প্রচ্ছদ ফেসবুক থেকে তসলিমা নাসরিনের শিবলিঙ্গ পুজোয় সমস্যা নাই,সমস্যা আছে আবরারের নামাজ পড়া নিয়ে

তসলিমা নাসরিনের শিবলিঙ্গ পুজোয় সমস্যা নাই,সমস্যা আছে আবরারের নামাজ পড়া নিয়ে

137
পড়া যাবে: 7 মিনিটে
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের হ’ত্যাকা’রীদের শাস্তি চেয়েছেন আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, যারা পি’টিয়েছি’ল, তাদের শাস্তি অবশ্যই হতে হবে।

advertisement

একইসঙ্গে তসলিমা এ কথাও লিখেছেন, আরবাব অফিসিয়ালি শিবির না করলেও শিবিরের মতো চাল চলন আর চিন্তা ভাবনা বানিয়েছিল । তাতে কী! শিবিরদেরও বাঁচার অধিকার আছে। তাকে যারা পি’টিয়েছি’ল, আমার বিশ্বাস, মে’রে ফেলার উদ্দেশে পে’টায়’নি। কিন্তু মা’থায় আ’ঘাত লেগেছে, ম’রে গেছে। আবরার ফাহাদ মেধাবী ছিলেন না বলেও মনে করেন এই লেখিকা। তার এই মনে করার পেছনে নিজের যুক্তিও তুলে ধরেছেন তিনি।

তার এমন স্ট্যাটাসে চটেছেন আসিফ নজরুল। ফেসবুকে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস

“তসলিমা নাসরিনের শিবলিঙ্গ পুজোয় সমস্যা নাই, সমস্যা আছে আবরারের নামাজ পড়া নিয়ে। এই বি’কারগ্রস্থ মহিলাকে নিয়ে কখনো লিখিনি আমি। কিন্তু তার একথার উল্লেখ প্রয়োজন হলো এটা বলতে যে বাংলাদেশের বহু ছদ্মবেশী সেক্যুলারের আসল চেহারা তসলিমার মতো।কেউ আল্লাহ লিখলে তাদের সমস্যা হয়, ভগবান বা ঈম্বর লিখলে ঠিক আছে। আরো কতো কিছু!

অথচ সেক্যুলার (অসাম্প্রদায়িকতা অর্থে) মানে হচ্ছে সব ধর্ম সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল থাকা অথবা কোন ধর্ম সম্পর্কেই বিরূপ মন্তব্য না করা। যারা একচোখা হয়ে শুধু একটা ধর্মে সমস্যা খোজে তারা সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক ও মানবতার শত্রু।”

তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাস

“আরবাব ফাহাদের গুণের বর্ণনা করতে গিয়ে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পাড়া পড়শি, চেনা পরিচিত সবাই বলছেন আরবাব মেধাবী ছিল এবং আরবাব ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। মেধাবী হওয়াটা নিশ্চয়ই গুণ কিন্তু ২১ বছর বয়সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়াটা তো গুণ নয়, বরং দোষ। বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি , বিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই!

সাত আকাশের ওপর এক সর্বশক্তিমান বসে আছে, সে ছ’দিনে আসমান জমিন বানিয়েছে, আদম হাওয়াকেও মাটি দিয়ে বানিয়েছে, কথা শোনেনি বলে জমিনে ফেলে দিয়েছে, কেউ একজন ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে তাকে এবং তার বানানো স্বর্গ ন’রক দেখে এসেছে — এসব আজগুবি অবিজ্ঞান আর হাস্যকর গাল গপ্প কোনও বুদ্ধিমান কেউ বিশ্বাস করতে পারে?

আরও পড়ুন:  র‍্যাগের নামে হ*স্তমৈ*থুনে*র অভিনয় ও প*র্নো দে*খিয়ে আ*ইটেম গা*নে না*চানো হত

আরবাব পড়তো হয়তো বিজ্ঞানের বই, পরীক্ষা পাশের জন্য পড়তো। তার বিজ্ঞান মনস্কতা ছিল না। নিজস্ব চিন্তার শক্তি ছিল না। একে আমি পড়ুয়া বলতে পারি, মেধাবী বলবো না। আরবাব ছিল নিব্রাস ইসলামদের মতো। একবিংশ শতাব্দির আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো, কিন্তু মাথায় চোদ্দশ বছর আগের অবিজ্ঞান আর অনাধুনিকতা।

আরবাব অফিসিয়ালি শিবির না করলেও শিবিরের মতো চাল চলন আর চিন্তা ভাবনা বানিয়েছিল । তাতে কী! শিবিরদেরও বাঁচার অধিকার আছে। তাকে যারা পি’টিয়েছি’ল, আমার বিশ্বাস, মে’রে ফেলার উদ্দেশে পেটায়নি। কিন্তু মা’থায় আ’ঘাত লেগেছে, ম’রে গেছে। যারা পি’টিয়েছি’ল, তাদের শাস্তি অবশ্যই হতে হবে। এর মধ্যেই কয়েকটাকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে।

আমি সমালোচনা করেছি তাদের , যারা আরবাবের গুণকীর্তণ গাইতে গিয়ে বলছেন যে আরবাব ধার্মিক ছিল, পাঁচবেলা নামাজ পড়তো। মাদ্রাসার ছাত্রের বেলায় যেটি গুণ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের বেলায়ও সেটি গুণ? আমার পোস্টটি মূলত গুণ নিয়ে। খুব বেশীদিন আগে নয়, গুলশান ক্যাফের স’ন্ত্রাসী’দের বেলায় একই রকম গুণ গাওয়া হয়েছিল।

খুব মেধাবী ছাত্র, পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে। আইসিসে যোগ দেওয়া স’ন্ত্রাসীদে’র ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তারাও পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে। এত দেখার পর অল্প বয়সী ছেলেদের পাঁচ বেলা নামাজ পড়াকে এত প্রশংসা করা হয় কেন? সে পরীক্ষায় ভালো ফল পেত, এটিই কি গুণ নয়?

গুণী এবং নির্গুণ সবারই বাঁচার অধিকার সমান। ভালো ফল পেত বলে, বা জানিনা ৫ বেলা নামাজ পড়তো বলেই কিনা, তার জন্য চোখের জল একটু বেশিই ফেলছে মানুষ। ঠিক যেমন সুন্দরী একটি মেয়ে আ’হত হলে তার জন্য মানুষের আবেগ উথলে ওঠে, অসুন্দরী মেয়ে আ’হত হলে খুব বেশী কিছু যায় আসে না।

আরও পড়ুন:  অন্ধ বিশ্বাস খুব ভয়ানক জিনিস

আমার নাকি ভক্ত তাঁরা, আমার লেখা নাকি ছোটকাল থেকে পড়ে আসছেন। এত পড়ছেন, কিন্তু আমাকে বিন্দুমাত্র জানেন না, বোঝেন না। আমার আজকের একটি লেখা পড়ে তাঁদের মনে হলো আমি খু’নকে সমর্থন করছি। যদিও খু’নের বিচার আমি চেয়েছি, তারপরও মনে হলো। যেহেতু আমি লিখেছি খু’ন করার উদ্দেশে, আমার বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আরবাব নামের ছাত্রটিকে পে’টায়নি — এই মত নাকি খু’নকে সমর্থন করে। না এই মত খু’নকে মোটেও সমর্থন করে না।

আজ যদি ভাড়া করা খু’নী দ্বারা আরবাবকে মা’রা হতো, তাহলে নিশ্চয়ই উদ্দেশ্য খু’নের। বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশ বছর বয়সী ছাত্ররা কোনও এক ফেসবুক পোস্টের জন্য তাদের এক সহপাঠীকে পি’টিয়েছে। খু’ন করলে তাদের ছাত্রজীবনের অবসান হবে, তাদের বাকি জীবন জে’লে প’চতে হবে, এটা এতগুলো ছেলের একজনও জানে নি?

খু’নের উদ্দেশ্য না থাকলেও যেহেতু পি’টিয়েছে, যেহেতু খু’ন ঘটেছে, সেহেতু শাস্তি হওয়া জরুরি। এ কথাটা স্পষ্ট করে আমি লিখলেও আমার বিরুদ্ধে কুৎসিত গালি গালাজ বন্ধ হচ্ছে না। একজন তো নাকি আমার বহুকালের ফ্যান, তিনি বললেন, আমি নাকি কাউকে তেল দেওয়ার উদ্দেশে লেখাটা লিখেছি, বোঝাতে চাইছেন, আমি হাসিনাকে তেল দিচ্ছি, দেশে ফেরার জন্য। হায় মনুষ্য মস্তিস্ক!

ধিক এইসব ফ্যানদের। এরা আমার বন্ধু তালিকা থেকে বিদেয় হলেই বাঁচি। আরেকজন বললেন, আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমার মাথার ঠিক নেই, তাই আমি এইসব লিখছি। এঁরা আমার বন্ধু তালিকায় ছিলেন। বন্ধু নামের কলংক। যাঁরা বন্ধু তালিকায় নেই, তাঁরা, মানে নারীবিদ্বেষী মোল্লা মুন্সি শেয়ার করছেন আমার লেখা, আর প’তিতা বলে মনের সুখে গালি দিয়ে যাচ্ছেন। এই হচ্ছে বাংলাদেশি আবেগ। যখন উথলে ওঠে, সু’নামি লেগে যায়। চিন্তাশক্তি বিচারশক্তি সব লোপ পায়।”

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 342
    Shares
advertisement