায়। লিবিয়ায়ও গেছে। দেশটির জনগণ সময়-সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। ইতিমধ্যে পাশের দেশ তিউনিশিয়াতে বেকারত্বের যন্ত্রণা সইতে না-পেরে এক যুবক প্রকাশ্য দিবালোকে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করলো। ওই দেশে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর যাবৎ এক স্বৈরশাসক যায়ন আল আবেদীন বিন আলী রাজত্ব করে আসছিল। ওই যুবকের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রতিবাদ, অসহযোগ শুরু হয়। তাতে বাধ্য হয়ে স্বৈরশাসক বিন আলী সপরিবারে সৌদি রাজতন্ত্রের কাছে আশ্রয় নেয়। এভাবে তিউনিসিয়া নামের দেশটিতে সরকার পরিবর্তন হয়ে যায়। জনগণ স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পায়।গণবিপ্লবের এ আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে আরব বিশ্বের অন্যত্রও। মিশর লিবিয়া ইয়ামেন সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি দেশে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়। মিশরের হোসনি মোবারক, ইয়ামেনের সালেহর পতন হয়। লিবিয়াও দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। আবালবৃদ্ধবনিতা রাস্তায় নেমে আসে। এই আন্দোলনকে বলা হয় “আরব বসন্ত।”আরব বসন্তের হাওয়া পেয়ে আরবের জনগণ আরও কিছু স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। মিশর, ইয়ামেন ও লিবিয়া এই তিন দেশে জনগণের আন্দোলন জমে উঠে। এসব দেশের প্রতিটির স্বৈরশাসক ২০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত শাসন করে আসছে। হয় সেনাবাহিনী থেকে অথবা বংশানুক্রমে রাজাবাদশা সেজে আরব দেশগুলো শাসিত হচ্ছে। এসব স্বৈরশাসক পশ্চিমাদের তল্পীবাহক হয়ে টিকে আছে। ওরা দেশের সম্পদকে জনগণের সম্পদ মনে না-করে নিজেদের মনে করে ইচ্ছামত লুটপাট এবং পশ্চিমাদের খেদমতে ব্যয় করছে। তাদের দেশে জনগণের ভোটাধিকার ও মানবাধিকার বলতে কিছুই নাই।লিবিয়ায় কর্ণেল গাদ্দাফী প্রায় ৪২ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন। মিশর ও ইয়ামেনের পর লিবিয়ায় আন্দোলন শুরু হয়। ন্যাটো জোটের দেশগুলো, বিশেষ করে ফ্রান্স এগিয়ে আসে লিবিয়ার জনগণের সাহায্যে। শেষ পর্যন্ত গাদ্দাফীকে পলাতক অবস্থায় মিসাইলের সাহায্যে হামলা করে আহত করে। উত্তেজিত জনতা ড্রেনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা স্বৈরশাসককে উঠিয়ে মেরে ফেলে। এ-ই হলো দীর্ঘ দিনের এক স্বৈরশাসকের শেষ পরিণাম। এমনই হয়।এককালের ধনী দেশ ও স্বচ্ছল জনগণ ২০১১ সালে গাদ্দাফীর পতনের পর থেকে নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। ফ্রান্সসহ ন্যাটো জোটের দেশগুলো গাদ্দাফীকে হত্যা ঠিকই করলো, কিন্তু তারপর গত ৯ বছর গৃহযুদ্ধ, লুটপাট, হত্যা ছাড়া সেদেশের জনগণ কিছুই পেল না। বরং চরম দুর্দিন কাটাচ্ছে।এভাবে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা একটি উন্নত মুসলিম দেশকে ধ্বংস করে ছাড়লো। যেভাবে ইতিমধ্যে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আফগানিস্তান, ইরাককে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে, যেভাবে ইরাকে স্বৈরশাসক সাদ্দামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারলো। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর উদ্দেশ্যই হলো হয় তাদের ও তাদের ক্লায়েন্ট দেশের কথামত চলতে হবে, নতুবা যে কোনো মিথ্যা অজুহাতে শেষ করে দেয়া হবে।লিবিয়ায় কর্নেল গাদ্দাফীর পতনের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এখন সেদেশে সোনার হরিণ। এককালের ধনী দেশ এখন একটি গরীব দেশের চাইতেও করুণ অবস্থায়। না আছে পানি-বিদ্যুত, না আছে চোখের ঘুম। হানাহানি আর মারামারি নিত্যদিনের জীবনসংগী। আইনশৃংখলা বলতে কিছুই নাই। আর এই সুযোগে বাইরের শক্তিগুলো নিজ নিজ স্বার্থে বিভিন্ন গ্রুপকে ব্যবহার করছে।২০১৫ সালে জাতিসংঘ উদ্যোগ নিয়ে একটি ঐক্যজোটের সরকার প্রতিষ্ঠা করে ইলেকশানের ব্যবস্থা করে। একটি ইলেকশান হয়। সেই ইলেকশান জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত। যদিও দেশটির আরেক পক্ষ নানা কারণে সেই ইলেকশানের ফলাফল গ্রহণ করতে পারে নাই। আগিলা সালেহ এক দল নিয়ে সংসদ গঠন করে লিবিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তবরুক এলাকায়। সংসদ গঠন করে নিজে স্পীকার হয়ে খলিফা হাফতারকে পূর্বাঞ্চলের সেনাপ্রধান বানান।জাতিসংঘ-মনোনিত সরকারের নেতৃত্বে আছেন ফায়েজ সারাজ। অন্যদিকে আগিলা সালেহের সমর্থন নিয়ে খলিফা হাফতার নামক একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা সামরিকপ্রধান। পূর্বাঞ্চলে বেনগাজীতে খলিফা হাফতারের নিজস্ব বাহিনী রয়েছে, যা এলএনএ নামে পরিচিত।কে এই খলিফা হাফতার?বর্তমানে জেনারেল হাফতার জীবন শুরু করে সৈনিক হিসাবে। গাদ্দাফী তৎকালীন রাজা ইদ্রিসকে উৎখাত করার সময় তার সাথে ছিল হাফতার। কর্নেল গাদ্দাফীর অনেক বিশ্বস্ত ছিল হাফতার। ১৯৭৩ সালে ই¯্রাইলের সাথে যুদ্ধে মিশরের অধীনে সিনাইয়ে যুদ্ব করেছে। ১৯৮৭ সালে প্রতিবেশী দেশ চাদের সাথে যুদ্বে প্রায় ৩০০ অফিসার ও সৈন্যসহ চাদ সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী হয়ে চাদের জেলে ছিল। জেলে বসেই অন্যান্য অফিসারের সংগে কর্নেল গাদ্দাফীকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্লান করে। এই খবর গাদ্দাফী জানার পর আর তাদেরকে জেল থেকে মুক্ত করে দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেননি।সুযোগসন্ধানী আমেরিকা এই খবর জানার পর নিজ স্বার্থে গাদ্দাফীকে ক্ষমতাচ্যুত করার কাজে ব্যবহার করার জন্যে চাদের সাথে আলোচনা করে তাদেরকে মুক্ত করে আমেরিকায় নিয়ে যায়। সেখানে আরও ট্রেনিং দেয়। তারপর ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় লিবিয়াতে পাঠিয়ে গাদ্দাফীকে উৎখাত করা হয়। অবশ্য সে একা নয়, অন্যদেরও অবদান আছে।জেনারেল হাফতার ইসলামবিদ্বেষী। তাই ত্রিপলির কিছুটা-ইসলামভাবাপন্ন সরকারের ঘোর বিরোধী। আরব স্বৈরশাসকদের খুব পছন্দনীয়। মিশর ও অন্যান্য দেশের ইসলামী আন্দোলন ও নেতাকর্মীদের উত্থান চায় না, সেজন্য ফ্রান্স, রাশিয়া ও অন্যান্য পশ্চিমা নেতাদের খুব প্রিয় হাফতার।হাফতার বর্তমানে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের সেনাপ্রধান। তাকে সমর্থন দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক স্বৈরশাসক রাজপুত্র প্রিন্স মোহাম্মদ বিন যায়িদ, যে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ই¯্রাইলের সাথে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। আরব আমিরাতের শাসক বিন যায়িদ ফ্রান্স, রাশিয়া, সৌদি রাজপুত্র মোহাম্মদ বিন সালমান ও মিশরের স্বৈরশাসক সিসি হাফতারকে পুরো লিবিয়া দখলে সাহায্য করার জন্য ঐক্যবদ্ব হয়। খলিফা হাফতারের মাধ্যমে প্রায় পুরো লিবিয়া দখল করে ত্রিপলি সরকারকে উৎখাতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। ফায়াজ সাররাজের সরকার বাধ্য হয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ও ডিসেম্বরে দুটি চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ক সরকারের সাথে সামুদ্রিক ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে সাহায্য চায়।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সরকার চুক্তি অনুযায়ী সামরিক সাহায্য দেয়া শুরু করে, যে কারনে হাফতারের বাহিনী লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চল ও ত্রিপলি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। ত্রিপলি সরকার হাফতারের সৈন্যদেরকে পশ্চিমাঞ্চলে পরাজিত করে পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ এলাকা সিরত ও জুফরা দখল করতে গিয়ে দেশী বিদেশী, বিশেষ করে মিশরের সিসির পক্ষ থেকে চরমভাবে বাধা পায়। মিশর ও তুরস্কের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের উপক্রম হয়। জাতিসংঘের উদ্যোগে পরে অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করা হয়।ইতিপূর্বে জার্মানি, ইইউ ও রাশিয়ার উদ্যোগে একাধিকবার সমঝোতা করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবারই হাফতার তার সাহায্যকারীদের প্ররোচনায় সেই সমঝোতা মানেনি।বর্তমানে তুরস্ক, জিএনএ ও এলএনএ এবং তার সাহায্যকারী দেশগুলো যথা মিশর, আরব আমীরাত, রাশিয়া ও ফ্রান্স সবাই যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে এবং জাতিসংঘের উদ্যোগে একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়ার চেষ্টায় আছে।কারণ, প্রতিটি পক্ষই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে যে, যুদ্বের মাধ্যমে লিবিয়ার সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।আমরা আশা করি, সবাই একমত হয়ে লিবিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। লিবিয়া আবার একটি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন:  পুলিশি নির্যাতনে হত্যার বিচার চাইবেন কার কাছে?

লেখক : প্রবাসী সমাজসেবক ।
নিউজটি পড়া হয়েছে 10018 বার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares