প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

স্কুল ফান্ডে টাকা না থাকায় ৯ শিক্ষক ও কর্মচারীকে অব্যাহতি

28
স্কুল ফান্ডে টাকা না থাকায়  ৯ শিক্ষক ও কর্মচারীকে অব্যাহতি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বর্তমান সরকার যখন শিক্ষাবান্ধব। করোনার দুর্যোগে সরকার যখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানান সুযোগ দিচ্ছেন। দুর্যোগে শিক্ষকদের পাশে থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঠিক তখন কুষ্টিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী সুনাম স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়ার মিরপুর-৪৭ বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯জন শিক্ষক ও দুই কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ছাঁটাইয়ের ফলে চারে দিকে সমলোচনার ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করায় তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত করায় সমাজের চোখে হেউ প্রতিপন্ন হয়ে পড়েছেন তারা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই শিক্ষক ছাঁটাই করেন বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে হতবাক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সিদ্ধান্তে চাকরি থেকে শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন, ভূগোল বিভাগের প্রভাষক সালমা খাতুন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মিলন আলী, কলেজ শাখার প্রদর্শক আবু ইউসুফ, ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান, পৌরনতি বিভাগের শিক্ষক পিন্স, ইংরেজী বিভাগের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম, গণিত বিভাগের শিক্ষক টিপু সুলতান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রওশন আরা, ধর্ম বিভাগের শিক্ষক শাহিনুর রহমান। অব্যাহতি পাওয়া ৯ জন শিক্ষকসহ এই তালিকায় দুইজন গেটম্যানও রয়েছেন তারা হলেন আমিরুল ইসলাম ও আব্দুল আলীম। অব্যাহতি দেওয়া ওই বিবৃতিতে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে করোনা দুর্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অসচ্ছলতার কারনেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক সকলেই খন্ডকালীন শিক্ষক ও প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তারা এ প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ৬ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন। হঠাৎ করেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। সামাজিকভাবেও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তারা।
এ ব্যাপারে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অসচ্ছলতা নেই। আমাদের কি কারণে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে আমরা তা জানিনা। আমাদের মোবাইল ফোনে ডেকে হাতে অব্যাহতি পত্র দিয়েছে। গেট থেকে আমাদের স্কুল ঢোকার অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। গেট থেকেই হাতে অব্যাহতি পত্র দেওয়া হয়েছে। কথা বলার সুযোগ তো দূরের কথা। এ প্রতিষ্ঠানে ৬ থেকে ৮ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছি। কখনও ভাবতেই পারিনি হঠাৎ করেই আমাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এই প্রতিষ্ঠান এত সুনাম অর্জন করেছেন তা আমাদের জন্য। নিজের মেধা ও শ্রম সবটুকুই দিয়েছি এ প্রতিষ্ঠানের জন্য। কাজ করেছি নিজের প্রতিষ্ঠান ভেবে। কিন্তু আমাদের বেলায় অমূল্যয়ন করা হয়েছে। এতে বুক ভারা কষ্ট পেয়েছি। সামাজিকভাবেও বঞ্চনার শিকার হচ্ছি প্রতিমূহুর্তে। খুবই যোগ্যতা বলে এ প্রতিষ্ঠান চাকরি পেয়েছিলাম। কিন্তু এরা আমাদেরকে অমূল্যয়ন করেছে। প্রধান শিক্ষক আমাদের সঙ্গে শক্রতা করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। করোনার সুযোগে তার নিজের পছন্দের লোকজনদের চাকরি দেওয়ার জন্যই আমাদের অব্যাহতি দিয়েছে। একজন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ছয়মাস আগে জানানোর নিয়মছিল। কিন্তু আমাদের বেলায় তা মানা হয়নি। তাদের ইচ্ছামত নিয়মেই এ অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম বলেন,এটা তাদের সিদ্ধান্ত আমার না। তারা আমাকেও বাদ দিতে পারে। এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারবো না। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক ও বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরহাদ হারুন চৌধুরী বলেন, শিক্ষকদের অব্যাহতি পত্র দেওয়ার সময় তাদের স্কুল গেটে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এটা আমার জানা ছিল না। প্রধান শিক্ষক এটি করতে পারেন। বিষয়টি শুনে আমারও খারাপ লাগছে। যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তারা খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল ফান্ডে টাকা না থাকায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  পেশাগত দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই -সিটি মেয়র

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 7
    Shares