প্রচ্ছদ জাতীয় গণভবনে আবরারের বাবা-মাকে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গণভবনে আবরারের বাবা-মাকে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

317
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকাল পাঁচটার কিছু আগে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া বেগম এবং ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান।

advertisement

এ সময় তাদের সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবরারের বাবা মা ভাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কান্নায় ভে’ঙ্গে পড়েন। এসময় প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন,‘এ ঘটনায় কা’উকে ছাড় দেওয়া হবে না। দোষী যে দলেরই হোক তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর চোখও ছলছল করছিল সে সময়।

শেখ হাসিনা আবরারের মাকে উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাকে সা’ন্ত্বনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। শুধু বলব আমাকে দেখেন। স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি। আমিও এক রাতে সব হারিয়েছিলাম। আমি তখন বিচারও পাইনি।’

ওই সময় রোকেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি মায়ের আসনে থেকে ঘটনার পর হ’ত্যাকা’রীদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ভূমিকা নিয়েছেন সে জন্য আপনার প্রতি কৃ’তজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই।’

আরও পড়ুন:  ভয় পেলে আমি এই অভিযানে নামতাম না,ভয় শব্দটি আমার অভিধানে নেই

এসময় তিনি বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সর্বোচ্চ শা’স্তি নিশ্চিত করা হবে। আইনমন্ত্রীকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

গণভবনে আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে জড়িয়ে ধরেন
গণভবনে আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে জড়িয়ে ধরেন। ছবি : ফোকাস বাংলা

গণভবনে আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে জ’ড়িয়ে ধরেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি দেখতে চাইনি কে কার লোক। আ’পরাধী কে বা কোন দল করে সেটা বিবেচনা করিনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই সময় কিছু শিক্ষার্থী ভিডিও ফুটেজ আ’টকানো’র চেষ্টা করেছে। সেটা তারা কেন করেছে তা এখনো আমার বোধগম্য নয়। তা না হলে হয়তো সব অ’পরাধী আরও আগেই গ্রে’প্তার হতো।’

আরও পড়ুন:  এবার বুয়েট শহীদ মিনার থেকে মুছে ফেলা হলো ছাত্রলীগের নাম

এই সময় আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকতউল্লাহ প্রশাসন ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্মসম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

উল্লেখ্য, রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অ’চেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হ’ত্যা মা’মলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রে’ফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অ’পরাধ তথ্য বিভাগ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1.3K
    Shares
advertisement