প্রচ্ছদ এডিটরস পিক

উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়তে হবে

11
উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়তে হবে
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

রেজাউল করিম খোকন

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলে যে স্বল্পসংখ্যক ক্ষণজন্মা ও প্রকৃত অর্থে মানবপ্রেমী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে সক্রিয় ও সফল ভূমিকা এবং অসামান্য অবদান লক্ষ্য করা যায়, তাদের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল অন্যতমই নন, নির্দ্বিধায় বলা যায় তার অবস্থান সবার শীর্ষে। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে এমন দূরদর্শী, বিজ্ঞ, মানবদরদি, মানবতাবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়নি। তাই তো তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি। এর পাশাপাশি সমৃদ্ধশালী উন্নত জাতি গঠনে রেখে গেছেন অনন্য অর্থনৈতিক দর্শন। রক্তে ভেজা সংবিধানেই স্থান দিয়েছেন দারিদ্র্য মুক্তির পথনির্দেশনা। শত শত বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক-সামাজিক বৈষম্য দূর করে শোষণমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন মানবদরদি এই অবিসংবাদিত নেতা। অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন নির্ভীক, বাস্তববাদী এবং আন্তরিক। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দারিদ্র্য দূরীকরণের লড়াইকে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে বেশ এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কার, শিল্প বিকাশে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, বন্ধ শিল্প-কলকারখানা দ্রম্নত চালুকরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা প্রদান, কৃষির আধুনিকায়নে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ, সমবায় চেতনার বিকাশসহ নানামুখী কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই। তার সব পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল দেশের দ্রম্নত উন্নয়ন, যার মাধ্যমে স্বপ্নের সোনার বাংলা যেন বাস্তবে রূপ পায়। দেশজুড়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সবার দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষার বিকাশ, নারী জাগরণ, অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্তকরণ, সম্পদের সুষম ব্যবহার ও বণ্টন ইত্যাদির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেক বাস্তবমুখী কর্মসূচি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের হাল ধরার পরপরই। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে শহর, বন্দর, গ্রামজুড়ে যেখানেই গেছেন সাধারণ মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তাদের দুঃখ-কষ্ট, সমস্যা, সংকটের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তিনি সবখানেই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতির ধারাকে বেগবান করার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কল-কারখানায়, মাঠে-ঘাটে, খেতে-খামারে উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কলাকৌশল প্রয়োগে জোর দিয়েছেন তিনি প্রতিটি বক্তৃতায়, ভাষণে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবিক জীবনবোধকে লালন করেছেন। তার হৃদয়জুড়ে থাকত এ দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ভাবনা। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে এ দেশের মানুষের মনের ভেতর প্রবেশ করে তাদের প্রণোদনার মাধ্যমে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে চেয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। দেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে গড়ে তুলতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, মাত্রা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করেছিলেন প্রথমে। এরপর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাটি ও মানুষের সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈপস্নবিক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘদিনের শোষণ, বঞ্চনা আর বৈষম্যের শিকার বাংলাদেশের সামগ্রিক চেহারা পাল্টে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যুগোপযোগী কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সব বাধা, বিপত্তি, প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এ দেশের মানুষ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবেই- বঙ্গবন্ধু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন। তিনি এ দেশের মানুষের অফুরান শক্তি ও সামর্থ্যের প্রতি আস্থাশীল ছিলেন প্রবলভাবে। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত পথে তাদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব- তিনি জানতেন। বঙ্গবন্ধু তার দীর্ঘ সংগ্রামীজীবনে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখে এসেছেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে শ্রমঘন শিল্পায়নের ধারা বেগবান করে টেকসই ও সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বাধীনতার অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার অনেকটাই বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বৈপস্নবিক নেতৃত্বের কল্যাণে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো এবং নানা সীমাবদ্ধতা বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রম্নত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল।

স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক দূর এগিয়েছে। অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা স্থিতিশীলতায় আসার পর এখন শুরু হয়েছে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক রূপান্তর আজ গোটা বিশ্বে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে যে বাংলাদেশকে একটি সময়ে তলাবিহীন ঝুড়ি আখ্যা দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছিল আন্তর্জাতিক একটি মহল, তারাও আজ বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছে, এখানকার উন্নয়ন কৌশলের প্রশংসা করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালেই জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সরকারের পর বাংলাদেশে নানা সরকার এসেছে। কিন্তু সেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে আর উত্তরণ ঘটেনি বাংলাদেশের। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকার উপরে স্থান দিয়েছে। জাতিসংঘের এ মর্যাদা ঘোষণার ফলে উন্নয়নশীল দেশের পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ তার সদস্য দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত (এলডিসি), উন্নয়নশীল এবং উন্নত- এ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি প্রতি তিন বছর অন্তর এলডিসি দেশগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করে। ২০১৮ সালের পর ২০২১ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার পর্যালোচনার যোগ্য হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করবে ওই কমিটি। এর তিন বছর পর ২০২৪ সালে পুরোপুরি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ মর্যাদা অর্জন করলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনন্য। কারণ বাংলাদেশের মতো মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এ তিনটি সূচকেই উত্তরণ ঘটিয়ে এগিয়ে আসতে পারেনি আর কোনো দেশ। বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন যেভাবে অব্যাহত রয়েছে, তার কোনো বড় ধরনের ব্যত্যয় না ঘটলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করা বলা যায়। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো মর্যাদার। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে- তার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এটি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগের বৃদ্ধি ঘটবে।

আরও পড়ুন:  চীনে করোনা-পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, বাংলার মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবে রূপলাভ করছে। আর তা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। তার প্রজ্ঞা, যুগোপযোগী চিন্তা-ভাবনা, আধুনিক উন্নত বাংলাদেশ গঠনে দৃপ্ত প্রত্যয় এবং সে অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ বাংলাদেশকে আজকের সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরেই এগিয়ে চলেছে আজকের বাংলাদেশ। পঞ্চাশ বছর আগেই বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের যে নতুন চিন্তাধারার সূচনা করেছিলেন তা এখনো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস ২০২০-এর প্রতিপাদ্য ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে উৎপাদনশীলতা’- বিশ্লেষণ করতে গেলেই বারবার বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন ভাষণ ও বক্তৃতার উক্তিগুলো আমাদের সামনে চলে আসে। বঙ্গবন্ধুর তার বক্তব্যগুলোতে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষি, শিল্প সব ক্ষেত্রেই উৎপাদন বৃদ্ধির প্রতি জোর দিয়েছেন। কিষান-কিষানির ঘাম ঝরানো উদয়াস্ত খাটুনি, কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রাজ্ঞ প্রশংসনীয় গবেষণা এবং সরকারের অবিশ্বাস্য উপাদান ভর্তুকিসহ সংবেদনশীল ও কার্যকর নীতি কৌশলের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। চাষাবাদে উন্নত আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল প্রয়োগে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ কৃষক শ্রেণি এবং এ কাজে নিয়োজিতদের আয় যেমন বেড়েছে তেমনিভাবে খাদ্যশষ্য, হাঁস, মুরগি, গবাদিপশু, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। সবার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হচ্ছে সহজেই।

জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার অন্যতম পথ অর্থনীতির প্রতিটি খাতের কর্মকান্ডে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। আজকের দিনে এটি পৃথিবীব্যাপী একটি বাস্তবতা। যার গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান বিশ্বে সব প্রগতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থায় উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে জাতীয় আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় শিল্পনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদনশীলতা কার্যক্রমকে ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগতভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সৃষ্টি করা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়নের যেমন কোনো বিকল্প নেই একইভাবে সুষ্ঠু শিল্পায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উৎপাদনশীলতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। শিল্প বিকাশের জন্য যেমন নতুন শিল্প-কারখানা সৃষ্টির প্রয়োজন তেমনিভাবে এ সব কারখানায় দক্ষতা ও মুনাফা বৃদ্ধি করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিও একান্তভাবে অপরিহার্য।

আরও পড়ুন:  বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশের অর্থনীতি একসময় পুরোপুরি কৃষিনির্ভর ছিল, কিন্তু এখন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তৈরি পোশাকশিল্প। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে উজ্জ্বল অবস্থানে পৌঁছে গেছে।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের আগের রেকর্ড অতিক্রম করে চলেছে। এ ছাড়া আমাদের রপ্তানিপণ্য তালিকায় নতুন নতুন আইটেম যুক্ত হচ্ছে। আজকাল বাংলাদেশে প্রস্তুত বিভিন্ন শিল্পজাত সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ওষুধ পৃথিবীর অনেক দেশে যাচ্ছে। এগুলোর বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রযুক্তির নানা বিকাশ, শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির রাজত্ব গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক কাঠামোয় এনেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। এখন বিশ্বব্যাপী কারিগরি জ্ঞানের কদর খুব সহজেই চোখে পড়ে। বিদেশে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এক কোটিরও বেশি মানুষ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। জনশক্তি রপ্তানি খাত থেকে বর্তমানে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে তা আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য আমাদের এখানে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন দেশের কলকারখানায়, শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানে, কৃষি খামারে, কৃষি জমিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনশক্তির বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও অধিক উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে দক্ষ, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন অভিজ্ঞ জনশক্তির বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ কারণে বিদেশে দক্ষ, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন অভিজ্ঞ জনশক্তি রপ্তানির তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার দেশব্যাপী কারিগরি শিক্ষালাভের জন্য অনেক ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অধিক উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে সঠিক, সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদকে সর্বোচ্চ ব্যবহারে জোর দিচ্ছেন বর্তমান সরকার। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ, অধিক কর্মক্ষম, অভিজ্ঞ জনশক্তি মূল ভূমিকা পালন করে। এ কারণেই দেশে কারিগরি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার যথাযথ প্রসার ঘটাতে হবে। অবশ্য বর্তমান সরকার এ বিষয়ে গভীরভাবে সচেতন। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে সুফলও দিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করছে এখন গোটা জাতি। বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। এরই মধ্যে অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস হানা দিয়েছে দুনিয়াজুড়ে। করোনার ভয়াবহ প্রকোপে গোটা বিশ্বে এক ধরনের অচলাবস্থা, স্থবিরতা নেমে এসেছে। গোটা বিশ্ব চরম এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। করোনার কারণে বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। করোনার কারণে এখানেও শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবার সব সচল হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে এর মধ্যেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষে কৃষি, শিল্প, সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে দেশের সব মানুষকে দলমত নির্বিশেষে সচেষ্ট এবং সক্রিয় হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে আবার সমৃদ্ধ করে তুলতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন নানাভাবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই আমাদের। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে সম্মিলিত এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares