প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রতিবাদে মির্জা আলমগীরের প্রেসকনফারেন্স

15
নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রতিবাদে মির্জা আলমগীরের প্রেসকনফারেন্স
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের সেনাসমাবেশ ও বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবাদ সম্মেলনস্থান:বিএনপি চেয়ারপার্সন কার্যালয়,গুলশান,ঢাকা।তারিখ:০২ অক্টোবর ২০২০প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,আসসলামুলাইকুম,সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ইতোমধ্যেই আমরা সকলেই অবগত যে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে গত১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ভোর থেকে মাছ ধরার ট্রলারে করে মিয়ানমারের সেনাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করা গেছে। অন্তত তিনটি পয়েন্টে সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সৈন্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের অন্তত তিন পয়েন্টে কা নিউন ছুয়াং, মিন গা লার গি ও গার খু এ ট্রলার থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সৈন্যদের নামতে দেখা গেছে। সীমান্ত পয়েন্টগুলোর মধ্যে একটির দূরত্ব আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখার (২০০ মিটার) মধ্যে। ওই তিন পয়েন্টে মাছ ধরার ট্রলারের কাঠের নিচে বসিয়ে সৈন্যদের জড়ো করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা মিয়ানমার সেনাবাহিনী এক দিনেই এক হাজারের বেশি সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে গণহত্যা শুরুর সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ঠিক একইভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সৈন্যসমাবেশ করেছিল। ফলে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ভোরে শুরু হওয়া সেনাসমাবেশের কারণে রাখাইনে এখন যেসব রোহিঙ্গা রয়েছেন, তাদের মধ্যে নতুন করে ভীতি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধির মাধ্যমে এ ধরনের সেনাসমাবেশ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও মিয়ায়নমারের রাখাইনে আবদ্ধ রোহিঙ্গাদের মাঝে ব্যাপক আতংক সৃষ্টি করেছে। একই সাথে এ ধরনের অনাকাংখিত সেনা তৎপরতা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি রক্তচক্ষুর বার্তার সমতুল্য । বিনা উসকানিতে সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা অধুষিত বিতর্কিত আন্তর্জাতিক সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ ধরনের সমাবেশ শুধু যে মিয়ানমারের নৃতাত্ত্বিক রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর জন্য আতংকের বিষয় তাই নয়। একই সাথে এটা চলমান আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র কর্তৃক আইন অবমাননার চুড়ান্ত বহিপ্রকাশ এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,রোহিঙ্গা গণহত্যা ও জাতিগত নিপীড়ন-নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার তিন বছর পূর্তির প্রাক্কালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিক ফলাফলমাত্র। প্রায় ১২ লক্ষাধিক(গণমাধ্যমে প্রকাশিত) শরণার্থী সমস্যা সমাধানে যে ধরনের সমন্বিত বহুমুখী তৎপরতা নেয়া অত্যাবশ্যক ছিল ২০১৭ সালের আগস্টে সর্বশেষ রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন ও জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন অবৈধ সরকার তা নিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। উপরন্তু রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক মন্ত্রাণলয়ের সর্বাধিক অগ্রাধিকার হওয়া সত্ত্বেও লাগাতার কুটনৈতিক ব্যর্থতায় তারা এখন কিংকর্তব্যবিমুঢ়। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে গত বছরের ২২ আগস্ট তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সীমাহীন নির্লিপ্ততা পরিলক্ষিত হচ্ছে।প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,বাংলাদেশের গণবিচ্ছিন্ন বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার শুরু থেকে দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে সমস্যাকে জটিল থেকে জটিল করে তুলেছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এ সমস্যাকে দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে এডহক ভিত্তিতে সমস্যার সমাধানে কার্যত মিয়াননামের পাতা ফাঁদে পা দেয়া। অথচ ইতোপূর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মিত্রদের যুক্ত করে বাংলাদেশ দুই-দুইবার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করেছে। সরকারের সামনে সমস্যা সমাধানে এ ধরনের ঐতিহ্যগত পররাষ্ট্রনীতির সফলতা থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা বিবেচনাপূর্বক আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলাম। কিন্তু একনায়কসুলভ ও একগুয়ে মনোভাবাপন্ন এই অবৈধ সরকার আমাদের আহবানে সাড়া না দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চরম নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে । যার মাধ্যমে বৈশ্বিক নৃজাতিগোষ্ঠীগত রোহিঙ্গা সমস্যাকে কেবলমাত্র বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। মূলতঃ এই চুক্তির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদেরকে রাজনৈতিকভাবে অধিকারহীন করা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার পর যে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরাণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাঁরা এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় রোহিঙ্গাদের একজন প্রতিনিধিকেও কখনোই রাখা হয়নি । অর্থাৎ যাদের নিয়ে এই সংকট এবং যারা গণহত্যা ও নৃশংসতার শিকার, তাদের কণ্ঠস্বর আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক কোনো আলোচনাতেই শোনা যায়নি, বা মিয়ানমারের পরিকল্পনামতো নতজানু বাংলাদেশ সরকার শুনতে দেয়নি । শুধু তাই নয়, চুক্তি সম্পাদনে আরেকটি বড় ব্যর্থতা ছিলো বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের চুক্তি বাস্তবায়নে গ্যারান্টর হিসেবে আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষকেই যুক্ত করতে না পারার কুটনৈতিক ব্যর্থতা। একটি অগণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে তার প্রতি বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার চরম সংকট। ফলশ্রুতিতে এধরনের সরকারের বৈদেশিক মিশনগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের অধিক সময় ব্যয় হয় এই অবৈধ গণবিচ্ছিন্ন সরকারের টিকে থাকার স্বার্থকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে। আর এর ভয়াবহ প্রভাব প্রতিফলিত হয় রাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা সমাধানে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেতে সুদৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করতে না পারায়। চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বর্তমান সরকারের নির্লজ্জ নতজানু অবস্থানের মূল কারণ হয়েছে বাস্তবিক অর্থে তাদের প্রতি দেশে ও দেশের বাইরে সকলের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার সংকট। তাই এই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রক্তের সম্পর্ক। আর চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক। কোনোভাবেই এই সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার নয়” । ঠিক তখনই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এই দুই বন্ধু রাষ্ট্র ভারত ও চীন সহ কাউকেই আমাদের পাশে পাইনি। এমনকি সাম্প্রতিক কালে আমাদের অন্যতম বিনিয়োগ অংশীদার রাশিয়াকেও আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি।আপনাদের নিশ্চয়ই স্মরণে আছে, বর্তমান সরকারের এই দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবে আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু চীন ও রাশিয়ার সমর্থন লাভে আমরা ব্যর্থ হই। এমনকি, তথাকথিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সোনালী অধ্যায় চিত্রিত করতে যখন বর্তমান নতজানু সরকারের অবৈধ মন্ত্রীবর্গ নিয়ত ব্যতিব্যস্ত এরকম সময়েওরোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের নেওয়া নিপীড়ণমূলক পদক্ষেপকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ’ বলে সমর্থন করে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের সমগ্র জনগণকে গভীরভাবে হতাশ করেছিল ।প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,পৃথিবীর বৃহত্তম শরণার্থী শিবির এই মুহুর্তে বাংলাদেশে। একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার মিয়ানমার সরকারের সক্রিয় নীতিপরিকল্পনার অংশ হিসেবে যে রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি সেটা কোনো অর্থেই বাংলাদেশ কিংবা মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা হতে পারে না। এটা নিঃসন্দেহে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক বিপর্যয়। এর সর্বাত্মক দায় মিয়ানমার। আর বাংলাদেশ এর অন্যতম প্রধান পক্ষ। তাই এ সমস্যা সমাধানে শুরু থেকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় উদ্যেগকে সাথে নিয়ে সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী ছিল। কিন্তু লাগাতারভাবে একনায়ক রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে বিরোধীদের উপর সীমাহীন নির্মম দমন-পীড়ন ও ৩০ ডিসেম্বরের মতো মধ্যরাতের নির্বাচনের বিতর্কিত বিষয়গুলো কারণে বহির্বিশ্বে শেখ হাসিনা সরকারের গ্রহণযোগ্যতা যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে তা ফিরে পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টায়ই আমাদেরদলবাজ কূটনীতিকদের বেশির ভাগ সময় কেটে যায়। রোহিঙ্গা সমস্যার কার্যকরী সমাধানে যে ফলপ্রসু কুটনীতি গ্রহণ করা দরকার, তা উপলদ্ধিতে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ার ফলে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে যে প্রস্তাব পাস হয়, তার পক্ষে মোট ভোট পড়েছিল ১৩৪ এবং বিপক্ষে ৯। ভোটদানে বিরত ছিল ২৮টি দেশ। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটের অধিকতর কুটনৈতিক বিশ্লেষণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার চরম হতাশাজনক চিত্র পরিস্ফুটিত হয়েছে। আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশার বিষয় হচ্ছে, রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ, সহিংসতার নিন্দা এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের প্রস্তাবেও আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠতম প্রতিবেশী ভারতের সমর্থন আদায় করতেও ব্যর্থ হয়েছি। যেমনটা ব্যর্থ হয়েছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত আর্থিক বিচারে আমাদের প্রধান উন্নয়ন অংশীদার জাপান ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার (আঞ্চলিক জোট আসিয়ানভুক্ত) দেশগুলোরপ্রস্তাবটিতে সমর্থন আদায়ে। চীন,রাশিয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আমাদের কুটনৈতিক ব্যর্থতায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এ অঞ্চলের অন্যতম আঞ্চলিক ফোরাম হিসেবে পরিচিত আসিয়ানকেও নূন্যতম কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি।প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,আমরা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে অগ্রাধিকার বিষয় হওয়া বাঞ্চণীয় ছিলো রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধান। সরকারের সামগ্রিক কার্যকলাপ বিবেচনায় এধরনের অগ্রাধিকার সর্বতই অনুপস্থিত। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে, এখন পর্যন্ত এই সমস্যার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী কোনো বিশ্ব নেতার সঙ্গে সাক্ষাত করেননি, বিশ্ব সফর করেননি এবং জাতিসংঘে সেইভাবে গুরুত্বসহকারে বিষয়টাকে তুলে ধরতে পারেননি। যার ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমরা বৈশ্বিক,আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক সকল স্তরেই ব্যর্থ হচ্ছি। বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির সুযোগে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আজ কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি , সরকারের এ দুর্বল নীতি আজ মিয়ানমার সরকারের কাছেও স্পষ্ট। এর পরিপূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেই মূলত মিয়ানমার সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে সেনাসমাবেশ করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এহেন সেনা সমাবেশের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এছাড়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক আন্তঃআঞ্চলিক কুটনৈতিক উদ্যেগ গ্রহণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বর্তমান নতজানু সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,বৈশ্বিক মহামারী সমগ্র বিশ্বের সার্বিক পরিকল্পনা আর দৃষ্টভঙ্গিতেই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। করোনা পরবর্তী বিশ্বে যে পরিবর্তন সমগ্র বৈশ্বিক নীতিতেই বড় ধরনের প্রভাব রাখবে। রোহিঙ্গা সমস্যাও এর বাইরে নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী। বিশ্বের মানচিত্রে এই জাতিগোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক তদারকিতে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলকে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে যথাযথ নাগরিক অধিকার ও মর্যাদায় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের আবাসভূমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কোনো বিকল্প নাই। আর সেটা কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন বাংলাদেশের নেতৃত্বে র যাবৎকালের সকল দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক উদ্যেগকে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে বাঁচাতে এক সুতোয় বাঁধা সম্ভব হবে। তবে এই সমগ্র প্রক্রিয়া কেবল তখনই সম্ভব যখন বাংলাদেশের মানুষ তার অধিকার ফিরে পাবে। এদের মানুষ তার অধিকার নির্ভয়ে,নির্বিঘ্নে প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। যার মাধ্যমে বর্হিবির্শ্বে দূরীভুত হবে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার সংকট। এগিয়ে আসবে বিশ্ব বিবেক অধিকতর মানবিক হৃদয় নিয়ে। রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে। আর বাংলাদেশ মুক্তি পাবে শরণার্থী সংকটের অনিশ্চিত সমাধানের হাত থেকে।অতএব, সরকারের প্রতি আবারো আহবান জানাই, রোহিঙ্গা সমস্যা দূর করতে হলে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন, গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করুন, বহির্বিশ্বে দেশের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করুন।
নিউজটি পড়া হয়েছে 10045 বার

আরও পড়ুন:  অতীতের বহু নির্বাচনে বিএনপি কেন এজেন্ট দিতে পারেনি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares