প্রচ্ছদ বাংলাদেশ শিক্ষাঙ্গন

র‍্যাগের নামে হ*স্তমৈ*থুনে*র অভিনয় ও প*র্নো দে*খিয়ে আ*ইটেম গা*নে না*চানো হত

285
পড়া যাবে: 9 মিনিটে

আবরার হ*ত্যার চারদিন আজ। বুয়েট ক্যাম্পাসে আজকেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। নৃ*শংসভা*বে আবরার হ*ত্যার অন্যতম ইস্যু হলো র‍্যা*গিং। বুয়েটের একটি ফেসবুক পেইজে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা জানান নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া র‍্যাগিং এর ভ*য়াবহ সব গল্প। সেই গল্পগুলো তুলে ধরা হলো বাংলা ম্যাগাজিন পাঠকদের জন্য :

সিভিল’১৮ ব্যাচের অর্ণবের ভয়ানক অভিজ্ঞতা:

এক বুধবার রাতে আমাকেসহ মোট পাচঁজনকে ‘আউলা’র ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অপরাধ ছিল ভাইরা আমাদের গ*ণরুম থেকে র‍্যা*ন্ডমলি দুই/তিনজনকে পাঠায় দিতে বলছিল। ভয়ে কেউ প্রথমে যাইনি। তিনজন ভাই এসে র‍্যা*ন্ডমলি আমাদের পাঁচজনকে ধরে নিয়ে যায়।

ছাদে আমাদের পাঁচজনকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ম্যানার, বুয়েট পলিটিক্স কেন সবার থেকে আলাদা সেটা শেখায়। আমাকে একজন ভাই টিশার্ট ধরে ধা*ক্কাধাক্কি করে গালে পাঁচটা (আস্তে, বাট চ*ড় তো চড়ই) চ*ড় মেরেছিলো। আর প্রায় ঘণ্টার মতো একপায়ে দাঁড় করে রেখেছিলো। সেখানে আরেক ভাই বলেছিলো, একটু পর পর পা চেঞ্জ করতে পারিস। বাকিদেরকে অনেক হেনস্থা করা হয়।

যাই হোক, এই দেড়ঘণ্টা পর পুরো NTS (আউলার একটা গণরুম) কে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখানে কী হয় আশা করি বাকি যারা ছিল বলবে। হলের প্রথমদিকে হলের পপুলার দুই ভাই পালা করে করে রুমে নিয়ে গিয়ে র‍্যাগ দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে আমাকে আর অরুপকে (CSE) রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাকে দিয়ে অরুপকে এবং অরুপকে দিয়ে আমাকে মা*রা হয়। আমাদের ভাইদের সাথে জো*র করে প*র্নো দে*খানো হয় এবং আইটেম সংয়ের সাথে আমাদের না*চানো হয়।

আমি ভাইদের মে*ন্টাল ট*র্চারগুলো নিতে পারি নি। এ রকম অনেক ঘটনা সবার সাথে প্রায় ঘটতো। ১৮ ব্যাচের সবার সাথেই এরকম কম-বেশি হয়েছে। তারা হয়তো মজা করে করেছে, বাট তাদের মজাগুলো সবাই নিতে পারেনি। অনেক রাতে বা*থরু*মে কান্নাকাটি করেছি। প্রথমে আমি অনেক পড়ালেখা করলেও এই ভাইদের জন্য পড়ালেখা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি।

আমি প্রথম দিকে অনেক একটিভ, হাসিখুশি ছিলাম; বুয়েটে কয়েকদিন থাকার পরের অবস্থা ব্যাচমেটকে/ক্লোজ ভাইদের জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারা যাবে। বুয়েটকে বাইরে দেখে অনেক ভালো লাগত, ভিতরে এতো খারাপ অবস্থা ভর্তি পরীক্ষায় আর দুইটা অঙ্ক ভুল করলে কোনোদিন জানতাম না।

সালাম না দেয়ায় স্টাম্প দিয়ে পি*টানো হয়

আরও পড়ুন:  আবরারের আইডি ‘রিমেম্বারিং’ করলো ফেসবুক কর্তৃপক্ষ

আমরা রশিদ হল ১৭ সবে মাত্র এক-দুইতে উঠেছি। বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার (এক্সাক্টলি মনে নাই) রাতে কমন রুমে ডাকা হলো। এর আগে সাধারণত বুধবার রাতে ডেকে র‍্যা*গের নামে ধ*মক, ব্যাচমেটকে দিয়ে থা*প্পর এবং মজা নেওয়া হত। কিন্তু ওইদিন রাত্রে আমাদের একজন ব্যাচমেটকে দিয়েই স্টা*ম্প আনানো হল। তারপর একে একে স্টাম্প দিয়ে পি*টানো শুরু করল।

প্রথমে একজনকে জিজ্ঞেস করলো সালাম দেয়নি কেন? সালাম না দেয়ার কারণে তাকে ১৬ ব্যাচের রামকৃষ্ণ তন্ময় তাকে ৫ মিনিট পি*টায়। তারপর একজন কেন অ্যাডমিশন রিলেটেড পেইজে মোটিভেশনাল পোস্ট দেয় সেজন্য তাকেও পে*টানো হল। তারপর কয়েকজনকে এভাবে পি*টানো*র পরে রামকৃষ্ণ তন্ময় ক্লান্ত হয়ে পরে, পে*টানো*র দায়িত্ব নেয় ১৬ ব্যাচের মোহাইমিনুল সৌরভ। তারপর ৫/৬ জন করে এককাতারে দাঁড় করিয়ে পে*টায়।

একজন কেন মেয়ে ক্লাসমেট নিয়ে ঘুরলো সেই জন্যও তাকে মা*রা হল। তারপর আরেকজন কেন ভাই এর সিলেক্ট করা রুমে ওঠে নাই, সেজন্যও তাকে মা*রা হয়। তাকে পায়ে ও পা*ছায় অন্তত ৪০টি আ*ঘাত করা হয়। এভাবে প্রায় ২০/২৫ জনকে দুইজন মিলে মা*রে। এর মধ্যে কয়েকজনকে কোনো কারণ ছাড়া মা*রা হয়। তারপর এভাবে ৩/৪ ঘণ্টার অ*মানবি*ক নি*র্যাতন শেষে আমাদের ছাড়া হয়। এই নি*র্যাতনে*র পরে অনেকেই হাটতে পারছিলো না।

অত্যাচারে বুয়েট ছাড়তে চেয়েছিলেন একজন

১৫ ব্যাচের আমার একজন প্রিয় বড় ভাই আছেন। আমাকে যখন আউলার এক্সটেনশনে র‍্যা*গ দেয়, তখন ইনি কিছুই করেন নাই তেমন। বরং র‍্যাগ শেষে ভাই নিজেও অনেক দু:খ করেছিলেন। সেই ভাই অনুতপ্ত। কিন্তু যে তিনজন আমাকে ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আরো দশ/বারোজন দিলে র‍্যাগ দিছে, পুরো ফার্স্ট ইয়ার আমার লাইফ হেল করে ফেলেছিলো। তারা এখন সাধু সেজে বেড়াচ্ছে। এতোই মা*নসিক প্রেশারে ছিলাম যে, সবসময় ভয় হতো এই বুঝি আবার আমার দোষ ধরে। আবার না র‍্যাগ খাই। এমন অবস্থা হয়েছিলো যে, কাঁ*দতে কাঁদতে এদেরকে বলেছিলাম, ‘বুয়েটেই আর থাকবো না’।

‘আউলা ১৬’ এর প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তি ছিলো কমন। এ আমাকে ফার্স্ট ইয়ারে অ*সহায় বানিয়েছিলো। আমি হল পর্যন্ত ছাড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকায় থাকার মতো কোনো জায়গা বা আত্মীয় নেই। আবার মেসে থাকবো, সেই টাকা কোথায় আমার। আমি গ্রামের ছেলে অনেক কষ্ট, স্ট্রাগল করে এই বুয়েটে এসেছিলাম।

আরও পড়ুন:  রায়ডাঙায় আবরারের দা*ফন সম্পন্ন

আর এসে এসব হা*রামিদের হাতে পড়েছিলাম। সে সময়ের মা*নসিক ট*র্চার আমি সারাজীবনেও ভুলতে পারবো না। কতটা অ*সহায় বানিয়েছিলো এই আমাকে। আমাকে যখনই দেখতো, তখনই কোনো না কোনো দোষ ধরে যে র‍্যাগ দিতো। সারাজীবনেও এই হা*রামিকে ভুলতে পারবো না।

র‍্যাগের নামে হ*স্তমৈ*থুনে*র অ*ভিনয় ক*রানো হতো

‘আমাদের হলে শুরু থেকে প্রতিটি বুধবার রাত থেকেই আমাদের মধ্যে আতঙ্ক ছিলো। কারণ এইদিন আসলেই আমাদের ডাক পড়তো র‍্যাগ খাবার জন্য। বিশ্বাস করেন, আমাদের র‍্যাগ মোটেই কোনো সুন্দর কিছু ছিল না।

আমাদের শুরু থেকেই হাওয়াই চেয়ার বানানো হতো, অসংখ্যবার কান ধরে উ*ঠবস করানো হতো, বুকডন দেওয়ানো হতো। এগুলো তাও আমরা মেনে নিতাম। আমাদের প*র্নো দে*খানো হতো জো*র করে এবং বলা হতো আরেক ক্লা*সমেটকে এভাবে করে দেখাতে। প*র্নো*তে যে রকম শব্দ হয় ঠিক সে রকম করতে বলা হতো আমাদের। আমাদের প*র্নো দে*খায় হ*স্ত মৈ*থুনে*র অ*ভিনয় করানো হতো। চু*পচাপ করলেও হতো না, আমাদের ফি*লিং*স এনে শ*ব্দ করতে বলা হতো। এ রকম না করলে আরো হু*মকি করা হতো। ভাইরা মাঝে মাঝে বলতো কারো খারাপ লাগে কি না? খারাপ লাগে যদি বলতো কেউ তাকে আরো এ*ক্সট্রি*ম আ*চরণ করা হতো।

আগস্ট মাসের শেষ দিকে একবার আমাদের সবাইকে ডাকা হয় এবং আমাদের কয়েকজনকে রেখে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আমাদের ছাদে তোলা হয়। ছাদে ৭ জন ভাই ছিল ১৭ ব্যাচের। তারা আমাদের সবাইকে অনেক অনেক লেম রিজন দেখিয়ে মা*রতে*ই থাকে।

একজনকে মা*রে এই কারণে যে, সে ভাইদের না বলে হলের বাইরে কি করতে গিয়েছিল? সে যখন বলে মা-বাবা এসেছিল তখনও তাকে মা*রতেই থাকে স্ট্যা*ম্প দিয়ে। সবাই ঘুরে ফিরে মা*রে তাকে। আরেকজন ভাইদের না বলে টিউশনিতে যাওয়ায় তাকে মা*রতে থাকে অ*মানবি*কভাবে।

একজন তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে যাওয়ায় মা*র খায়। আর ভাইকে দেখার পরও সালাম দেয় নাই কেন এজন্য আরো মা*র খায়। পাশাপাশি এটার জন্যও মা*র খায় কারণ তার হাঁটার স্টাইল ভাইদের পছন্দ নয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট