প্রচ্ছদ Featured News ২২ বছর পর জানা গেল শেখ হাসিনাকে হ’ত্যা চে’ষ্টায় জড়িত খালেদ মা’রা...

২২ বছর পর জানা গেল শেখ হাসিনাকে হ’ত্যা চে’ষ্টায় জড়িত খালেদ মা’রা যায়নি

5241
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হ’ত্যার চে’ষ্টায় যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে মৃ’ত দেখিয়ে অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খালেদ মা’রা যাননি।

advertisement

ফ্রিডম পার্টির সেই খালেদ যুবদল হয়ে বর্তমানে যুবলীগের নেতা। ক্যা’সিনো-কা’ণ্ডে গ্রে’ফতার হয়ে কা’রাগারে আছেন। ১৯৮৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নেতাদের নেতৃত্বে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হা’মলা হয়। ওই হা’মলায় শী’র্ষ স’ন্ত্রাসী জাফর আহম্মদ মানিক, সৈয়দ নাজমুল মাহমুদ মুরাদ এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী খালেদ সরাসরি অংশ নেয়।

এ ঘটনার ৮ বছর পর মানিক-মুরাদের সঙ্গে খালেদের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অ’পরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে সূত্রাপুর থা’নার একটি হ’ত্যা মা’মলার সূত্র উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘খালেদ’ মা’রা গেছে। কখন, কীভাবে সে মা’রা গেছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

এমনকি খালেদের পিতার নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া গেছে বলা হলেও অভিযোগপত্রে এসব তথ্য নেই। খালেদের দীর্ঘদিনের সহযোগী মোহাম্মদ আলীও বলেছেন, ওই হা’মলায় খালেদ সরাসরি অংশ নিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে এই মা’মলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অ’পরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর ২২ বছর পর অভিযোগ উঠল, হামলায় জড়িত খালেদ মা’রা যায়নি। ওই মা’মলার বি’চারকার্যও শেষ হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে এই মা’মলার রা’য়ে খালেদের স’ন্ত্রাসী দুই সহযোগী মানিক-মুরাদসহ ১১ জনের ২০ বছর করে সা’জা হয়েছে।

সময়ের পরিক্রমায় খালেদ ফ্রিডম পার্টি থেকে যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াই সেই খালেদ।

আরও পড়ুন:  জি*জ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁ*সের পর যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে অ*স্ত্র-মা*দক-মা*নি ল*ন্ডারিং মা*মলা

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে সে ভোল পাল্টে যুবলীগের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। অর্থ ও ক্ষমতার জোরে যুবলীগের বড় পদও বাগিয়ে নেয়। পরে সেই ‘মৃ’ত’ খালেদই নগরবাসীর জন্য ভ’য়ংকর আ’তঙ্কে পরিণত হয়। আর এভাবেই ভ’য়ংকর উত্থান ঘটে ‘মৃ’ত’ খালেদের।

খালেদকে মৃ’ত দেখিয়ে চা’র্জশিট থেকে নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।

এ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলেও একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন। র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পিতভাবেই মা’মলার অভিযোগপত্র থেকে খালেদকে মৃ’ত দেখানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে নাম না থাকায় তার বিচারও হয়নি।

তার প্রভাবশালী আইনজীবী বাবা আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করে খালেদকে মৃ’ত দেখিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন এএসপি খালেকুজ্জামান। তদন্ত কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান আড়াই বছর আগে মা’রা গেছেন।

খালেদের বাবা মান্নান ভূঁইয়া ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম যুগান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। শেষ হলে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব। এখনই এ বিষয়ে হ্যাঁ বা না বলার সময় আসেনি।’

খালেদের দীর্ঘদিনের সহযোগী মোহাম্মদ আলী বর্তমানে পলাতক। তিনি টেলিফোনে  বলেন, ‘ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে হামলায় আমার ওস্তাদই তো (খালেদ) ছিল। তিনি যে ওই হা’মলায় জড়িত ছিল এটা আমরা জানি।’

আরও পড়ুন:  এবার বহিষ্কারের তালিকায় যুবলীগের আরো ৭ নেতা

একদিন খালেদের বাবা আইনজীবী মান্নান ভূঁইয়া আমাকে বলছিলেন, ‘আমি যদি আইনজীবী না হতাম তবে খালেদের এসব মা’মলা কী গা’য়েব করতে পারতাম। আমি যখন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম, সব ফাইল গা’য়েব করে দিছি।’ আমি বললাম, খালু একটু কনতো ফাইল গা’য়েব করে ক্যামনে। তখন তিনি বলেন, ‘তুমি উকিল হলে বুঝতা। বিএনপি ক্ষমতায় আসুক তোমাকে বুঝামু।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদের বাবা আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘এসব কথা ভিত্তিহীন। তখন খালেদ নবম শ্রেণিতে পড়ত। সে কীভাবে ফ্রিডম পার্টি করে। এসব কথা কোথা থেকে আসে কীভাবে আসে বুঝতে পারি না। নথি গা’য়েব এমন কোনো কিছু নেই।’

খালেদের সহযোগী আলীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘সে পালিয়ে চলে গেছে। পূর্বাচল থেকে পালিয়ে গেছে। এগুলো বলে তো আর লাভ নেই। আলী তার নাম। সে ক্রিমিনাল কেসের আ’সামি। সে অ’বৈধভাবে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছে।’

শেখ হাসিনা হ’ত্যাচে’ষ্টা মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি  বলেন, আমরাও শুনেছি খালেদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াই যে সেই খালেদ সেটা জানা ছিল না। সে কীভাবে দলে অনুপ্রবেশ করেছে তা তদন্ত হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

টে’ন্ডারবা’জি, চাঁ’দাবা’জি, অ’বৈধ ক্যা’সিনো ব্যবসার অন্যতম হোতাও ছিল সে। এসব অভিযোগে ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের হাতে গ্রে’ফতার হয় খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 43.7K
    Shares
advertisement