প্রচ্ছদ জেলা মেধাতালিকায় জায়গা হলেও অর্থের অভাবে ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছেন না সুমাইয়া

মেধাতালিকায় জায়গা হলেও অর্থের অভাবে ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছেন না সুমাইয়া

52
বাবার সঙ্গে মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার
বাবার সঙ্গে মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় জায়গা হলেও অর্থের অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি হতে পারছেন না বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের মেধা তালিকায় ২২০১ নম্বরে এসেছে সুমাইয়া আক্তারের নাম। তবে মেধা তালিকায় স্থান পেলেও তার ভর্তিতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

advertisement

সুমাইয়া সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট মহল্লার আব্দুল আলিমের মেয়ে। আব্দুল আলিম পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। শারীরিক কিছুটা অসুস্থ আলিমকে সংসারে ঘানি টানতে বাধ্য হয়েই অটোরিকশা চালাতে হয়। সংসারের খরচ মিটিয়ে তিনি মেয়েকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তির জন্য টাকা জোগাড় করতে পারেননি।

সুমাইয়া আক্তারের বাবা আব্দুল আলিম বলেন, ‘সম্পদ বলতে বাড়িটা ছাড়া আমার আর কিছু নেই। সংসার জীবনে আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুজনেই মেধাবী। অর্থের অভাবে ছেলেকে ভালো জায়গায় পড়াশোনা করাতে পারিনি। বর্তমানে ছেলেটি একটি বেসরকারি এনজিওতে স্বল্প বেতনে মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করে। দুজনের আয়ে কোনো মতে সংসারটা চলে।’

আরও পড়ুন:  অ*বরোধ করে রাজধানী ঢাকা অচল করে দেওয়া হবে

দারিদ্রকে জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘ঢাবিতে ভর্তিও সুযোগ পেয়েও বাবার পক্ষে ভর্তির এতগুলো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। বাবা, ভাই ও শিক্ষকরা মিলে যেটুকু অর্থ দিয়েছিল, তা তো ভর্তি পরীক্ষার ফরম আর ঢাকা যাওয়া-আসার খরচ মেটাতেই শেষ। খুশি হয়েছিলাম চান্স পেয়ে। কিন্তু ভর্তি বা টাকার চিন্তায় সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার স্বপ্ন মনে হয় আমার পূরণ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘কখনো গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে পারিনি। নিজের চেষ্টায় আমি এতদূর এসেছি। এ পর্যন্ত কোনো ক্লাসের সব বই একসঙ্গে কিনতে পারিনি। কলেজের শিক্ষক অমিত কুমার ও প্রতিবেশী আরেক শিক্ষক মোছাদ্দেক হোসেন অর্থ ছাড়াই পড়িয়ে সহযোগিতা করতেন।’তিনি আরও বলেন, ‘২০১৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৭৩ এবং ২০১৯ সালে সান্তাহার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছি। ঢাবিতে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায় আমার এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

আরও পড়ুন:  ফজলুল হক হল সংসদের বর্তমান জিএসের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নৃ’শংসতা’র কাহিনি

সান্তাহার সরকারি কলেজের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক অমিত কুমার পাল বলেন, ‘সুমাইয়া অসম্ভব মেধাবী। আমরা যতটুকু পেরেছি তাকে সাহায্য সহযোগিতা করেছি। তার লেখাপড়ায় প্রচুর আগ্রহ। কলেজে তার উপস্থিতিও ভালো ছিল।’এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউ এনও) আব্দুল্লাহ্ বিন রশিদ বলেন, ‘মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। ভর্তির সময় তাকে সহযোগিতা করা হবে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1.6K
    Shares
advertisement