প্রচ্ছদ অর্থ ও বাণিজ্য

সেপ্টেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৯৩১ কোটি ডলার

11
সেপ্টেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৯৩১ কোটি ডলার
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

নিজস্ব প্রতিবেদক :করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ হারিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন প্রবাসীরা। এর পরও কমেনি রেমিট্যান্সের পরিমাণ। উল্টো প্রতি মাসেই হচ্ছে নতুন রেকর্ড। আগের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ৪৮ শতাংশের বেড়েছে। সেই সুবাদে সেপ্টেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৩১ কোটি ডলার। এভাবেই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স।

দেশের পোশাক খাতের পরই বিদেশী মুদ্রার দ্বিতীয় বৃহৎ উৎস রেমিট্যান্স। আবার বিদেশী মুদ্রার আরেকটি উৎস ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্সের (ওডিএ) অবদানও যৎসামান্য। একই অবস্থা প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহেও। সব মিলিয়ে প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে বিদেশী মুদ্রা রিজার্ভ ও এর কার্যকারিতা অনেক বেশি

এই খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈধ ও অবৈধ বাংলাদেশী প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এর মধ্যে সৌদি আরবেই রয়েছেন প্রায় ২০ লাখ। বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা তাদের আয়ের বড় একটা অংশ দেশে থাকা পরিবারের কাছে পাঠান। আর এ অর্থ  নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। 

আরও পড়ুন:  অনলাইনে বিপণনের জন্য বিসিক ও ঐক্য ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

এ বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা ক্রমেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দারিদ্র্য হ্রাস, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে তুলতে রেমিট্যান্স প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে রেমিট্যান্সের অংশ ছিল ৫.৪৩ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫.৫২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ৩ জুন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ জুন সেই রিজার্ভ আরো বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অতিক্রম করে। ৩০ জুন রিজার্ভ ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২৮ জুলাই রিজার্ভ ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের ঘরও অতিক্রম করে। গত ১৭ আগস্ট রিজার্ভ ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ যা ৩ হাজার ৯৩১ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। এতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স।

আরও পড়ুন:  ভারতীয় পণ্য নিয়ে প্রথম ট্রান্সশিপমেন্ট জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেকর্ড ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান প্রবাসীরা। এরপর আগস্টেও ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলারে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে প্রবাসীরা ৬৭১ কোটি ৩১ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৫১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ৪৮.৫৪ শতাংশ।

দেশে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রধান মাধ্যম ব্যাংকিং খাত। সেপ্টেম্বরে দেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares