29 C
Dhaka, BD
রবি আগস্ট ১৯, ২০১৮, ৫:৩৩ পূর্বাহ্ন.
প্রচ্ছদ ব্লগ

আরেকটি ওয়ান ইলেভেন আসন্ন ?

আরেকটি ওয়ান ইলেভেন আসন্ন

হঠাৎ করেই রাজনীতিতে ওয়ান-ইলেভেনের প্রসঙ্গ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা আবার সোচ্চার। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি দেশে নতুন করে ওয়ান-ইলেভেন ঘটানোর চক্রান্ত করছে। অন্যদিকে একই দিনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের কারণেই দেশে ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য অবিলম্বে আওয়ামী লীগের পদত্যাগ করা উচিত।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মুখে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। সে সময় দেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ছিল। সর্বশেষ অবসর প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হওয়ার সাংবিধানিক বিধান ছিল। বিচারপতি কে. এম. হাসান যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হতে পারে সেজন্য বিএনপি প্রধান বিচারপতির চাকরির বয়সসীমা বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধন করে। আওয়ামী লীগ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, বিচারপতি কে. এম হাসানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারা মেনে নেবে না।

আওয়ামী লীগ তীব্র আন্দোলন শুরু করে। তীব্র আন্দোলনের মুখে কে. এম. হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হবেন না বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ অনুসরণ না করে, রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগ তাঁকে পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু একের পর এক পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ফলে ইয়াজউদ্দিন বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। এসময় এরশাদকে একটি মামলায় দণ্ডিত করে হাইকোর্ট তাঁকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করে। এরপর সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় । অন্যদিকে, বিএনপির অনুগত ড. ইয়াজউদ্দিন যেকোনো মূল্যে ২২ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল থাকেন। অস্থির, নৈরাজ্যকর এবং ভয়াল একটি রাজনৈতিক পরিবেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং দেশের সুশীল সমাজের একাংশ মিলে একটি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাব তৈরি করে। আর সেনাবাহিনী তাতে সমর্থন দেয়। আপাত দৃষ্টিতে ওয়ান ইলেভেনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং দু:সহ জনজীবন থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দেওয়া। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশকে প্রস্তুত করা। কিন্তু ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ঐ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। নির্বাচনের বদলে অনির্বাচিত সরকারটি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পাঁয়তারা শুরু করে। এসময় তাঁরা দুই নেত্রীকে মাইনাস করার রাজনৈতিক কৌশলও গ্রহণ করে। সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত একটি অনির্বাচিত সরকার দিয়ে দেশ পরিচালনার এই মনোভাব জনগণ প্রত্যাখ্যান করে। দুই নেত্রীকে জেলে নিয়েও শেষ পর্যন্ত ঐ অনির্বাচিত সরকার দুবছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।

এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে কি আরেকটি ওয়ান ইলেভেন আসার আশঙ্কা রয়েছে? একথা অনস্বীকার্য যে, ওয়ান ইলেভেন আনতে যে দূতাবাসগুলো সক্রিয় ছিল তাঁদের মধ্যে একমাত্র ভারত ছাড়া বাকি সবাই সক্রিয়। দূতাবাসগুলো একের পর এক বৈঠক করছে সুশীল সমাজের সঙ্গে। শুধু দূতাবাসগুলোই নয়, সুশীল সমাজের যে অংশটি ওয়ান ইলেভেন আনতে সক্রিয় ছিল, তারা আবারও তৎপর। কিন্তু ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পেছনে আরও দুটি উপাদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি হলো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং সহিংসতা। অন্যটি সেনাবাহিনীর ভূমিকা। দেশে এখন কোনো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা নেই। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে মানুষ সন্ত্রাস এবং সহিংসতার রাজনীতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। জ্বালাও পোড়াও করার শক্তি ও সাহস দেশের বিরোধী দলের নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও এখন ২০০৭ সালের সেনাবাহিনী নয়। সেনাবাহিনী এখন অনেক পেশাদার, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন।

আর সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী আর ওয়ান ইলেভেন আসার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৭ (ক) অনুচ্ছেদে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা গ্রহণকে রাষ্ট্রোদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই ওয়ান ইলেভেন এখন কেবল এক শ্লোগান আর রাজনৈতিক স্টান। বাস্তবে বাংলাদেশে আবার ওয়ান ইলেভেন আসার সুযোগ খুবই কম।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের পাঁচ ফ্যাক্টর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের পাঁচ ফ্যাক্টর

চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য অনেক দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল আওয়ামী লীগ। আর এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল নির্বাচনে ভোটের ফ্যাক্টর হিসেবে উন্নয়নের প্রচারকে মডেল ধরে। তবে সময়ের স্রোতে অনেক দেশের পরিস্থিতি অনেক পাল্টেছে। বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা গেছে উন্নয়ন নয় বরং আগামী নির্বাচনে ভোটের জন্য ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দিয়েছে পাঁচটি বিষয়। এই ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে কোনো দলের অবস্থানই নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে প্রভাব ফেলবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে এখন সব দলই মোটামুটি কাজ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগও পূর্ব পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে পাঁচ ফ্যাক্টর নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে ভোটের ফ্যাক্টরগুলোর মধ্যে আছে,

১. তরুণ ভোটার এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে থাকা ভোটাররাই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়।  একসময় তরুণ ভোটারদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। তবে বর্তমানে এই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আর এরই মধ্যে তরুণ ভোটারদের ফেরাতে উদ্যোগী আওয়ামী লীগ। তরুণদের আবার আওয়ামী লীগের প্রতি আকৃষ্ট করতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সরব হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ দলটির বিশেষ টিম।

২. কোটা নিয়ে অবস্থানও এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। চলতি বছরের শুরু থেকেই কোটা নিয়ে সরব হয়েছিল শিক্ষার্থীরা। অনেক আন্দোলন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো নানা কর্মসূচি ঘোষণা চলছে। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী ছাড়াও এই ইস্যু নিয়ে দেশের সকল শ্রেণি পেশার শিক্ষিত মানুষের মধ্যে আগ্রহ আছে। সব মিলিয়ে কোটা সম্পর্কে আগ্রহী ভোটারের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। আর এই বিপুল ভোটারের আগ্রহের কথা চিন্তা করেই সবগুলো রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কোটা সংস্কার নিয়ে অবস্থান তুলে ধরবে বলে জানা গেছে। আর এই অবস্থানই ঠিক করে দেবে বিপুল ভোট কোন দিকে যাচ্ছে।

৩. সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশজুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। এই আন্দোলনও শিক্ষার্থীদের ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করেছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন একরকম শেষ হলেও এ নিয়ে সচেতন এখন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। এই আগ্রহ থেকেই মানুষ এখন জানতে কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে সড়ক নিরাপদে কী পদক্ষেপ নিয়ে। তাই নিরাপদ সড়ক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও অঙ্গীকারও নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। আর রাজনৈতিক দলগুলোও জনসাধারণের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে নিরাপদ সড়কের জন্য তাদের প্রস্তাবগুলো সাজাচ্ছে।

৪. ব্যবসায়ীরাও নির্বাচনের অন্যতম ফ্যাক্টর হবেন। ব্যবসাবান্ধব নীতি, ব্যাংকের সুদের হারসহ ব্যবসা সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তাই নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করেই সরকার অনলাইন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন পিছিয়েছে। সুদের হারও এক অংকে নামিয়ে আনার বিষয়টিও বাস্তবায়নে দ্বারপ্রান্তে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও ব্যবসায়ীদের আকৃষ্টে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

৫. এবারের নির্বাচনে ভোটের অন্যতম ফ্যাক্টর হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান। দুর্নীতি নিয়ে মানুষ এখন সচেতন। দেশের উন্নতির অন্যতম অন্তরায় হিসেবেই বিষয়টিকে দেখে সাধারণ মানুষ। দুর্নীতির বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই কঠোর অবস্থানে। আর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে খসড়া ইশতেহারেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের এই অবস্থানের কথা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বলা হয়েছে, এবার ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোরও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। তবে এক্ষেত্রে বিএনপি শুরুতেই ব্যাকফুটে। কারণ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দায়ে দণ্ডিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য কারান্তরীণ। আবার, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবেই খ্যাত। আর গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দুর্নীতিবাজদের দলে রাখার বিষয়টি জায়েজ করেছে বিএনপি। বিএনপির ইশতেহারে যে কথাই থাকুক, তা যে শুধুই কথা তা দেশের মানুষকে নতুন করে বুঝাতে হবে না। দুর্নীতিকে আশ্রয় করে একটি দল কীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবে।

এর বাইরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিও প্রভাব ফেলবে এবারের নির্বাচনে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে-তার উপরই নির্ভর করবে কোনো দলের প্রতি ভারত সরকারের অবস্থান। আর এর প্রতিফলন ঘটবে নির্বাচনে দেশটির ভূমিকায়। একই ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে, এ নিয়ে রাজনৈতিক দলের অবস্থানই তাঁর পক্ষে নির্বাচনে দেশটির প্রভাব ঠিক করে দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ভারতে। আর এর সঙ্গে কূটনৈতিক অবস্থানে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। এই সরকার ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে দমননীতি নিয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা শূন্য করেছে। এজন্য সরকারের প্রতি ভারত যে কৃতজ্ঞ তা বহুবারই প্রকাশ করেছে। কিন্তু বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী ইশতেহারে জঙ্গিবাদ দমনে সরাসরি কোনো অঙ্গীকার করেনি। তবে এবার বিএনপিও এ বিষয়ে অঙ্গীকার করতে পারে। কারণ, গত কয়েকমাসে ভারতের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক করেছে বিএনপি। এর প্রতিফলন এবারের নির্বাচনের জন্য নেওয়া বিএনপির ইশতেহারে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া সম্প্রতি মার্কিন-বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপড়েন বন্ধেও আওয়ামী লীগকে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া মানবাধিকার ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেশ সরব। তাঁদের জন্যও সুস্পষ্ট কিছু থাকতে হবে।

আগামী নির্বাচনে ভোটের ফ্যাক্টরগুলো কাজে লাগিয়ে যারাই ইশতেহার গড়ে তুলতে পারবে তারাই ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারবে। কোন দল জনগণের চাহিদার কতোটা ইশতেহারে রাখতে পারছে তা জানা যাবে শিগগিরই। তফসিল ঘোষণার আগে পরে আসতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার।

অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সংলাপ

অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এই সংলাপ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে আওয়ামী লীগ। অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। এই রাজনৈতিক সংলাপে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকা হবে না। তবে, বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কোনো রকম আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। কিন্তু, আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি বিএনপিকে হয়তো সংলাপে ডেকে চমক দেখাবেন।

নির্বাচন কমিশন বলেছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে পারেন। এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হবে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতামতের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি। ২০১৪’র নির্বাচনের আগেও প্রধানমন্ত্রী সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন। ঐ সংলাপে প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ঐ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এবারও নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে ধারাবাহিক সংলাপের প্রস্তুতি চলছে। এবার সংলাপে দুটি ভাগ হবে। প্রথম ভাগে জাতীয় পার্টি, জাসদ (ইনু), জাসদ (আম্বিয়া), ওয়ার্কার্স পার্টি সহ সংসদে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারে এই দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মতামত চাইবেন। এই বাইরেও যে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত, কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, তাদের ডাকা হবে। এদের কাছে, নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে পরামর্শ চাওয়া হবে। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, সংসদে আসন নেই এমন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় কাউকে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের পরামর্শ নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বিএনপিকে সংলাপে ডাকা হবে কিনা, তা নির্ভর করছে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক পরিণতির উপর। বেগম জিয়া যদি নির্বাচনের অযোগ্য থাকেন এবং কারাগারে থাকেন, সেক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে অবশ্যই সংলাপ হবে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়া ৫ বছরের দণ্ডভোগ করছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছেন। এই আপিলের শুনানি এখন হাইকোর্টে চলছে। তফসিলের আগে যদি হাইকোর্ট বেগম জিয়ার দণ্ড বহাল রাখে তাহলে তাঁর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো সুযোগ থাকবে না। তখন হয়তো বিএনপিতেও নতুন মেরুকরণ  হবে। সেই মেরুকরণ প্রক্রিয়ার উপর বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতার অনেকখানি নির্ভর করবে।

ড. কামালের সমাবেশে যেতে আপত্তি যুক্তফ্রন্ট নেতাদের

ড. কামালের সমাবেশে যেতে আপত্তি যুক্তফ্রন্ট নেতাদের

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের অরাজনৈতিক সংগঠন ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’র উদ্যোগে ২২ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে যেতে আপত্তি করেছে যুক্তফ্রন্ট। গতকাল বিকাল থেকে শুরু হওয়া রাত ৮টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যুক্তফ্রন্ট নেতারা এ আপত্তি করেন। রাজধানীর বারিধারায় বি. চৌধুরীর বাসভবনে গতকাল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি ড. কামালকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সমাবেশে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আজ বি. চৌধুরীর বাসায় ড. কামাল আসবেন বলে জানা গেছে।

গতকালের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, মাহি বি. চৌধুরী, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার ও মমিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে যুক্তফ্রন্ট নেতারা বলেন, ড. কামালের ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। সেই সংগঠনের ব্যানারে ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তফ্রন্ট অরাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে যোগ দিতে পারে না। অন্য কোনো ব্যানারে হলেও যেতে আপত্তি নেই। তারপরও এ বিষয়টি নিয়ে ড. কামালের সঙ্গে কথা বলতে হবে। জানা গেছে, ড. কামালের ওই সমাবেশে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি সরকারবিরোধী দলকে অনানুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কিন্তু যুক্তফ্রন্ট ছাড়া কারও সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক কথাবার্তা হয়নি। গত দুই দিন আগে যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে ড. কামালের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে আজ আবারও আমন্ত্রণ নিয়ে বি. চৌধুরীর বারিধারার বাসায় যাবেন ড. কামাল। এরপর কীভাবে ২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ করা যায়, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

শাহরুখের কাছে হার মানলেন চিয়ারলিডাররা (ভিডিও)

শাহরুখের কাছে হার মানলেন চিয়ারলিডাররা

ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট লিগ উপভোগ করছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। কারণ সেখানে ট্রিনিবাগো নাইট রাইডার্সেরও মালিক তিনি। সেন্ট লুসিয়া স্টারের বিরুদ্ধে ম্যাচ দেখতে মাঠে হাজির ছিলেন শাহরুখ। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে স্টারদের হারিয়ে জিতে যায় বাদশার নাইটরাই।

পাশাপাশি বুক করে নেয় ফাইনালের টিকিটও। ২১৩ রানের টার্গেট তাড়া করে জিতে যায় নাইট রাইডার্স। ড্যারেন ব্র্যাভো ৩৬ বলে ৯৪ রান করেন আর ম্যাককালাম ৪২ বলে ৬৮ রান করেন।

দলের জয়ে দারুণ খুশি মালিক নেচে ওঠেন মাঠেই। আর শাহরুখের নাচে মুগ্ধ চিয়ারলিডাররাও মেতে ওঠেন নাচের তালে। তবে তার নাচের কাছে শেষমেষ হার মানেন চিয়ারলিডাররা।

প্রকাশ হলো সাইমন-অধরার মাতালের টিজার (ভিডিও)

প্রকাশ হলো সাইমন-অধরার মাতালের টিজার (ভিডিও)

এবারের ঈদে বেশ কিছু সিনেমা রয়েছে মুক্তির তালিকায়। এরমধ্যে সাইমন-অধরার ‘মাতাল’ অন্যতম। শাহিন সুমনের এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন নায়িকা অধরা। ছবিতে সাইমনের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে।

সোমবার দিবাগত রাতে ফার্স্ট লুকের পর শুক্রবার প্রকাশ হয়েছে মাতালের টিজার।

সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন ঈদেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘মাতাল’। এখন দেখার পালা, সাইমন-অধরার এই রসায়ন দর্শক হৃদয়ে কতটুকু নাড়া দিতে পারে।

শরীফ চৌধুরী প্রযোজিত ‘মাতাল’ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শিপন মিত্র, অরিন, মিশা সওদাগর, জয় রাজসহ অনেকে।

দেখে নিন ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের ১৫০০ প্রার্থীর তালিকা

৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের ১৫০০ প্রার্থীর তালিকা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতি আসনে গড়ে পাঁচজন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। কিছু আসনে একক প্রার্থী আবার কিছু আসনে ডজন প্রার্থীও রয়েছেন। ফলে গড়ে ৩০০ আসনে নৌকার টিকিট পেতে চান ১৫০০ প্রার্থী। এ বিপুল সংখ্যক প্রার্থী সারা দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যে যার মতো করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র চার মাস বাকি থাকায় নতুন মুখের পদচারণায় তৃণমূলে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে তৃণমূল রাজনীতি। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের নানা রঙের পোস্টার-ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। তৃণমূলকে আস্থায় নিতে যে যার মতো দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই এবার কঠিন হবে। তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে চার স্তরের জরিপ মিলিয়ে দেখা হবে। সে কারণে বর্তমান এমপি কিংবা আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক ছাত্রনেতা— এসব যোগ্যতা থাকলেই নৌকার টিকিট পাওয়া যাবে না। যাকে মনোনয়ন দিলে জিতে আসার সম্ভাবনা বেশি, আগামী নির্বাচনে তাকেই দেওয়া হবে নৌকার টিকিট। ক্ষমতাসীন নেতারা বলেন, প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, তাকেই মনোনয়ন দেবেন শেখ হাসিনা। সে কারণে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছেন। তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। আসন্ন ঈদুল আজহায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বেশি করে গরু-ছাগল কোরবানি দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এটাই শেষ ঈদ। সে কারণে ঈদকে গুরুত্ব দিচ্ছেন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, ঢাকা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থীরা রয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনে। এ আসনে বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। এখানে মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায় ও কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান দোলন। তারা সমানতালে এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

শরীয়তপুর-২ আসনের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া মহল্লায় গণসংযোগ, কর্মিসভা করে চলেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী এবিএম গোলাম মোস্তফা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ। চাঁদপুর-৩ আসনে বর্তমান এমপি ডা. দীপু মনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন। তারা দুজনই সমানতালে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়াও নৌকার টিকিটের প্রত্যাশায় আছেন মো. রেদওয়ান খান (বোরহান)। নোয়াখালী-৬ আসনে দলীয় এমপি বেগম আয়েশা ফেরদাউস ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী, মাহমুদ আলী রাতুল ও আমিরুল ইসলাম নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন। চট্টগ্রাম-৬ আসনে দলীয় এমপি এবিএম ফজলে করিম ছাড়াও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। দিনাজপুর-১ আসনে বর্তমান এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপালের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় আছেন সাবেক ছাত্রনেতা আবু হোসাইন বিপু। গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ছাড়াও এই আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মিসভা, আলোচনা সভা ও পথসভা করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তিনি। নওগাঁ-৫ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের ছেলে নিজাম উদ্দিন জলিল জন। নাটোর-৪ আসনে বর্তমান এমপি আবদুল কুদ্দুস নিয়মিত এলাকায় থাকছেন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চান এমপিকন্যা যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ও সাবেক ছাত্রনেতা আহমদ আলী মোল্লা। ঢাকা-২ আসনে গণসংযোগে ব্যস্ত আছেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। ঢাকা-৫ আসনে বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার পাশাপাশি তারপুত্র মশিউর রহমান সজল মোল্লা, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন মনু গণসংযোগে তৎপর। ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জোর প্রচারণায় আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। পিরোজপুর-১ আসনের এমপি এ কে এম আউয়াল ছাড়াও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বর্তমান এমপি গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন দলীয় ও সরকারি কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণের পাশাপাশি এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই আসনে দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও বসে নেই। এদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি লুত্ফর রহমান দিলু, কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট ও প্রয়াত এমপি ইসহাক আলীর পুত্র ইমন তালুকদার। পাবনা-৪ আসনে বর্তমান এমপি শামসুল রহমান শরিফ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন প্রচারণায় আছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে এমপি আলী আজগর টগর ছাড়াও এই আসনে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পারছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হাসেম রেজা। মাগুরা-১ আসনে প্রতিটি গ্রাম ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ছাড়াও উঠান বৈঠক, সরকারের উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে মতবিনিময় সভা করছেন তিনি। বাগেরহাট-৪ আসনে নিয়মিত গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। খুলনা-৩ আসনে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের বর্তমান এমপি এসএম জগলুল হায়দার ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রচারণায় আছেন। তিনি কখনো কৃষক শ্রমিকদের সঙ্গে ভাত ভাগাভাগি করে খান, কখনো গভীর রাতে নিজ কাঁধে চাল, ডাল ও মুরগি নিয়ে হাজির হন অনাহারির বাড়িতে। আবার শ্রমিকদের সঙ্গে কৃষি কাজেও দেখা যায় তাকে। পটুয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালের পাশাপাশি গণসংযোগ করছেন কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ হাওলাদার। বরিশাল-৩ আসনে নিয়মিত যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার। ময়মনসিংহ-৫ আসনে জোর প্রচারণা শুরু করেছেন সাবেক এমপি শামসুল হকের ছেলে মোহাম্মদ তারেক। নেত্রকোনা-১ আসনে এবার নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন সাবেক এমপি মোস্তাক আহমেদ রুহী। নেত্রকোনা-২ আসনে নৌকার টিকিট চান সাবেক এমপি আশরাফ আলী খান খসরু, সাবেক ছাত্রনেতা চিত্রনায়ক রানা হামিদ। নেত্রকোনা-৩ আসনে বর্তমান এমপি ইফতিকার উদ্দিন পিন্টু ছাড়াও জোর প্রচারণায় আছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। তিনি গত কয়েক বছর ধরেই সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন এবং দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল, সাবেক এমপি মঞ্জুর কাদের কোরাইশী। নেত্রকোনা-৪ আসনে রেবেকা মমিনের পাশাপাশি নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা শফি আহমেদ। নেত্রকোন-৫ আসনে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা তুহিন আহম্মদ খান দলীয় মনোনয়ন চান। কিশোরগঞ্জ-২ আসনে সোহরাব উদ্দিন এমপি ছাড়াও জোর প্রচারণায় রয়েছেন সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ। এ ছাড়াও এ আসনে নৌকা পেতে চান সাবেক ছাত্রনেতা ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সুকুমার রঞ্জন ঘোষের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলু, সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম সরোয়ার কবির গণসংযোগে আছেন। নরসিংদী-৫ আসনে বর্তমান এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর পাশাপাশি সমানতালে গণসংযোগ, কর্মিসভা ও মতবিনিময় করে চলেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (ফাইল ছবি)

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপি আবারও ১-১১ আনার ষড়যন্ত্র করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেটি আর আসবে না।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য এবার দেশকে স্বাধীন করুন।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি প্রশ্ন রাখতে চাই- এটা কি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল নয়? এর যদি বিচার করতে হয়, ফখরুলকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার করলে কি ভুল হবে? এ ধরনের কথা বলেও ফখরুল ইসলাম স্টিল নাউ আছেন। এখনও আপনি অ্যারেস্ট হননি, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’

বিএনপি মহাসচিবের কাছে ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন করেন, কোন স্বাধীনতা? পাকিস্তানে ইমরান সরকার এসেছে, মহাখুশি, না? মহাখুশি আপনারা? ফখরুল সাহেব, অচিরেই টের পাবেন কত ধানে কত চাল।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ‘১৭ আগস্ট সারা দেশে সিরিজি বোমা হামলা’র প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গোপন বৈঠক চলছে, দেশে-বিদেশে বৈঠক চলছে। গত ৭ দিনে কারা ঘন ঘন যাতায়াত করছেন, সেই খবর আমরা জানি। ব্যাংকককে এখন ঘাঁটি করেছেন। কারা কারা আসছেন, কারা যাচ্ছেন, কি কি কথা হচ্ছে- মনে করেছেন আমরা জানি না।’

তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ঢাকা অচল হবে না। বাংলাদেশ অচল করা যাবে না, বিএনপি অচল হয়ে যাবে। অচল হওয়ার সব উপাদান তারা যুক্ত করে ফেলেছে।

১-১১ নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আলমগীর সাহেব, ১-১১-এর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সব ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন। খোঁজখবর আমরা নিচ্ছি। তবে একথা বলে রাখি, বাংলাদেশে আর ১-১১-এর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। জনগণ আপনাদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে। এ ষড়যন্ত্র সফল হবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন, বড় বড় কথা বলছেন। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, শরৎ বাবুর উপন্যাসে পড়েছিলাম, মানুষের শক্তি যখন কমে আসে তখন মানুষের মুখের বিষ উগ্র হয়। মানুষের শক্তি যখন কমে আসে তখন তার মনের জোর কমে যায়, গলার জোর বেড়ে যায়। বিএনপির অবস্থা কি তাই নয়? শক্তি কমে আসছে তাই বিএনপির গলার জোর বেড়ে গেছে। কথা বলতে বলতে লাগাম ছাড়া হয়ে গেছে, প্রধানমন্ত্রীকেও আক্রমণ করে কথা বলছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আবার বলে বুকের ওপর দানব সরকার, আমরা বলি বিএনপি নামক সাম্প্রদায়িক দানব পার্টি বাংলাদেশে যতদিন থাকবে এখানে অশান্তি দূর হবে না। দানব পার্টি যতদিন আছে দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী নির্বাচনে এ দানব পার্র্টির হাত থেকে দেশের জনগণকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উদ্ধার করতে হবে। বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে আপনারা প্রস্তুত? প্রস্তুত হন।

কয়েকটি মিডিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে বলেও দাবি করেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারা কারা পেছন থেকে ষড়যন্ত্রে বাতাস দিচ্ছে আমরা জানি। এ বাতাস দেয়া বন্ধ করুন। বিএনপি মাঠে না থাকলেও দু-একটা মিডিয়ার মধ্যে এ আন্দোলন আছে। টার্গেট হাসিনা সরকারকে উৎখাত করা। শেষ পর্যন্ত বাংলার জনগণ রুখে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ।

আবারও চক্রান্তে বিএনপি

এর আগে সকালে ঈদযাত্রার প্রথম দিনে মহাখালী বাস টার্মিনালের পরিস্থিতি দেখতে যান ওবায়দুল কাদের। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ১-১১-এর মতো ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্তটা কিন্তু বিএনপি করছে, মিডিয়ার একটি অংশ তাদের সহযোগিতা করছে। ১-১১-এর কুশীলবদের সঙ্গে মিডিয়ার একটি অংশ ছিল তাদের সহযোগী। এখনও একই ষড়যন্ত্র সেই বিএনপিই করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ আমাদের সরকারের ওপর খুশি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর খুশি, আমাদের উন্নয়ন-অর্জনে জনগণ খুশি। আমরা জানি, জনগণ উন্নয়নের দিকে রায় দেবে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আবারও রায় দেবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিএনপি এবং তাদের দোসররা হুমকি সৃষ্টি করছে।

মোটামুটি স্বস্তিদায়ক নির্বাচন পরিচালনার মতো শান্তিময় পরিবেশ দেশে বিরাজ করছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ শান্তিময় পরিবেশটাকে ভয়ংকর রূপ দেয়ার জন্য বিএনপি এবং তাদের দোসররা উঠেপড়ে লেগেছে।

নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির থাকার কোনো সুযোগ আছে কিনা- এ প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, পার্লামেন্টে তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। যখন আসার সুযোগ ছিল, তখনও তারা আসেনি। তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত অফার করা হয়েছিল, কিন্তু তারা আসেনি। এবার তারা পার্লামেন্টে নেই। এবার তাদের ডাকতে হবে- এমন কোনো চিন্তা নেই। টেকনোক্র্যাট দল থেকে কেন নেব? বাইরে থেকেও তো নেয়া যেতে পারে। শিক্ষক আছে, সুশীল সমাজ আছে, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ আছে- তাদের থেকে নেয়া যায়।

সরকার যে পদ্ধতিতে নির্বাচনে যেতে চাইছে, সেই পদ্ধতিতে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী- এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, পদ্ধতিটা আমাদের সংবিধানের। পদ্ধতিটা বাংলাদেশের সংবিধানই নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচনটা কিভাবে হবে। আর সংবিধানের এ দায়িত্বটা থাকবে নির্বাচন কমিশনের ওপর।

ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে

মহাখালীতে ঈদযাত্রার পরিস্থিতি দেখার সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারের ঈদে প্রধানমন্ত্রী ২৩টি সেতু উদ্বোধন করার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা এবার স্বস্তিদায়ক হবে, ভোগান্তি সহনীয় হবে। আর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনী রেল ওভারপাস গত ঈদে কিছুটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এটাও এবার খুলে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল পথে অন্যান্য সমস্যাও সমাধান করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে। সবমিলিয়ে গত ঈদের চেয়ে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।

মহাখালীতে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবার অভিযোগ কম পাওয়া যাচ্ছে বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি বেশি ভাড়া নিচ্ছে। জিজ্ঞাসা করেছি কোন কাউন্টার? তারা বলল, সিরাজগঞ্জের স্টারলাইন। সঙ্গে সঙ্গে এটা বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়া আর কোনো অভিযোগ আসেনি।

কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যথাযথ জায়গায় রাখার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পশুবাহী গাড়িগুলো যথাযথভাবে রাখলে এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় না নামালে আর কোথাও কোনো সমস্যা থাকবে না। আপনারা পশুবাহী গাড়িগুলো যথাযথ স্থানে রাখবেন।

বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পরাজয়বরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র

বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পরাজয়বরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভয়াবহ দুঃশাসন ও জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের মিলিত শক্তির কাছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পরাজয়বরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, জনগণের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ।

শুক্রবার বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে নোয়াখালীর বসুরহাটের নিজবাড়িতে পুলিশ ঘেরাও করে রাখা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১০/১২ জন নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠানো বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপি সহ-দফতর সম্পাদক মোঃ তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিবাদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে যেতে পারছে না বর্তমান অবৈধ সরকার। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বর্তমান সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করতে দেশকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। আর সেজন্যই বেপরোয়া হয়ে গুম, খুন, অপহরণ ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের লাগাতার গ্রেফতার ইত্যাদিকে রাষ্ট্রীয় নীতি করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য দেশের কারাগারগুলো বন্দি ধারণ ক্ষমতা নেই। সরকারের সব অপকর্মের মূল লক্ষ্য একটাই-তাহলো ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা। কিন্তু সরকার এসব কুকর্ম করে আর বেশীদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে পারবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী নিজের পথের কাঁটা সরাতে প্রত্যক্ষভাবে পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে দেশের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে অবরুদ্ধসহ নানাভাবে নাজেহাল করছে। আজও একই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি করছি।’

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন উল্লিখিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ মিনিট সময় চান ড. কামাল

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ মিনিট সময় চান ড. কামাল

প্রধানমন্ত্রী অনেক ব্যস্ত, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে কাজের চাপে অনেক ব্যস্ত থাকেন। তারপরও তিনি যদি ১০ মিনিট সময় দেন তাহলে কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে চাই বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

শুক্রবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংহতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সভার আয়োজন করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, এই দুটি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সাধারণ যে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে ছেড়ে দিন। প্রয়োজনে আমি আপনার পা ধরতেও রাজি আছি। আপনার পা ধরে নিবেদন করতে চাই গ্রেফতার করা শিক্ষার্থীদের আপনি মুক্তি দিন। সামনে ঈদ। ঈদ উপলক্ষে আপনি সবাইকে মুক্তি দিন।

তিনি বলেন, একাত্তরের পর অনেক স্বৈরাচারই ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু টিকতে পারেনি। স্বৈরাচারী কায়দায় কখনোই ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। আগামী ৩ বছর পর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে। আসুন এই ৩ বছরের মধ্যে আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে না এবং যে উদ্দেশ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে তা বাস্তবায়িত হয়।

kamal
নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সভা

ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মালিক জনগণ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা আছেন তাদেরকে জণগণের সেবক হিসেবে দেশ শাসন করা উচিৎ। সবাইকে মালিক হিসেবে একত্রে দাঁড়াতে হবে। আসুন আমরা এই ঈদে এই বাণী নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাই এবং সকলকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ প্রমুখ।

সর্বশেষ সংবাদ