প্রচ্ছদ আইন-আদালত মা’রার স’ময় ফাহাদ পানি খাইতে চাইলেও পানি দেই নাই

মা’রার স’ময় ফাহাদ পানি খাইতে চাইলেও পানি দেই নাই

250
এএসএম নাজমুস সাদাত
এএসএম নাজমুস সাদাত
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

‘ফাহাদকে অনিক সরকার, সকাল, মোজাহিদ ও মনির ভাইসহ ১৫ ও ১৬ ব্যাচের ভাইয়েরা বেশি মে’রেছে। ফাহাদ পানি খাইতে চাইলেও পানি দেওয়া হয় নাই। আমরা ভাইদের বলেছিলাম হা’সপাতালে নিয়ে যেতে, ভাইয়েরা নিতে দেয় নাই।’বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পি’টিয়ে হ’ত্যার ঘ’টনায় এ’জাহারভু’ক্ত আ’সামি এএসএম নাজমুস সাদাত গতকাল বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

advertisement

আবরার ফাহাদ হ’ত্যা মা’মলায় গতকাল নাজমুস সাদাতের ৫ দিনের রি’মান্ড ম’ঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া রি’মান্ডের এ আদেশ দেন। শুনানিকালে আ’সামি জানায়, বড় ভাইদের কথায় সে ফাহাদকে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আসে। পরে তারা ফাহাদকে মা’রধর করলেও সাদাত নিজে মা’রেন’নি।

চাঞ্চল্যকর এ হ’ত্যা মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর ডিবির লালবাগ জোনাল টিমের পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. ওয়াহিদুজ্জামান এ আ’সামির ১০ দিনের রি’মান্ড আবেদনে বলেন, তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় এ আ’সামি মা’মলার ঘ’টনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্র’মাণ পাওয়া গেছে। এ মা’মলায় আ’দালতে ইতিপূর্বে স্বী’কারোক্তি প্রদানকারীদের কয়েকজন নাজমুস সাদাত জড়িত মর্মে তার নাম প্রকাশ করেছেন। তাই মা’মলার সু’ষ্ঠু ত’দন্তের স্বার্থে, অন্যান্য আ’সামি শ’নাক্ত ও গ্রে’প্তার করতে এ আ’সামিকে জি’জ্ঞাসাবা’দে ১০ দিনের রি’মান্ড প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:  বুয়েটে প্রথম জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার পথে আবরারের ম*রদে*হ

রি’মান্ড আ’বেদনের জন্য রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের জিআরও এসআই মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ শুনানি করেন। আ’সামির প’ক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক তাকে জিজ্ঞেস করেন, কিছু বলার আছে কি না?

জবাবে সাদাত জানান, বড় ভাইদের কথায় ফাহাদকে তার কক্ষ থেকে তিনি ডেকে এনেছেন শুধু, মা’রেননি। বড়ভাই কারা? বিচারকের এমন প্রশ্নে অনিক, সকাল, মুজাহিদ, রবিন ও মনিরের নাম বলেন সাদাত। জানান, তারাই ফাহাদকে মে’রেছিলে’ন। সাদাত রাত সাড়ে ১২টায় ওই কক্ষ ছেড়ে চলে যান তাই এর পর কি হয়েছে তিনি জানেন না।

বুয়েটের ম্যাকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাদাতের বাড়ি জয়পুরহাট সদরের কড়ই উত্তরপাড়ায়, বাবার নাম হাফিজুর রহমান। গত মঙ্গলবার তাকে গ্রে’প্তার করা হয়।

মা’মলাটিতে এ পর্যন্ত ৬ আসামি হ’ত্যার দা’য় স্বীকার করে আদালতে জ’বানব’ন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন ফাহাদ হ’ত্যাকা-ে’র পর সংগঠন থেকে ব’হিষ্কৃত বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার, উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, মো. মনিরুজ্জামান মনির ও শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদুর রহমান।

আরও পড়ুন:  আবরার হ*ত্যার বিচারের দাবিতে রাবিতে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের হাতাহাতি

এ মা’মলায় এখন কা’রাব’ন্দি ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, আকাশ হোসেন ও মিজানুর রহমান। আর রি’মান্ডে আছেন বুয়েট ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, বুয়েট শিক্ষার্থী শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, সামছুল আরেফিন রাফাত ও হোসেন মোহাম্মাদ তোহা।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ৬ অক্টোবর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে পি’টিয়ে হ’ত্যা করেন। নি’হতের বাবা ১৯ জনকে আ’সামি করে ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় হ’ত্যা মা’মলা করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1.9K
    Shares
advertisement