প্রচ্ছদ আইন-আদালত ক্যা’সিনোর টাকা তো অনেকের পকেটেই গেছে। তাদের ধরা হচ্ছে না কেন?

ক্যা’সিনোর টাকা তো অনেকের পকেটেই গেছে। তাদের ধরা হচ্ছে না কেন?

50
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এবং বহিষ্কৃত সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন র‌্যাবের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সম্রাট এবং তার সহযোগী আরমানের মামলার তদন্তভার পুলিশের কাছ থেকে র‌্যাবে ন্যস্ত করা হয়।

advertisement

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছ থেকে মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেয় র‌্যাব। বিকালে ডিবি কার্যালয় থেকে দুজনকে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে এদিনই শুরু হয় জি’জ্ঞাসাবাদ। শুরুতেই র‌্যাবকে সম্রাট গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, ক্যাসিনো-কারবার থেকে সুবিধাভোগী ছিলেন যারা, সম্রাট ইতোমধ্যে তাদের নাম বলতে শুরু করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেসব রাঘব-বোয়ালদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে একাধিক সংস্থা।

সূত্রমতে, ডিবি পুলিশের জি’জ্ঞাসাবা’দকালে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সম্রাট উল্টো প্রশ্ন রেখেছিলেন, তাকে একা কেন জি’জ্ঞাসাবা’দ করা হচ্ছে? ক্যা’সিনোর টাকা তো অনেকের প’কেটেই গেছে। তাদের ধরা হচ্ছে না কেন? তখন তিনি এ-ও জানান যে, ক্যাসিনো খেলা তার পুরনো নেশা। আর এ নেশা থেকেই ক্যা’সিনো-কা’রবারের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ক্যাসিনোই সম্রাটের জীবনে কাল হয়েছে বলে তিনি তখন আক্ষেপও করেন।

আরও পড়ুন:  জিজ্ঞাসাবাদে সাত হাই প্রোফাইল নেতার নাম-পরিচয় বলে দিলেন সম্রাট

গত মঙ্গলবার সম্রাটের বিরুদ্ধে দা’য়ের হওয়া অ’স্ত্র ও মা’দক মা’মলায় ৫ দিন করে ১০ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত। আর ৫ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করা হয়। মা’দক মা’মলায় তাকে রি’মান্ডের আদেশ দেন আদালত।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম আমাদের সময়কে বলেন, সম্রাট ও আরমানকে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর অ’স্ত্র আ’ইনের মা’মলায় সম্রাটের রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মা’দকদ্র’ব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মা’মলায় সম্রাট ও আরমানের একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহফুজুল হক ভূঞা তাদের গ্রে’প্তার দেখানোসহ ১০ দিন করে ২০ দিনের রি’মান্ডের আবেদন করেন।

ওইদিন শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর ধার্য করা হয়। কিন্তু এর আগেই কারা কর্তৃপক্ষ সম্রাটকে অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করায় সেদিনের শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর ধার্য করেছিলেন আদালত।

আরও পড়ুন:  ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট যেভাবে গ্রে*প্তার

১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যা’সিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আ’ত্মগোপনে গিয়েছিলেন যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। নানা গুঞ্জনের পর ৭ আগস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রে’প্তার করে র‌্যাব।

সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গু’লিসহ একটি বিদেশি পি’স্তল, ১ হাজার ১৬০টি ই’য়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি ম’দ, দুটি ক্যাঙারুর চা’মড়া এবং ট’র্চারের কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। এর পর রাজধানীর রমনা থানায় অ’স্ত্র ও মা’দক আইনে সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে তিনটি মা’মলা করে র‌্যাব।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 10
    Shares
advertisement