প্রচ্ছদ উদ্যোক্তা

২/৫ লক্ষ টাকায় ওষুধের ব্যবসায় মাসে লাভ ৫০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা!

42
২/৫ লক্ষ টাকায় ওষুধের ব্যবসায় মাসে লাভ ৫০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা!
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

২/৫ লক্ষ টাকায় ওষুধের ব্যবসায় মাসে লাভ ৫০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা!

অল্প পুজিতে ঔষধের ব্যবসা তথা ফার্মেসি ব্যবসা করে লাখপতি হওয়া সম্ভব। ফার্মেসি ব্যবসা বেশ লাভজনক একটি ব্যবসা। অনেক ঔষধে ৫০% পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে। বর্তমানে খাদ্যের মত মানুষের ঔষধের প্রয়োজন হয়। যেমন, এই মুহূর্তে এই লেখাটি লেখার পূর্বে আমি আমার জন্য ৫০০ টাকার ঔষধ কিনে আনলাম। আশা করি অনুধাবন করতে পারছেন, ঔষধের চাহিদা। শুধু বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর ১৪০টি দেশে ঔষধ রপ্তানি হয়।

বাংলাদেশে যে ঔষধের চাহিদা তার ৯৫% বাংলাদেশেই তৈরি হয়। সুতরাং, কম মূল্যে ঔষধ পাওয়ার জন্য আপনাকে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না। যাই হোক, আজকে আমরা অল্প পুজিতে ঔষধের ব্যবসা আইডিয়া শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। এই লেখায়, ঔষধের ব্যবসা করতে কি কি কাগজ পত্র লাগবে, কি যোগ্যতা থাকা লাগবে, মূলধন কত লাগবে ইত্যাদি সকল বিষয় তুলে ধরবো। গ্রামে ব্যবসা করতে চাইলে ১০টি গ্রামের ব্যবসার আইডিয়া লেখাটি পড়তে পারেন।

ঔষধের ব্যবসায় লাভ কেমন: ঔষধের ব্যবসায়ের লাভ সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার পুঁজির উপর আপনার পুঁজি যত বেশি হবে লাভ তত বেশি হবে। সাধারণত ওষুধ বিক্রি করতে পারলে ১২-১৫% পর্যন্ত লাভ থাকে। ৩-৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে অনায়াসে ৫০ হাজার টাকা থেকে লক্ষ টাকা বা তার বেশিও আয় করা সম্ভব। যদিও এর জন্য বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যা আমরা, এই লেখার শেষে আলোচনা করেছি।

ফার্মেসী ফাউন্ডেশন কোর্স: সাধারণত ওষুধের দোকান দিতে চাইলে ফার্মেসী ফাউন্ডেশন কোর্স করে নিতে হয়। এটা সাধারণত ৩ মাসের কোর্স করতে হয়। কোর্সে ভর্তির নোটিশ www.pcb.gov.bd এই ওয়েবসাইটে পাবেন। মনে রাখবেন, এখানে ৩ ক্যাটেগরিতে রেজিস্ট্রেশন হয়। যথা: এ – গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের এই লাইসেন্স দেয়া হয়। বি – ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের এই লাইসেন্স দেয়া হয়। সি – যারা শর্ট-কোর্স করে তাদের এই লাইসেন্স দেয়া হয়। ভর্তি হওয়ার পর আপনি তাদের সেখানে কোর্স করতে পারবেন। এবং কোর্স শেষে পরীক্ষা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:  নিজের শখকে ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ দিয়ে উদ্যোক্তা

ঔষধের দোকানের লাইসেন্স: ঔষধের দোকান দিতে হলে অবশ্যই আপনার লাইসেন্স থাকতে হবে। ড্রাগ লাইসেন্সের জন্যে আবেদন করতে যা যা লাগবে: নাগরিকত্বের সনদপত্র/ভোটার আই.ডি কার্ডের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক সলভেন্সি, দোকান ভাড়ার রসিদ/চুক্তিপত্র, ফার্মেসী ফাউন্ডেশন কোর্স সার্টিফিকেটের ফটোকপি www.dgda.gov.bd এই সাইট থেকে ফরম ডাউন-লোড করে পূরণ করতে হবে। এছাড়া, এই সাইটে ড্রাগ লাইসেন্সের বিস্তারিত পাবেন। লাইসেন্সের জন্য আপনাকে প্রায় ২০ হাজারের মত টাকা খরচ করতে হবে।

পুঁজি: পুঁজি নির্ভর করে আপনার উপর। তবে, সর্বনিম্ন ২ লক্ষ টাকা পুঁজি লাগে। যেসব খাতে আপনার টাকার প্রয়োজন হবে: দোকান ভাড়া, আসবাবপত্র, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন, থার্মোমিটার, প্রেশার মাপার যন্ত্র ইত্যাদি। ঔষধের পাইকারি বাজার: ঔষধের কোম্পানি থেকে কিনতে পারেন। তবে, ঔষধের কোম্পানির থেকেও কমে পাবেন আপনি ঢাকার মিটফোর্ডে। আপনি মিটফোর্ড থেকে স্বল্প মূল্যে ঔষধ কিনতে পারবেন।

ফার্মেসী ব্যবসার কৌশল: ফার্মেসী ব্যবসা নিয়ে আশা করি অনেক কিছু জানা হয়েছে। এবার মূল আলোচনায় আশা যাক। ফার্মেসী ব্যবসায়ের কৌশলগুলো কি কি? আপনি যদি সঠিকভাবে ফার্মেসী ব্যবসায়ের কৌশলগুলো রপ্ত করতে পারেন তাহলে, অনেকাংশে ব্যবসায় লস হওয়ার সম্ভবানা অনেক কমে যাবে। কৌশলগুলো হল:

সঠিক জায়গা নির্বাচন: ফার্মেসি দোকান দেয়ার আদর্শ জায়গা হল হাসপাতালের সামনে দেয়া। তবে, মনে রাখবেন এসব জায়গায় আপনার প্রতিধন্ধি অনেক বেশি থাকবে। পাশাপাশি এসব জায়গাতে দোকান দিতে চাইলে আপনার অনেক পুঁজি লাগবে। পুঁজি বেশি থাকলে এসব জায়গায় দোকান দিয়ে মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন। অল্প বয়সে কোটিপতি হওয়ার উপায়।

আরও পড়ুন:  ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় প্রতারিত হয়েও প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তা!

ফার্মেসিতে ডাক্তার রাখুন: হাসপাতালের আশে পাশে না হলে, ফার্মেসির পাশে ডাক্তার বসার ব্যবস্থা রাখুন। যাতে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে পারে। আর ডাক্তার দেখানোর পর সাধারণত আপনার দোকান থেকেই তারা ওষুধ কিনবে। কাস্টমারদের সাথে সম্পর্ক রাখুন: কাস্টমারদের সাথে হাসি মুখে কথা বলুন। প্রেসক্রিপশন বুঝিয়ে দিন। কোন ওষুধ কখন খেতে হবে তা বুঝিয়ে দিন। অসুস্থ বা বয়স্ক মানুষের জন্য বসার ব্যবস্থা রাখুন।

সব ধরণের ওষুধ রাখুন: আপনার দোকান থেকে যেন কোন কাস্টমার ফেরত না যায়। সেজন্য কাস্টমারদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরণের ওষুধ রাখুন। বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখুন: কাস্টমার আকৃষ্ট এবং মানবসেবার উদ্দেশ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে পারেন। এছাড়া, ডাইবেটিস পরীক্ষা, প্রেশার পরীক্ষা, ওজন মাপা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ফ্রি সেবা দিতে পারেন।

শেষ কথা: এই ছিল আজকে অল্প পুজিতে ঔষধের ব্যবসা আইডিয়া। আপনার যদি এই ব্যবসায় আগ্রহ থাকে তাহলে, শুরু করে দিতে পারেন। আরও, কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায় এই লেখাটি পড়ে নিতে পারেন। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।