34 C
Dhaka
মঙ্গল জুন ১৮, ২০১৯, ৭:০৭ অপরাহ্ন.
প্রচ্ছদ ব্লগ

ফনির প্রভাবে মধ্যরাত থেকে প্রবল ঝড় হবে

ফনির প্রভাবে মধ্যরাত থেকে প্রবল ঝড় হবে। সেই সঙ্গে থাকবে ঝড়ো বাতাস। এর প্রভাবে শনিবার সারা দিন বৈরি আবহাওয়া থাকবে। হতে পারে জলোচ্ছ্বাসও। এমনই আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অফিসের পরিচালক জানান, এর প্রভাবে সমুদ্রে ২-৪ ফুট পানি বেড়ে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে এটি।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলায় এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরকে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০-১১০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফনির প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ইতিমধ্যে দেশের দুই সমুদ্রবন্দর মোংলা ও পায়রা বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ফনির প্রভাবে বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় এক শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ১ জন ও নেত্রকোনায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের ওড়িশ্যার পর পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ফনি। ওড়িশ্যায় প্রবল বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতে এ পর্যন্ত ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ফনির আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে ওড়িশ্যা।

ঘূর্ণিঝড় ফনির কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল।

দেশের ১৯ জেলার ১৪৭টি উপজেলার ১৩ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা উপকূলীয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত; সেখানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাস।

এই ১৯ জেলায় ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সচিব জানিয়েছেন, নেভি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্বেচ্ছাসেবকসহ রাজনৈতিককর্মীরা উপকূলের মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

ঘণ্টায় ১৭৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়া সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ওড়িশ্যা উপকূল অতিক্রম শুরু করে ঘূর্ণিঝড় ফনি।

বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে মোটামুটি এর অর্ধেক শক্তি নিয়ে এ ঝড় শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

এরপর তা রাজশাহী, রংপুর এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে দেশের উত্তরাংশ পেরিয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এরআগে সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ফনি বাংলাদেশে আঘাত হানবে বলে জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদফতর। তবে ফনি দূর্বল হয়ে প্রবেশ করবে। এর প্রভাব থাকবে দুদিন। এর প্রভাবে আজ-কাল দিনভর বৃষ্টি থাকবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ শুক্রবার সকালে জানান, উড়িষ্যা রাজ্যে ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে ছোবল মারা ফনি পশ্চিবঙ্গের দিকে যাচ্ছে। সেখান থেকে দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে আসবে সন্ধ্যা নাগাদ। বাতাসে গতিবেগ থাকবে ৮০-১০০ কিলোমিটার।

তিনি জানান, সারারাত ফনি সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল অঞ্চলের দিক থেকে ফরিদপুর, ঢাকা হয়ে ভারতের মেঘালয়ের দিকে যাবে।

শবে-বরাত: ফজীলত, করণীয় ও বর্জনীয়

আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা বছরের কোনো কোনো মাস, দিন ও রাত্রিকে বিভিন্ন ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে বরকতময় ও বৈশিষ্টমণ্ডিত করে দিয়েছেন৷ বরকতময় এ সময়গুলোতে সামান্য মেহনত ও প্রচেষ্টার ফলে বিশাল প্রতিদানের অধিকারী হওয়া যায়, যা অন্য সময় অধিক মেহনত করেও অর্জন করা সম্ভব নয়৷ সেই সময়গুলোর মধ্যে শবে-বরাত অন্যতম৷

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো মহান এ রাতটি বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির শিকার৷ কিছু ভাই এ রাতটির ফজীলতকে অস্বীকার করে বলছে শবে-বরাতের ফজীলত কোনো নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়৷

অপর দিকে কিছু লোক এ রাত উদযাপনে এমন কিছু মনগড়া পদ্ধতি ও কর্মসূচি পালন করছে যা শরীয়ত সম্মত নয়৷ তাই এ নিবন্ধটিতে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হাদীসের আলোকে প্রামাণ্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ৷

প্রথমেই জেনে নিই ‘শবে-বরাত’ এর শাব্দিক বিশ্লেষণ:

শবে-বরাত দু’টি শব্দের সমষ্টি৷ ‘শব’ শব্দটি ফার্সী, অর্থ- রাত, রজনী৷ ‘বরাত’ শব্দটিকে যদি ফার্সী ধরা হয় অর্থ হবে- সৌভাগ্য৷ শব্দ দু’টির একত্র অর্থ হবে- সৌভাগ্যের রাত বা ভাগ্য রজনী৷

আর যদি ‘বরাত’ শব্দটি আরবী ‘বারাআত’ (برائة) শব্দের অপভ্রংশ ধরা হয়, তাহলে অর্থ হবে- পরিত্রাণ বা মুক্তি৷ যেমনঃ এ অর্থে কুরআনুল কারীমে এসেছে-
أكفاركم خير من أوليائكم ام لكم برائة في الزبر
অর্থ: “তোমাদের মধ্যকার কাফেররা কি তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ? না তোমাদের ‘মুক্তি’র সনদ রয়েছে কিতাব সমুহে?” (সূরা ক্বমার: ৪৩)

অতএব শব্দ দু’টিকে আরবীতে অনুবাদ করা হলে অর্থ হবে- “লাইলাতুল বারাআহ” (ليلة البرائة) যেমন ইমাম বাইহাকী রহিমাহুল্লাহ তাঁর “আদ-দা’ওয়াতুল কাবীর” গ্রন্থে একটি শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে- “বাবুল ক্বাওলী ওয়াদ-দোয়া লাইলাতাল বারাআহ” (باب القول و الدعاء ليلة البرائة) তবে হাদীসের ভাষায় বলা হয়েছে, ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান’ (ليلة النصف من شعبان) অর্থাৎ শা’বানের মধ্য রাত্রি বা অর্ধ শা’বানের রাত৷

শবে-বরাতের ফযীলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কয়েকটি হাদীস:
১ম হাদীস-
عن معاذ بن جبل رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مساحن.

অর্থ: হযরত মু’আজ ইবনে জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা’আলা অর্ধ শা’বানের রাতে (শবে-বরাতে) তাঁর সৃষ্টির প্রতি মনোযোগী হন এবং মুশরিক ও বিদ্ধেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন৷ (সহীহ্ ইবনে হিব্বান, হাদীস: ৫৬৬৫, সুনানে ইবনে মাযাহ্, হাদীস: ১৩৯০, মুসান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস: ৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস: ৬২০৪)

হাদীসটির সনদ সম্পর্কে কিছু কথা:

হাদীসটির সনদ সহীহ্৷ এজন্যই ইমাম ইবনে হিব্বান হাদীসটিকে “কিতাবুস সহীহ্” এর মধ্যে বর্ণনা করেছেন৷ যদি শবে-বরাতের ফজীলত সম্বন্ধে দ্বিতীয় কোনো হাদীস না থাকতো, তবে এই একটি হাদীস-ই এ রাতের ফযীলত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এবং এ রাতে মাগফেরাতের উপযোগী নেক আমলের গুরুত্ব প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতো৷ অথচ হাদীসের কিতাব সমূহে নির্ভরযোগ্য সনদে এ বিষয়ক আরও একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে৷

ইমাম মুনযিরী, ইবনে রযব, নূরুদ্দীন হাইসামী, কাসতালানী, যুরকানী এবং অন্যান্য হাদীস বিশারদগণ এই হাদীসটিকে আমলযোগ্য বলেছেন৷

দেখুন- কিতাবুস্ সুন্নাহ্, ১/২২৪, আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, ২/২৪১, ৪/২৩৮, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৮/৬৫, শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যা, ১০/৫৬১

এছাড়া শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহ “সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহাহ” ৩/১৩৫-১৩৯- এ এই হাদীসের সমর্থনে আরো আটটি হাদীস উল্লেখ করে লিখেন-
و جملة القول أم الحديث بمجموع هذه الطرق صحيح بلا ريب و الصحة تثبت بأقل منها عددا ما دامت سالمة من الضعف الشديد كما هو الشأن في هذا الحديث.
অর্থ: “এ সব বর্ণনার মাধ্যমে সমষ্টিগতভাবে এই হাদীসটি নিঃসন্দেহে সহীহ্ প্রমাণিত হয় ৷ আর সহীহ্ হওয়া এর থেকে কম সংখ্যক বর্ণনার দ্বারাও প্রমাণিত হয়ে যায়, যতক্ষণ তা মারাত্মক কোনো দূর্বলতা থেকে মুক্ত থাকে, যেমন এই হাদীসটি৷”

শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ এর উক্ত বিশ্লেষণ থেকেও নির্দ্বিধায় হাদীস দ্বারা শবে-বরাত প্রমাণিত হয়৷ সুতরাং এ কথা বলার কোনোই সুযোগ নেই যে- শবে বরাত কোনো নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়৷

২য় হাদীস-
عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها و صوموا نهارها فإن الله ينزل فيها لغروب الشمس إلى سماء الدنيا فيقول ألا من مستغفر لي فأغفر له ألا مسترزق فأرزق له ألا مبتلىً فأعافيه ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر.
অর্থ: হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- অর্ধ শা’বানের রাত যখন আসে, তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত করে কাটাও এবং দিনে রোযা রাখো৷ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা এ রাতে সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে আসেন এবং বলতে থাকেন, আছে কী কোনো ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো৷ আছে কি কোনো রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দিবো৷ আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব৷ আছে কি এমন, আছে কি এমন, – এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বলতে থাকেন৷ (সুনানে ইবনে মাযাহ, হাদীস: ২৩৮৪, শু’আবুল ঈমান, হাদীস: ৩৮২২, আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব: ২/১৩৩)

সনদ বিচারে হাদীসটির মান:

এই বর্ণনাটির সনদ যয়ীফ৷ হাদীস বিশারদদের সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত হলো- ফাযায়েলের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীসও গ্রহণযোগ্য৷ তাছাড়া শা’বান মাসে বেশি বেশি নফল রোযা রাখার কথা সহীহ্ হাদীসে এসেছে এবং আইয়ামে বীয অর্থাৎ প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখার বিষয়টিও সহীহ্ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত৷

৩য় হাদীস-
হযরত আ’লা ইবনুল হারিস রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন- একবার রাসূলুল্লাহ সা. রাতে নামাযে দাঁড়ালেন এবং এতো দীর্ঘ সিজদা করলেন যে, আমার আশঙ্কা হলো তাঁর ইন্তেকাল হয়ে গেছে৷ আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম৷ যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে বললেন, হে আয়েশা! অথবা বললেন, হে হুমায়রা! তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম- না ইয়া রসূলাল্লাহ৷ আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার এ আশঙ্কা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না! নবী কারীম সা. বললেন, তুমি কি জানো এটা কোন্ রাত? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন৷ তিনি তখন বললেন-
هذه ليلة النصف من شعبان إن الله عز و جل يطلع على عباده في ليلة النصف من شعبان فيغفر للمستغفرين و يرحم المسترحمين و يؤخر اهل الحقد كما هم.
অর্থ: “এটা হলো অর্ধ শা’বানের রাত৷ (শা’বানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত) ৷ আল্লাহ তা’আলা অর্ধ শা’বানের রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি মনযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের উপর অনুগ্রহ করেন৷ আর বিদ্বেষ পেষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।”

ইমামা বাইহাকী রহিমাহুল্লাহ এই হাদীসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যপারে বলেছেন- هذا مرسل جيد [হাদীসটি মুরসাল তবে তার সনদ সেরা, উৎকৃষ্ট ৷]

এ রাতে করণীয় আমল সমূহ:

উপরোক্ত হাদীস সমূহ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এ রাতের জন্য স্বতন্ত্র কোনো ইবাদত নেই বরং এ রাতে এমন সব নেক আমল করা উচিত যার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতপ্রাপ্তির উপযুক্ত হওয়া যায়৷ যেমন:
এক.
মাগরিব, এশা ও ফজরের নামায যেনো অবশ্যই জামাআতের সাথে হয়৷
দুই.
সাধারণভাবে যে নিয়মে নফল নামায পড়া হয় সেভাবেই পড়া অর্থাৎ দুই রাক’আত করে যতো রাক’আত সম্ভব হয় এবং যে সূরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বে৷
তিন.
তাওবা করা৷ তাওবা বলা হয় তিন জিনিসের সমষ্টিকে৷ ক. কৃতপাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া৷ খ. সঙ্গে সঙ্গে এই পাপটি পরিহার করা৷ গ. পাপটি আর করবে না এই মর্মে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা৷
চার.
কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করা, দুরূদ শরীফ পড়া, যিকির-আযকার করা ও ইস্তিগফার করা ইত্যাদি৷
ছয়.
সম্ভব হলে এ রাতে কিছু দান সদকা করে এবং নফল নামাজ পড়ে মৃতদের রূহে সাওয়াব পৌঁছানো৷
সাত.
পরদিন অর্থাৎ ১৫-ই শা’বান নফল রোযা রাখা৷ রোযা রাখার বিষয়টি উল্লেখিত হাদীস ছাড়াও অন্যান্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত৷
আট.
সলাতুত্ তাসবীহ: যদি সলাতুত্ তাসবীহকে এই রাতের বিশেষ ইবাদত মনে না করে আদায় করতে চান, তাহলে করতে পারেন৷ এ ক্ষেত্রে এই নামাযের নিয়মটি কোনো বিজ্ঞ আলেম থেকে জেনে নিবেন৷

এ রাতের নফল আমল সমূহ সম্মিলিত নয়, ব্যক্তিগত

আল্লাহ তা’আলার সাথে একান্ত হয়ে একাকি সম্পর্ক গড়ার অন্যতম মাধ্যম হলো নফল ইবাদত৷ আর বিশুদ্ধতম মতানুসারে নফল ইবাদত দলবদ্ধভাবে নয় বরং একাকী করণীয়৷ ফরয নামাজ তো অবশ্যই মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে৷ এরপর যা কিছু নফল ইবাদত করার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী করবে এবং এটিই উত্তম পন্থা৷ কারণ ঘরকে ইবাদতশূণ্য করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন৷ সুতরাং বর্তমানে শবে-বরাত, শবে-ক্বদরকে কেন্দ্র করে যে প্রচলন দেখা যাচ্ছে যে, এই রাতে নফল ইবাদতের জন্য লোকজন দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হয়, কোথাও মিলাদ হয়, কোথাও এক সঙ্গে বসে জোরে জোরে জিকির হয়, যার দরুণ একাকী ইবাদতকারীর ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়৷ অথচ এ রাতে এগুলো করার কোনো প্রমাণ হাদীসে নেই এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাব্-য়ে তাবেঈনের যুগেও এর কোনো প্রচলন ছিলো না৷

তবে যদি বাসায় অলসতার কারণে ইবাদত না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে মসজিদে এসে ইবাদত করতে দোষের কিছু নেই৷ তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যঘাত ঘটার কারণ হবে না৷
(-ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম ২/৬৩১-৬৪১, মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা-২১৯)

সাধারণ ক্ষমার এ রাতে যারা বঞ্চিত থেকে যায়:

হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী কিছু লোক এমন রয়েছে যারা এই সাধারণ ক্ষমার রাতেও ক্ষমা পায় না৷ যতক্ষণ না তওবা করে ফিরে আসে৷ হাদীসে বর্ণিত এরা হলো:
১. আল্লাহ তা’আলার সাথে অংশীদার স্থাপনকারী মুশরিক৷
২. হিংসুক
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী
৪. যে পুরুষ টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়তে অভ্যস্ত৷
৫. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান৷
৬. মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি
৭. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যাকারী৷
আল্লাহ আমাদের সকলকে এসব গুণাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং আমাদের ক্ষমা করে দিয়ে দয়ার চাদরে জড়িয়ে নিন৷

শবে-বরাতে বর্জনীয় বিষয়:

শয়তান মানুষকে এই রাতে নেক আমল থেকে বিরত রাখার জন্য কিছু কুসংস্কারের প্রচলন ঘটিয়েছে৷ বিস্ময়ের ব্যপার হলো মানুষ এগুলোকে নেক কাজ মনে করে শুধু বিভ্রান্তই হচ্ছে এবং কবীরা গুণাহে লিপ্ত হচ্ছে৷ এ জাতীয় আপত্তিকর কাজগুলো হলো:
১. আতশবাজী, তারাবাতি, পটকা ইত্যাদি ফুটানো৷
২. মসজিদ, ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট ও অন্যান্য জায়গায় আলোকসজ্জা করা। এসব অপচয়ের শামিল৷ তাছাড়া এটি হিন্দু দেওয়ালী উৎসব হতে গৃহীত৷ তাই এ ধরণের কর্মকান্ড বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে অবশ্যই পরিত্যাজ্য ও বর্জনীয়৷ কারণ, হাদীস শরীফে এসেছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য রাখবে, তার হাশর-নাশর তাদের সাথেই হবে৷”
৩. খিচুড়ী বা হালুয়া-রুটি বানানো৷ এসবকে এ রাতের বিশেষ কাজ মনে করা হয়৷ মা-বোনদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়৷ মসজিদে হৈ চৈ ও গোলমাল বেধে যায়৷ ইবাদত করার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং এ সবের পিছনে পড়ে এ রাতের মূল কাজ তাওবা-ইস্তেগফার, নফল ইবাদত ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হয়৷
এগুলো কুসংস্কার৷ পরিহার করা আবশ্যক৷ এক কথায় এ রাতে আনুষ্ঠানিকতা এবং অপ্রয়োজনীয় কাজ বর্জন করে একাকীভাবে নফল ইবাদতে আত্ম নিয়োগ করা উচিত, যাতে আমরা বরকতপূর্ণ রাতের বরকত লাভে ধন্য হয়ে আল্লাহর সাধারণ ক্ষমাপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি৷
(-ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম: ২/৬৩২, আল-মাদখাল লি-ইবনিল হাজ্জ: ১/২৯৯ ও ১/৩০৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৫/২৮৯)

আল্লাহ আমাদের সকলকে সমস্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি পরিহার করে এ রাতের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে একাগ্রতার সাথে তাঁর ইবাদত করার তাওফীক দান করুন৷

মাদ্রাসা ছাত্রীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করে ধর্ষণ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ ও বিয়ে করে আটকে রেখে ‘ধর্ষণে’র অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা গতকাল মঙ্গলবার রাতে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরিপ্রেক্ষিতে নুর মোহাম্মদ বাবু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মামলাসূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বড়িয়া গ্রামের ওই মাদ্রাসা ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাওয়া জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পথে প্রতিবেশী অটোচালক নুর মোহাম্মাদ বাবু তাকে দেখে সেখানে দাঁড়ান। বান্ধবীর বাড়ি পৌঁছে দেবেন বলে তাকে ফুঁসলিয়ে নিজের অটোতে তুলে নেন।

এরপর সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে নিয়ে যান উপজেলার চিকাশী মোড় এলাকায়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে যান শেরপুর। পরে সেখান থেকে বাসযোগে যান নারায়ণগঞ্জে তার আত্মীয়ের বাড়িতে। পরদিন শুক্রবার বিকেলে একটি কাজী অফিসে নিয়ে বাবু ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক বিয়ে করেন।

মেয়েটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাবু মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন ও সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করেন। গত রোববার মেয়েটিকে নিয়ে বাবু ধুনটে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে সেখান থেকে মেয়েটি পালিয়ে এসে ধুনট থানা পুলিশের কাছে পুরো ঘটনা জানায়।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন মেয়েটির বাবাকে খবর দিয়ে থানায় আনান। পরে তার কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ নেন। তিনি বলেন, ‘দাখিল শ্রেণির ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বাবুকে গ্রেপ্তারের চেষ্ট চলছে।’

সব নিজেরা নিজেরা। বিএনপি হইতো একটা কথা আছিলো, ব্যবস্থা নিতে পারতাম

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুলিশের এক কর্মকর্তা ও দুই কনস্টেবলকে পেটানো ছাত্রলীগ নেতাদের আটক করেও ছেড়ে দিয়েছেন থানার ওসি আক্তার হোসেন। উপজেলার গোপালদী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ঢুকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালালেও ওসি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুরো ঘটনাই ঘটেছে নজরুল ইসলাম বাবু কলেজে। সেখানে নিজেদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছিল।

একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করে হামলার শিকার ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে অশ্লীল মন্তব্যও করেন ওসি আক্তার হোসেন।

হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের নিজেদের লোক দাবি করে ওসি বলেন, ‘কালকে এমপি সাব আমেরিকা গেছে। সব নিজেরা নিজেরা। বিএনপি হইতো একটা কথা আছিলো, ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’ অপরদিকে হামলার শিকার পুলিশের এটিএসআই মামুন দাবি করেন, তাকে ও অপর ২ পুলিশ সদস্যকে তদন্তকেন্দ্রে ঢুকেই মারধর করা হয়েছে এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেন ছাত্রলীগ নেতা সুজয়।

এদিকে পুলিশ সদস্যরা বেদম মারধরের শিকার হলেও হামলাকারীদের ছেড়ে দেয়ায় পুরো পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

এর আগেও গত ২৯ মার্চ একটি সাধারণ ডায়েরিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতারা থানায় ঢুকেই অশ্লীল গালাগাল আর শাসিয়েছিল পুলিশ সদস্যদের। ওই ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও ছাত্রলীগ নেতাদের ব্যাপারে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মাদকসেবন ও ইভটিজিংয়ের অপরাধে উপজেলার রামচন্দ্রদী গ্রামের জামালউদ্দিনের ছেলে দিদার ইসলামকে গোপালদী বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। তার আটকের খবর জানতে পেরে গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সাহা আটককৃত দিদারকে ছাড়িয়ে আনতে তদন্তকেন্দ্রে যান। পুলিশ তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে সুজয় পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ সময় এটিএসআই মামুন তার প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগ নেতা সুজয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। সুজয় মোবাইলে তার সহযোগীদের তদন্তকেন্দ্রে এনে পুলিশের ওপর হামলা চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে কনস্টেবল ইমরান ও বাশার এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

এ খবর আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানতে পেরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে তদন্তকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে সুজয় ও দিদারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

আহত পুলিশ কর্মকর্তা মামুন, কনস্টেবল আবুল বাশার ও ইমরানকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে প্রথমে সাংবাদিকদের আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, পুরো ঘটনার জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কিন্তু বিকালে আটককৃত ছাত্রলীগ নেতা সুজয় ও কর্মী দিদারকে ছেড়ে দেয়ার পরই ওসি আক্তার হোসেনের ভাষ্য বদলে যায়। দ্রুত আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আহত এটিএসআই মামুন ও ভর্তি থাকা ২ কনস্টেবলকে সেখান থেকে নিয়ে আসা হয়। পুরো ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় পুলিশ সদস্যদের মাঝে।

এ ব্যাপারে হামলার শিকার এটিএসআই মামুন বলেন, ‘গোপালদী এলাকার আশপাশ থেকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ আসছিল অনেক দিন থেকেই। আমরা বুধবার সকালে দিদারকে আটক করে তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে এসে তাকে তার অভিভাবকদের ফোন দিতে বলি । সে ছাত্রলীগ নেতা সুজয়কে ফোন করে তদন্ত কেন্দ্রে আসতে বলে। সুজয় এসেই ক্ষিপ্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে দিদারকে কে গ্রেফতার করেছে। আমি আটক করেছি বললে সে আমাকে তুইতোকারি করে বলে, তর এত বড় সাহস তুই তারে নিয়ে আসছোস। তুই হেরে চিনোস। আমি কাছে যাওয়ার পরপরই আমাকে ঘুষি দিয়ে ফেলে দেয়। ফাঁড়ি উড়িয়ে দেবে, গুলি করে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এরপর ২ কনস্টেবল এগিয়ে আসলে সুজয় ও তার সঙ্গে লোকজন আমাদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।’

আটককৃত ২ জনকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে মামুন বলেন, পুলিশের ওপর হামলার পর কেন তাদের ছেড়ে দেয়া হলো এটা আমার মাথায় আসছে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা করার ইচ্ছা থাকলেও এখন কিছুই বলতে পারছি না। আমি একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি।

এ ব্যাপারে ওসি আক্তার হোসেনকে সাংবাদিকদের নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, ‘বিষয়টি ভুলবোঝাবুঝি ছিল। তদন্তকেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটেনি। যা ঘটেছে নজরুল ইসলাম বাবু কলেজে। কালকে এমপি সাব আমেরিকা গেছে। সব নিজেরা নিজেরা। পেপার পত্রিকায় দেয়া দরকার নাই। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ওভাবেই শেষ করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারাও আওয়ামী লীগ তারাও আওয়ামী লীগ। বিএনপি হইতো একটা কথা আছিল, ব্যবস্থা নিতে পারতাম। আমি আমার বড় স্যারের লগে কথা কইছি। আওয়ামী লীগের নেতারাই আসছিল। ওইভাবেই শেষ কইরা দিছি। এসব নিয়া এখন আর লেখালেখির দরকার নাই। আর আমার ওইটারও (এটিএসআই মামুন) দোষ আছে। এসব লইয়া ভাই লেখালেখির দরকার নাই। এটা সবারে বইলা দেন। আর অনলাইনগুলা আমি দেখতাছি।’ তবে মারধরের ঘটনা না ঘটলে ওই ৩ পুলিশ সদস্যকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন ভর্তি করা হয়েছিল? এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ফোনে কথা না বলে থানায় এসে নিউজ করার জন্য বলেন।

কোটিপতি থেকে পথের ভিখারী

কক্সবাজারে রামুর অধিবাসী মহাম্মদ আজিম। স্থানীয়রা তাকে পাগল আজিম বলেই জানে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন এই ব্যক্তি। কিন্তু কয়েক বছর আগেই তিনি ছিলেন রামু উপজেলার তেচ্ছিপুল এলাকার অন্যতম ধনী ও কোটিপতি। আর এখন উদ্দেশ্যহীন দ্বারে দ্বারে, পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ান তিনি।

ভিক্ষা করে ১০ টাকা পেলেই মহা খুশীতে নাচতে থাকেন। অথচ এই ব্যক্তি কয়েক বছর আগে দুই হাতে টাকা ওড়াতেন। বিলাসবহুল জীবনে ছিলেন অভ্যস্ত। টাকা খরচ করতেন পানির মতো। তার বাড়িটিও ছিল দেখার মতো। চড়তেন বিদেশি গাড়িতে। হাতের মোবাইল ফোনটি সে সময়ের সেরাটি ব্যবহার করতেন।

গহনায় মুড়িয়ে রেখেছিলেন স্ত্রীকে। স্ত্রীকেও কিনে দিয়েছিলেন দামী মোবাইল। আর পাঁচটা ধনীর মতোই চাকচিক্যে ভরা ছিল তার জীবন।

পড়াশোনা ছেড়ে ১৭ বছর বয়সে ব্যবসায় নেমে পড়েন আজিম। কক্সবাজার থেকে পান, শুঁটকি ও কাঠ পাঠাতেন ঢাকায়। তরতর করে তার ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। তিন বছরেই হয়ে যান কোটিপতি। এরপর ব্যবসার প্রসারিত হতে থাকে তার।

তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ভালো আয় করতে শুরু করেন। কিন্তু আজিম যেভাবে তরতর করে উঠেছিলেন সেভাবেই নেমে গেলেন। চোখের পলকে রাজা, ভিখারীতে পরিণত হলো।

বিশেষ একটি ঘটনায় ব্যবসায় লোকসান গুনতে হলো অনেক। এরপর আর দাঁড়াতে পারেননি।

একে একে গাড়ি, বাড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার সব কিছু বিক্রি করে আজ নিঃস্ব। তবুও যদি কর্ম করে খাওয়ার যোগ্যতা থাকে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সে ক্ষমতাও হারিয়েছেন।

এখন রামু-কক্সবাজারের মহাসড়কের পাগল ও ভিখারী আজিমের দিন খুব ভালো হলে রোজগার হয় ২০ থেকে ৪০ টাকা। সেটা নিয়েই চলে যায় তার জীবন।

গত একবছর ধরে এভাবেই চলছে তার দিনকাল। পরিবারটি আর আগের মতন নেই তার। তারাও থাকছেন না আজিমের সঙ্গে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রামু তেচ্ছিপুলের একসময়ের কোটিপতি মহাম্মদ আজিম এখন ফুটপাতের পাগল।

লোকটির আসল পরিচয় জানলে আপনি যেমন চমকে উঠবেন তার থেকে বেশী অবাক হবেন

ছবিটা দেখে অনেকেই হয়তো ভাবছেন কোন গরীব ক্ষুধার্ত মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্রের খাবার খাওয়ার ছবি ফেসবুকে আপলোড করলাম কেন?

কিন্তু নাহ!
আপনার ধারণা সম্পূর্ন ভূল।
এটা মাদ্রাসায় পড়ুয়া কোন সাধারন হুজুর নয়।
তাহলে আপনার মনে এখন নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে, এই ব্যক্তি কে তাহলে?
কি তার পরিচয়?

এই লোকটির আসল পরিচয় জানলে আপনি যেমন চমকে উঠবেন তার থেকে বেশী অবাক হবেন।

এই নিরহংকার সাদাসিধে সুন্নাতি পোশাক পরিহিত ব্যক্তি আর কেউ নন।

তিনি হলেন আমেরিকার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর, মেডিকেল স্কলার এবং অসংখ্য পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ডাঃ মোঃ হুসাইন আবদ আল-সাত্তার (Dr. Hussain A. Sattar)

তিনি প্রত্যক্ষভাবে হাজার হাজার মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষক। আর পরোক্ষভাবে তার রচিত “Fundamentals of pathology” নামক গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি যেন বিশ্বের অন্যান্য ডাক্তারদের শিক্ষক। মেডিকেল জগতে তিনি “Creator of Pathoma” হিসাবে পরিচিত।

আমাদের দেশে কোন মেডিকেল কলেজে অথবা অন্যকোন নামধারী ভার্সিটিতে অধ্যয়ন করলে তার যেন অহংকার এবং দাম্ভিকতার সীমা থাকেনা। টুপি,পান্জাবী, দাড়ি দেখলেই অনেকে মনে করেন, ছেলেটা হয়ত মাদ্রাসায় পড়ুয়া কোন ‘কাঁঠমোল্লা’।

অথচ এই মহান ব্যক্তির পোশাকটা কিন্তু আমাদের বিবেচিত মাদ্রাসায় পড়ুয়া ‘কাঁঠমোল্লাদের’ পোশাকের মতোই। কিন্তু তাঁর মনে যেমন কোন অহংকার নেই তেমনি ভাবে নেই কোন দাম্ভিকতা! আর এমনি জীবন হওয়া উচিত আমাদের সবার। ❤

অতএব নিজেকে বদলান, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, দেখবেন দুনিয়াটা বদলে গেছে।

ক্রিকেটে ফিরছেন শোয়েব আখতার

পেসার তৈরির ‘কারখানা’ পাকিস্তানে দুই কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম এবং ওয়াকার ইউনিসের পর্দা ঠেলে ঠিকই মাথা তুলেছেন, ক্রিকেটকে রাঙিয়েছেন নিজের আলোয়। কেবল বোলিং অ্যাকশনই নয়, বল করার সময় তার রানআপটাও ছিল দর্শনীয়।

সীমানার কাছ থেকে বুক চিতিয়ে ছুটে আসা এ টর্নেডোকে দেখে পিলে চমকায়নি এমন ব্যাটসম্যান তখন কমই ছিল। পাঠকরা নিশ্চয়ই ধরতে পেরেছেন কার কথা বলা হচ্ছে। বলছি পাকিস্তানের স্পিড স্টার শোয়েব আখতারের কথা।

বাইশ গজে পা রাখার পর থেকে গতির সঙ্গে কখনো আপস করেননি শোয়েব। তাই তো ইনজুরি ছিল নিত্যসঙ্গী, আর ছিল বিতর্ক। সবমিলিয়ে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার ১৪ বছরের। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান এই পাকিস্তানি পেসার।

এরপর থেকে ছোটপর্দায় বিভিন্ন রিয়েলিটি শো এবং ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে প্রায়ই দেখা যায় তাকে। তবে মাঠের ক্রিকেটে আবারও ফিরতে চলেছেন পাকিস্তানের এই গতিতারকা।

এক ভিডিও বার্তায় এমনই আভাস দিয়েছেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘হ্যালো বন্ধুরা, ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখটা ক্যালেন্ডারে মার্ক করে নিও। আমি আসছি লিগ খেলতে। বাচ্চাদেরও তো জানা উচিত গতি কাকে বলে!’

ঠিক কীভাবে আর কোথায় ফিরছেন তিনি সে ব্যাপারে ক্রিকেটবিশ্বকে ধোঁয়াশায় রেখে দিয়েছেন শোয়েব। তবে তার ভিডিও বার্তা দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে গিয়েছেন তার সাবেক সতীর্থ ও আরেক কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। টুইট করে জিজ্ঞাসা করেছেন খবরটা সত্যি কি না!

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, ‘প্রকৃত পক্ষে কি হচ্ছে? তুমি কি ফিরে আসছো? যদি সত্যি হয়, তাহলে বাচ্চারা কিছু তেজি মনোভাব শিখতে পারবে।’

এদিকে শোয়েব আখতারের এই ভিডিও পোস্ট করার পর, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ব্যপক তোলপাড় শুরু হয়। তাহলে কি বল হাতে সত্যি ফিরছেন শোয়েব। কারণ শোয়েবের বক্তব্যে লিগ শব্দটির যে উল্লেখ রয়েছে।

ভারতীয় ভিসা আবেদন পত্রে সঠিকভাবে ডকুমেন্টস সাজাবেন যেভাবে

দেশের বাইরে যারা যান, তাদের অনেকেরই প্রথম পছন্দ থাকে ভারতে ভ্রমণ। প্রতিবেশী দেশ, তাছাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তায় যাওয়া আসা করা যায় বলে এই দেশের প্রতি অনেকেরই আগ্রহ আছে। কিন্তু ভারতীয় ভিসা নেবার সময় হয়ে যায় নানা রকম সমস্যা। সঠিকভাবে ডকুমেন্ট জমা না দেবার কারণে অনেক সময়ই ভিসা রিজেক্ট হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সব ডকুমেন্ট ঠিকভাবে দেয়া থাকলেও সঠিক ভাবে সাজিয়ে দেয়া হয়নি বলে সমস্যা হয়ে গেছে।

আজ আসুন, দেখে নেয়া যাক কি কি ডকুমেন্ট লাগবে এবং কিভাবে সেগুলো সাজাবেন আপনি জমা দেবার সময়।

* অনলাইনে পূরণ করা ভিসা আবেদন এর প্রিন্ট কপি।

* জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি / জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি।

* বিদ্যুৎ / গ্যাস / পানি / টেলিফোন যেকোন একটা বিল এর স্পষ্ট কপি। কপি স্পষ্ট না হলে আসল কপিটি সাথে রাখতে হবে মিলিয়ে দেখাবার জন্য।

* ডলার এনডোর্সমেন্ট এর কপি / ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর এর কপি / ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ড উভয় পৃষ্ঠার কপি (কার্ডের শুরুর বা শেষের কিছু নাম্বার মুছে দেবেন, সিভিসি নম্বরও মুছে দেবেন ফটোকপি থেকে।)

* ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স / এন ও সি চাকুরীজীবিদের জন্য /  স্টুডেন্টদের জন্য প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এবং এন ও সি।

* নিশ্চিত টিকিটের ফটোকপি, আসলটি পাসপোর্টের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। (যাদের জন্য প্রযোজ্য।)

* ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীর পাসপোর্টের ফটোকপি।

* নিজের সাথে সাথে পরিবারের অন্য কারও ভিসার আবেদন জমা দিতে প্রত্যেক ভিসার আবেদন এর সাথে নিজের পাসপোর্টের ফটোকপি যোগ করতে হবে।

* সকল পুরাতন পাসপোর্ট সাথে রাখতে হবে, যদি দেখতে চাওয়া হয় এই কারণে।

এবারে আসুন এই ডকুমেন্টগুলো সাজিয়ে নেয়া যাক।

১. ভারতীয় ভিসার আবেদন পত্র অনলাইনে পুরণ করে প্রিন্ট করে নিন। খেয়াল করুন সবার নিচে বারকোড অংশটি ঠিকভাবে প্রিন্ট হয়েছে কী না।

২. ভিসার আবেদনে অবশ্যই অনলাইনে আপলোড করা ছবি থাকতে হবে।

৩. ভিসার আবেদনে দুই জায়গায় স্বাক্ষর করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

৪. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি / জন্ম নিবন্ধন এর কপি।

৫. বিদ্যুৎ / গ্যাস / পানি / টেলিফোন বিল এর স্পষ্ট কপি। কপি স্পষ্ট না হলে আসল কপিটি সাথে রাখতে হবে মিলিয়ে দেখাবার জন্য।

৬. ডলার এনডোর্সমেন্ট এর কপি / ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর কপি / ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ড দুপাশ এর কপি।

৭. ট্রেড লাইসেন্স / এন ও সি / স্টুডেন্টদের জন্য আইডি কার্ড এর কপি।

৮. নিশ্চিত টিকিটের ফটোকপি, আসলটি পাসপোর্টের পেছনের কভার পাতার সাথে সংযুক্ত করতে হবে স্টেপল করে।

৯. ভিসা আবেদনকারীর পাসপোর্টের ফটোকপি।

১০. পরিবারের অন্য কারও হয়ে ভিসার আবেদন জমা দিতে একই সাথে নিজের পাসপোর্টের কপিও দিতে হবে।

সঠিকভাবে না সাজিয়ে দিলে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে এবং আপনি যে ফি জমা দিয়েছেন তা ফেরত পাবেন না। সুতরাং ভারতীয় ভিসা আবেদনে জমা দেবার সময় একটু খেয়াল করতে হবে আপনার সব ডকুমেন্ট সঠিকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে কিনা।

বাসে পাশের ছিটে অপরিচিত মেয়ে, সাবধান!

সোহাগ তালুকদার। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর। সোহাগের বিবিএ পরীক্ষা শেষ হয়েছে ২০১৫ সালে। সোহাগের বড় ভাই কোন এক কোম্পানিতে চাকরি করে। ছোট ভাই করছেন পড়াশোনা। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে।

হঠাৎই সোহাগের বাবা মারা যান। এরপর পরিবারের হাল ধরতে হয় সোহাগকে। তাই সোহাগ জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান ঢাকায়।

পরিচিত এক লোকের মাধ্যমে একটা চাকরিও পান। সাতজনের একটা টিমে জয়েন করে সোহাগ। বেতনের টাকায় ভালোই চলছিল। নিজের খরচের পর বাকি টাকা বাড়ি পাঠেয়ে দিতো সোহাগ।

এরপর একদিন অফিসের বাইরে ভিজিট শেষে বাসায় ফেরার জন্য টিকিট কেটে বাসে ওঠে সোহাগ। প্রতিদিনের চেয়ে আজ বাসে যাত্রী কম ছিল। সোহাগ গিয়ে একটা ছিটে বসল। এরপর কিছুক্ষণ বাদেই একটা মেয়ে ওঠে বাসে। অনেক ছিট খালি থাকার পরেও মেয়েটা গিয়ে সোহাগের পাশের ছিটে বসে।

একপর্যায়ে বাস চলা শুরু করলে সোহাগের পাশের ছিটের মেয়েটা সোহাগকে বলল তিনি তার পারসোনাল কিছু বিষয় শেয়ার করতে চায় সোহাগের সাথে কিন্তু সোহাগ জানান তিনি তার কথা শুনতে চান না। এরপর মেয়েটিও চুপ হয়ে থাকে। পাঁচ মিনিট পরে মেয়েটা কান্না শুরু করে। এতে বেশ হতবাক হয়ে যায় সোহাগ।তিনি মেয়েটির কাছে জানতে চান, কেন কাঁদছেন?

এরপর মেয়েটি জানায়, তার বাবা-মা সারাদিন ঝগড়া করে। কেউ তাকে সময় দেন না। তিনি খুবই কষ্টে আছে। এরপর সোহাগ মেয়েটির সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়েটি জানান, তিনি তিতুমীর কলেজে অনার্স সেকেন্ডে ইয়ারে পড়েন। আর পাশাপাশি তিনি টিউশন করান।

এরপর মেয়েটি জানান তার রিলেশনের পর তিনবছরের মাথায় ব্রেকআপ হয়ে গেছে। মেয়েটি জানতে চায় সোহাগ কোথায় থাকে। সোহাগও সরল মনে জানান, তিনি থাকেন বাড্ডায়। এরপর মেয়েটি জানায় তিনি থাকেন নতুনবাজার। সোহাগ মেয়েটির নাম জানতে চাইলে তিনি জানান তার নাম লাবনী।

এরপর বাস আরও কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পর লাবনী জানতে চান হাতিরঝিল কোথায়। সোহাগ রাস্তা বলে দিলে কান্না শুরু করেন লাবনী। বলেন, তার মতো একটা মেয়ে কিভাবে একা হাতিরঝিল যাবে। তিনি সোহাগকে অনুরোধ করেন সোহাগও যেন তার সাথে হাতিরঝিল পর্যন্ত যায়। লাবনী বলেন, তার মনের যে অবস্থা তাতে হাতিরঝিল গেলে তার কিছুটা ভালো লাগবে।

এরপর নানান দিক চিন্তা করে লাবনীর সাথে হারিরঝিলে যায় সোহাগ। কিছুক্ষণ পর সোহাগ ফোন দেন তার হাতিরঝিলে পাশে থাকা বড় ভাইকে। সেই বড় ভাই আসার পর লাবনী আর সোহাগের সেই বড় ভাইসহ তারা এক রেস্টুরেন্টে খেতে বসে। এরই এক পর্যায়ে সোহাগকে এক বোতল কোক কিনে আনতে বলে লাবনী। তারপর সোহাগ কোক কিনে আনলে তার অর্ধেকটা লাবনী খেয়ে বাকি অর্ধেকটা দিয়ে দেয় সোহাগকে। পরে সোহাগ সেই কোক খাওয়ার পর জানায়, তার প্রচন্ড ঘুম আসতেছে। এরপর সোহাগের বড়ভাই সোহাগের অবস্থা দেখে তাকে বাসায় নিয়ে যেতে চাইলে লাবনী বাধ সাথে।

সে বলে, আমি সোহাগকে ভালোবাসি, আমি ওকে নিয়ে যাব আপনি কে? সোহাগের পক্ষে তখন কোন কথা বলা সম্ভব ছিল না। শেষ পর্যন্ত সোহাগকে নিয়ে সোহাগের বড় ভাই ও লাবনী বাসে ওঠে বাসায় ফেরার জন্য। পথিমধ্যে লাবনী সোহাগের বড় ভাইকে গালিগালাজ করে এবং আশ-পাশের মানুষকে জানায় সোহাগের বড়ভাই তার গায়ে হাত দিয়েছে এবং অনেকক্ষণ ধরে তিনি ওদের সাথে সাথে ঘুরছেন। একপর্যায়ে বাসের লোক মারধরের পর সোহাগের বড় ভাইকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। এরপর বাস চলতে শুরু করলে কিছুকণ পর যখন বাসের সব যাত্রী নেমে যায় তখন বাসের হেল্পার সোহাগকে ডেকে তোলেন এবং জানতে চান তিনি কোথায় যাবে।

পরে সোহাগ দেখতে পান তার পাশে কেউ নেই। পুরো বাস ফাঁকা। সোহাগ আরও দেখতে পান তার মানিব্যাগ, মোবাইল কিছুই নেই। তখন পুরো বিষয়টা বুঝতে পারে সোহাগ!

নতুন জালিয়াতি ‘সিম সোয়াপ’ – সতর্ক থাকুন

ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিংসহ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমগুলোতে জালিয়াতির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

একটু সতর্ক থাকলে এই ধরনের জালিয়াতির হাত থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া সম্ভব। পাঠকদের সুবিধার্থে সিম সোয়াপ জালিয়াতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার কয়েকটি সতর্কতামূলক কৌশল তুলে ধরা হলো এই লেখায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক —

টাকা তোলার জন্য ডেবিট কার্ড বা এটিএম ব্যবহার না করলেও ব্যাংক জালিয়াতদের কবলে পড়ার আশঙ্কা কিন্তু থেকেই যায়! কারণ, আপনার মোবাইল নম্বর আপনার সবকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত করা থাকে। আর আপনার এই রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরের সঙ্গে লিংক করে যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে প্রতারকরা।

প্রতারক আপনাকে সিম আপগ্রেডেশন-এর নাম করে ২০ সংখ্যার একটি সিম কার্ড নম্বর এসএমএস করতে পারে। এর পর আপনাকে আপনার নম্বরটি পাঠাতে বলতে পারে এবং ‘১’ টিপে এসএমএস কনফার্ম করতে বলতে পারে। এরই সঙ্গে ‘আপনি আপনার নতুন সিম কার্ড ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পেয়ে যাবেন’, এ কথাও বলা হতে পারে। সাবধান, নির্দেশ মেনে আপনি ‘১’ প্রেস করলেই আপনার সিম কার্ডটি ডিঅ্যাক্টিভেট হয়ে যেতে পারে। আর তার পরেই আপনার সিমের সঙ্গে যুক্ত যাবতীয় তথ্য চলে যাবে ওই প্রতারকের কাছে। একেই বলে ‘SIM SWAP’ জালিয়াতি। এর পর আপনার ওই নম্বরের সঙ্গে যে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো যুক্ত করা রয়েছে, সেখানে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) জেনারেট করে আপনার ব্যাংক থেকে টাকা লোপাট করার অবাধ সুযোগ পেয়ে যাবে হ্যাকাররা। এ দিকে আপনার সিম ডিঅ্যাক্টিভেট থাকায় অবৈধ লেনেদেনের কোনো এসএমএস অ্যালার্টও আপনি পাবেন না।

যে বিষয়গুলো আপনার গোপন রাখা প্রয়োজন

কখনো আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য অন্য কাউকে জানাবেন না। অনেক সময় বড় অফারের লোভ দেখানো হয়। এমন লোভনীয় অফারে পড়ে আপনার মোবাইল নম্বর কোনো ওয়েবসাইটে দিবেন না।

আপনার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট মাঝ মাঝে চেক করুন। আপনার অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনো এসএমএস বা ওটিপি সম্পর্কে কারও কাছে শেয়ার করবেন না।

যে শাখায় আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি চালু করেছেন সেখানে গিয়ে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ‘ইনস্ট্যান্ট অ্যালার্ট’ সার্ভিসটি চালু করে নিন। এতে করে আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন।

কখনো কেউ যদি আপনার মোবাইলের সিম আপগ্রেডেশন বা সিম ব্লক করার কথা বলে তাহলে তার সঙ্গে কোনো রকম তর্কে না জড়িয়ে কলটি কেটে দিন। অনেক সময় জালিয়াত চক্রের লোকজন বলে সে মোবাইল নেটওয়ার্কের কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন করেছে। এমন বললেও আপনি তাতে গুরুত্ব দিবেন না। এমন সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের জানান।

সর্বশেষ সংবাদ