প্রচ্ছদ জেলা ছাত্রলীগ নেতা তৈয়বকে নিয়ে প্রচারিত টাকা ফেরতের তথ্য ভু’য়া এবং তিনি নিজেই...

ছাত্রলীগ নেতা তৈয়বকে নিয়ে প্রচারিত টাকা ফেরতের তথ্য ভু’য়া এবং তিনি নিজেই তা স্বীকার করছেন

155
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

মানবজমিনের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম, “ঠিকাদারির লাভের অঙ্ক ফেরত দিলেন ছাত্রলীগ নেতা” । কালের কণ্ঠের শিরোনাম, “সাড়ে চার কোটি টাকা ফেরত দিলেন ছাত্রলীগ নেতা” । ঢাকা ট্রিবিউনের বাংলা ভার্সনের শিরোনাম, “কাজ শেষে সরকারকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ফেরত দিলেন ঠিকাদার” এভাবে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

advertisement

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটির ইন্ট্রো তুলে দেয়া হলো– “ছাত্রলীগ নেতাদের নীতি-নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এরই মাঝে সরকারি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তাঁর নাম মো. আবু তৈয়ব। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক।” কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের আরেকটি প্যারা হচ্ছে– “গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকল্পের টাকা বাঁচিয়ে ঠিকাদার আবু তৈয়ব গণপূর্ত বিভাগে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এমন ঘটনা সচরাচর হয় না।”

ঢাকা ট্রিবিউনের বাংলা ভার্সনের প্রতিবেদন থেকে প্রথম দুটি প্যারা উঠিয়ে দেয়া হল– “চট্টগ্রাম মহানগরীতে বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে কম টাকায় একটি সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ করেছেন মো. আবু তৈয়ব নামের এক ঠিকাদার। এমনকি বেঁচে যাওয়া ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমাও দিয়েছেন তিনি। আবু তৈয়ব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক ঠিকাদার প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা কমে প্রকল্পের কাজ শেষ করেছেন। ঠিকাদার আবু তৈয়বের দাবি, তিনি ওই টাকা ‘ফেরত’ দিয়েছেন। এ দাবির বিষয়ে গণপূর্তের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ঠিকাদারের টাকা ফেরত দেওয়া কোনও ঘটনা ঘটেনি। এখানে টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগই নেই। কারণ, ঠিকাদারকে কোনও বাড়তি টাকা দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন:  গুদামে মজুদ করে রাখা পেঁয়াজে পচন ধরেছে,রাতের অন্ধকারে ফেলে দেওয়া হচ্ছে খালে

ঠিকাদার আবু তৈয়ব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ‘বায়েজিদ সবুজ উদ্যান’ নামে একটি প্রকল্পে ডিপিপির নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে ওই টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমি মানসস্মতভাবে কাজ করে পার্কটি তৈরি করেছি। আমার যত টাকা খরচ হয়েছে বা যত লাভ করা উচিত তা করে সেই অনুযায়ী বিল করেছি।’ তবে এজন্য প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গণপূর্তের প্রকৌশলীরা বেশি প্রশংসার দাবিদার বলে তিনি জানান।

এদিকে, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান  বলেন, ‘ঠিকাদারের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ঠিকাদার যেই পরিমাণ কাজ করেছেন, সেই পরিমাণ বিল আমরা তাকে প্রদান করেছি। তাকে বাড়তি টাকা প্রদান করা হয়নি। ঠিকাদার বাড়তি টাকা না পেলে ফেরত দেবেন কীভাবে? ডিপিপিতে প্রস্তাবিত যে খরচ ধরা হয়েছে, সেই পরিমাণ টাকা চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দও পাঠাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিপিপি তৈরির সময় প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শেষ করতে খরচ হয়েছে ৮ কোটি ২৩ টাকার মতো। কাজ শেষ করে ঠিকাদার এই পরিমাণই বিল দিয়েছেন। এর চেয়ে বেশি বিল দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা তাকে এই পরিমাণ টাকাই দিয়েছি। ডিপিপিতে যে খরচ ধরা হয় বাস্তবে কাজ করার সময় সেই পরিমাণ টাকা খরচ হবে এমন কোনও কথা নেই। প্রকল্পের কাজ শেষ করতে কখনও ডিপিপির চেয়ে বেশি খরচ হয়। যখন কাঁচামালের দাম বেড়ে যায় তখন ব্যয় বেড়ে যায়। তখন ডিপিপি আবার সংশোধন করতে হয়। আবার যখন কাঁচামালের খরচ কম হয়, তখন ডিপিপি চেয়ে কম খরচ হয়। কম খরচ হলে তখন সমস্যা হয় না। কারণ তখন যত টাকা খরচ হয়, সেই পরিমাণ বিল করতে হয় ঠিকাদারকে। এখানে ঠিকাদারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার কোনও সুযোগ নেই। এর জন্য কেউ প্রশংসার দাবিদারও না।’

আরও পড়ুন:  চট্টগ্রামে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে ভবনধস,সাতজনের মৃ'ত্যু, দগ্ধ হয়েছেন ২০ জন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে গণপূর্ত বিভাগ নগরীর বায়েজিদ এলাকায় সেনানিবাসের পাশে ‘বায়েজিদ সবুজ উদ্যান’ নামে একটি পার্ক গড়ে তোলার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই প্রকল্পের কাজ পায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ডিপিপিতে প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার বায়েজিদ সবুজ উদ্যান পার্কটির উদ্বোধন করেন সাবেক গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

এ বিষয়ে ‘পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামে’র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, ‘ডিপিপির বরাদ্দের চেয়ে ঠিকাদার কম খরচ করেছেন এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার। তবে ঠিকাদার টাকা ফেরত দিয়েছেন কথাটা সঠিক নয়। কারণ, কাজের বিল ভাউচার দেওয়ার পর ঠিকাদাররা বিল পেয়ে থাকেন। আর বাড়তি বিল দিয়ে পরে সেটি ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।’

অর্থাৎ, তৈয়বকে নিয়ে প্রচারিত এসব তথ্য ভু’য়া। এবং তিনি নিজেই এখন তা স্বীকার করছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1.4K
    Shares
advertisement