26 C
Dhaka, BD
সোম মে ২১, ২০১৮, ৩:৩৩ অপরাহ্ন.

দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে শুটিংয়ে ফিরছেন অপু বিশ্বাস

দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে শুটিংয়ে ফিরছেন অপু বিশ্বাস
অপু বিশ্বাস

সংসার জীবনের বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে শুটিংয়ে ফিরছেন ঢাকাই চলচিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ-২’ সিনেমার শুটিং করবেন অপু। আগামী ২২ মে থেকে এফডিসি ও এর আশপাশে টানা তিন দিন শুটিং করবেন অপু।

ছবির নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, প্রায় দুই বছর পরে নতুন কোনো সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন এই নায়িকা। মাতৃত্বজনিত কারণে অনেক ওজন বেড়েছিল অপুর। ওজন কমিয়ে নিজেকে বদলে এরপর ক্যামেরার সামনে আসছেন তিনি।

অপু বিশ্বাস বলেন, ‘অনেক দিন পরে নতুন সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে যাচ্ছি। এর মধ্যে নিজেকে প্রস্তুত করেছি অভিনয়ের জন্য। এই লটে আমি চার দিনের শুটিং করব। ঈদের পর সিনেমাটির বাকি অংশের শুটিং করব। এরই মধ্যে আমি আমার শারীরিক ফিটনেস ৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছি।

তিনি বলেন, এক মাসের মধ্যে বাকি ২০ ভাগ কভার করতে পারব। ঈদের পর আরো নতুন দুটি সিনেমার কাজ শুরু করব। এখন থেকে নিয়মিত সিনেমায় কাজ করতে চাই। তবে খুব বেশি সিনেমায় কাজ করব না, বেছে বেছে ভালো সিনেমায় কাজ করব।’

২০১৬ সালের ৩ মার্চ সর্বশেষ ‘পাঙ্কু জামাই’ সিনেমায় অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস। এর পর হঠাৎ করেই আড়ালে চলে যান অপু। মিডিয়ার সামনে ছেলে জয়কে নিয়ে ফিরেন ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল। মাঝে ‘পাঙ্কু জামাই’ সিনেমার দুদিন প্যাচওয়ার্ক করেছিলেন।

এরই মধ্য শাকিব খানের সঙ্গে তার ডিভোর্সও হয়ে গেছে। এই দুই বছরে অপুর জীবনে ঘটে গেছে অনেকগুলো ঘটনা। নিজেকে সামলে নিয়ে সিনেমার জন্য প্রস্তুত করে আবারও ফিরছেন সিনেমায়।

উল্লেখ্য, বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড প্রযোজিত ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২’ সিনেমায় অপু বিশ্বাসের বিপরীতে অভিনয় করছেন চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরী।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ সিনেমার সিক্যুয়েল নির্মাণ করছেন। ২০০১ সালে রিয়াজ-শাবনূর জুটি অভিনীত ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ সিনেমাটি মুক্তি পায়।

পবিত্র মাহে রমজানে সুস্থ থাকতে চাই স্বাস্থ্যস্মমত ইফতার ও সেহরি

পবিত্র মাহে রমজানে সুস্থ থাকতে চাই স্বাস্থ্যস্মমত ইফতার ও সেহরি

বছর ঘুরে আবারো আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। এ মাস রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাত আর অসংখ্য ফজিলতের মহান বার্তা নিয়েই এভাবে প্রতি বছর ফিরে আসে। তাই এই মাসে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাত ফজিলত অর্জন করার সচেতন প্রয়াস চালানো।

রমজান মাসে আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে যায়|খাবারের, ঘুমের ও ব্যায়ামের সময় অনেক পরিবর্তিত হয়|এবারের রোজা শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকাল থেকেই। রোজায় একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ্য মানুষের স্বাস্থ্য ঠিক রেখে সারা মাস কিভাবে রোজা রাখা যায় সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেয়া উচিত| রমজানে স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার ও সেহরি নিয়ে লিখেছেন মোঃ নাহিদ নেওয়াজ জোয়ার্দার। চলুন জেনে নেই এই বিষয়ে:

ইফতার

আমাদের ইফতার হওয়া উচিৎ সুষম,হালকা ও পুষ্টি সমৃদ্ধ। আপনি ইফতার শুরু করতে পারেন কিছু খেজুর ও এক গ্লাস ফলের রস বা এক গ্লাস দুধ দিয়ে, এতে করে আপনার সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। ইফতারিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন, কম করে হলেও ৩৫০ মিলি লিটার পানি পান করুন। পারলে ডাবের পানি পান করুন, এটি দারুন হাইড্রেটিং।

বেশী করে রসালো ফল যেমন তরমুজ,বাঙ্গি,আম,লিচু,জাম্বুরা, ডালিম,জাম, কামরাঙা, কমলালেবু, আঙ্গুর ইত্যাদি খান। এগুলো শরীরের পানি ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্য প্রয়জনিয় ভিটামিন ও মিনারেলের যোগান দেয়। ইফতারিতে অবশ্যই রঙ্গিন ফল ও সব্জির সালাদ খান। টক দই, কলা ও চিড়া খেতে পারেন।

অনেকে মনে করেন ইফতারে ভাজা পোড়া না থাকলে ইফতারই হবে না| ইফতারিতে অনেকেরই কমন আইটেম হল; সিঙ্গারা, চপ, পিয়াজু, সমচা, বেগুনি, জিলাপি, বুন্দিয়া ইত্যাদি সহ হরেক রকমের ভাজা পোড়া। এগুলো অধিক তেলযুক্ত হওয়ায় খেতে দারুন মজা লাগে সাময়িক ভাবে খেতে ভাল লাগে। কিন্তু সারাদিন রোজা রাখার ফলে পাকস্থলীর ভিতরের মিউকাস আবরনি সংকুচিত অবস্থায় থাকে, ফলে যদি কোনো ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত, গুরুপাক খাবার হঠাত করে পেটে পড়ে, তবে পেটে জ্বালা পোড়া করতে পারে এবং হজমে গণ্ডগোল হয়।

ফলে পরেরদিন রোজা রাখতে বেশ বেগ পেতে হয়। আমারা অনেকেই ইফতারি কিনতে রাস্তার পাশের দোকান বা বাইরের রেস্তরাঁতে ভিড় জামায়। এসব জায়গায় ভাজা-পোড়া(সিঙ্গারা,চপ,পিয়াজু,সমচা,বেগুনি, জিলাপি বুন্দিয়া ইত্যাদি) ভাজতে ব্যাবহার করা হয় আংশিক হাইড্রজিনেটেট তেল। কারণ এই তেল দামে সস্তা ও এদের বিটা-প্রাইম ফর্মুলার জন্য যা  ভাজা-পোড়াকে অধিক মচমচে ও কুড়মুড়ে করে তুলে। আংশিক হাইড্রজিনেটেট  তেল ট্রান্সফ্যাট  তৈরি করে।তাছাড়া সিঙ্গারা,চপ,পিয়াজু,সমচা,বেগুনি,জিলাপি বুন্দিয়া  ইত্যাদি ভাজা হয় অনেক ক্ষণ ধরে এবং অধিক তাপে, ফলে এই তেলে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয়।

কথায় আছে “হোটেলের তেল ফুরায় না” অর্থাৎ একই তেল বারবার ব্যাবহার করা হয় এইসব ভাজতে। আগের দিনে বাবহৃত  ট্রান্সফ্যাটওয়ালা তেলের সাথে নতুন কিছু তেল মিশিয়ে আবারও সিঙ্গারা,চপ,পিয়াজু,সমচা,বেগুনি ইত্যাদি ভাজা হয়। আবার আগের দিনে বিক্রি না হওয়া সিঙ্গারা,চপ,পিয়াজু,সমচা,বেগুনি ইত্যাদি পরের দিন পুনরায় ভেজে বিক্রি করা হয়। এই ট্রান্সফ্যাট রক্ত নালিতে জমা হয়ে সাভাবিক রক্ত প্রবাহে বাঁধা দেয়।

এছাড়া এটি শরীরের জন্য উপকারি HDL এর পরিমাণ রক্তে কমিয়ে দেয় এবং আমাদের জন্য ক্ষতিকর LDL এর পরিমাণ রক্তে বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে কোলেস্টেরল এর পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, মুটিয়ে যাওয়া ও টাইপ-২ ডায়বেটিকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাছাড়া এই ট্রান্সফ্যাট কে ক্যানসারোতপাদক (carcinogenic) হিসেবেও ধরা হয়।

তাছাড়া এটি পেটে আসিডিটি ও বদ হজমেরও সৃষ্টি করে এবং মুখে ব্রন ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যার জন্যও এগুলো দায়ী। তাছাড়া অনেক ব্যবসাহীরা রঙিন ও আকর্ষণীয় ইফতারি তৈরিতে নিম্ন মানের ক্যামিকাল রং ব্যাবহার করে থাকেন যা টেক্সটাইল শিল্পে ব্যাবহার করা হয়। যা কিডনি ও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

সেহরি

সেহরিতে উদর পূর্তি করে খাবেন না। সেহরিতে অধিক চর্বি ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অধিক চর্বিযুক্ত গরু, খাসির মাংস, পরোটা, হরেক রকমের ভাজি খাবেন না। চামড়া ছাড়া মুরগীর মাংস, বড় মাছ, সালাদ ও সবজি খান। তরকারিতে বেশী লবণ ব্যাবহার করবেন না এবং ভাতের সাথে লবণ খাবেন না।

ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা

ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা

আসন্ন রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড। কোচ গ্যারেথ সাউথগেট কর্তৃক ঘোষিত ২৩ সদস্যের চুড়ান্ত দলে নেই তারকা খেলোয়াড় জ্যাক উইলশায়ার, জো হার্ট এবং রায়ান বারট্রান্ড। চলতি মৌসুমে ওয়েস্টহ্যামের হয়ে দুর্বল পারফরমেন্স করায় দল থেকে বাদ পড়েছেন এক সময়ের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হার্ট। তার জায়গায় দলে সুযোগ পেয়েছেন বার্নলির নিক পোপ। দল থেকে বাদ পড়েছেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার উইলশায়ারও।

দলের রক্ষণভাগ থেকে বিস্ময়করভাবে বাদ পড়েছেন সাউদাম্পটন লেফট ব্যাক বারট্রান্ড। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ছেন লিভারপুলে খেলা তরুণ টেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ড। দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এ তারকা খেলোয়াড়।

রক্ষণাত্মক বিকল্প থেকে জন স্টোন, কাইল ওয়াকার, গ্যারি চাহিল, হ্যারি মাগুইরে, ড্যানি রোজ, ফিল জোন্স এবং অ্যাশলে ইয়াংকেও দলে রাখেননি সাউথগেট। ঘরোয়া মৌসুমে দারুণ পারফরর্ম করা সত্ত্বেও দলে জায়গা হয়নি শিরোপা জয়ী ফুলহামের রায়ান সেসেগনন। জর্ডান হেন্ডারসনের নেতৃত্বাধীন দলে মিডফিল্ডার হিসেবে আছেন ডেলে আলী, এরিক ডায়ার, রাহিম স্টার্লিং। ফরোয়ার্ড হিসেবে দলে আছেন হ্যারি কেন, জ্যামি ভার্ডি, ড্যানি ওয়েলব্যাক এবং মার্কাস রাশফোর্ড।

‘ই’ গ্রুপে ১৮ জুন তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইংল্যান্ড। গ্রুপের অপর দুই দল পানামা ও বেলজিয়াম।

ইংল্যান্ডের ২৩ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড

গোলরক্ষক : জর্ডান পিকফোর্ড, নিক পোপ, জ্যাক বাটল্যান্ড।

ডিফেন্ডার: কাইল ওয়াকার, কিয়েরান ট্রিপায়ার, ট্রেন্ট অ্যালেক্সজান্দার-আর্নল্ড, গ্যারি চাহিল, ড্যানি রোজ, জন স্টোনস, হ্যারি মাগুইরে, ফিল জোন্স, অ্যাশলে ইয়াং।

মিডফিল্ডার: এরিক ডায়ার, ফ্যাবিয়ান ডেলফ, জর্ডান হেন্ডারসন, ডেলে আলি, রুবেন লোফটাস-চিক, রাহিম স্টারলিং, জেসে লিংগার্ড।

ফরোয়ার্ড: হ্যারি কেন, জেমি ভার্ডি, মার্কাস রাসফোর্ড, ড্যানি ওয়েলব্যাক।

ছাত্রলীগের ৩২৩ শীর্ষ পদ প্রত্যাশীর রাজনৈতিক মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতার পরীক্ষা নিবেন শেখ হাসিনা

ছাত্রলীগের ৩২৩ শীর্ষ পদ প্রত্যাশীর রাজনৈতিক মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতার পরীক্ষা নিবেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ প্রত্যাশীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামীর নেতৃত্ব হাতে তুলে দেওয়ার আগে তাঁদের রাজনৈতিক মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতার পরীক্ষা নিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন শেখ হাসিনা। বুধবার রাতে গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতা হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা ৩২৩ প্রার্থীকে সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাতের জন্য ডাকবেন প্রধানমন্ত্রী । আগামী রোববার ও সোমবার ডাকা হতে পারে এসব পদ প্রত্যাশীদের।

ছাত্রলীগের নেতা হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও আবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে ১১১ ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যে ২১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। চলতি মাসের ১১ও ১২ তারিখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নতুন নেতা নির্বাচন করা ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন।

শিশুকে কফ সিরাপ, প্যারাসিটামল খাওয়াচ্ছেন? সাবধান!

শিশুকে কফ সিরাপ, প্যারাসিটামল খাওয়াচ্ছেন? সাবধান!

আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে। এই সময়ই ‘দাঁত-নোখ’ বের করে ভাইরাসরা। একটু অসচেতন হলেই ব্যাস! জ্বর নিয়ে বিছানায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই সময়টা তো আরো চিন্তার। শিশু বয়সে এমনিতেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়। আর ‘সিজন চেঞ্জ’-এর সময় একটু এদিক ওদিক হলেই, জ্বর, সর্দি, মাথা যন্ত্রণা।

শিশু জ্বর বা সর্দি, কাশিতে কষ্ট পেলে, ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্যও অনেক সময় তরসয় না মা-বাবাদের। নিজেরাই কোনো ট্যাবলেট বা সিরাপ খাইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাটা সেরে ফেলেন। অনেকে ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই মা-বাবারা হাতের কাছে থাকা এমন কিছু ওষুধ খাওয়াচ্ছেন, যা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি। যেমন ধরুন, কফ সিরাপ বা প্যারাসেটামল। এই ধরনের অভ্যাস যদি আপনার থাকে, তবে অবিলম্বে তা বন্ধ করুন। কারণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ওই ওষুধ বাচ্চাটির পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একটি অর্ধেক প্যারাসেটামল ট্যাবলেটও কোনো শিশুকে খাওয়ালে, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হয়। বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ তনু সিঙ্ঘলের কথায়, ‘প্রাপ্তবয়স্কদের ওষুধ শিশুদের উপর প্রয়োগ করতে আমরা সবসময় নিষেধ করি। কারণ প্রাপ্তবয়সকদের জন্য তৈরি ওষুধের রাসায়নিক ফর্মুলা বাচ্চাদের রোগপ্রতিরোধ সিস্টেমের সঙ্গে খাপ খায় না। এর জেরে নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয় শিশুরা।’

এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের ওষুধ অর্ধেক ডোজ-ও শিশুদের খাওয়াতে নিষেধ করছেন চিকিৎসকরা। বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ পিসি অ্যালেকজান্ডারের পরামর্শ, শিশুদের কখনোই পূর্ণবয়স্কের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। সুতরাং নির্দিষ্ট ধারণা না থাকলে, যেকোনো পূর্ণবয়স্কদের ওষুধ খাইয়ে দেয়া ঠিক নয়। এতে সাময়িকভাবে বাচ্চাটি যদি সুস্থ হয়েও যায়, ভবিষ্যতে বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এমএইচপি /এন

জননেত্রী শেখ হাসিনা কি শুধুই কোটা বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী?

জননেত্রী শেখ হাসিনা কি শুধুই কোটা বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী
নুরুল আজিম রনি

কোটা সংস্কার আন্দোলনের হুজুগে শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ছাত্রদের একহাত নিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুুরুল আজিম রনি। কোটা বিরোধীরা আন্দোলনটিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে তিনি শুরু থেকেই কোটা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

গতরাতে রনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উ্দ্দেশ্য করে একটি আবেদন করে বলেন-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আপনার সিদ্ধান্ত পূর্নবিবেচনা করুন। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ইতিহাসের সাহসী সন্তানদের হেয় প্রতিপন্ন করেছে তারা ছাড়াও এই রাষ্ট্রে বিশাল একটি প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে। দেশের আইন শৃঙ্কলা ও শান্তির স্বার্থে প্রজন্মটি রাজপথে নামেনি এখনো। নয়তো সামান্য চাকুরির লোভে যারা স্বার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে পারে তাদের দমানো খুব বেশী কঠিন কাজ হতো না।

দলীয় সমর্থক ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অনুভূতিশীল সর্বস্তরের জনগণ সেই পোষ্টে নুরুল আজিম রনির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। সেখানে তিনি মন্তব্যের ঘরে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তিনি কোটা প্রথার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রনি লিখেছেন-

আমি কোটার পক্ষে। পাহাড়ের পাদদেশে যে ছেলেটি পড়াশুনা করে তার সাথে রাজউক মডেল কলেজের ছেলের সুযোগ সুবিধা এক করা যাবে না সুতরাং জেলা কোটা লাগবে।

দেশের অর্ধেক নারী প্রজন্ম যেখানে রাস্তায় বের হলে কথিত ধর্মবেপারীরা আপত্তি করে সেখানে তাদের সাথে পুরুষের সুযোগ সুবিধা এক করা যাবেনা।সুতরাং নারী কোটা লাগবে।

যেখানে এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের সাথে সুসম্পর্ক রাখাকে এদেশে অন্যায় ঘোষনা করে ফতোয়াবাজরা সেখানে আদিবাসী একজন যুবক আমার মতো সবার কাছে থেকে সহযোগিতা পাইনা। সুতরাং তার জন্য কোটা প্রয়োজন।

প্রতিবন্ধীদের ভবিষ্যত যখন অনিশ্চিত তখন তার জন্য কোটা দরকার।

আর স্বাধীনতা পাওয়ার ৪৭ বছর পরেও যে দেশে স্বাধীনতা মানিনা বা নিজেদের স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি হিসাবে দম্ভ করে কথা বলা হয় তখন আমার কাছে দেশের স্বার্বভোমত্ব হুমকি মনে হয়। স্বাধীন রাষ্ট্রে কখনো স্বাধীনতার বিপক্ষে শক্তি বলে কিছু থাকতে পারেনা, রাজনীতি সমাজনীতি সবকিছু পরিচালিত হবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের অনেকগুলো রাজনৈতিক দলের প্রতিযোগিতার আদলে। নয়তো প্রশাসনের ভেতরে বারবার স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবে। দেশ হুমকির মুখে পড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি।

যতক্ষন পর্যন্ত এ বিষয়টা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে না ততক্ষন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা বলবৎ থাকতে হবে। যদি বাতিল হয় তবে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার উপর বিশ্বাস রাখি বলেই আমার মতো অনেকের একসাথেই রাজপথে নামা উচিত বলে মনে করি। দেশপ্রেম বুকে রাখি বলেই ছাত্রলীগ করতে এসেছিলাম। যদি না রাখতাম তবে এই দলে রাজনীতি করতে আসতাম না। তাই দেশপ্রেম আমার কাছে মূখ্য।

গরমে হঠাৎ বৃষ্টিতে সুস্থ্য থাকতে কিছু সচেতনতা অবলম্বন করা দারকার

গরমে হঠাৎ বৃষ্টিতে সুস্থ্য থাকতে কিছু সচেতনতা অবলম্বন করা দারকার

গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি। গরমে আমাদের জীবনে প্রশান্তির বারতা নিয়ে এলে এর সঙ্গে থাকে নানা রোগবালাই। ছোট-বড় প্রায় সবাই এমন বৃষ্টিতে নানা অসুখে আক্রান্ত হয়। গরমে হঠাৎ বৃষ্টিতে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা থাকে বেশি। যে কারণে সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস খুব সহজেই রোগ ছড়াতে পারে।

তাই এমন সময়ে সুস্থ্য থাকতে হলে আমাদের বাড়তি কিছু সচেতনতা অবলম্বন করা দারকার।

জ্বর, সর্দি, কাশিঃ জ্বর, সর্দি, কাশি সাধারণত বৃষ্টির পানি এবং চারিদিকে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে বেশি হয়। শিশু এবং বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হয়। ভাইরাস জনিত হবার কারনে পরিবারের একজনের এই রোগ হলে, অন্যরাও ধীরে ধীরে আক্রান্ত হয়। জ্বর ৩-৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। জ্বরের মাত্রা খুব বেশি হলে এবং ৫-৬ দিনের অধিক স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ত্বকের নানা রোগঃ স্যাঁতসেঁতে ও ভেজা আবহাওয়ার কারণে ত্বকের খোসপাঁচড়া, ফাঙ্গাস ইনফেকশন, স্ক্যাবিজ জাতীয় ছত্রাক অসুখ হয়ে থাকে। ভেজা শরীরে অনেক্ষন থাকলে, বৃষ্টিভেজা শরীর ভাল ভাবে না মুছলে, ভেজা কাপড় ভালোভাবে না শুকিয়ে গায়ে দিলে এবং স্যাঁতসেঁতে ঘরের কারণে কারণে ত্বকের অসুখ বিসুখ বেশি হয়।

ত্বকের নানা অসুখ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হলে সব সময় সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শুকনো রাখতে হবে ৷ বৃষ্টির পানি শরীর এবং মাথা থেকে ভাল ভাবে মুছে ফেলতে হবে। প্রতিদিন অন্তত দুবার জীবাণুনাশক সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করতে হবে। রাস্তার নোংরা ও বন্যার পানি এড়িয়ে চলাচল করতে হবে। খুব প্রয়োজনে যদি চলাচল করতেই হয়, তবে বাড়িতে ফিরে অবশ্যই ডেটল বা স্যাভলন মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। জুতা বা স্যান্ডেল ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে তারপর পরতে হবে।

ডায়রিয়া ও আমাশয়ঃ অন্যান্য অসুখের মতো নানা ধরনের পেটের অসুখও বেশি হয় হঠাৎ বৃষ্টিতে, যেমন ডায়রিয়া ও আমাশয়।  এগুলো পানিবাহিত রোগ। শিশু ও বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষের এই রোগ হতে পারে।

ডায়রিয়া ও আমাশয় থেকে রেহাই পেতে হলে, বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, বাসনপত্র, কাপড় চোপড় পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে, রাস্তার খোলা খাবার অবশ্যই পরিহার করতে হবে। ডায়রিয়ার আক্রান্ত হলে স্যালাইন এবং স্বাভাবিক বা তরল খাবার খেতে হবে। মূলত শিশুরাই এই রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে সাবান বা জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধোঁয়া ও ফোটানো পানি পান নিশ্চিত করলে ডায়রিয়া থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

কলেরাঃ ভয়ানক এই পানিবাহিত রোগটি হবার অন্যতম কারণ দূষিত পানি পান করা এবং অস্বাস্থ্যকর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে জীবনযাপন করা। কলেরা রোগটি হয় রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে। ওষুধ আবিষ্কার হবার আগে এই রোগে যে গ্রাম বা এলাকার মানুষ আক্রান্ত হত সেখানকার প্রায় সবাই মারা যেত। কলেরার লক্ষণ হচ্ছে তীব্র ডায়রিয়া, বমি এবং অনেক বেশি দুর্বলতা অনুভব করা। কলেরায় রোগীর দেহে লবণ ও পানির ঘাটতি দেখা দেয় ফলশ্রুতিতে রোগী অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকাংশে দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে রোগীর জীবনহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই কলেরা থেকে দূরে থাকতে হলে বিশুদ্ধ ফোটানো পানি পান করতে হবে।

ম্যালেরিয়াঃ এনোফিলিস জাতীয় স্ত্রী মশা দ্বারা এ রোগ ছড়ায়। সাধারনত পাহাড়ী অঞ্চলে ম্যালেরিয়া রোগ বেশি দেখা দেয়।

স্ত্রী এনোফিলিস মশা জলাবদ্ধ জায়গায় বংশবিস্তার করে। সুতরাং বাড়ির আশেপাশের জলাধার, ফুলের টব, পানি জমার মত স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। জ্বর, মাংসপেশি ব্যথা, দুর্বলতা প্রভৃতি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং  চিকিৎসা ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায়।

ডেঙ্গুঃ এ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হয়। এডিস মশা এ রোগের বাহক। ডেঙ্গুর লক্ষণ হলো জ্বর, সারা শরীরে ও গিটে ব্যথা অনুভব করা, চামড়ায় র‌্যাশ বা ছোট লাল স্পট। মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির জলাবদ্ধ জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে বৃষ্টির পানি জমতে না পারে।

টাইফয়েডঃ টাইফয়েড জ্বরের প্রকোপও দেখা যায় হঠাৎ বৃষ্টিতে। সালমোনেলা টাইফি নামের এক ধরনের জীবাণু পানি ও খাবারকে দূষিত করে। এই দূষিত পানি ও খাবার খেলেই মানুষ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। টাইফয়েডের বাহক এবং আক্রান্ত রোগীর মলমূত্র এ রোগের প্রধান উৎস। সংক্রমিত খাদ্য,পানি ও মাছির মাধ্যমে টাইফয়েড রোগ ছড়ায়। এ রোগে জ্বর, কাশি, মাথা ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য,বমি, ডায়রিয়া, পেট ফুলে যাওয়া, প্লীহাস্ফীতিসহ নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। টাইফয়েড থেকে বাঁচতে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে খাবার গ্রহণ করতে হবে । এবং রাস্তার খাবার এড়িযে চলতে হবে।

ভাইরাস জ্বরঃ সারা বছর লেগে থাকলেও সময় ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়। সাধারণত ভাইরাস আক্রমণের দুই থেকে সাত দিন পর এই জ্বর হয়। বর্তমানে চিনকগুনিয়া নামক এক ধরনের ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এই জ্বর হলে শীত শীত ভাব, মাথা ব্যথা, শরীরে ও গিরায় ব্যথা, খাওয়ার অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, সারা শরীরে চুলকানি হয়।

ভাইরাস জ্বর সাধারণত তেমন কোনো ভয়াবহ রোগ নয়। তাই ভাইরাস জ্বর হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এ জ্বরের জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক জরুরি নয়। প্যারাসিটামল খেলেই হয়। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। ভাইরাস জ্বর ৩-৫ দিন পর্যন্ত থাকে। জ্বর যদি ৪-৫ দিনের বেশি হয় তাহলে অবশ্যই দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

কৃমি সংক্রমনঃ কৃমির প্রাদুর্ভাব হয় এমন সময়। এ সময় পানিতে, কাঁদামাটিতে মিশে থাকে এই পরজীবি কৃমির জীবাণু। তাই অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এই সময় খুব সহজেই কৃমির সংক্রমন ঘটে। তাই খালি পায়ে হাটা বন্ধ করতে হবে। সবারই কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত।

শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম। শিশু ও বয়স্করা কোনো অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হলে তাদের প্রয়োজন বাড়তি সেবা। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেকোনো অসুখে আক্রান্ত হবার পর তা যদি তাড়াতাড়ি ভাল না হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, এটা ছোট-বড়-বয়স্ক সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।

আয়ারল্যান্ডের অভিষেক টেস্টে জয় পাকিস্তানের

আয়ারল্যান্ডের অভিষেক টেস্টে জয় পাকিস্তানের

ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেদের অভিষেক টেস্টে কোন দলই প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেনি। ব্যতিক্রম শুধু অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া জিম্বাবুয়ে নিজেদের অভিষেক টেস্টে ভারতের সাথে ড্র করেছিল। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আয়ারল্যান্ডও নিজেদের অভিষেক টেস্টে পাকিস্তানের কাছে হেরেছে ৫ উইকেটে। মূলত চতুর্থ ইনিংসে ইমাম-উল-হক ও বাবর আজমের ১২৬ রানের জুটিতেই জয়ের ভিত্তি পেয়ে যায় সফরকারীরা। ইমাম ৭৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর বাবার করেছেন ৫৯ রান। ম্যাচসেরা হয়েছেন কেভিন ও’ব্রায়ান।

শুক্রবার ডাবলিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের একাদশ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আয়ারল্যান্ড। বৃষ্টির বাধায় প্রথম দিন মাঠে গড়াতে পারেনি খেলা। ফলে দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয় ঐতিহাসিক এই টেস্টটি। টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আইরিশরা। প্রথমে ব্যাট করে ৩১০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা। আসাদ সফিক ৬২, শাদাব খান ৫৫ ও ফাহিম আশরাফ ৮৩ রান করেন। আয়ারল্যান্ডের হয়ে ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন টিম মুরটাগ। এছাড়া স্টুয়ার্ট থম্পসন ৩টি ও বয়েড র‌্যানকিন ২টি উইকেট নিয়েছেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানে অল আউট হয়ে ফলো অনে পড়ে আয়ারল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেছিলেন কেভিন ও’ব্রায়ান। পাকিস্তানের হয়ে ৪৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। পাকিস্তান তাদের ফলো অনে পাঠালে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ভালোই লড়াই করে স্বাগতিকরা। অল আউট হওয়ার আগে ৩৩৯ রান করে তারা। এ ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেন কেভিন। ১১৮ রানের ইনিংসটির মধ্য দিয়ে ১০৫তম ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরি করেন তিনি। নিজ দেশের অভিষেক টেস্টে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করলেন কেভিন। যে তালিকায় বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল তৃতীয়। ২০০০ সালে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে ১৪৫ রান করেছিলেন বুলবুল।

চতুর্থ ইনিংসে ১৬০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৪ রানে ৩ উইকেট হারালেও ইমাম ও বাবরের ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।

হুইলচেয়ারে বসা বিক্ষোভকারিকেও গুলি করে হত্যা করল ইসরাইলি বাহিনী

হুইলচেয়ারে বসা বিক্ষোভকারিকেও গুলি করে হত্যা করল ইসরাইলি বাহিনী
শহীদ ফাদি আবু সালাহ

দখলদার ইসরাইলি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুই পা হারিয়েছিলেন ফিলিস্তিনি যুবক ফাদি আবু সালাহ। তবু থেমে যায়নি তার প্রতিবাদী চেতনা। হুইল চেয়ারে বসেই ইহুদি শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে শহীদ হয়ে গেলেন অকুতোভয় সালাহ। সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর নিহত ৫৮ জন শহীদ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তিনিও একজন।

রয়টার্স জানায়, দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের কাছেই আরাবাহ নামক গ্রামের বাসিন্দা হচ্ছেন আবু সালাহ।

অল্প বয়সেই বিয়ে করা এ তরুণ একটা সময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ছিলেন বেশ কয়েক বছর। পরবর্তীতে এক মার্কিন সমঝোতায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রচেষ্টায় ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পান আবু সালাহ। তার সাথে আরও ৮৯ জন ফিলিস্তিনি বেরিয়ে আসে দখলদারদের কারাগার থেকে।

ফিলিস্তিনি যুবক ফাদি আবু সালাহ
ফিলিস্তিনি যুবক ফাদি আবু সালাহ

২০০৮ সালে গাজায় তিন সপ্তাহ ব্যাপী ইসরাইলি সেনা ও হামাসের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে প্রাণ হারায় বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি। পরবর্তীতে ছয় মাস ধরে চলা এক ইসরাইলে আগ্রাসানে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হন। সে সময় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে পা হারান ফাদি আবু সালেহ। ডিসেম্বরে নিহত ইব্রাহিম আবু সুরিয়াও সে সময় পা হারিয়েছিলেন।

সুরিয়ার মতোই ইসরাইলি সেনার গুলির জবাবে গুলতি নিয়ে তার পাথর নিক্ষেপের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আবু সালাহর এ লড়াইয়ের কাহিনী। পরবর্তীতে নিহতের ছবিও আলোচনায় ওঠে আসে একইভাবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদে দেখা যাচ্ছে, এ বছরেরও কয়েকমাস ধরে চলমান বিক্ষোভে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণ করেন তিনি। পশ্চিম তীর থেকে এসে গাজাতেই আশ্রয় নেন তাঁবু গেড়ে। চার শিশু সন্তানকে নিয়ে সেখানেই অস্থায়ীভাবে সংসার গাড়েন তিনি।

ফিলিস্তিনি যুবক ফাদি আবু সালাহ
ফিলিস্তিনি যুবক ফাদি আবু সালাহ

ইসরাইলে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর ও ইসরাইলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনি উচ্ছেদের নাকবা দিবস উপলক্ষে গত এক সপ্তাহ ধরে গাজায় জড়ো হতে থাকেন ফিলিস্তিনিরা।

১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইহুদিবাদী ইসরাইল সাড় সাত লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদ করে তা দখল করে নেয়। এদিনটি নাকবা দিবস হিসেবে গত ৭০ বছর ধরে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনিরা।

সোমবার জড়ো হওয়া প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে সকাল থেকেই হুইল চেয়ারে করে নেমে পড়েন সালাহ। একটা পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ এ বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনারা নির্বিচারে গুলি চালালে তিনিও প্রতিরোধ করা শুরু করেন। দুপুরের পরেই ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন এ লড়াকু ফিলিস্তিনি।

মঙ্গলবার আবু সালাহর শেষকৃত্যে শোকার্ত শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেয়। গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা নিন্দা জানিয়েছেন।

এদিকে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মঙ্গলবার গাজা হত্যাকাণ্ডের জেরে জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশষ দূত নিকোলা ম্ল্যাদেনোভ গাজা উপত্যকায় অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আস্ত ছাগল গিলে খেলো অজগর

আস্ত ছাগল গিলে খেলো অজগর
ছবিঃ সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লোকালয়ে এসে একটি আস্ত ছাগল গিলে খেয়েছে একটি অজগর সাপ। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার লিচু বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব সাপটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি উপজেলার লাউয়াছড়া বনের পার্শ্ববর্তী গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট সংলগ্ন লিচুবাড়ি এলাকার দোকানি বাচ্চু মিয়ার একটি ছাগলকে খেয়ে ফেলে অজগরটি। এর আগে একটি হরিণকেও একইভাবে খেয়ে ফেলে অজগরটি।

সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে বন বিভাগের লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে সেখানকার জঙ্গলে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৩ ফুট দৈর্ঘ্যের সাপটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করি।

এদিকে উদ্ধারকালে লাঠির খোঁচাখুঁচিতে সাপটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাই এটিকে সেবা ফাউন্ডেশনের সেবাশ্রমে পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। অজগরটি সুস্থ হওয়ার পর লাউয়াছড়া বনে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানান সজল দেব।

আস্ত হরিণ গিলে খেলো অজগর!

আস্ত হরিণ গিলে খাচ্ছে অজগর! চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার জাতীয় উদ্যানে এমন দৃশ্য ফ্রেম বন্দি করেছেন এক উৎসাহী পর্যটক। প্রায় ১৪ ফুট দীর্ঘ অজগরটি একটি হরিণের চারপাশে নিজেকে পেঁচিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গিলে ফেলে।

আস্ত হরিণ গিলে খেলো অজগর
আস্ত হরিণ গিলে খেলো অজগর

বন কর্মকর্তারা জানান, সম্ভবত অজগরটি এক মাস ধরে অভুক্ত।

দেশটির হাম্বানটোটার বুন্ডালা জাতীয় উদ্যানের কর্মকর্তা পিএ মুথুকুমার জানান, অজগরটি খুব ক্ষুধার্ত ছিল। সচরাচর অজগর কোনও পশুকে গিলে খাওয়ার সময় কেউ কাছে এলে তা উগরে দেয়। কিন্তু ওই অজগরটি তা করেনি। এতে ধারণা করা হচ্ছে অজগরটি খুব ক্ষুধার্ত ছিল। যার কারণে অজগরটি পশুটিকে পুরোটাই গিলে ফেলেছে।

ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, অজগরটি হরিণের চারপাশে শক্তভাবে পেঁচিয়ে নিচ্ছে। আর আস্তে আস্তে প্রাণীটি ধীরে ধীরে গ্রাস করছে।

সর্বশেষ সংবাদ