প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

15
খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

আহাদ আলী,  স্টাফ রিপোর্টার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ডিসিপ্লিনের  শিক্ষক মীর সোহরাব হোসেন সৌহার্দ্যর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুললেন তারই  আত্মীয়া (ভাগ্নি)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই শিক্ষকের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তরুণী অভিযোগ করেন। আমি আমার ঘর থেকেই প্রথম প্রতিবাদ শুরু করলাম। এই শিরোনামেই শুরু করেন তার প্রতিবাদ।

তিনি লিখেছেন-আজ আমি সব নোংরামি এক্সপোজ করব। আর চুপ থাকা নয়। যৌন নিপীড়কের, রেপিস্টদের সমাজে বাঁচার অধিকার নেই। তাহলে আমার মান সম্মান কমবে কেন? আমি কেন লজ্জা পাব? লজ্জা পাওয়া উচিত সেই কুলাঙ্গারদের এবং সেই কুলাঙ্গারদের পরিবারের। আমার নয়, আমার পরিবারের নয়।

আমার লেখা আমার আত্মীয়দের কেউ পড়ে থাকলে, অবাক হলে বা ভাষার প্রয়োগ ঠিক না মনে হলে, আমার কিছু যায় আসে না। যারা এমন আত্মীয়দের পক্ষের সুর টানতে চায়, বা মনে ধারণ করে যে প্রকাশ করলে বংশ মর্যাদা হানি হয়, তাদেরকে আমিও আত্মীয় বলে মনে করিনা। এমন আত্মীয়ের প্রয়োজন নেই, যারা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রেপিস্ট টাইপ লোকদের ব্যাপারে মৌন সাপোর্ট দেয় চুপ থেকে। আপনারা রেপিস্ট টাইপ লম্পট, অপরাধীদের নিয়ে যদি গর্বিত হন, তাহলে আপনার মুখে এক দলা থু থু দিলাম!

আমাদের শৈশব, কৈশোর আতংকে কেটেছে যার জন্য সে কিন্তু বাইরের কেউ নয়! সে হল মীর সোহরাব ওরফে সৌহার্দ্য নামের একজন কুলাঙ্গার, যে কিনা সম্পর্কে আমাদের মামা লাগে। এই শুয়োরটা কিন্তু অশিক্ষিত না। বরং এতই শিক্ষিত যে এখন খুলনা ভার্সিটির প্রফেসর! ক্যাডেটে পড়াশুনা করেছে। এখন বিয়ে করে বউ, বাচ্চা নিয়ে খুব সুখের সংসারও করে বেড়াচ্ছে.. নামায পড়তে পড়তে এখন কপালে দাগও বসিয়ে ফেলেছে! শুয়োরটা বাসায় এলেই আমরা সব বোন ভয়ে, আতংকে দরজা বন্ধ করে বসে থাকতাম। না যাওয়া পর্যন্ত খুলতে চাইতাম না। কিন্তু ঐ যে! আত্মীয় ! আমরা নাকি অসামাজিক হয়ে যাচ্ছি, মেহমান এলে বেয়াদবের মত দরজা লাগিয়ে বসে থাকি এই দোষে আমাদের শেষ মেশ দেখা করতে বাধ্য করা হত। আদরের উছিলায় আমাদের ছোট্ট শরীরের সব জায়গায় ঐ সৌহার্দ্য নামক জানোয়ারটার নোংরা হাত ঘুরে বেড়াত। আম্মু মেহমানদারির জন্য রান্নাঘরে বা চোখের বাইরে গেলেই শয়তানটা ড্রেসের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে নোংরামি করতেও এক সেকেন্ড দেরী করত না! না, রেইপ হইনি। কারণ, বাসা ফাঁকা থাকত না। যদি ফাঁকা থাকত তাহলে নিশ্চিতভাবেই রেইপ হয়ে যেতাম! আমি কেন, আমার অন্যান্য সমবয়সী মেয়ে কাজিনদের সাথেও একই কাজ করত- দুই একজন বাদে (যারা বয়সে বড় ছিল ও প্রতিবাদ করার মত সাহসী ছিল), তাও আমার চোখের সামনেই। এত কুৎসিত সেই দৃশ্য! ছিঃ।

আরও পড়ুন:  কুষ্টিয়ায় বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত

এই লেখার মন্তব্য করেছেন আরও একজন, সে বলেন, সেই আতংকের কথা কি আর বলবো। এত ছোট বয়সে হারাসড হয়েছি যে হ্যারাসমেন্ট কি সেটাই বুঝতে পারতাম না। খালি মনে হত যে উনি তো মামা। হয়তো উনি আমাকে স্নেহ করে কিন্তু উনার কাজ আমার কাছে এত জঘন্য কেন লাগে। হয়তো এটা আমারই দোষ। অনেক বড় হয়ে যখন ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছি ততদিনে কাউকে বলার রুচি মানসিকতা কিছুই আর ছিলনা। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ মুখ খোলার জন্য।তবে এ বিষয়ে শিক্ষক মীর সোহরাব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করে বলেন, তার স্বামী (শিক্ষক মীর সোহরাব হোসেন) বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন। তিনি কারো সাথে কথা বলতে পারবেন না। তবে তিনি ওই তরুনীর অভিযোগের বিষয়ে বলেন, এটা তার বিষয়। আমার স্বামী খুব ভালো একজন মানুষ। যে এই সব আজেবাজে অভিযোগ করেছেন তিনি আমাদের আত্মীয়। কিন্তু কি করে এতো নোংরা অভিযোগ করলো তা আমার বোধগম্য নয়।

আরও পড়ুন:  কুষ্টিয়ায় চুক্তি লংঘন করা ২৬১টি চালকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের পরিচালক মোসাঃ হোসনেয়ারা বলেন, একজনের মাধ্যমে লিংক পেয়ে আমি বিষয়টি দেখেছি। কিন্তু আমাদের কাজ হলো খুবি’র অভ্যন্তরে যদি কোন ঘটনা ঘটে তাহলে তা প্রতিরোধ করা। কিন্তু এটা বাইরের বিষয়। এই বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেনি। আর অভিযোগ করলে তখন বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ দেখবে ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।