প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

শার্শা উপজেলায় ‘সোনালি আঁশ’ পাটের ভাল দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে পাট চাষীদের মুখে

12
শার্শা উপজেলায়
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বেনাপোল প্রতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলায় চলতি বছর ‘সোনালি আঁশ’ পাটের ভাল দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে পাট চাষীদের মুখে। কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে। এতে প্রতিবিঘায় শুধু পাট বিক্রি করেই কৃষক লাভবান হচ্ছেন ১৩ থেকে ১৭ হাজার টাকা।

সেই সঙ্গে পাটখড়ির দাম যুক্ত করলে প্রতিবিঘায় কৃষকের লাভ হচ্ছে ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা। বেসরকারি পাটকলগুলো এ অঞ্চলের পাটের একমাত্র ক্রেতা। কৃষকরা বলছেন,সরকারি পাটকল চালু থাকলে দাম আরও বেশি পাওয়া যেত।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, “এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। শার্শায় পাট চাষের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির বিপরীতে চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৬০০হেক্টরে। যা থেকে পাট উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন।” গত বছর পাটের উপযুক্ত দাম পাওয়ায় এ মৌসুমে কৃষকরা পাটের আবাদ বেশি করেছে।

গত কয়েক বছর পাটের দাম না পাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় সেসময় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলার টেংরা গ্রামের পাটচাষী মোহাম্মদ আলি বলেন, গতবছরের চেয়ে এবছর ভাল দামে পাট বিক্রি করেছি। প্রতি মণ ভাল পাট ২,০০০-২৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০০-৬০০ টাকা বেশি।এ বছর ভাল দাম পাচ্ছি তার জন্য ভাল লাগছে। পাটের সুদিন ফিরে এসেছে।

নাভারন বাজারের পাট ব্যবসায়ী আবুজার রহমান বলেন,নতুন ওঠা পাট আমরা বিভিন্ন দামে ক্রয় করছি। ধূসর-কালো রঙের পাট ১৮০০-২০০০ টাকা,সোনালি রঙের পাট ২১০০-২৩০০ টাকা পর্যšত কৃষকের কাছ থেকে আমরা ক্রয় করছি। গতবারের তুলনায় এবার পাটের দাম ভাল হওয়ায় কৃষকও খুশি।

আরও পড়ুন:  বীজ বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে চাষিরা

তবে কিছুদিনের মধ্যে পাটের দাম আরও বাড়তে পারে। বারোপোতা গ্রামের পাটচাষী আব্দুল মোমিন বলেন,পাটের পাশাপাশি পাটখড়িরও এবার দাম ভাল। দেড় বিঘা জমিতে আবাদ করে ১২ মণ পাট পেয়েছি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকার মতো। শুধু পাটখড়ি বিক্রয় করেছি ৯ হাজার টাকা। এবারের পাটের দামে আমরা খুশি।

বাগআচড়া বাজারে পাট বিক্রি করতে আসা কৃষক মোজাম গাজি বলেন,এবার ২ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে ২৫ মণ ফলন পাট পেয়েছি। প্রতিমণ পাট বিক্রয় করেছি ২ হাজার ৪শত টাকা দরে। এতে বেশ ভাল লাভ হয়েছে। “সরকারি পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু বাজারে পাটের ভালো দাম পেয়ে সেই হতাশা কেটে গেছে।

উপজেলার শালকোনা গ্রামের আলতাফ হোসেন এবার ৩ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। ফলন পেয়েছেন বিঘায় ১০-১১ মণ ২০দিন আগে পাট বিক্রয় করেছিলাম ১৯শ টাকা মণ। আজ বিক্রয় করলাম ২৫শ টাকা মণ। জামতলা বাজারের আড়ৎদার লাল্টু গাজি বলেন, বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে পাটের দাম মণে এক হাজার টাকা বেড়েছে। আগে ১৮-১৯শ টাকা মণ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২ হাজার ৪শ টাকা মণ। বেসরকারি পাটকল গুলোতে আমরা পাট বিক্রি করে থাকি। অনেক সময় তারা টাকা আটকে রাখে, এতে নগদ টাকা সংকটে পড়তে হয় তাদের।

আরও পড়ুন:  এক হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেফতারে প্রকাশ্যে এল আরেক হত্যার কাহিনী

নাভারন বাজারের পাট ব্যবসায়ী কুরবান আলি জানান, বর্তমান বাজারে প্রতিমণ দেশী পাট ১ হাজার ৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা এবং তোষা পাট ২ হাজার ২শ’ থেকে ২ হাজার ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলনও ভাল। এবার পাটের বাজারদর ও বিভিন্ন মিলে চাহিদা থাকায় চাষীর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে। বাজারদর এভাবে থাকলে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

আকিজ পাটকল, আহাদ পাটকল, আফিল উইভিং জুটমিলসহ খুলনাঞ্চলের বেসরকারি জুটমিলগুলো স্থানীয় বাজার থেকে ফড়িয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সারা বছরের পাট সংগ্রহ করে থাকেন। আফিল গ্রুপের যশোরে আফিল উইভিং জুট মিলের ৪টি ইউনিট রয়েছে।

আফিল গ্রুপের পরিচালক মাহবুব আলম লাভলু বলেন, আমরা প্রতিবছর যশোর ও ফরিদপুর জেলা থেকে পাট সংগ্রহ করে থাকি। এখানকার উৎপাদিত পাটের মান ভালো। এবারও আমরা বিপুল পরিমাণ পাট কিনেছি।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক বীরেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, যশোরে এবার পাটের ভাল ফলন হয়েছে। কৃষক তার ক্ষেতের পাট বিক্রি করা শুরু করেছেন। দাম ভালো পাওয়ায় তারা দারুন ভাবে খুশি। আশা করছি আগামীতে পাটের চাষ ব্যপক ভাবে বৃদ্ধি পাবে, লাভবান হবেন পাটচাষীরা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares