প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ নেতা হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি এখন আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা

ছাত্রলীগ নেতা হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি এখন আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা

86
পড়া যাবে: 8 মিনিটে
advertisement

ছাত্রলীগ নেতা এস এম গোলাম মুর্শিদ হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি ছিলেন তিনি। ওই মা’মলায় আ’দালতের রায়ে যা’বজ্জীব’ন সা’জাও হয় তার। উচ্চ আদালত থেকে জা’মিন নিয়ে দা’পিয়ে বেড়াচ্ছেন পুরো নগরী। ২০১৪ সালে হয়ে যান নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ছাত্রলীগ নেতা হ’ত্যা মা’মলায় দ’ন্ড পাওয়া আজিজুল আলম বেন্টু এখন আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা।

advertisement

১৯৯৯ সালের ২৬ মার্চ ছাত্রলীগ রাজশাহী মহানগর কমিটির সহসভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির (মাস্টার্স) ছাত্র গোলাম মুর্শিদ ওরফে গোলামকে কু’পিয়ে হ’ত্যা করা হয়। এই হ’ত্যা মা’মলার যা’বজ্জীবন সা’জাপ্রাপ্ত আ’সামিদের একজন আজিজুল আলম বেন্টু।

হ’তাকা’ণ্ডের কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এখন তিনি রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আর তাঁর বড় ভাই একই হ’ত্যা মা’মলার সা’জাপ্রা’প্ত আসামি রবিউল আলম বাবু রাজশাহী জেলা কৃষক লীগের সভাপতি।

নগরীর হড়গ্রাম এ’লাকার বা’সিন্দা আজিজুল আলম বেন্টু ট্রাকচালক ছিলেন। এ পেশা ছেড়ে কিছুদিন মাছও বি’ক্রি করেছেন। বা’ড়িতে গরুর খামার করে দুধ বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন রাজশাহীতে তাঁ’র শতকোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। বালুমহাল থেকে শুরু ক’রে সরকারি জমি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাসস্থান দ’খল, ভ’য়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূ’ল্যে সা’ধারণ মা’নুষের জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে বেন্টুর বিরুদ্ধে। তাঁর এই দাপটের পেছনে রয়েছে অ’স্ত্রধা’রী সহযোগীরা।

১৯৯৪-৯৫ সালের দিকে রাজশাহী নগরের কোর্ট এলাকায় বামপন্থী ছা’ত্রসংগঠন ছাত্রমৈত্রীর প্র’বল প্র’ভাব তছনছ করে দিয়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছিলেন যাঁরা তাঁদের অন্যতম ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা গোলাম। ছাত্রমৈত্রীর তীব্র বা’ধার মুখে তি’নি কোর্ট ঢা’লান মোড়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশ করেছিলেন। ত’খনকার বিরোধী দল নেতা শেখ হাসিনা একবার রাজশাহী সফরের সময় গোলামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। আরেকবার রাজশাহী সার্কিট হাউসে তাঁ’কে ডেকে আ’দর করে তাঁর মাথায় হাত বু’লিয়ে দেন তিনি।

কিন্তু এ’লাকায় প্রভাব বিস্তার নি’য়ে বিরোধের জের ধরে বেন্টুর নেতৃত্বে তাঁর বড় ভাই ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী মহানগর কমিটির সাবেক সভাপতি রবিউল আলম বাবুসহ এক’টি দল গোলামকে কু’পিয়ে হ’ত্যা করে। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আ’সামি করে নগরীর রাজপাড়া থানায় মা’মলা হয়। ২০০৫ সালের ৮ মে বাবু ও বেন্টুসহ ১১ জনকে যা’বজ্জীবন কা’রাদণ্ড দেন আদালত।

আরও পড়ুন:  র‌্যাবের কাছে ৩০০ পিচ ই*য়াবা বিক্রির কথা বলে ২৫০ পিচ বিক্রি,ছাত্রলীগ নেতা গ্রে*প্তার

প্রায় ৯ মাস কা’রাভোগ করেন সা’জাপ্রাপ্ত আ’সামিরা। পরবর্তী সময়ে তাঁরা উচ্চ আদালত থেকে জা’মিন নেন। এরপর আ’সামিদে’র আবেদনে উচ্চ আদালত মামলার কার্যক্রম স্থ’গিত করে আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ নিয়ে আর কোনো আপিল করেনি। আর্থিক টানাপড়েন এবং বেন্টুর ভ’য়ে গোলামের পরিবার মা’মলার ত’দবির করতে পারেননি। ক্ষো’ভে তাঁরা আর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও নেই।

নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হুদা রানা বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে গোলাম হ’ত্যার রা’য় কার্যকর দেখতে চাই।’গোলামের ভাই এস এম গোলাম জিলানী রাজু বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হ’ত্যাকা’রীদের সা’জার রা’য় কা’র্যকর দেখতে চাই।’

এই হ’ত্যাকা’ণ্ড সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা বেন্টু বলেন, ‘এই মা’মলা’য় কেন আ’সামি হলাম, কে’ন বা জে’ল খা’টলাম, তার অনেক বড় কাহিনী আছে। এর পেছনে কারা ছিল সেটি জানতে হবে।’

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘গোলাম ছিলেন নি’বেদিতপ্রাণ নেতা। তাঁর মতো এ’কজন নেতাকে হ’ত্যা করা স’ত্যি বেদনার বিষয়। হ’ত্যাকা’ণ্ডের কি’ছুদিন আগে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন বেন্টুসহ তাঁর প’রিবারের লোকজন। তার আগে তাঁরা ওয়ার্কার্স পার্টি করতেন।’

অ’ভিযোগ র’য়েছে, নগরীর তালাইমারী এলাকায় একটি বালুমহাল জো’র করে দ’খলে রেখেছেন বেন্টু। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আগের পাঁচ বছর তিনি ১১টি বালুঘাট নি’য়ন্ত্রণ করতেন। যে ঘাটটি গো’পনে মাত্র পাঁচ লাখ টা’কায় ইজারা নিতেন বেন্টু, সেটি চ’লতি বছর তাঁকে প্’রকাশ্যে দরপত্রের মাধ্যমে দুই কোটি দুই লাখ টা’কায় নিতে হয়েছে।

ন’গরের বাইপাস মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বিশাল একটি জায়গা বা’লু দিয়ে ভ’রাট করেছেন বেন্টু। এর মধ্যে অন্তত ১৫ ফুট জায়গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এটা ছিল জ’লাধার। বাকি অংশের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিল পুকুর। স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর মালতি রানী  বলেন, ‘মাস তিনেক আগে আ’মাদের বাড়ি ভেঙে সরে যেতে বলেন বেন্টুর লোকজন। আমরা ভ’য়ে আর কোনো প্র’তিবাদ করিনি।’

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুজ্জোহা বলেন, ‘রাস্তার দুই পাশেই আ’মাদের জমি আছে। এ’গুলো ভ’রাট ক’রতে হলে অ’নুমতি নিতে হবে। কিন্তু অ’নুমতি নেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নাই।’

আরও পড়ুন:  ৫ শর্তে ছাত্রলীগের কমিটি রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী

জানা গেছে, বছর দুয়েক আগে নগরীর আলুপট্টি এলাকায় প্রায় ১০ কাঠা জমি কেনেন বেন্টু। বি’রোধপূর্ণ এই জ’মিটি একটি পক্ষের কাছ থেকে জো’র করে পা’নির দরে কিনে নেওয়া হয়। এর মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। এরপর বেন্টু সেখানে গড়ে তোলেন কার্যালয়, যেটি ট’র্চার সে’ল নামে পরিচিত। এখানে ব’ছরখানেক আ’গে একজন ঠি’কাদারকে ধরে এনে জোর করে দুই কোটি টা’কার বা’লু নিতে বা’ধ্য করেন বেন্টু। তাঁর আ’রো একটি কার্যালয় আছে নগরীর কোর্ট স্টেশন এ’লাকায় রেলওয়ের জমিতে। এটাও ট’র্চার সে’ল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

এ ছাড়া নগরীর তালাইমারীতে রয়েছে বেন্টুর আরেকটি জায়গা। কাড়িরপুরে কি’নেছেন প্রায় পাঁচ বিঘা জমি, দামকুড়ায় কিনেছেন আরো বিপুল সম্পত্তি। নগরীর বাইপাস সড়ক থেকে টুলটুল পাড়া রেললাইন পর্যন্ত রে’লের জমি দ’খলে রেখেছেন তিনি। কোর্ট বা’জার মাছপট্টিতে সিটি ক’রপোরেশনের জা’য়গা দখল করে মার্কেট করে ভা’ড়া তোলেন বেন্টু। তাঁর রয়েছে আটটি ড্রাম ট্রাক, একটি ভেকু মেশিন, একটি এসকাভেটর ও বিলাসবহুল গাড়ি।

বছর দুয়েক আগে বেন্টুর ‘স’ন্ত্রাসী বা’হিনী’ চর শ্যামপুরে ঘাট দ’খল নিয়ে কাঁটাখালি পৌরসভার মেয়র আ’ব্বাসের লো’কজনের ওপর গু’লি চা’লিয়েছি’ল। ওই সময় বেন্টুকে প্রধান আ’সামি করে থা’নায় মা’মলা করতে চেয়েছিলেন গু’লিবি’দ্ধ নজরুল হকের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু অ’দৃশ্য শ’ক্তির কারণে বেন্টুকে আ’সামি করা যায়নি। সম্প্রতি শফিকুল ইসলাম সুমন নামের এক যুবককে কু’পিয়ে জ’খম করে বেন্টুর স’হযোগীরা। ৫০টির বেশি অ’বৈধ অ’স্ত্র বেন্টু ও তাঁর বাহিনীর কাছে রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সম্পদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল আলম বেন্টু গতকাল , ‘আমি কোনো অ’নিয়ম করিনি।’ আলুপট্টি এলাকায় জমি কেনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই জমি নিয়ে বি’রোধ আছে কি না আ’মার জানা নেই।’ অন্যসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোবাইলে এত কিছু বলা সম্ভব নয়।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 175
    Shares
advertisement