প্রচ্ছদ রাজনীতি অন্যান্য দল

মানুষের আবেগ-বিশ্বাস নিয়ে ‘নোংরা রাজনীতির সুযোগ নেই’: সুহেল

24
ভিপি নুর-রাশেদ ‘অবাঞ্চিত’, ভাঙলো ছাত্র অধিকার পরিষদ
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদ্যগঠিত নতুন কমিটির আহ্বায়ক এ পি এম সুহেল বলেছেন, ‘মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হতে সরে গিয়ে মানুষের আবেগ ও বিশ্বাস নিয়ে নোংরা রাজনীতি করার সুযোগ নেই। সম্প্রতি ঢাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলাকে নোংরা রাজনীতিকরণের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সাংগঠনিক সংস্কার আনা হয়েছে।’

পরিষদের সদ্য সাবেক ‍এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘আর্থিক অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা, অগণতান্ত্রিকভাবে সংগঠন পরিচালনা, ত্যাগী ও দুঃসময়ের সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অবমূল্যায়ন করা এবং সম্প্রতি ঢাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলাকে নোংরা রাজনীতিকরণের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সাংগঠনিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে আজকের সংবাদ সম্মেলন।’

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ও মুহাম্মদ রাশেদ খানকে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণা করে ২২ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনটি।পূর্বের ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামেই তারা নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছেন।

এ পি এম সুহেল বলেন, ‘গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানে সংগঠনের নাম সংক্ষিপ্ত করা হয়। যার বিরোধিতা করেছিলাম আমরা অনেকেই। ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাড়াহুড়া করে রাজনীতি করার অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও প্রবাসী অধিকার পরিষদ নামে তিনটি অঙ্গসংগঠন তৈরি করা হয় ছাত্র অধিকার পরিষদ এর উদ্যোগে, যেখানে এসব সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এখন পর্যন্ত অজানা আমাদের কাছে। এর ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে চাপা ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয় ও এর বিরোধিতা করে সংগঠনের তৃণমূল থেকে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারপরও ‘একক সিদ্ধান্তে’ রাজনীতি করার প্রক্রিয়া শুরু হয় সংগঠনে, যা একপ্রকার স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং সেইসাথে তা চরম বিরোধ সৃষ্টি করে সংগঠনের অভ্যন্তরে। বিভিন্ন কারণে তরুণদের রাজনীতি বিমুখতায় তারুণ্যনির্ভর এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু গণমানুষের কথা বলে সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে, মুখের আড়ালে মুশোশ পরে আছে ভয়ঙ্কর কিছু সত্য। যা সংগঠনের প্রায় সকলেই জানে, কিন্তু প্রকাশ করতে চায় না।’

আরও পড়ুন:  দুর্যোগের মধ্যেও সরকারের বিরু’দ্ধে বহুমুখী ষড়’যন্ত্র!

নতুন কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল সম্রাট বলেন, ‘এর ভয়াবহতা এতটাই প্রকট হয়েছে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলাকে রাজনীতিকরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমকে নোংরাভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যেখানে সংগঠনের ৮০ ভাগ সহযোদ্ধা এ বিষয়ে জানে এবং সমাধানের প্রক্রিয়ায় অনেকেই অংশগ্রহণ করে। এই মামলাটা তখনই রাজনৈতিক মামলা হতো, যদি সংগঠনের সবাই এটা অনেক আগে থেকে না জানতো।’

তিনি বলেন, ‘এ পি এম সুহেলকে বহিষ্কার ঢাবি সিন্ডিকেটের একক সিদ্ধান্ত ছিল, কেন্দ্রীয় কোন সিদ্ধান্ত ছিল না। ঢাবি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তখনই সবাই মিলে একত্রিত প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং সেই ষড়যন্ত্রমূলক বহিষ্কারাদেশকে বুড়ো আঙুল দেখায়। সংগঠনের স্বার্থে এবং তাদেরকে শোধরানোর সুযোগসহ নানাবিধ চিন্তা করে আমরা সকল বিষয়ে এতদিন চুপ ছিলাম। তবে সম্প্রতি তাদের আর্থিক অস্বচ্ছতা, নারী কেলেঙ্কারি, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত, নীতি-নৈতিকতাহীন আচরণ, তৃণমূলকে অবমূল্যায়ন, ত্যাগী ও পুরাতন নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার করাসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে বুকভরা দুঃখ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার ভয় থাকা সত্ত্বেও আপনাদের সামনে কথা বলার জন্য আমরা উপস্থিত হয়েছি। কারণ আপনারা অনেকেই এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ফোন কল ম্যাসেজের মাধ্যমে নানাবিধ হুমকি-ধমকি দেয়া হয়, যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথেও করা হয়েছে। এটা অনেকটা সরকারের বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার যে প্রবণতা তারই অন্য রূপ। এরা নিজেরাই অনলাইন নীতিমালা করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের একপ্রকার মানসিকভাবে অত্যাচার করে যাচ্ছে দিনরাত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে মিলেমিশে কাঁধে কাঁধ রেখে একসাখে পথচলা, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে ভালো। কিন্তু সে আদর্শ থেকে তারা আজকে যোজন যোজন দূরত্বে সরে গেছে। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে শ্লোগান নিয়ে আমরা আমাদের সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেই সংগঠনে নিজেরাই বারবার যারা রাজনীতির নামে হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় তাদের মাধ্যমে অন্যায়ের শিকার হচ্ছি। গুটিকয়েক নেতার অহমিকা, অহংকার, একরোখা সিদ্ধান্তের কারণে সাংগঠনিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে আমাদের হাজারো ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে উঠা সংগঠন। এরই ফলশ্রুতিতে একে একে বিভিন্ন কেলেঙ্কারি নানা মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে, যা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার এবং দুঃখজনক। কারণ আমরা কখনোই এমন সংগঠন চাইনি।’

আরও পড়ুন:  বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল জনগণের কাছে ভোতা হয়ে গেছে : ওবায়দুল কাদের

ইসমাইল সম্রাট বলেন, ‘এদের অসাংগঠনিক মনোভাবের বিরুদ্ধে কথা বললে শিবির-ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম, গোয়েন্দাদের এজেন্টসহ অন্যান্য ট্যাগ দেয়া, মানসিক রোগী বানিয়ে দেয়া, সাময়িক অব্যাহতির নামে হেনস্থা করাসহ মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে দেয় এরা। যেহেতু মানুষ এদের অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করে, এরা এটাকেই নোংরাভাবে ব্যবহার করে। নতুন কমিটি তৈরি করার ক্ষেত্রে সদ্য আসা নতুন সদস্যদের উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে পুরাতনদের অবমূল্যায়ন করা তাদের কাছে খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের নৈতিক পদস্খলন ও বিষাক্তময় পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে অনেকেই সংগঠন ত্যাগ করেছে, কিংবা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন ইউনিটের চাপা ক্ষোভ ছিলো। যার ফলশ্রুতিতে সংগঠনের অভ্যন্তরে ২১টি ইউনিট বিদ্রোহী হয়ে উঠে এবং সংগঠনের অনেক নেতার ফেসবুক পোস্ট দেয়ার মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবার ভয়ে অধিকাংশই অন্যায়ের সাথে আপস করে চলছে, যা আমাদের সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।’

তিনি বলেন, ‘এমতাবস্থায় সকল কিছু বিবেচনা করে নুর, রাশেদদের ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণা করে আমাদের আগের নাম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চলমান সকল অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে একটি বৈষম্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এবং সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে আমাদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলাম।’
নিউজটি পড়া হয়েছে 36 বার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 9
    Shares