21 C
Dhaka
সোম ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮, ৮:৪৬ অপরাহ্ন.
প্রচ্ছদ ব্লগ

খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আইএসআই এজেন্টের ফোনালাপ ফাঁস

খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আইএসআই এজেন্টের ফোনালাপ ফাঁস

কুমিল্লায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন এই মামলা দায়ের করেন। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) এর এজেন্ট মেহমুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের কথোপকথনকে নির্বাচন বিরোধী ষড়যন্ত্র দাবি করে এ মামলা দায়ের করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন ড. মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ড. খন্দকার মোশাররফ (৭৩), পিতা মৃত খন্দকার আশরাফ হোসেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে কথা বলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

প্রসঙ্গত খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আইএসআই এজেন্টে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ডভিত্তিক নিউজ পোর্টাল এশিয়ান ট্রিবিউন কথোপকথনের এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।

তাদের দাবি-মেহমুদ নামে ওই ব্যক্তি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) কর্মকর্তা।

সুমনের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খন্দকার মোশাররফ ও আইএসআইয়ের কথোপকথন ১১ ডিসেম্বর এশিয়ান ট্রিবিউন ও ১২ ডিসেম্বর ডিবিসি নিউজে প্রকাশ হয়। এতে শোনা যায়, বিবাদী পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে চীনকে ম্যানেজ করে দিতে বলেন মোশাররফ। বিদেশি শক্তির সহায়তা চেয়ে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ করেছেন।

তিনি অভিযোগে লেখেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করায় আমি সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করার জন্য থানায় অভিযোগ করলাম।

পুরো ফোনালাপ শুনুন এখানে ক্লিক করুন

বড় জয় পাবে আওয়ামী লীগ , শেখ হাসিনা দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেতা

বড় জয় পাবে আওয়ামী লীগ , শেখ হাসিনা দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেতা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টের অধিকাংশ আসনে জয় লাভ করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে লন্ডন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত তাদের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রতিবেদন অনুসারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশের মানুষ আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবে। সেখানে দেওয়া পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে গড়ে ৭.৭ করে থাকবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সার্বিক বিনিয়োগে স্থিতাবস্থা থাকবে বলেও তারা জানায়। খবর ইত্তেফাকের ।

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় বেশ কিছু মতামত জরিপে শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেতা।

সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অসাধারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধী দলের পিছিয়ে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। আর সে কারণেই বিএনপি বা আরও বড় পরিসরে দেখলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের আরও একবার নির্বাচনে জয়ী হওয়া আবশ্যক। এ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ তার নিকটতম প্রতিবেশী ভারত, চীন ও জাপানের সহায়তায় অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তেমন নেই। রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের এই টানপোড়েন আরও চলবে বলে উল্লেখ করা হয়। ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রসঙ্গে:

লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) বিশ্বব্যাপী জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিগত ৬০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশের ব্যবসার উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং রাজনীতির ট্রেন্ড, সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং কর্পোরেট প্রাকটিসের বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। চারভাবে ইআইইউ তাদের তথ্য প্রকাশ করে থাকে: এর ডিজিটাল পোর্টফলিও যেখানে নিয়মিত নতুন পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়; গ্রাহকদের জন্য প্রিন্ট করা নিউজ লেটারের মাধ্যমে যেখানে বার্ষিক কাজের বিবরণী থাকে; গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে এবং সেমিনার ও প্রেজেন্টেশন আয়োজনের মাধ্যমে। এ‌ই প্রতিষ্ঠানটি ইকোনমিস্ট গ্রুপের সদস্য।

ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনের মতই ওয়াশিংটনভিত্তিক রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদনে এগিয়ে রাখা হয় বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। এ বছরের ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মে’র মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে বলা হয়, দেশের ৬৬ ভাগ মানুষ সমর্থন জানিয়েছে শেখ হাসিনার প্রতি এবং ৬৪ ভাগ জনগণ এখনও সমর্থন করছে আওয়ামী লীগকে। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ ভাগ নাগরিক। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ৩০ আগস্ট এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের নোটে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ ভাগ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ ভাগ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে। সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জন সন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারি সেবায় সন্তুষ্ট ৬৭ ভাগ মানুষ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৪ ভাগ নাগরিক। এ ছাড়া সড়ক ও ব্রিজের উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬১ ভাগ নাগরিক।

এর আগে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে করা ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং রিসার্চ ডেভলোপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি)-র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় বর্তমান সরকারের অধীনে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন দেশের অধিকাংশ নাগরিক। এই জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ ভাগ উত্তরদাতা তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে বলে মত দিয়েছেন। পূর্ববর্তী জরিপ গবেষণায় ব্যবহৃত ২৫ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের ‘টেলিফোন ব্যাংক’ থেকে এই ১০০৫ জনের সঙ্গে টেলিফোন-ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে জরিপ পরিচলানা করা হয়।

এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের রিপোর্ট অনুসারে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিগত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিগত ৬ বছর ধরে বাংলাদেশ শতকরা ৬ ভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে।

এই গবেষণায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে কিনা? এর উত্তরে ৬৮ দশমিক ৬ ভাগ উত্তরদাতা জানিয়েছে, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ১৩ দশমিক ৭ ভাগ মত দিয়েছেন, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে না।

এর আগে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের (আইআরআই) চালানো জনমত জরিপে প্রায় কাছাকাছি ফল পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আইআরআই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৬৪ ভাগ উত্তরদাতা জানিয়েছিল, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) সম্মেলিতভাবে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। সেখান থেকে জানা যায়, যুব সমাজের ৭৫ ভাগ মনে করে, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশ আরও সমৃদ্ধশালী হবে। তাদের ৬০ ভাগ মনে করে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট-আরডিসি পরিচালিত গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশের সবচাইতে বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭২ দশমিক ৩ ভাগ উত্তরদাতা শেখ হাসিনা সম্পর্কে ভাল মত প্রদান করেছেন, পক্ষান্তরে বিএনপি’র দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ভাল মত প্রদান করেছেন মাত্র ২৬ দশমিক ৬ ভাগ উত্তরদাতা। এদিকে, ২০১৫ সালে প্রকাশিত আইআরআই এর পৃথক এক জরিপ অনুসারে ৬৭ ভাগ মানুষ আস্থা রাখেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

এদিকে যুব সমাজের মধ্যে বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এখনও অনেক বেশি। বিশেষত ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৫৫ দশমিক ৪ ভাগ উত্তরদাতা আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘ভাল’ মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে ‘ভাল’ মত প্রদান করেছেন মাত্র ২০ দশমিক ৮ ভাগ। এই বয়সীদের মাত্র ২ দশমিক ৫ ভাগ আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ‘খারাপ’ মত প্রকাশ করেছেন, পক্ষান্তরে বিএনপির ক্ষেত্রে ‘খারাপ’ মত প্রকাশ করেছেন ১৩.৮ ভাগ উত্তরদাতা। এই জরিপ অনুসারে, কাকে ভোট দেবেন জানতে চাইলে ৩৫ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দেবে বলে জানায়, অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে সমর্থন জানায় মাত্র ৩ দশমিক ৪ ভাগ যুবক।

শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ করে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে সূচকে ভারতসহ অন্যান্য দেশের অবদান যেখানে ৩০-এর কোটায়, সেখানে বাংলাদেশের অবদান ৫০-এর ওপরে। ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে স্বপ্রণোদিত অঙ্গীকার ও প্রতিপালন’ শীর্ষক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

জলবায়ুর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতি মুকাবিলায় দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। জার্মানির বার্লিন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনালের জরিপে ২০১৭ সালে দুর্নীতি হ্রাসে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩ তম। বাংলাদেশ ১০০ এর মধ্যে এ বছর স্কোর করেছে ২৮। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৫ তম, স্কোর ছিল ২৬। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সালে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে, লিঙ্গ সমতা সূচকে এশিয়ায় বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব লিঙ্গ সমতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশে বাংলাদেশ ছাড়া ঠাঁই পেয়েছে মিয়ানমার। ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক আর্টিকেলে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব লিঙ্গ বৈষম্য সূচকে ২৫ ধাপ উন্নতি করে ৭২তম অবস্থান থেকে ৪৭তম অবস্থানে চলে এসে বিশ্বকে অবাক করে দেয় বাংলাদেশ। লিঙ্গ সমতা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর শূন্য দশমিক ৭১৯ (০.৭১৯)। যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। ১০৬ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালদ্বীপ।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে দ্রুততম সময়ে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গ সমতায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ তার লিঙ্গ বৈষম্যে ৭২ ভাগ নিরসন করতে সক্ষম হয়েছে। অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং আয়ের সম সুযোগ লাভ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে দারুণভাবে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে সামগ্রীকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর সে কারণেই জরিপগুলোতে এগিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

নৌকায় ভোট দিলে কেউ কোনোদিন অধিকার বঞ্চিত হয় না

নৌকায় ভোট দিলে কেউ কোনোদিন অধিকার বঞ্চিত হয় না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন তৃণমূলের উন্নয়ন, নৌকায় ভোট দিলে কেউ কোনোদিন অধিকার বঞ্চিত হয় না। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে শেখ লুৎফর রহমান কলেজ মাঠে জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। খবর যুগান্তরের ।

দেশের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সবার সহযোগিতা চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কোনো দরিদ্র থাকবে না, বেকার থাকবে না।

এ সময় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আবারও দেশের সেবা করার সুযোগ চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা আমার একমাত্র লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল বলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আগুন সন্ত্রসীদের ক্ষমতায় আসার পথ বন্ধ করুন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার ছোটবোন শেখ রেহানা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ ও ফেরদৌস।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান প্রমুখ।

এ নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এদিন সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। দুপুরে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর সেখান থেকেই তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। পরে পৈতৃক বাড়িতে দুপুরের খাবার শেষে নির্বাচনী সভায় অংশ নিতে কোটালীপাড়ায় যান।

বৃহস্পতিবার সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়, ফরিদপুর মোড়, রাজবাড়ী মোড়, পাটুরিয়া ফেরিঘাট, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ধামরাই রাবেয়া মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল মাঠে ও সাভার বাসস্ট্যান্ডে নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।

রিকশাচালককে পেটানো সেই সুইটিকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার

রিকশাচালককে পেটানো সেই সুইটিকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার

তরুণ রিকশা চালককে প্রকাশ্যে মারধর করে দেশব্যাপী আলোচিত হওয়া সুইটি আক্তার শিনুকে রাজধানীর মিরপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকার পদ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মঙ্গলবার রাতে দল তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বলে নিশ্চিত করেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল হারুন।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘সুইটি আক্তার শিনু বেশ কিছুদিন ধরেই উশৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করতেন বলে অভিযোগ ছিল। দলীয় কর্মকাণ্ডে তার আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ করছিল দলকে। আমরা সুইটিকে এর আগে বারবার সতর্ক করেছি কিন্তু তিনি সংশোধন হননি। বরঞ্চ একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েই যাচ্ছিলেন।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘গতকাল রাস্তায় এক তরুণ রিকশা চালককে প্রকাশ্যে মারধর করেন সুইটি। যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় দেশ-বিদেশে। এতে দলের কিছুটা সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। একজন সুইটির জন্য পুরো দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে সেটা মানা যায় না, তাই জরুরি মিটিং ডেকে সুইটিকে মহিলা সম্পাদিকা ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার এক তরুণ রিকশা চালককে রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

ভিডিওতে দেখা যায় এক নারী, এক তরুণ রিকশাচালকের ওপর চড়াও হয়েছেন। তিনি নিজেই ওই রিকশার যাত্রী ছিলেন। দ্রুত রিকশা না চালানোর কারণে তিনি চটে যান। ভিডিওতে রিকশাচালকের ওপর মারমুখী অবস্থায় দেখা যায় তাকে।

এক পর্যায়ে প্রকাশ্য দিবালোকে সবার সামনে রিকশা থেকে নেমে চালকের গায়ে হাতও তোলেন তিনি। আবারো রিকশা উঠে হাতের ব্যাগ দিয়ে চালককে মারতে উদ্যত হন। ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে লাথি ছুঁড়তেও দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অনেক পথচারী ওই নারীর আচরণের প্রতিবাদ করছেন। তবে কোনো প্রতিবাদেই নিজের অবস্থান থেকে সরেননি নারী। পরে ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যায়।

আমি যদি ধমক দেই তাহলে নারায়ণগঞ্জে কোনো বিএনপি থাকবে না

আমি যদি ধমক দেই তাহলে নারায়ণগঞ্জে কোনো বিএনপি থাকবে না

‘আমি শামীম ওসমান আমার কোনো গুন্ডা পাণ্ডা প্রয়োজন নেই। আমি শামীম ওসমান যদি ধমক দেই তাহলে নারায়ণগঞ্জে কোনো বিএনপি থাকবে না। আমার সেই ক্ষমতা আছে। কিন্তু আমি ধমকের রাজনীতি করি না। আমি ভালো মানুষ নিয়ে রাজনীতি করতে চাই।’ বলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন সফল করতে নির্বাচনে আসেনি, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তারা এমন কোনো ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করবে।। তারা বিভিন্নস্থানে বিএনপির ভালো ব্যক্তিদের প্রার্থী না দিয়ে জঙ্গি মতবাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিচ্ছে। তারা দেশে জঙ্গির আস্থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। তাদের স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে না।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়নে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি যাকে প্রার্থী হিসেবে দিয়েছে তাকে আমি নিজেই চিনি না। জনগণ তাকে কীভাবে চিনবেন এবং কীভাবে ভোট দেবেন। নির্বাচন করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের যদি নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকতো তাহলে আমার এলাকায় বিএনপির এতো নেতা থাকতে একজন জঙ্গি মতবাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতেন না। তাদের যে উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন জনগণ তাদেরকে রুখে দাঁড়াবে। জনগণ এত কাঁচা না, জনগণ নিজের ভালো মন্দটা নিজেরা বুঝেন।

এদিকে শামীম ওসমান বক্তাবলীর রাধানগর লেংটার মেলায় গিয়ে লেংটা সোলয়মান শাহ’র মাজারে গিয়ে জিয়ারত করেন এবং তার ভক্তদের কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট চান। আর লেংটার মাজারে গিয়ে ভক্ত পাগলদের সঙ্গে কুশল মিনিময়ও করেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বক্তাবলীর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক স্কুলমাঠে গণসংযোগ ও আলোচনা সভা করেন। সেখান থেকে শেষ করে কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে গণসংযোগ করেন। দুপুরে রাধানগর পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠে গণসংযোগ করেন। পরে এখানে শেষ করে ছমির নগর মাদরাসা মাঠে গণসংযোগ করেন। সন্ধ্যার পর চরগরকুল আনন্দ বাজার সংলগ্ন প্রাথমিক স্কুল মাঠে গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৮টায় পূর্ব গোপাল নগরে শামীম ওসমান গণসংযোগ করেন।

শামীম ওসমানের গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মিয়া, জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সস্পাদক ভিপি আলমগীর প্রমুখ।

১০ বছরে ১০টি বড় কেলেঙ্কারিতে লোপাট হয়েছে ২২,৫০২ কোটি টাকা

গত ১০ বছরে ব্যাংক খাতের ১০টি বড় কেলেঙ্কারিতে লোপাট হয়েছে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এসব কেলেঙ্কারি ঘটেছে মূলত সরকারি ব্যাংকে। সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক গ্রুপ দিয়ে শুরু হলেও সবচেয়ে বেশি কেলেঙ্কারি ঘটেছে জনতা ব্যাংকে। আরও রয়েছে বেসিক ও ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। আর এসব তথ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন,
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেন ব্যাংকিং খাতকে অনিয়ম ও লুটপাটের হাত থেকে নিষ্কৃতি
দেন। ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার না করা
হয়। আর ভবিষ্যতে যাঁরা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরা যেন অর্থ লুটপাটের ক্ষেত্র
হিসেবে ব্যাংক খাতকে বেছে না নেন।

সিপিডির আয়োজনে গতকাল শনিবার ‘বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে
আমরা কী করব’ শীর্ষক এই সংলাপ স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সিপিডির
নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংলাপে আরও অংশ
নেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান
ব্যাংকার এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা। তাঁরা দেশের ব্যাংক খাতের
দুরবস্থা, ঝুঁকি, সমাধানসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করেন। সংলাপে সভাপতিত্ব
করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

১০ বছরে ১০ কেলেঙ্কারি
মূল নিবন্ধে
ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত ১০ বছরে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স, ক্রিসেন্ট ও
থারমেক্স গ্রুপ মিলে ১১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা হাতিয়েছে। বেসিক ব্যাংক থেকে
বের হয়ে গেছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংক থেকে হল-মার্ক নিয়ে
গেছে ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। বিসমিল্লাহ গ্রুপ নিয়েছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি
টাকা। এ ছাড়া রিজার্ভ চুরির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হারিয়েছে ৬৭৯
কোটি টাকা। নতুন প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল ও ফারমার্স ব্যাংক থেকে লোপাট
হয়েছে ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এবি ব্যাংক থেকে পাচার হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক খাতের এই ১০টি বড় কেলেঙ্কারিতে লোপাট হওয়া ২২ হাজার
৫০২ কোটি টাকা দিয়ে কী করা সম্ভব, তারও একটি চিত্র তুলে ধরেছে সিপিডি।
সেখানে বলা হয়েছে, এই টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের ৭৮ শতাংশ বা পদ্মা
সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ৬৪ শতাংশ ব্যয় নির্বাহ করা যেত। আবার সোনাদিয়া
গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে প্রায় ৪১ শতাংশ টাকার জোগান দেওয়া সম্ভব ছিল।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় ব্যাংক খাত
অনুষ্ঠানের
বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
‘ব্যাংক খাতে জবাবদিহি নেই। সংক্রামক ব্যাধির মতো সরকারি ব্যাংকের সমস্যা
বেসরকারি ব্যাংকে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা বড় উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের ব্যাংক,
পরিচালনা পর্ষদ ও তদারকি ব্যবস্থা টালমাটাল হয়ে গেছে। ব্যাংক ধ্বংস হলে
কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। সুশাসনের প্রচণ্ড অভাব দেখা যাচ্ছে। যারা টাকা মেরে
দিচ্ছে, তাদের কিছুই হচ্ছে না।’

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে শুধু ক্ষমতা
নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, প্রয়োগ করতে জানতে হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা না
থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ করা কঠিন। ব্যাংক খাতের সমস্যা সমাধানে
স্বাধীন কমিশন প্রয়োজন।

সংলাপের সম্মানিত অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি
গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক
অবস্থায় আছে ব্যাংক খাত, প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে। ব্যাংকের ৯০ শতাংশ অর্থের
জোগান দেয় আমানতকারীরা। তাদের দেখার জন্য ব্যাংকে কেউ নেই। কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের দায়িত্ব আমানতকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করার। কিন্তু
বাংলাদেশ ব্যাংক এ দায়িত্ব পালনে অক্ষম। ধনী মালিকদের প্রাধান্য দিতে গিয়ে
সাধারণ আমানতকারীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, সুদ নির্ভর করে বাজারের
ওপর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দোহাই দিয়ে ব্যাংক মালিক সমিতির চেয়ারম্যান
সুদহার নির্ধারণ করে দিলেন। বলা হলো, না মানলে এমডিদের চাকরি চলে যাবে। এসব
কিসের আলামত? ব্যাংক খাত থেকে ভদ্রলোকদের সরিয়ে কি লুটপাটকারীদের হাতে
তুলে দেওয়া হচ্ছে? তাঁর পরামর্শ হচ্ছে, ব্যাংক খাত নিয়ে সমীক্ষা সংসদে তুলে
ধরা প্রয়োজন। জাতীয় সংসদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেওয়া উচিত।
তাহলেই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ জমিদারের ভূমিকায় থাকবে না।

তিনজনের কারণে ঝুঁকিতে ২৩ ব্যাংক
আলোচনায়
অংশ নিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জাতীয় নির্বাচনে ঋণখেলাপি প্রার্থীদের
মনোনয়ন বৈধতা সম্পর্কে বলেন, প্রভাবশালী প্রার্থীদের ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ
সৃষ্টি করে পুরোনো ঋণের কিছু অংশ পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এভাবে
খেলাপি ঋণের পুনঃ তফসিল করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত হাস্যকর পর্যায়ে
নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাজার থেকে শেয়ার কিনে যেকোনো ব্যাংকের
মালিকানা নেওয়া যায়। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কাঠামো না থাকায় এক ব্যবসায়ী গ্রুপ
একচেটিয়াভাবে অনেকগুলো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পুরো অর্থনীতিকে কিছু
ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি করে ফেলার একই ভুল যেন আবার না করি।

এই অর্থনীতিবিদের মতে, কয়েক বছর ধরে ব্যাংকিং খাতে
উন্নয়নের বদলে অনুন্নয়ন হচ্ছে। অথচ এই খাতের মধ্য দিয়ে অর্থনীতি অগ্রসর হয়।
এই প্রথম দেখা যাচ্ছে, আমানতকারীদের মধ্যে প্রশ্ন জাগছে—কোন ব্যাংকে টাকা
রাখলে তা নিরাপদ থাকবে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা অনিয়ম করে ঋণ নিয়েও পার
পেয়ে যান।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ
হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ১০ জন বড় ঋণগ্রহীতার মধ্যে ৩ জন বিপদে পড়লে ২৩টি
ব্যাংক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। এই খাতের সংস্কার আজ থেকে নয়, গতকাল থেকেই
শুরু করা উচিত ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংকার ও বড় ঋণগ্রহীতার—এই চক্রে
হাত দিতে হবে। বিপদগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে শর্তহীন পুনঃ অর্থায়ন করা হচ্ছে।
মালিকদের পর্ষদে ছয় বছরের পরিবর্তে নয় বছর থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এতে আমানতকারীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি ইঙ্গিত করে জাহিদ হোসেন আরও
বলেন, সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রকদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, এটি ভবিষ্যতে আরও
বাড়বে। আমরা এখন ভুল পথে আছি। যাঁরা ব্যাংক খাতকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, তাঁদের
স্বাধীনতা না দিলে কিংবা তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা না হলে, বইপত্রে এত
কিছু লিখেও কোনো লাভ হবে না। সর্বোপরি, ব্যাংক খাত ঠিক করতে রাজনৈতিক
সদিচ্ছার প্রয়োজন হবে।

ব্যাংক লুট করা একশ্রেণির ব্যবসায়ীদের ব্যবসা হয়ে গেছে—এই মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ।

ফারমার্স ব্যাংকে ছিলেন ক্ষমতাশালী ব্যক্তি
ফারমার্স
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এহসান খসরু সংলাপে বলেন, ‘ফারমার্স
ব্যাংক পুনর্গঠন করা না হলে দেড় লাখ আমানতকারীর মধ্যে বিপর্যয় নেমে আসত।
এতে নতুন আটটি ব্যাংকেও বিপর্যয় ঘটত। ব্যাংকের পচন শুরু হয় পর্ষদ থেকে।
ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। সামাজিকভাবে ছোট
করার আশঙ্কা, চাকরি চলে যাওয়ার ভয়—এসব কারণে আমরা তাদের (পরিচালনা পর্ষদ)
সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য হই।’

ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিলম্বিত
ভূমিকা প্রসঙ্গে এহসান খসরু বলেন, ফারমার্স ব্যাংকে তো বাংলাদেশ ব্যাংকের
চেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি বসে ছিলেন। তিনি আবার সরকারের আর্থিক হিসাব
কমিটিতেও ছিলেন। প্রসঙ্গত, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি
মহীউদ্দীন খান আলমগীর ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ইস্টার্ণ ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখারের সুপারিশ হলো,
স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠনের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন স্বাধীনভাবে কাজ
করা। ব্যাংক খাতের কিছু জায়গায় ব্যর্থতা আছে, তবে সাফল্যের সংখ্যাই বেশি।

 ‘কিছু হলে ব্যাংকারদের দোষ হয়। ব্যাংকারদের এখন কেউ ভালো
চোখে দেখে না। প্রশ্নের মধ্যে পড়তে হয়। অথচ ঋণখেলাপি হলে নেপালে পাসপোর্ট
জব্দ করা হয়। বাংলাদেশের আর্থিক খাতে কে কী নিয়ন্ত্রণ করছে—সব তালগোল
পাকিয়ে গেছে। এটাই বড় সংকট’—এভাবেই ব্যাংকিং খাতের কথা বলেছেন এনসিসি ও
মেঘনা ব্যাংকের সাবেক এমডি নুরুল আমিন।

তবে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী
বলেন, ‘জাতি হিসেবে আমরা শুধু সমালোচনা করি। গত ১০ বছরে রাষ্ট্রীয়
পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো অর্থ পাচার হয়নি। ব্যাংক খাত এগিয়ে চলছে।

নিজেদের মালিক মনে করেন পরিচালকেরা
জাতীয়
রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ মনে করেন,
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা সঠিক থাকলে ব্যাংক খাতে এত কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটত
না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের পরিচালক শাহ
মো. আহসান হাবিব বলেন, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ যে হারে বাড়ছে, তা উদ্বেগের
বিষয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে তো সরকারি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের পুরো ক্ষমতা
নেই।

সাবেক অর্থসচিব সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় করা যাবে কি না, এ সিদ্ধান্ত সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে আসতে হবে।

এমসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, নিজেদের
মালিক মনে করেন ব্যাংকের পরিচালকেরা। তাঁদের বিশ্বাস করে মানুষ ব্যাংকে
টাকা জমা রাখে, এটা তাঁরা মনেই করেন না।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও তরুণ ব্যবসায়ী তাবিথ
আউয়াল বলেন, সামনে নির্বাচন, ঋণখেলাপিদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে
বিশেষ ঘোষণা থাকতে হবে। ব্যাংকঋণ নিয়ে শোধ করছেন না, এমন কারও মনোনয়ন দেওয়া
উচিত হবে না। বিএনপি এমন কাউকে মনোনয়ন দিলে সুশীল সমাজ তা তুলে ধরতে
পারে।

নাগরিক কমিশন গঠনের সুপারিশ
সিপিডির
বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া না হলেও
আগামী নির্বাচনের পর ব্যাংক খাত নিয়ে একটি নাগরিক কমিশন করবে সিপিডি। ওই
কমিশন ব্যাংক খাতের একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরবে। কেন ব্যাংক খাতের এই
অবস্থা, সেই কারণগুলো উদ্ধার করবে। পরে সমাধানের পথ খোঁজা হবে। ব্যাংক খাত
হলো অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এই হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখতে হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে
ইশতেহারে বলতে হবে, ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না। এ জন্য
প্রয়োজনীয় আইন, বিধিবিধান করা হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে ব্যাংক খাতকে
নিষ্কৃতি দিতে হবে।

© প্রথম আলো

১৫০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থীর তালিকা

১৫০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থীর তালিকা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তাদের আজ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হতে পারে। ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির আসন বণ্টন চূড়ান্ত হওয়ার পর বাকিদের চিঠি দেয়া হবে।

৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন হওয়ায় ৮ তারিখের মধ্যেই বিএনপিকে ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে। ৮ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক চিঠি দেবে বিএনপি।

রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত হওয়া ১৫০ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের চিঠি দেয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অন্তত ১৫০ আসনে একক প্রার্থীর তালিকা করা হয়েছে। ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকরা যেসব আসন চেয়েছে, এ তালিকায় সেসব আসন নেই।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে একক প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে অধিকাংশ আসনেই একাধিক মনোনয়নপত্র দেয় বিএনপি। কোনো কোনো আসনে ৩-৪ জনও রয়েছেন। সর্বোচ্চ ৯ জনকেও একটি আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

‘কৌশলগত কারণে’ প্রায় প্রতিটি আসনে বিকল্প প্রার্থী দেয় বিএনপি।

মামলা, ঋণখেলাপি ও তথ্যগত জটিলতার কারণে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর এখনও বিএনপির ৫৫৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। রয়েছেন ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীও।

এমতাবস্থায় বিএনপির নীতিনির্ধারকরা প্রার্থী যাচাই-বাছাই করে অন্তত ১৫০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। লন্ডনে চিকিৎসাধীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই এগুলো চূড়ান্ত করা হয়। এদিকে মনোনয়ন বাতিল হওয়া নেতারা প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইতিমধ্যে ইসিতে আপিলও করেছেন।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে উত্তীর্ণ হওয়ার পর জনপ্রিয় ও যোগ্যতা বিবেচনায় বাকি ১৫০ আসনে ৮ ডিসেম্বর একক প্রার্থীকে চিঠি দেবে বিএনপি। এ ছাড়া ২০-দলীয় জোটের শরিকদের আসন বণ্টন মোটামুটি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে আরেক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি।

তবে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই দল, জোট ও ফ্রন্টের ধানের শীষের একক প্রার্থী তালিকার চিঠি দেয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর। বিধি অনুযায়ী বিএনপি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়ে যাকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার কথা বলবে, সেই হবে বিএনপি বা জোটের প্রার্থী। বাকিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নির্বাচন করা থেকে বাদ পড়বেন। ১০ ডিসেম্বর সারা দেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, দলের একক প্রার্থী ঘোষণা করতে গত দুদিন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে কোন কোন আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করা যায়, তার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। আজ থেকে চূড়ান্ত হওয়া একক প্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিক চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

যেসব আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কিছু কিছু আসনে বিএনপি একক প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিয়েছে। যেসব আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রয়েছেন, সেগুলোর বেশিরভাগেই একক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ওই সব আসন প্রার্থী চূড়ান্ত।

এ ছাড়া দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা রয়েছেন, যারা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে হাইকমান্ড আশাবাদী তাদেরও চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। কোনো কোনো আসনে বিএনপির প্রার্থী টানা কয়েকবার জয়ী হয়েছেন। এখনও প্রার্থী ইমেজ অক্ষুণ্ন রেখেছেন, তাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, একক প্রার্থী চূড়ান্তের তালিকায় থাকছেন-

ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

কুমিল্লা-২ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

নরসিংদী-২ ড. আবদুল মঈন খান

ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস

চট্টগ্রাম-১১ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১০ আবদুল্লাহ আল নোমান

সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু/রুমানা মাহমুদ

ভোলা-৩ মেজর (অব.) এম হাফিজউদ্দিন আহমেদ

ঢাকা-২ ইরফান আমান

নোয়াখালী-৩ বরকতউল্লাহ বুলু

নোয়াখালী-৪ মো. শাহজাহান,

লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী

কক্সবাজার-১ হাসিনা আহমেদ

মুন্সীগঞ্জ-১ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন

মুন্সীগঞ্জ-২ মিজানুর রহমান সিনহা

নরসিংদী-১ খায়রুল কবির খোকন

বরিশাল-৫ মজিবর রহমান সরোয়ার প্রমুখ।

একক প্রার্থী হিসেবে আরও যারা থাকছেন-নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন

নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদীন ফারুক

নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম

লক্ষ্মীপুর-২ আবুল খায়ের ভূঁইয়া

চট্টগ্রাম-৯ ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম-১৬ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী

মৌলভীবাজার-৩ নাসের রহমান

সিলেট-২ তাহমিনা রুশদীর লুনা

পঞ্চগড়-১ ব্যারিস্টার নওশাদ জমির

লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু

রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু

নাটোর-২ সাবিনা ইয়াসমিন ছবি

ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর

ময়মনসিংহ-১ এমরান সালেহ প্রিন্স

মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুণ

চুয়াডাঙ্গা-১ শামসুজ্জামান দুদু

যশোর-৩ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

মাগুরা-২ নিতাই রায় চৌধুরী

কিশোরগঞ্জ-৬ শরীফুল আলম

খুলনা-২ নজরুল ইসলাম মঞ্জু

খুলনা-৪ আজিজুল বারী হেলাল

পটুয়াখালী-১ আলতাফ হোসেন চৌধুরী

পটুয়াখালী-৪ এবিএম মোশাররফ হোসেন

গাজীপুর-৫ ফজলুল হক মিলন

গাজীপুর-১ চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী

ফরিদপুর-২ শ্যামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-৩ চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ প্রমুখ।

অপমানিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মানহানি মামলা করতে পারে না

অপমানিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মানহানি মামলা করতে পারে না

অপমানিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মানহানি মামলা করতে পারে না বলে মত দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মামলার শুনানিতে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মতামত দেন

শুনানি শেষে রংপুর ও জামালপুরে দায়ের করা মানহানির দুই মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। একই সঙ্গে মামলা দুটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলার নথি হাইকোর্টে তলব করা হয়।

বুধবার আদালতে মইনুল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট এম মাসুদ রানা।

গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির এক প্রশ্নে রেগে যান ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন, তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’

মইনুলের এ মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আদালতে মানহানি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মাসুদা ভাট্টিসহ নারী সাংবাদিকরা মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

রফিকুল ইসলাম মিয়ার ছয় মাসের জামিন , অর্থদণ্ড স্থগিত

রফিকুল ইসলাম মিয়ার ছয় মাসের জামিন

সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে নিম্ন আদালতের দেয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় খালাস চেয়ে তার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

আজ সোমবার বিচারপতি মো: শওকত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, সাথে ছিলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী।

দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী জানান, আপিল অ্যাডমিশন (আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ) হয়েছে। একইসাথে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত, স্থগিত করা হয়েছে অর্থদণ্ডও।

গত ২০ নভেম্বর ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. শেখ গোলাম মাহবুব রফিকুল ইসলাম মিয়াকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া রফিকুল ইসলাম মিয়া আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করার আদেশ দেয়া হয়। তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ কিংবা গ্রেফতারের তারিখ থেকে কারাদণ্ডের মেয়াদ কার্যকর শুরু হবে। রায় ঘোষণার দিন সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন।

২০০১ সালের ৭ এপ্রিল তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নামে এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করতে নোটিশ জারি করে। ওই বছরের ১০ জুনের মধ্যে বিবরণী দাখিল করতে বলা হলেও তিনি তা করেননি। পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সালে তৎকালীন দুর্নীতি ব্যুরোর দুর্নীতি দমন অফিসার (টা:ফো:-৪) সৈয়দ লিয়াকত হোসেন উত্তরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ওই বছরের ৩০ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে গোলাম মাওলা রনি !

ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে গোলাম মাওলা রনি

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালি-৩ আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন এই আসনের সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম মাওলা রনি। সোমবার দুপুরে তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সাবেক এই এমপি তার ফেসবুকে লিখেন, ‘পুরুষের কান্নায় গলাচিপা দশমিনার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছে। অনেকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। উপরোক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের মাঠে নামবো। দেখা হবে সবার সঙ্গে- এবং দেখা হবে বিজয়ে’।

এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার ভাগিনা এসএম শাহজাদা সাজু। সাজু আওয়ামীলীগ বা অঙ্গসংঠনের প্রাথমিক সদস্যও নন।

গোলাম মাওলা রনি কোন দলের হয়ে নির্বাচন করবেন তা উল্লেখ করেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের হয়ে পটুয়াখালি-৩ আসনে লড়াই করবেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যবসায়ি গোলাম মাওলা রনি। তিনি শেখ রেহেনার কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। দলের বিরুদ্ধে সমলোচনামূলক বক্তব্যের কারণে ২০১৪ সালে মনোনয়ন বঞ্চিত হন।

এ ব্যাপারে গোলাম মওলা রনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি নির্বাচন করবো। বিএনপি একটি বড় দল যদি তারা মনোনয়ন দেই, তাহলে বিএনপি থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অংশ নিবো’।

সর্বশেষ সংবাদ