প্রচ্ছদ ফেসবুক থেকে ই-মেইলে আড়িপাতার আইন কোথায় পেলেন? হাফিজউদ্দিনের মামলার বিষয়ে তুহিন মালিক

ই-মেইলে আড়িপাতার আইন কোথায় পেলেন? হাফিজউদ্দিনের মামলার বিষয়ে তুহিন মালিক

154
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

ই-মেইলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে মি’থ্যা, বি’ভ্রান্তিক’র, বা’নোয়াট ও উ’দ্দেশ্যমূলক কথা-বার্তা আদান-প্রদানের মিথ্যা অভিযোগে মেজর (অব:) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে ডি’জিটা’ল নি’রাপ’ত্তা নামক কা’লো আ’ইনের ২৭/৩১/৩৫ ধা’রায় মা’মলা করেছে সরকার।

advertisement

অথচ আ’শ্চর্যজনকভাবে, বি’র্তকিত ডি’জিটাল নি’রাপত্তা না’মক কা’লো আ’ইনের ২৭/৩১/৩৫ ধা’রায় কোন নাগরিকের ই-মেইলে আ’ড়িপাতা’র কোন বি’ধানই নেই! মা’মলা, গ্রে’ফতার, বি’চার কিংবা দ’ন্ডদা’ন তো অনেক পরের কথা।

•বির্তকিত এই কা’লো আ’ইনের ২৭ ধা’রা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় অ’খণ্ডতা,নি’রাপত্তা ও সা’র্বভৌমত্ব বিপন্ন করে এবং জনগণের মাঝে ভ’য়ভী’তি সঞ্চারের জন্য কোনো ডি’জিটাল মা’ধ্যমে বৈ’ধ প্রবেশে প্র’তিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বা করায়, তাহলে সর্ব্বোচ সা’জা ১৪ বছর কা’রাদ’ণ্ড। জ’রিমানা এক কোটি টাকা।

•৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ডি’জিটাল মা’ধ্যম ব্যবহার করে কেউ অ’রাজকতা সৃষ্টি করলে সাত বছরের জে’ল ও পাঁচ লাখ টাকা জ’রিমানা বা উভয় দ’ণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

•৩৫ ধারায় অ’পরাধ সহায়তায় দ’ন্ডের বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  কিভাবে একটি নারীকে চ*রিত্রহী*ন বানিয়ে দেয়া হয়!

আশ্চর্যজনকভাবে, মেজর (অব:) হাফিজউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ডি’জিটাল নি’রাপত্তা না’মক কা’লো আ’ইনের ২৭/৩১/৩৫ ধারায় যে মা’মলা করা হয়েছে সেই ধা’রায় ই-মে’ইলের কোন উল্লেখ নাই!

দূ’র্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত মিডনাইট সরকার জনগণের টেলিফোনের পর এবার জনগণের ই-মেইলেও আ’ড়িপাতা শুরু করেছে! যা বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বর্নিত ‘না’গরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা’ এবং সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে বর্নিত ‘নাগরিকের যো’গাযোগের রক্ষণ’ সম্পর্কিত মৌলিক অধিকারের ভ’য়াবহ লং’ঘন।

আসলে সরকার এইসব কা’লো আ’ইনের অ’ধীনে জনগণকে জে’ল-জু’লুমের ভ’য় দে’খিয়ে, দু’র্নীতি ও মা’নবাধিকার ল’ঙ্ঘন সংক্রান্ত জনগণের তথ্য জানার আ’ইনী অধিকার, এবং ভারতকে ‘আজীবন মনে রাখার মত’ সবকিছু উজাড় করে দেয়া দেবার গো’পন চু’ক্তি, যাতে জনগণ জানতে না পারে তার সুরক্ষার বিধান তৈরি করেছে।

সরকারের দূ’র্নীতি’র ও ভারতের সাথে চু’ক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুললেই এখন যাতে ‘গু’প্তচ’র হ্যা’শট্যাগ’ দিয়ে যে কাউকে ঘা’য়েল করা যায়, সেটাই মেজর (অব:) হাফিজউদ্দিনকে মা’মলা-গ্রে’ফতার করে প্র’তিবাদী জনগণকে একটি বার্তা দিলো ভারতীয় আগ্রাসনবাদী স’রকার।

আরও পড়ুন:  ঐক্যফ্রন্টের আশু কর্তব্য কী হওয়া উচিত?

বাংলাদেশের সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে তা ধ্বংস করে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে গোলামে পরিনত করে ইতিমধ্যেই সরকার দেশের সাংবাদিক সমাজ ও গনমাধ্যমকে জনগণের চোখে হলুদ, চা’টুকার ও আস্থাহীন করে তুলেছে।

কারন সরকারের দূ’র্নীতি’র বিরুদ্ধে কিংবা সরকারের দে’শবিরো’ধী কর্মকান্ডের বি’রুদ্ধে কোন সাংবাদিক যদি কিছু বলতে যায় তাহলে সরকারের চোখে তিনি হবেন ‘গু’প্তচর’! এখন সরকারের স’মালোচনাকা’রী বি’রোধী নেতারাও হয়ে পড়ছেন সেই ‘গু’প্তচ’র’! আশ্চর্য, যারা জনগনের পক্ষে কথা বলবে তারা ‘গু’প্তচ’র’! আর যারা দেশ বিক্রির চুক্তি করবে তারা ‘দেশপ্রেমিক’!

দেশের মানুষের বা’ক-স্বা’ধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তো অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। এবার বিরোধী নেতাদেরও সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে!

টেলিফোনের মতো এবার ইমেইল ব্যবহারও দেশের মানুষের জন্য বি’পজ্জনক হয়ে উঠলো! কারোই এখন আর ব্যক্তিগত যোগাযোগের গো’পনীয়তা রক্ষার কোন অধিকার যেন রইল না!

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1.4K
    Shares
advertisement