প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

বুয়েটে ছাত্রলীগের ভয়াবহ নি*র্যাতনে*র প্রতিচ্ছবি একের পর এক দৃশ্যমান

69
পড়া যাবে: 7 মিনিটে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের পি*টিয়ে হ*ত্যার পর জাতি যখন ক্ষোভের আ*গুনে জ্ব*লছে তখনই বুয়েটে ছাত্রলীগের ভয়াবহ নি*র্যাতনে*র প্রতিচ্ছবি একের পর এক দৃশ্যমান হচ্ছে। ‘ইউরিপোর্টার’ নামে বুয়েটের একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ করছেন চরম নি*র্যাতনে*র শি*কার শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিতুমীর হলের সাবেক এক শিক্ষার্থী নিজের পরিচয় না দিয়ে হল প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগে লিখেন, নিজেকে শিবির বলে স্বীকার করানোর জন্য তার ওপর চলে হুবহু আবরারের মতোই অকল্পনীয় নি*র্যাতন।

অভিযোগে সাবেক ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন নি*র্যাতনে*র ভ*য়াবহ সেই অভিজ্ঞতার কথা। তার অ*ভিযোগ, ২০০৬ নম্বর রুমে তাকে ডেকে নিয়ে যায় ১২ ব্যাচের জাওয়াদ। তার কোনো ধারণাই ছিল না তাকে কেন ডাকা হয়েছে। সেখানে নবম ব্যাচের শুভ্র টিকাদার, সিয়াম, শুভম, দশম ব্যাচের কনক, রাসেল আর ১১তম ব্যাচের তানভীর রায়হান (টিআর নামে কু*খ্যাত) তাকে জি*জ্ঞাসাবা*দ শুরু করে।

নি*র্যাতনে*র শি*কার ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আজগুবিভাবে আমি শিবির করি এটা প্রমাণ করার জন্য আমাকে ট*র্চার করে। প্রথমে তানভীর আমাকে গালে প্রচণ্ড এক থা*প্পড় মারে। আমার মা*থা ঘুরে যায় এত জোড়ে থা*প্পর খেয়ে, ঠোঁট কেটে যায়। এটা ওদের টেকনিক। আচমকা আঘাত করে ট*র্চারের মু*ড ক্রিয়েট করে।

এরপর তানভীর আমার বুকে প্রচণ্ড এক লা*থি মা*রে। আমি মেঝেতে পড়ে যাই। কেউ এসে তোলে আমাকে। এরপর আমাকে জোর করে স্বীকার করতে বলে যে আমি শিবির করি। স্বীকার না করলে আমার মাথায় একটা বস্তা পরিয়ে দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর  শুধু মুহুর্মুহু রডের বা*ড়ি পড়তে লাগল পি*ঠের উপরে। একজন মনে হয় টায়ার্ড হয়ে রডটা রাখতেই আরেকজন র*ড হাতে তুলে নেয়। এভাবে থেমে থেমে প্রায় এক ঘণ্টা ব*স্তাবন্দী হয়ে মা*র খেয়েছিলাম।’

আরও পড়ুন:  বুয়েট ছাত্রকে ‘পি*টিয়ে হ*ত্যা’র সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব,ছাত্রলীগের ২ নেতা আ*টক

লো*হমর্ষ*ক নি*র্যাতনে*র শি*কার সাবেক ওই ছাত্র অভিযোগে জানান, এ অবস্থায় যখন সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার অবস্থায় তখন ব*র্বর অ*ত্যাচারী*রা আশ্রয় নেন নতুন টেকনিকের। মাথা থেকে বস্তা খুলে একজন এসে খুব আদর করে তাকে রক্ষা করার ভান করে বলে, সে যদি বলেআমি শিবির করিতাহলেই সে অন্যদের থেকে বাঁচিয়ে নেবে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি আল্লাহর রহমতে ঘোরের মধ্যেও বুঝতে পারি এটাও ওদের চাল। এরপরে আবার মা*র দিতে থাকে। একপর্যায়ে আমাকে ক্র*সফায়া*রে দেওয়ার হু*মকি দেয়। শুভম এসে আমার পা ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেয়। পরামর্শ শুনে কাজল আর রাসেল মিলে আবার পূর্ণোদ্যমে আমার পা লক্ষ্য করে রড দিয়ে পে*টানো শুরু করে। একপাশ হয়ে যাওয়ায় সব মার এসে লাগে বা*ম পায়ে। একপর্যায়ে আল্লাহপাক মুখ তুলে তাকায়। ওরা কোনো কারণে আমার উপরে আ*গ্রহ হারিয়ে ফেলে। আমাকে চলে যেতে বলে। আমি আমার কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

যাওয়ার সময় হলের গেটে আমাকে বলে, ‘‘কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবি রাস্তায় এ*ক্সিডেন্ট করছিস।’’ পাঁচবার আমাকে দিয়ে মিথ্যা উত্তর প্র্যাকটিস করিয়ে যখন ছেড়ে দেয় তখন রাত ৩টা। আমি এখন কোথায় যাব হল থেকে? কোনো রিকশাও পাওয়া যাচ্ছে না। শরীরে একফোঁটা শক্তি অবশিষ্ট নেই। কিন্তু যত দ্রুত পারা যায় ওদের দৃষ্টির সীমানা থেকে চলে যেতে চাচ্ছিলাম, যদি আবার সেই জাহান্নামে ডাকে!

আরও পড়ুন:  ফাহাদ হ*ত্যাকা*ণ্ডের নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তিতুমীর থেকে বের হয়ে পলাশীর কাছে এসে একটা রিকশা ডাকি শরীরের সব শক্তি জড়ো করে। তারপর আমার চাচার বাসায় চলে যাই। এরপরের বুয়েটের বাকি সময়টা একটা ট্রমা নিয়ে কাটিয়েছি। কোনো আনন্দ-উল্লাস কাজ করেনি, ক্যাম্পাস লাইফ নিয়ে কোনো ভালোবাসা কাজ করেনি। ঘৃণা আসত নির্লিপ্ত স্বার্থপর সব বুয়েটিয়ানের দিকে তাকালে।’

এভাবেই সাবেক ওই শিক্ষার্থী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নি*র্যাতনে*র ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন হল প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগে। নি*র্যাতনে*র শি*কার এমন বহু শিক্ষার্থী আবরারের মৃ*ত্যুর পর গর্জে উঠছেন। বিচার চেয়ে কোনো লাভ হবে না, উল্টো জীবন হু*মকি*র মুখে পড়বে তা ভালো করে জানা থাকায় কেউ কোনো প্রকার টুঁ শব্দ না করলেও আবরারের মৃ*ত্যুতে এসব শিক্ষার্থীরা আবার জেগে উঠছেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্র*তিবাদে বুয়েটসহ দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস উত্তাল রয়েছে। এ ঘটনায় ফুঁ*সে উঠেছে সারা দেশ। এর মধ্যেই বুয়েটে ছাত্রলীগের নি*র্যাতনে*র চিত্র সামনে আনলেন মো. এনামুল হক নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী। নিজের ফেরিভাইড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের ওপর চালানো নি*র্মম নি*র্যাতনের কথা জানিয়েছেন তিনি।

সেইসঙ্গে পোস্টে জুড়ে দিয়েছেন সেদিনের নি*র্মম নি*র্যাতনের দুটি ছবিও। যেখানে দেখা গেছে, নি*র্যাতনের কারণে পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আ*ঘাতের না*না চিহ্ন। এনামুল হক বলেছেন, এসব মা*রের দা*গ আবরারের নয়; এগুলো তার শ*রীরেরই ছবি। আবরার মা*রা গেলেও সেবার ছাত্রলীগ কর্মীর নি*র্যাতনে*র পরও প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন তিনি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 51
    Shares