25 C
Dhaka
শনি ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০১৯, ৭:৪৮ অপরাহ্ন.
প্রচ্ছদ ব্লগ

ক্রিকেটে ফিরছেন শোয়েব আখতার

ক্রিকেটে ফিরছেন শোয়েব আখতার
পাকিস্তানের জার্সিতে শোয়েব আখতার। ছবি: সংগৃহীত

পেসার তৈরির ‘কারখানা’ পাকিস্তানে দুই কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম এবং ওয়াকার ইউনিসের পর্দা ঠেলে ঠিকই মাথা তুলেছেন, ক্রিকেটকে রাঙিয়েছেন নিজের আলোয়। কেবল বোলিং অ্যাকশনই নয়, বল করার সময় তার রানআপটাও ছিল দর্শনীয়।

সীমানার কাছ থেকে বুক চিতিয়ে ছুটে আসা এ টর্নেডোকে দেখে পিলে চমকায়নি এমন ব্যাটসম্যান তখন কমই ছিল। পাঠকরা নিশ্চয়ই ধরতে পেরেছেন কার কথা বলা হচ্ছে। বলছি পাকিস্তানের স্পিড স্টার শোয়েব আখতারের কথা।

বাইশ গজে পা রাখার পর থেকে গতির সঙ্গে কখনো আপস করেননি শোয়েব। তাই তো ইনজুরি ছিল নিত্যসঙ্গী, আর ছিল বিতর্ক। সবমিলিয়ে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার ১৪ বছরের। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান এই পাকিস্তানি পেসার।

এরপর থেকে ছোটপর্দায় বিভিন্ন রিয়েলিটি শো এবং ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে প্রায়ই দেখা যায় তাকে। তবে মাঠের ক্রিকেটে আবারও ফিরতে চলেছেন পাকিস্তানের এই গতিতারকা।

এক ভিডিও বার্তায় এমনই আভাস দিয়েছেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘হ্যালো বন্ধুরা, ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখটা ক্যালেন্ডারে মার্ক করে নিও। আমি আসছি লিগ খেলতে। বাচ্চাদেরও তো জানা উচিত গতি কাকে বলে!’

ঠিক কীভাবে আর কোথায় ফিরছেন তিনি সে ব্যাপারে ক্রিকেটবিশ্বকে ধোঁয়াশায় রেখে দিয়েছেন শোয়েব। তবে তার ভিডিও বার্তা দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে গিয়েছেন তার সাবেক সতীর্থ ও আরেক কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। টুইট করে জিজ্ঞাসা করেছেন খবরটা সত্যি কি না!

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, ‘প্রকৃত পক্ষে কি হচ্ছে? তুমি কি ফিরে আসছো? যদি সত্যি হয়, তাহলে বাচ্চারা কিছু তেজি মনোভাব শিখতে পারবে।’

এদিকে শোয়েব আখতারের এই ভিডিও পোস্ট করার পর, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ব্যপক তোলপাড় শুরু হয়। তাহলে কি বল হাতে সত্যি ফিরছেন শোয়েব। কারণ শোয়েবের বক্তব্যে লিগ শব্দটির যে উল্লেখ রয়েছে।

ভারতীয় ভিসা আবেদন পত্রে সঠিকভাবে ডকুমেন্টস সাজাবেন যেভাবে

ভারতীয় ভিসা আবেদন পত্রে সঠিকভাবে ডকুমেন্টস সাজাবেন যেভাবে

দেশের বাইরে যারা যান, তাদের অনেকেরই প্রথম পছন্দ থাকে ভারতে ভ্রমণ। প্রতিবেশী দেশ, তাছাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তায় যাওয়া আসা করা যায় বলে এই দেশের প্রতি অনেকেরই আগ্রহ আছে। কিন্তু ভারতীয় ভিসা নেবার সময় হয়ে যায় নানা রকম সমস্যা। সঠিকভাবে ডকুমেন্ট জমা না দেবার কারণে অনেক সময়ই ভিসা রিজেক্ট হয়ে থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সব ডকুমেন্ট ঠিকভাবে দেয়া থাকলেও সঠিক ভাবে সাজিয়ে দেয়া হয়নি বলে সমস্যা হয়ে গেছে।

আজ আসুন, দেখে নেয়া যাক কি কি ডকুমেন্ট লাগবে এবং কিভাবে সেগুলো সাজাবেন আপনি জমা দেবার সময়।

* অনলাইনে পূরণ করা ভিসা আবেদন এর প্রিন্ট কপি।

* জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি / জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি।

* বিদ্যুৎ / গ্যাস / পানি / টেলিফোন যেকোন একটা বিল এর স্পষ্ট কপি। কপি স্পষ্ট না হলে আসল কপিটি সাথে রাখতে হবে মিলিয়ে দেখাবার জন্য।

* ডলার এনডোর্সমেন্ট এর কপি / ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর এর কপি / ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ড উভয় পৃষ্ঠার কপি (কার্ডের শুরুর বা শেষের কিছু নাম্বার মুছে দেবেন, সিভিসি নম্বরও মুছে দেবেন ফটোকপি থেকে।)

* ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স / এন ও সি চাকুরীজীবিদের জন্য /  স্টুডেন্টদের জন্য প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এবং এন ও সি।

* নিশ্চিত টিকিটের ফটোকপি, আসলটি পাসপোর্টের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। (যাদের জন্য প্রযোজ্য।)

* ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীর পাসপোর্টের ফটোকপি।

* নিজের সাথে সাথে পরিবারের অন্য কারও ভিসার আবেদন জমা দিতে প্রত্যেক ভিসার আবেদন এর সাথে নিজের পাসপোর্টের ফটোকপি যোগ করতে হবে।

* সকল পুরাতন পাসপোর্ট সাথে রাখতে হবে, যদি দেখতে চাওয়া হয় এই কারণে।

এবারে আসুন এই ডকুমেন্টগুলো সাজিয়ে নেয়া যাক।

১. ভারতীয় ভিসার আবেদন পত্র অনলাইনে পুরণ করে প্রিন্ট করে নিন। খেয়াল করুন সবার নিচে বারকোড অংশটি ঠিকভাবে প্রিন্ট হয়েছে কী না।

২. ভিসার আবেদনে অবশ্যই অনলাইনে আপলোড করা ছবি থাকতে হবে।

৩. ভিসার আবেদনে দুই জায়গায় স্বাক্ষর করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

৪. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি / জন্ম নিবন্ধন এর কপি।

৫. বিদ্যুৎ / গ্যাস / পানি / টেলিফোন বিল এর স্পষ্ট কপি। কপি স্পষ্ট না হলে আসল কপিটি সাথে রাখতে হবে মিলিয়ে দেখাবার জন্য।

৬. ডলার এনডোর্সমেন্ট এর কপি / ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর কপি / ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ড দুপাশ এর কপি।

৭. ট্রেড লাইসেন্স / এন ও সি / স্টুডেন্টদের জন্য আইডি কার্ড এর কপি।

৮. নিশ্চিত টিকিটের ফটোকপি, আসলটি পাসপোর্টের পেছনের কভার পাতার সাথে সংযুক্ত করতে হবে স্টেপল করে।

৯. ভিসা আবেদনকারীর পাসপোর্টের ফটোকপি।

১০. পরিবারের অন্য কারও হয়ে ভিসার আবেদন জমা দিতে একই সাথে নিজের পাসপোর্টের কপিও দিতে হবে।

সঠিকভাবে না সাজিয়ে দিলে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে এবং আপনি যে ফি জমা দিয়েছেন তা ফেরত পাবেন না। সুতরাং ভারতীয় ভিসা আবেদনে জমা দেবার সময় একটু খেয়াল করতে হবে আপনার সব ডকুমেন্ট সঠিকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে কিনা।

বাসে পাশের ছিটে অপরিচিত মেয়ে, সাবধান!

বাসে পাশের ছিটে অপরিচিত মেয়ে, সাবধান

সোহাগ তালুকদার। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর। সোহাগের বিবিএ পরীক্ষা শেষ হয়েছে ২০১৫ সালে। সোহাগের বড় ভাই কোন এক কোম্পানিতে চাকরি করে। ছোট ভাই করছেন পড়াশোনা। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে।

হঠাৎই সোহাগের বাবা মারা যান। এরপর পরিবারের হাল ধরতে হয় সোহাগকে। তাই সোহাগ জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান ঢাকায়।

পরিচিত এক লোকের মাধ্যমে একটা চাকরিও পান। সাতজনের একটা টিমে জয়েন করে সোহাগ। বেতনের টাকায় ভালোই চলছিল। নিজের খরচের পর বাকি টাকা বাড়ি পাঠেয়ে দিতো সোহাগ।

এরপর একদিন অফিসের বাইরে ভিজিট শেষে বাসায় ফেরার জন্য টিকিট কেটে বাসে ওঠে সোহাগ। প্রতিদিনের চেয়ে আজ বাসে যাত্রী কম ছিল। সোহাগ গিয়ে একটা ছিটে বসল। এরপর কিছুক্ষণ বাদেই একটা মেয়ে ওঠে বাসে। অনেক ছিট খালি থাকার পরেও মেয়েটা গিয়ে সোহাগের পাশের ছিটে বসে।

একপর্যায়ে বাস চলা শুরু করলে সোহাগের পাশের ছিটের মেয়েটা সোহাগকে বলল তিনি তার পারসোনাল কিছু বিষয় শেয়ার করতে চায় সোহাগের সাথে কিন্তু সোহাগ জানান তিনি তার কথা শুনতে চান না। এরপর মেয়েটিও চুপ হয়ে থাকে। পাঁচ মিনিট পরে মেয়েটা কান্না শুরু করে। এতে বেশ হতবাক হয়ে যায় সোহাগ।তিনি মেয়েটির কাছে জানতে চান, কেন কাঁদছেন?

এরপর মেয়েটি জানায়, তার বাবা-মা সারাদিন ঝগড়া করে। কেউ তাকে সময় দেন না। তিনি খুবই কষ্টে আছে। এরপর সোহাগ মেয়েটির সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়েটি জানান, তিনি তিতুমীর কলেজে অনার্স সেকেন্ডে ইয়ারে পড়েন। আর পাশাপাশি তিনি টিউশন করান।

এরপর মেয়েটি জানান তার রিলেশনের পর তিনবছরের মাথায় ব্রেকআপ হয়ে গেছে। মেয়েটি জানতে চায় সোহাগ কোথায় থাকে। সোহাগও সরল মনে জানান, তিনি থাকেন বাড্ডায়। এরপর মেয়েটি জানায় তিনি থাকেন নতুনবাজার। সোহাগ মেয়েটির নাম জানতে চাইলে তিনি জানান তার নাম লাবনী।

এরপর বাস আরও কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পর লাবনী জানতে চান হাতিরঝিল কোথায়। সোহাগ রাস্তা বলে দিলে কান্না শুরু করেন লাবনী। বলেন, তার মতো একটা মেয়ে কিভাবে একা হাতিরঝিল যাবে। তিনি সোহাগকে অনুরোধ করেন সোহাগও যেন তার সাথে হাতিরঝিল পর্যন্ত যায়। লাবনী বলেন, তার মনের যে অবস্থা তাতে হাতিরঝিল গেলে তার কিছুটা ভালো লাগবে।

এরপর নানান দিক চিন্তা করে লাবনীর সাথে হারিরঝিলে যায় সোহাগ। কিছুক্ষণ পর সোহাগ ফোন দেন তার হাতিরঝিলে পাশে থাকা বড় ভাইকে। সেই বড় ভাই আসার পর লাবনী আর সোহাগের সেই বড় ভাইসহ তারা এক রেস্টুরেন্টে খেতে বসে। এরই এক পর্যায়ে সোহাগকে এক বোতল কোক কিনে আনতে বলে লাবনী। তারপর সোহাগ কোক কিনে আনলে তার অর্ধেকটা লাবনী খেয়ে বাকি অর্ধেকটা দিয়ে দেয় সোহাগকে। পরে সোহাগ সেই কোক খাওয়ার পর জানায়, তার প্রচন্ড ঘুম আসতেছে। এরপর সোহাগের বড়ভাই সোহাগের অবস্থা দেখে তাকে বাসায় নিয়ে যেতে চাইলে লাবনী বাধ সাথে।

সে বলে, আমি সোহাগকে ভালোবাসি, আমি ওকে নিয়ে যাব আপনি কে? সোহাগের পক্ষে তখন কোন কথা বলা সম্ভব ছিল না। শেষ পর্যন্ত সোহাগকে নিয়ে সোহাগের বড় ভাই ও লাবনী বাসে ওঠে বাসায় ফেরার জন্য। পথিমধ্যে লাবনী সোহাগের বড় ভাইকে গালিগালাজ করে এবং আশ-পাশের মানুষকে জানায় সোহাগের বড়ভাই তার গায়ে হাত দিয়েছে এবং অনেকক্ষণ ধরে তিনি ওদের সাথে সাথে ঘুরছেন। একপর্যায়ে বাসের লোক মারধরের পর সোহাগের বড় ভাইকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। এরপর বাস চলতে শুরু করলে কিছুকণ পর যখন বাসের সব যাত্রী নেমে যায় তখন বাসের হেল্পার সোহাগকে ডেকে তোলেন এবং জানতে চান তিনি কোথায় যাবে।

পরে সোহাগ দেখতে পান তার পাশে কেউ নেই। পুরো বাস ফাঁকা। সোহাগ আরও দেখতে পান তার মানিব্যাগ, মোবাইল কিছুই নেই। তখন পুরো বিষয়টা বুঝতে পারে সোহাগ!

নতুন জালিয়াতি ‘সিম সোয়াপ’ – সতর্ক থাকুন

নতুন জালিয়াতি ‘সিম সোয়াপ’
ছবি: ইন্টারনেট

ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিংসহ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমগুলোতে জালিয়াতির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

একটু সতর্ক থাকলে এই ধরনের জালিয়াতির হাত থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া সম্ভব। পাঠকদের সুবিধার্থে সিম সোয়াপ জালিয়াতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার কয়েকটি সতর্কতামূলক কৌশল তুলে ধরা হলো এই লেখায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক —

টাকা তোলার জন্য ডেবিট কার্ড বা এটিএম ব্যবহার না করলেও ব্যাংক জালিয়াতদের কবলে পড়ার আশঙ্কা কিন্তু থেকেই যায়! কারণ, আপনার মোবাইল নম্বর আপনার সবকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত করা থাকে। আর আপনার এই রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরের সঙ্গে লিংক করে যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে প্রতারকরা।

প্রতারক আপনাকে সিম আপগ্রেডেশন-এর নাম করে ২০ সংখ্যার একটি সিম কার্ড নম্বর এসএমএস করতে পারে। এর পর আপনাকে আপনার নম্বরটি পাঠাতে বলতে পারে এবং ‘১’ টিপে এসএমএস কনফার্ম করতে বলতে পারে। এরই সঙ্গে ‘আপনি আপনার নতুন সিম কার্ড ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পেয়ে যাবেন’, এ কথাও বলা হতে পারে। সাবধান, নির্দেশ মেনে আপনি ‘১’ প্রেস করলেই আপনার সিম কার্ডটি ডিঅ্যাক্টিভেট হয়ে যেতে পারে। আর তার পরেই আপনার সিমের সঙ্গে যুক্ত যাবতীয় তথ্য চলে যাবে ওই প্রতারকের কাছে। একেই বলে ‘SIM SWAP’ জালিয়াতি। এর পর আপনার ওই নম্বরের সঙ্গে যে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো যুক্ত করা রয়েছে, সেখানে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) জেনারেট করে আপনার ব্যাংক থেকে টাকা লোপাট করার অবাধ সুযোগ পেয়ে যাবে হ্যাকাররা। এ দিকে আপনার সিম ডিঅ্যাক্টিভেট থাকায় অবৈধ লেনেদেনের কোনো এসএমএস অ্যালার্টও আপনি পাবেন না।

যে বিষয়গুলো আপনার গোপন রাখা প্রয়োজন

কখনো আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য অন্য কাউকে জানাবেন না। অনেক সময় বড় অফারের লোভ দেখানো হয়। এমন লোভনীয় অফারে পড়ে আপনার মোবাইল নম্বর কোনো ওয়েবসাইটে দিবেন না।

আপনার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট মাঝ মাঝে চেক করুন। আপনার অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনো এসএমএস বা ওটিপি সম্পর্কে কারও কাছে শেয়ার করবেন না।

যে শাখায় আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি চালু করেছেন সেখানে গিয়ে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ‘ইনস্ট্যান্ট অ্যালার্ট’ সার্ভিসটি চালু করে নিন। এতে করে আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন।

কখনো কেউ যদি আপনার মোবাইলের সিম আপগ্রেডেশন বা সিম ব্লক করার কথা বলে তাহলে তার সঙ্গে কোনো রকম তর্কে না জড়িয়ে কলটি কেটে দিন। অনেক সময় জালিয়াত চক্রের লোকজন বলে সে মোবাইল নেটওয়ার্কের কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন করেছে। এমন বললেও আপনি তাতে গুরুত্ব দিবেন না। এমন সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের জানান।

ইলিশ মাছের ২২টি রেসিপি

ইলিশ মাছের ২২টি রেসিপি

ইলিশ পোলাও

উপকরণ :
১. পোলাওয়ের চাল ২ কাপ,
২. ইলিশের টুকরা ৬-৭টি (বড় ইলিশ),
৩. টকদই আধা কাপ,
৪. আদাবাটা ১ টেবিল-চামচ,
৫. কাঁচা মরিচ ৬-৭টি,
৬. তেল ২ টেবিল-চামচ, ৬. ঘি আধা কাপ ,
৭. পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ,
৮. লবণ পরিমাণমতো,
৯. পেঁয়াজকুচি কোয়ার্টার কাপ,
১০. পেঁয়াজবাটা কোয়ার্টার কাপ,
১১. দুধ আধা কাপ,
১২. লেবুর রস ২ টেবিল-চামচ।

প্রণালি :
কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি হালকা ভেজে নিন। এবারে আদা, দই, পেঁয়াজবাটা ও পরিমাণমতো লবণ দিয়ে কষিয়ে ইলিশ মাছ ও লেবুর রস দিয়ে মৃদু আঁচে ঢেকে দিন। ১০ মিনিট পর মাছের টুকরাগুলো ঝোল রেখে তুলে নিন। ঝোলের কড়াইতে ঘি এবং অর্ধেক বেরেস্তা দিয়ে একটু রান্না করে চাল দিয়ে কষিয়ে গরম পানি (৪ কাপ) ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে এলে কিছু পোলাও উঠিয়ে নিন। মাছের টুকরোগুলো পোলাওয়ের উপর বিছিয়ে দিন। এবার তুলে নেওয়া পোলাও, মাছের উপর দিয়ে বাকি বেরেস্তা ও দুধ দিয়ে ঢেকে দমে দিন। ১৫-২০ পর হয়ে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

অরেঞ্জ ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ ৮ টুকরা,
২. কমলা লেবুর রস ৩ কাপ,
৩. পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল-চামচ,
৪. তেল কোয়ার্টার কাপ,
৫. লবণ পরিমাণমতো,
৬. চিনি আধা চা-চামচ,
৭. মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৮. হলুদগুঁড়া সামান্য,
৯. কমলার খোসা (গ্রেট করা) ১ টেবিল-চামচ

প্রণালি :
বাটিতে পরিমাণমতো লবণ ও সামান্য হলুদ, মরিচগুঁড়া মাখিয়ে মাছের টুকরোগুলো ১৫ মিনিট রেখে দিন। কড়াইতে তেল গরম করে মাছগুলো হালকা ভেজে তুলে নিন। এবার ভাজা তেলে একে একে সব মসলা দিয়ে একটু ভুনে নিন। এবারে কমলার রস ও কমলার খোসা দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে মাছ দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে দিন। ১৫-২০ মিনিট পর নামিয়ে নিন।

সরষে ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ বড় ১টি,
২. সরিষা বাটা কোয়ার্টার কাপ,
৩. সরিষার তেল আধা কাপ,
৪. হলুদ সামান্য,
৫. মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৬. আস্ত কাঁচা মরিচ ফালি ৫-৬টি,
৭. লবণ পরিমাণমতো,
৮. লেবুর রস ২ টেবিল-চামচস

প্রণালি :
সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। এবারে আধা কাপ পানি মিশিয়ে চুলায় মৃদু আঁচে বসিয়ে ঢেকে দিন। মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিন।

ময়ানে ভাজা ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছের টুকরা ৬টি,
২. ময়দা ২ টেবিল-চামচ,
৩. মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৪. কাঁচা মরিচবাটা আধা চা-চামচ,
৫. লবণ পরিমাণমতো,
৬. লেবুর রস ১ চা-চামচ,
৭. হলুদগুঁড়া সামান্য,
৮. ডিম ১টি,
৯. ব্রেড ক্রাম আধা কাপ,
১০. ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো

প্রণালি :
ব্রেড ক্র্যাম ও ডিম বাদে সব মাখিয়ে মাছের টুকরোগুলো ১ ঘণ্টা রেখে দিন। কড়াইতে তেল গরম করুন। ডিম ফেটে নিয়ে, মাছের টুকরোগুলো ডিমে ডুবিয়ে, ব্রেড ক্রাম গড়িয়ে ডুবো তেলে সোনালি রঙ করে ভেজে নিন।

ইলিশ কোফ্তা কারি

উপকরণ :

ধাপ -১
১. ইলিশ মাছের সেদ্ধ কিমা ২ কাপ,
২. ডিম ফেটানো ১টি,
৩. পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ,
৪. কাঁচা মরিচকুচি ১ টেবিল-চামচ,
৫. লবণ পরিমাণমতো,
৬. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ,
৭. ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল-চামচ,
৮. টমেটো সস ১ টেবিল-চামচ,
৯. টোস্টের গুঁড়া আধা কাপ,
১০. পাউরুটির (সাদা অংশ) ১ পিস,
১১. ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো

ধাপ -২
১. পেঁয়াজবাটা পৌনে এক কাপ,
২. টকদই ২ টেবিল-চামচ,
৩. মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ,
৪. জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৫. আদাবাটা আধা চা-চামচ,
৬. টমেটো সস ১ টেবিল-চামচ,
৭. লবণ পরিমাণমতো,
৮. চিনি ১ চিমটি,
৯. তেল কোয়ার্টার কাপ,

প্রণালি :

ধাপ -১
একটি পাত্রে সব উপকরণ ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। মাখানো উপকরণ ৮-১০ ভাগ করে গোলকার করে কোফ্তা বানিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে কোফ্তা বাদামি করে ভেজে নিন।

ধাপ -২
কড়াইতে তেল গরম করে সব মসলা কষিয়ে নেয়ার পর দই, সস ও সামান্য দিয়ে নেড়ে দিন। এবারে কোফ্তাগুলো দিয়ে হালকা আঁচে ঢেকে দিন। ঝোল মাখা মাখা হলে চিনি দিয়ে নেড়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ভাতে ভাপা ইলিশ

উপকরণ :
১. বড় ইলিশ মাছের ৬-৮ টুকরা,
২. কাঁচা মরিচকুচি ৫-৬টি,
৩. সরিষার তেল ৩ টেবিল-চামচ,
৪. লবণ পরিমাণমতো,
৫. হলুদগুঁড়া সামান্য,
৬. পেঁয়াজ মিহি কুচি আধা কাপ,
৭. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ,
৮. লাউপাতা ৬টি

প্রণালি :
সব উপকরণ মাখিয়ে মাছের টুকরোগুলো ৩০ মিনিট রেখে দিন। লাউপাতায় মধ্যে মাখানো মাছের একটি টুকরো রেখে পাতাটি ভাঁজ করে উল্টিয়ে রাখুন, যাতে খুলে না যায়। এভাবে সবগুলো তৈরি করে নিন। এবারে মাড় গলানো গরম ভাতের হাঁড়ি মৃদু আঁচে চুলায় বসিয়ে রাখুন। হাঁড়ির মাঝখান থেকে কিছু ভাত সরিয়ে, লাউপাতায় মোড়ানো মাছগুলো বিছিয়ে রাখুন। উপরে তুলে নেওয়া ভাতগুলো দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। ভাত সরিয়ে মাছগুলো সাবধানে তুলে পাতাসহ পরিবেশন করুন।

লেবু ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ ৬-৭ টুকরা,
২. পেঁয়াজবাটা ১ কাপ,
৩. তেল আধা কাপ,
৪. হলুদ সামান্য,
৬. আস্ত কাঁচা মরিচ ফালি ৪-৫টি,
৭. লবণ পরিমাণমতো,
৮. লেবুর রস কোয়ার্টার কাপ,
৯. আদাবাটা ১ চা-চামচ,
১০. লেবুর খোসা (গ্রেট করা) আধা চা-চামচ

প্রণালি :
লেবুর খোসা বাদে সব উপকরণ মাখিয়ে মাছের টুকরোগুলো ৩০ মিনিট রেখে দিন। মেরিনেট করা মাছ মৃদু আঁচে চুলায় বসিয়ে ঢেকে দিন। ৭-৮ মিনিট পর মাছগুলো উল্টে দিয়ে আবার ঢেকে দিন। মাখা মাখা হলে লেবুর খোসা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

আস্ত বেকড ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ ১টা,
২. লাল মরিচগুঁড়া ১ টেবিল-চামচ,
৩. পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল-চামচ,
৪. টকদই ২ টেবিল-চামচ,
৬. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ,
৭. ভিনেগার ১ টেবিল-চামচ,
৮. সরিষার তেল ৩-৪ টেবিল-চামচ,
৯. লবণ পরিমাণমতো,
১০. কাঁচা মরিচ (চপ করা) ৩-৪টি,
১১. আদার রস ১ টেবিল-চামচ,
১২. তন্দুরি মসলা ১ চা-চামচ,
১৩. অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল

বাহারি আস্ত ইলিশ প্রণালি :
আস্ত মাছকে ছুরি দিয়ে চিরে দিন, যাতে মসলা ভেতরে যেতে পারে। এবার লবণ মাখিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিন। বাটিতে সব মসলা মাখিয়ে নিন। মাখানো মসলা মাছের দুই পাশে ভালোভাবে লাগিয়ে ফয়েলের উপর রেখে ফয়েলটি মুড়িয়ে নিন। আভেন ফ্রি হিট করে ১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৩০-৪০ মিনিট বেক করে নামিয়ে নিন। লেবু চাক চাক করে কেটে, মাছের চিড়ে নেওয়া জায়গাগুলোতে ঢুকিয়ে পরিবেশন করুন।

ইলিশ কাসুন্দি

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ ৬ টুকরা,
২. কাসুন্দি আধা কাপ,
৩. হলুদগুঁড়া কোয়ার্টার চা-চামট,
৪. মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৫. লবণ পরিমাণমতো,
৬. কাঁচা মরিচ ৪-৫টি,
৭. তেল কোয়ার্টার কাপ

প্রণালি :
কড়াইতে সব উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে মাছ টুকরোগুলো ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। এবার চুলা জ্বালিয়ে উপরে মাখানো মাছের কড়াইটি দিয়ে মৃদু আঁচে ঢেকে দিন। ১৫ মিনিট পর মাছ সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন।

ইলিশ পাতুরি

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ ৬ টুকরো,
২. সাদা সরষেবাটা ১ টেবিল-চামচ,
৩. কাঁচা মরিচবাটা ১ চা-চামচ,
৪. আস্ত কাঁচা মরিচ ৩-৪টি (লম্বা ফালি করা),
৫. হলুদগুঁড়া কোয়ার্টার চা-চামচ,
৬. লবণ স্বাদমতো,
৭. কলাপাতা,
৮. সুতা,
৯. সরিষার তেল ৩ টেবিল-চামচ,
১০. সরিষার তেল পরিমাণমতো শ্যালো ফ্রাইয়ের জন্য

প্রণালি :
মাছের সঙ্গে সব মসলা মাখিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। মাখানো মাছ কলাপাতায় মুড়ে সুতা দিয়ে বেঁধে দিন। মুড়ানোর সময় একটি কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে দিন। প্যানে তেল গরম করে অল্প আঁচে এপিঠ-ওপিঠ করে ভেজে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। পাতা পোড়া পোড়া হলে নামিয়ে নিন।

কাঁটা গলানো ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছের টুকরা ৬-৮টি,
২. হলুদগুঁড়া সামান্য,
৩. মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ,
৪. লবণ পরিমাণমতো,
৫. টকদই ২ টেবিল-চামচ,
৬. আদাবাটা কোয়ার্টার চা-চামচ,
৭. কাঁচা মরিচ ৬-৭টি,
৮. তেল কোয়ার্টার কাপ,
৯. পানি ১ কাপ

প্রণালি :
বাটিতে মাছের সঙ্গে সব উপকরণ মাখিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন (পানি বাদ দিয়ে)। চুলার উপর প্রেশারকুকার বসিয়ে মেরিনেট করা মাছ ও পানি দিয়ে মৃদু আঁচে কুকারের ঢাকনা লাগিয়ে ২৫ মিনিট রেখে দিন। ২৫ মিনিট পর মাছের কাঁটাগুলো নরম হয়ে যাবে। কুকার থেকে মাছের টুকরোগুলো না ভেঙে সাবধানে তুলে নিয়ে পরিবেশন করুন। সাধারণ হাঁড়িতে ১ ঘণ্টা রান্না করতে হবে।

টক মিষ্টি ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ ৬-৭ টুকরা,
২. পেঁয়াজবাটা আধা কাপ,
৩. পেঁয়াজকুচি কোয়ার্টার কাপ,
৪. তেল ১/৩ কাপ,
৫. হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৬. মরিচগুঁড়া ১ টেবিল-চামচ,
৭. আস্ত কাঁচা মরিচ ফালি ৪-৫টি,
৮. লবণ পরিমাণমতো,
৯. তেঁতুলের মাড় কোয়ার্টার কাপ,
১০. আদাবাটা ১ চা-চামচ,
১১. চিনি কোয়ার্টার কাপ,
১২. পাঁচফোড়ন (ভাজা গুঁড়া করা) কোয়ার্টার চা-চামচ,
১৩. কালিজিরা কোয়ার্টার চা-চামচ

প্রণালি :
মাছের টুকরোগুলো সামান্য হলুদ, মরিচগুঁড়া ও লবণ, মাখিয়ে হালকা করে ভেজে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি বাদামি করে ভেজে নিন। তেঁতুলের মাড় কাঁচা মরিচ ও চিনি বাদে একে একে সব উপকরণ দিয়ে কষিয়ে মাছের টুকরোগুলো দিয়ে ভুনে নিন। এবার বাকি উপকরণ দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

স্মোকড ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছের টুকরা ৬-৮টি,
২. হলুদগুঁড়া সামান্য,
৩. মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৪. লবণ পরিমাণমতো,
৫. টমেটো সস ১ চা-চামচ,
৬. ভিনেগার ১ চা-চামচ,
৭. আদাবাটা ১ চা-চামচ,
৮. পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল-চামচ,
৯. তেল কোয়ার্টার কাপ,
১০. কাঠকয়লা ও ফয়েল

প্রণালি :
একটি কড়াইতে মাছের সঙ্গে সব উপকরণ মাখিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন। কড়াইটি চুলার উপর বসিয়ে মৃদু আঁচে ঢেকে দিন ১ ঘণ্টা। ঝোল শুকিয়ে একটু পোড়া ভাব হলে নামিয়ে নিন। মাছের টুকরোগুলো আলতো করে তুলে (ঝোলসহ) কাচের ঢাকনাসহ বাটিতে রাখুন। এবার ফয়েলের বাটি বানিয়ে কাচের বাটিতে (মাছের উপর) রেখে, কয়লা চুলার উপর দিয়ে লাল করে ফয়েলের বাটির উপর রাখুন। এবারে সামান্য ঘি, লাল করা কয়লার উপর দিয়ে স্মোক করে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। কয়েক মিনিট রেখে ঢাকনা খুলে কাঠকয়লা ও ফয়েল ফেলে পরিবেশন করুন।

ইলিশ কোরমা

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ ৬ টুকরা,
২. পেঁয়াজকুচি আধা কাপ,
৩. আদাবাটা ১ চা-চামচ,
৪. চিনি স্বাদমতো,
৫. বাদামবাটা ১ টেবিল-চামচ,
৬. কাঁচা মরিচ ৪-৫টি,
৭. লবণ স্বাদমতো,
৮. তেল কোয়ার্টার কাপ,
৯. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ,
১০. গুঁড়া দুধ ১ টেবিল-চামচ

প্রণালি :
কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ হালকা ভেজে নিন। সামান্য পানি দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। লবণ, চিনি, বাদামবাটা, গুঁড়া দুধ দিয়ে একটু নেড়ে, কাঁচা মরিচ ও ইলিশ মাছ দিয়ে মৃদু আঁচে ঢেকে দিন। ১০-১৫ মিনিট রান্না করে নামিয়ে নিন।

ইলিশে কাবাব

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ আস্ত ১টি,
২. গোলমরিচগুঁড়া ১ টেবিল-চামচ,
৩. পেঁয়াজকুচি আধা কাপ,
৪. কাঁচা মরিচকুচি ১ টেবিল-চামচ,
৫. টমেটো সস ২ টেবিল-চামচ,
৬. আলু ম্যাশড্ ১ কাপ,
৭. ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল-চামচ,
৮. রসুন ২ কোয়া (কুচি),
৯. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ,
১০. লবণ স্বাদমতো,
১১. তেল আধা কাপ,
১২. পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ,
১৩. লেবুর খোসা (গ্রেট করা) কোয়ার্টার চা-চামচ,
টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়া ১ কাপ

প্রণালি :
মাছের মাথা ও লেজ কেটে আলাদা করুন। সামান্য হলুদ, মরিচগুঁড়া ও পরিমাণমতো লবণ মাখিয়ে মাথা ও লেজ হালকা ভেজে নিন। এবার বাকি মাছ লবণ, লেবুর রস ও সামান্য পানি দিয়ে সেদ্ধ করে কাঁটা বেছে নিন।

কড়াইতে তেল গরম করে রসুন ও পেঁয়াজকুচি হালকা ভেজে মাছের কিমা দিয়ে নাড়তে থাকুন। দু-এক মিনিট পর সেদ্ধ আলু দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করে, একে একে গোলমরিচগুঁড়া, কাঁচা মরিচকুচি, স্বাদমতো লবণ, টমেটো সস দিয়ে রান্না করে নামিয়ে ঠা-া করে নিন। অন্য একটি প্যানে সামান্য তেল দিয়ে বিস্কুটের গুঁড়া বাদামী করে ভেজে নিন। এবারে রান্না করা কিমার সঙ্গে ধনেপাতাকুচি, লেবুর খোসা ও বেরেস্তা ভেঙে আলতো করে মাখিয়ে নিন। সার্ভিং ডিশে দুই পাশে ভাজা লেজ ও মাথা রেখে, মাঝখানে মাখানো কিমা সাজিয়ে আস্ত মাছের মতো বানিয়ে নিন। সাজানো কিমার ওপর ভাজা বিস্কুটের গুঁড়া ছড়িয়ে চেপে দিন। কিমার উপর চা-চামচ দিয়ে মাছের আঁশের মতো বানিয়ে পরিবেশন করুন।

দই ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ ৬ টুকরা (মাছের টুকরোগুলো লবণ মাখিয়ে ধুয়ে রাখুন) ,
২. তেল কোয়ার্টার কাপ,
৩. পেঁয়াজবাটা আধা কাপ,
৪. হলুদগুঁড়া ১ চিমটি,
৫. কাঁচা মরিচবাটা ১ চা-চামচ,
৬. টকদই ২ কাপ,
৭. আদাবাটা আধা চা-চামচ,
৮. লবণ পরিমাণমতো,
৯. চিনি আধা চা-চামচ (বা প্রয়োজনমতো)

প্রণালি :
কড়াইয়ে তেল গরম করে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার দই দিয়ে নেড়ে মাছের টুকরোগুলো দিন। চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে ঢেকে দিন। ১৫-২০ মিনিট পর তেল ভেসে উঠলে চিনি দিয়ে নামিয়ে নিন।

নোনা ইলিশ ভুনা

উপকরণ :
১. নোনা ইলিশ ১টি,
২. পেঁয়াজকুচি আধা কাপ,
৩. কাঁচা মরিচ ৫-৬টি,
৪. হলুদের গুঁড়া ১ চা-চামচ,
৫. মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ,
৬. আদাবাটা আধা চা-চামচ,
৭. জিরাবাটা ১ চা-চামচ,
৮. পেঁয়াজবাটা ১ টেবিল-চামচ,
৯. মেথি ৫-৬টি,
১০. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ

প্রণালি :
নোনা ইলিশের টুকরোগুলো প্রথমে পানিতে ধুয়ে লবণ সরিয়ে নিন। এবার কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। কড়াইতে তেল গরম করে তাতে মেথি দিয়ে নেড়েচেড়ে মেথিগুলো ছাঁকনি তুলে নিন। এতে মেথির ফ্লেভার আসবে। এবারে পেঁয়াজকুচি হালকা ভেজে, একে একে সব উপকরণ দিয়ে (লেবুর রস বাদে) কষিয়ে নিন। মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে কড়াইতে দিয়ে ভুনতে থাকুন। প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন, যাতে কড়াইতে লেগে না যায়। তেল ভেসে উঠলে লেবুর রস দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ইলিশ মালাইকারি

উপকরণ :
১. ইলিশ ৬-৮ টুকরা ,
২. পেঁয়াজবাটা ১ কাপ,
৩. আদাবাটা ১ চা-চামচ,
৪. পোস্তবাটা ১ টেবিল-চামচ,
৫. শুকনো মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৬. কাঁচা মরিচ ৩-৪টি,
৭. লবণ পরিমাণমতো,
৮. তেল ১ কাপ,
৯. নারকেলের দুধ ২ কাপ,
১০. চিনি স্বাদমতো,
১১. মালাই ৪ টেবিল-চামচ

প্রণালি :
কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে বেরেস্তা করে অর্ধেক বেরেস্তা উঠিয়ে রাখতে হবে। এবার কড়াইয়ে বেরেস্তার ভেতর এক কাপ করে সব বাটা ও গুঁড়ো মসলা কষিয়ে লবণ ও নারকেলের দুধ দিতে হবে। ফুটে উঠলে মাছ দিতে হবে, ঝোল কমে এলে নারকেলের মিষ্টি বুঝে চিনি দিতে হবে। বেরেস্তা হাতে ভেঙে গুঁড়ো করে দিতে হবে। তেঁতুলের মাড়, গরম মসলার গুঁড়ো, কাঁচামরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ চুলায় রেখে নামাতে হবে।

নারিকেল ইলিশ

উপকরণঃ
ইলিশ মাছ ৩/৪ টুকরা ,
সরিষার তেল ৪ টেবিল মচামচ ,
ছোট এলাচ থেঁতো করা ৩টা ,
আদা বাটা ১ চা চামচ ,
লেবুর রস ২ চা চামচ ,
মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ ,
ঘি ১ টেবিল চামচ ,
চিনি ১/২ চা চামচ ,
পেয়াঁজ বাটা ১ টেবিল চামচ ,
নারকেলের দুধ ১ কাপ ,
লবণ পরিমাণ মত ।

প্রণালী:
কড়াইতে তেল ও ঘি গরম করে ছোট এলাচ দিয়ে ফোড়ন দিতে হবে । এরপর পেয়াঁজ বাটা দিয়ে ভেজে নিতে হবে । আদা বাটা ও চিনি দিয়ে কষিয়ে নারকেলের দুধ , লবণ ও মাছ দিতে হবে ।মাছ রান্না হয়ে আসলে লেবুর রস দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। পরিবেশনের সময় নারিকেল কোড়া ছড়িয়ে দিতে হবে।

আনারস ইলিশ

উপকরণ :
১. ইলিশ মাছ ১টা (৮ টুকরা),
২. আনারস দেড় কাপ (গ্রেট করা),
৩. পেঁয়াজকুচি কোয়ার্টার কাপ,
৪. কাঁচা মরিচ ফালি ৪-৫টা,
৫. হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৬. মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ,
৭. আদাবাটা ১ চা-চামচ ,
৮. চিনি আধা চা-চামচ (বা প্রয়োজনমতো),
৯. তেল আধা কাপ,
১০. লবণ পরিমাণমতো

প্রণালি :
মাছের টুকরোগুলো লবণ ও লেবুর রস দিয়ে মাখিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি নরম করে ভাজুন। এবার হলুদগুঁড়া, আদাবাটা, লবণ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে কষান। গ্রেট করা আনারস দিয়ে নেড়ে ভালো করে কষিয়ে সামান্য পানি দিন। ফুটে উঠলে মাছগুলো দিয়ে মৃদু আঁচে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে মাখা মাখা হলে চিনি দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।

আস্ত ইলিশ রোস্ট

উপকরণ :

ধাপ -১
১. আস্ত ইলিশ ১টি,
২. লবণ পরিমাণমতো,
৩. মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ,
৪. ময়দা ১ টেবিল-চামচ,
৫. কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল-চামচ,
৬. লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ,
৭. ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো

ধাপ- ২
১. টমেটোকুচি আধা কাপ,
২. পেঁয়াজকুচি আধা কাপ,
৩. পেঁয়াজবাটা কোয়ার্টার কাপ,
৪. লবণ পরিমাণমতো,
৫. টমেটো সস কোয়ার্টার কাপ,
৬. আদাবাটা ১ চা-চামচ,
৭. টকদই ১ টেবিল-চামচ,
৮. মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ,
৯. তেল ১/৩ কাপ,
১০. হলুদগুঁড়া সামান্য,
১১. কাঁচা মরিচ ৪-৫টি

প্রণালি :

ধাপ -১
মাছটিকে ছুরি দিয়ে চিড়ে দিন, যাতে মসলা ভেতরে যেতে পারে। লবণ মরিচগুঁড়া, লেবুর রস মিশিয়ে মাছটি ১ ঘণ্টা রেখে দিন। কড়াইতে তেল গরম করুন। শুকনা ময়দা ও , কর্নফ্লাওয়ার একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে, মেরিনেট করা মাছটির দুই পাশে লাগিয়ে ডুবো তেলে বাদামি করে ভেজে নিন।

ধাপ -২
প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি হালকা ভেজে, একে একে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে (প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন), টমেটোকুচি দিয়ে ভুনে নিন। এবারে কাঁচা মরিচ ও টমেটো সস দিয়ে গ্রেভি করে নামিয়ে নিন। রোস্ট ইলিসের ওপর গ্রেভি দিয়ে পরিবেশন করুন।

ইলিশ ভিন্দালু

উপকরণ :
১. ৪৫০ গ্রাম ইলিশ স্টেক,
২. সিকি কাপ কুচি পেঁয়াজ,
৩. ১ চা-চামচ হলুদ গুঁড়া,
৪. আধা চা-চামচ লাল মরিচের গুঁড়া,
৫. ১ চা-চামচ ধনে গুঁড়া,
৬. ২টি কাঁচা মরিচ,
৭. সিকি কাপ রান্নার তেল,
৮. লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি :
সব গুঁড়া মসলা আধা কাপ পানিতে মেশান। গরম তেলে পেঁয়াজ দিন। এবার পানিতে গোলানো মসলা দিয়ে ২ মিনিট রান্না করুন। এবার এতে ৩ কাপ পানি, লবণ ও মাছ দিয়ে ঢেকে দিন। ফোটানো পানি না কমে আসা পর্যন্ত¯ রাখুন। আগুনের আঁচ থেকে নামানোর ৮ মিনিট আগে কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন।

লবণে বেকড ইলিশ

উপকরণ :
১. ১টি আস্ত ইলিশ,
২. ৩০ মিলিলিটার জলপাই তেল,
২. অল্প পরিমাণ ওরেগানো,
৩. রোজমেরি,
৪. জোয়ান,
৫. মৌরি,
৬. ১টি লেবু,
৭. পাতাসহ অর্ধেকটি পেঁয়াজকলি

লবণ ক্রাস্টের জন্য উপকরণ :
১. ৩ কেজি সাদা লবণ,
২. ৩ কেজি সামুদ্রিক লবণ,
৩. ৬টি ফেটানো ডিমের সাদা অংশ,
৪. সিকি লিটার পানি

লবণ ক্রাস্ট বানানোর প্রণালি :
ডিমের সাদা অংশ, লবণ ও পানি একসঙ্গে মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন।

প্রণালি :

না কেটে ও আকার পরিবর্তন না করে মাছটির ভেতরে ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। ওরেগানো, রোসমেরি, জোয়ান, মৌরি, অর্ধেকটি লেবু ও পেঁয়াজকলি মাছের ভেতরে ঢুকিয়ে দিন। অর্ধেক লবণ ক্রাস্ট নিয়ে সোয়া সেন্টিমিটার পুরু করে ইলিশের ওপর দিয়ে দিন। জলপাই তেল ব্রাশ দিয়ে এর ওপরে লাগান। এবার বাকি লবণটুকু এর ওপরে দিয়ে দিন। এবার মাছের আঁশ ও কানকো পরিষ্কার করে নিন। ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রিহিট করা ওভেনে ২ ঘণ্টা বেক করুন। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

যারা বাচ্চাকে সাড়ে ৩/৪ বছরে স্কুলে দিবেন ভাবছেন

যারা বাচ্চাকে সাড়ে ৩/৪ বছরে স্কুলে দিবেন ভাবছেন

আমাদের দেশের স্কুল মানেই একেবারে সিরিয়াস লেখাপড়া। আর আপনারা এখন খেলার ছলে শিখাচ্ছেন তাই শিখছে।স্কুল মানেই ৩টা সাবজেক্ট।যেগুলার ডেইলি হোম ওয়ার্ক থাকবে।ডেইলি স্কুলে লিখাবে।এরপর কিছুদিন পরপর পরীক্ষা!! এরপর বাচ্চাদের স্কুলের & পড়ালেখার প্রতি এক ধরনের অনিহা চলে আসে।

এরপর বাচ্চা যখন অনিহা দেখাবে তখন শুরু করবেন মারামারি!!আবার স্কুলও শুরু কবে বাচ্চার রেজাল্ট ভালো হচ্ছে না এইসব কথাবার্তা। ঢাকা শহরের ৮ বছর স্কুলে যাওয়া আশা + নিজের টিচিং অভিগ্যতা থেকেই বলছি।

এরপর মা হতাশ,বাবা,হতাশ,বাচ্চা আরো হতাশ।এই থেকে তৈরি হয় মানসিক ভয়।মা বাবার মধ্যে অস্থিরতা।

সবার প্রথমে A,B,C,D শিখাবেন।কারন বাংলার চেয়ে ইংরেজি সহজে শিখে।এরপর ১,২,৩ শিখাবেন।বাচ্চা যখন ৩ লিখতে শিখবে,তখন সে অ,আ, আর ই শিখবে।২ থেকে ই,আর ৩ থেকে অ,আ লিখতে শিখবে।এরপর 1.2.3 এইভাবে শিখাবেন।৫বছর আপনি ঘরে রেখে শিখানোটা উত্তম।এরপর তাকে নার্সারি তে দিয়ে দিবেন।তাহলে সে তাল মিলাতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

প্রবাসীর স্ত্রী সকল ভাবিদের জন্য সতর্কতা

প্রবাসীর স্ত্রী সকল ভাবিদের জন্য সতর্কতা

কারো হালকা প্রশংসায় গলে যাবেন না, প্রশংসাকারী থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন ।

১.ভাবী, আপনি দুই বাচ্চার মা! আপনাকে দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না, দেখে মনে হয়, মাত্র মাধ্যমিক পাশ করছেন! সিরিয়াসলি!

২. ম্যাডাম,একটা কথা বলবো অনেকদিন থেকে ভাবছি! কিন্তু বলবো বলবো করে বলা হচ্ছে না। আপনি এমনিতেই সুন্দর। কিন্তু

নাকের পাশের তিলটা আপনাকে একদম পরী বানিয়ে দিয়েছে। এত্ত সুন্দর। জাস্ট অসাধারণ লাগে!

৩. মন খারাপ কেন ভাবী,ঝগড়া টগড়া করলো নাকি? আপনার মতো এ রকম একটা মানুষের সাথেও ঝগড়া করা যায়? বিশ্বাসই হচ্ছে না!

৪. একটা কথা বলি আপু,কিছু মনে করবেন না তো? আপনার কণ্ঠটা এত্ত সুন্দর! কোনো প্রিয় গান বারবার শুনলেও যেমন বিরক্তি লাগে না, আপনার কথাবার্তাও স্টাইলও এরকম। টানা ২৪ ঘন্টা শুনলেও বোরিং লাগবে না!

৫. আপনি যা ইচ্ছা মনে করতে পারেন, আজ থেকে আপনাকে আর আন্টি ডাকবো না, বলে দিচ্ছি। হুঁ! দেখলে মনে হয় আবার বিয়ে দেওয়া যাবে, আর আপনাকে ডাকবো আন্টি? না, আর না!

৬. একটা কথা বলবো? নীল শাড়ীতে আপনাকে দারুণ মানিয়েছে! না না, তেল দিচ্ছি না, সত্যি বলছি! সত্যি অনেকটা কোয়েল মল্লিকের মতো লাগে আপনাকে!

৭ জন্মদিনে এবার কি কি করলেন আপনারা? আপনার ভাই অফিসের কাজে ব্যস্ত!!!!
কি যে বলেন! আমি এরকম একটা বউ পেলে জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক সপ্তাহের ছুটি নিতাম! হাসবেন না, সিরিয়াসলি!

বিঃ দ্রঃ – অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কিছু কিছু মানুষ আছে, নিজের অফিসের কলিগ,পাশের বাসার ভাবী,কিংবা বন্ধুর বউ,পরিচিত আপু ম্যাডামদের সাথে এভাবেই কথা বলে। আপাতদৃষ্টিতে এগুলো “জাস্ট প্রশংসাবাক্য”।

এর গভীরে যে কত বড় লাম্পট্য, আর অসৎ কামনা লুকিয়ে আছে, খেয়াল না করলে বুঝার উপায় নেই। যারা এগুলো করে, এরা কিন্তু ফাঁদে ফেলবার জন্যেই করে! এদের স্বভাবই হলো ফ্লার্ট করে নিজের বশে আনা! খুব স্মার্ট সুদর্শন পুরুষ দেখলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মহিলারাও এরকম ফ্লার্ট করে। সে সংখ্যাটাও কম না!!

যে মহিলা জীবনে কোনোদিন স্বামীর বিকল্প স্বপ্নেও কল্পনাও করেন নি। মাঝে মাঝে ঝগড়া হয়, কিন্তুু স্বামীকে অনেক ভালোবাসেন। পর পুরুষের মুখে নিজের এত্ত সুন্দর প্রশংসা শুনে, “আমি হলে পায়ের কাছে পড়ে থাকতাম” কথাটা শুনে সেই মহিলাও ভাবেন, এই স্বামী আমাকে বঞ্চিত করছে, নিশ্চয়ই আমি আরও ভালো কিছু আশা করি!

যে মহিলা একটা সুখের সংসারে আছেন, বাচ্চা নিয়ে স্বামী স্ত্রী ব্যাস্ততার মাঝে কোনো কিছুর অভাবই বোধ করেন না, সে মহিলাও যখন বাইরের কারো কাছে নিজের কপালের তিলের এত্ত প্রশংসা শুনেন তখন তার মনে হতে পারে, “ওর সাথে এত্তদিন সংসার করলাম, ও তো একটা দিনের জন্যেও এভাবে আমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করলো না!”

নিজের বয়সের ব্যাপারে বাইরের পুরুষের প্রশংসা শুনে মহিলা, বারবার আয়নার সামনে নিজের চেহারা দেখেন। ভাবতে থাকেন, হ্যাঁ, আমি তো সুন্দরই। আর ওই পুরুষটাই আমার এ সৌন্দর্যের মূল্যায়ন করলো!

এভাবেই শুরু হয়, পৃথিবীর নিকৃষ্টতম সম্পর্ক পরকীয়া।

তথা কথিত একটা “ইনোসেন্ট প্রশংসা”ই ধ্বংস করে দিতে পারে একটা মানুষকে, একটা পরিবারকে! এটা ভাবার কোনো কারণ নাই যে, যারা “ভাবী” টার প্রশংসা করছে, এরা “ফ্রি মাইন্ড” এ ইনোসেন্ট মন নিয়ে করছে! নাহ, এরা অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই কুমতলব নিয়েই প্রশংসা করে!!

যদি জীবনে সুখী হতে চান, কারো হালকা প্রশংসায় গলে যাবেন না। বরং এদের এড়িয়ে চলুন। প্রশংসা শুনতে সবারই ভাল্লাগে। এভোয়েড না করলে, ধীরে ধীরে এদের ফাঁদে একদিন পড়বেনই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে আলোচনায় যারা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে আলোচনায় যারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘অবিশ্বাস্য’ বিপর্যয়ের পর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে বিরাজ করছে রাজ্যের হতাশা। এ অবস্থা থেকে দলকে বের করে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। আপাতত দল গোছানোর লক্ষ্যে দ্রুত মূল দল পুনর্গঠন এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের কাউন্সিল করতে চাইছেন তারা। তৃণমূলের সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের পক্ষে বিএনপির হাইকমান্ড।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা থানা, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। কর্মসূচি দিয়ে নেতারা মাঠে না থাকা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের খোঁজখবর না রাখাসহ নানাবিধ কারণে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বত্র। যার চূড়ান্ত পরিণতি এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে।

প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের ধরপাকড় ছিল সত্য; কিন্তু এর বিপরীতে বিএনপির মেরুদণ্ডহীন সাংগঠনিক চিত্র ধরা পড়েছে সবার চোখেমুখে। কোথাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি দলটি।

এমনকি বহু কেন্দ্রে এজেন্টেই দিতে পারেনি দীর্ঘদিন নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকা দলটি। সব মিলিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা বিএনপির।

সেই হতাশা কাটিয়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি হওয়ায় দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী দিনে রাজপথের বিরোধী দল হিসেবে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য যা করা দরকার, সেই উদ্যোগ তিনি দূর থেকে নেবেন। সে জন্য সাংগঠনিকভাবে দলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার কারাবন্দি জীবনের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। গত ১১ মাস ধরে তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলের স্থায়ী কমিটিই বিএনপিকে পরিচালনা করেছে। এর সমন্বয় করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতা জানান, দলের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অনুপস্থিত। বর্তমানে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকটি পদ শূন্য। এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটি যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে পুনর্গঠন জরুরি। বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য না হয়েও বেশ কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে স্থায়ী কমিটির আনুষ্ঠানিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ওই নেতাদের রাখা সম্ভব হয় না। অনেক সময় বিশেষ আমন্ত্রণে কাউকে কাউকে বৈঠকে রাখা হয়। আবার অনেক সময় বৈঠকের আগে এবং পরও ওই গুরুত্বপূর্ণ নেতার মতামত ও পরামর্শ নিতে হচ্ছে স্থায়ী কমিটিকে। এ নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছে স্থায়ী কমিটির পদপ্রত্যাশী জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে।

বিএনপিতে স্থায়ী কমিটি বরাবরই একটি আকর্ষণীয় ও মর্যাদাসম্পন্ন পদ। আজীবন বিএনপির রাজনীতি করা পোড় খাওয়া নেতাদের টার্গেট থাকে শেষ জীবনে হলেও স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে এ ফোরামে সাংগঠনিকভাবে যোগ্য, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও দলে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই স্থান হয়। তাই প্রায় সব জ্যেষ্ঠ নেতার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া।

এ কমিটি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত, কর্মসূচি প্রণয়ন থেকে শুরু করে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজগুলো করে। স্থায়ী কমিটির সুপারিশের আলোকেই বেশিরভাগ সময় বিএনপির শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। অন্তত খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে।

বিএনপির কাউন্সিলের কথা উঠলেই অনেকে স্থায়ী কমিটির পদ বাগিয়ে নিতে নানা কৌশল ও তদবির শুরু করেন। এবার বিএনপির কাউন্সিল কবে হবে তা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া জাতীয় কাউন্সিল করার কথা ভাবছে না বিএনপি। আগের কমিটি ঠিক রেখে কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পাঁচটি শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে সম্মতিও দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য রাজনীতি থেকে অবসর নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষিত ও ত্যাগী প্রবীণ নেতার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নেতাদেরও স্থায়ী কমিটিতে স্থান দিতে চায় দলটি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, মার্চে দলের নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কিন্তু আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দির এক বছর পূর্ণ হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও দেশের বাইরে রয়েছেন। লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, তারা ঘরে থাকতে পারছেন না।

হাজারও নেতাকর্মী রয়েছেন কারাগারে। এমন অবস্থায় নতুন করে দলের জাতীয় কাউন্সিল করার মতো পরিস্থিতি নেই। তাই এখন স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরামর্শ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। অনুমতি পেলেই শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় নির্বাহী কমিটি তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হবে এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এ কমিটিই দায়িত্ব পালন করবে।

কমিটি ঘোষণার সময়ই ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে পাঁচটি পদ ফাঁকা। লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থতার কারণে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই ভারতের শিলংয়ে আছেন। তিনি কমিটির একটি বৈঠকেও যোগ দিতে পারেননি।

সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার গুলশান কার্যালয়ে নীতিনির্ধারকদের এক বৈঠকে দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে অলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য বিষয়টি বৈঠকে তোলেন। তবে অন্য সদস্যদের এ ব্যাপারে আগ্রহ না থাকায় এ নিয়ে বেশি আলোচনা হয়নি।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা যুগান্তরকে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহাসচিবকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দেখা করতে পারেন। সে সময় চেয়ারপারসনের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়েও আলাপ করার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার কথা ভাবছেন। এ নিয়ে ওই দুই নেতা তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

সব মিলিয়ে স্থায়ী কমিটিতে সাতটি পদ ফাঁকা হচ্ছে। এসবের অন্তত পাঁচটিতে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। বাকি দুটি পদ ফাঁকাই রাখা হতে পারে।

স্থায়ী কমিটির একটি পদে জিয়া পরিবারের সদস্য ও তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানের অন্তর্ভুক্তির দাবি রয়েছে দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়ায় ক্লিন ইমেজের ডা. জোবায়দা দলকে গোছাতে পারবেন বলে ধারণা অনেকের।যদিও এ বিষয়ে জিয়া পরিবার কিংবা বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কোনো নেতা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির শূন্যপদে আসতে পারেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমানের মতো প্রবীণ নেতারা।

এদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান ও আবদুল আউয়াল মিন্টু বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার পছন্দের। তারা বিভিন্ন সময়ে আস্থা মূল্য দিয়েছেন।

গতবার কাউন্সিলের আগে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন প্রবীণ নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।এই দু’জনকে স্থায়ী কমিটির শূন্যপদে দেখা যেতে পারে।

গত কাউন্সিলে আলোচনায় ছিলেন ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও ড. ওসমান ফারুক। এ দুজনই এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাই শূন্যপদে তাদের কারোরই অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নেই।

ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টামণ্ডলী থেকে অন্তত দুজনকে স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতি দেয়া হতে পারে। চট্টগ্রামের প্রবীণ বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত। তাদের কোনো একজনকে দেখা যেতে পারে স্থায়ী কমিটিতে।বয়সের কারণে মোরশেদ খান বাদ পড়লেও মোহাম্মদ শাহজাহানের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন স্থায়ী কমিটিতে আসুক এমনটি চাওয়া অনেকের।খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের এ সদস্য ইতিমধ্যেই আস্থা অর্জন করেছেন বিএনপি নেতাদের কাছে।

এছাড়া অপর আইনজীবী নেতা সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনও গত কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন।কমিটি পুনর্গঠন করা হলে তাকেও স্থায়ী কমিটিতে দেখা যেতে পারে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম চাচ্ছে দূরদর্শী ও মাঠে থাকার মতো নেতারা স্থায়ী কমিটিতে আসুক। সেই বিবেচনায় দুজন অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নেতাকেও এ পদে অন্তর্ভুক্ত করার কথা উঠছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তবে দলটির সিনিয়র নেতারা চাচ্ছেন যে করেই হোক শত সঙ্কটেও বিএনপি ঘুরে দাঁড়াক। প্রয়োজনে যেকোনো ছাড় দিতে রাজি তারা। যেমনটি ফুটে উঠেছে গত শুক্রবার বিকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায়। সেখানে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপিকে এখন ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। ২০০৮ সালে এমনিভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাজিত হয়েছিলাম। তার পর পরই কিন্তু আমরা দলের কাউন্সিল করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা সাহসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি, তাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে। তরুণদের জায়গা করে দিতে হবে।’

একই সুরে কথা বলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও। তার ভাষ্য- ‘যারা এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা দলের জন্য কাজ করেছেন; তাদের সামনের দিকে এনে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা যারা আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আমরা সরে যাব, তারপরও এ দলটিকে তো রাখতে হবে। এ কাজ আমাদের কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তা হলেই আমরা আবার মোড় ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের দায়িত্ব তোফায়েল আহমেদের হাতে?

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের দায়িত্ব তোফায়েল আহমেদের হাতে

আওয়ামী লীগের যে নতুন মন্ত্রিসভা হয়েছে, সেখানে চমক ছিল দলের হেভিওয়েট নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত না করা। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রবীন এই নেতাদের দলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে যুক্ত করে সান্তনা দিতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন কাজে তাদেরকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে যে, আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের নির্বাচন তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি এবং ঊনসত্তরের তুখোড় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদকে। আওয়ামী লীগ সভাপতি গত রাতেই এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের এই নির্বাচন তদারকিতে উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি মনে করছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাদেরের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তাছাড়া তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্য সাধারণ সম্পাদককে ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব দিতে সভাপতি আগ্রহী নন। বরং তিনি মনে করেন, যেহেতু তোফায়েল আহমেদ তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। ছাত্রলীগের ইতিহাসে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন। ঊনসত্তরে তিনি ডাকসুর ভিপি ছিলেন। সেহেতু তোফায়েল আহমেদের কাছেই ছাত্রলীগের ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব তুলে দিতে চান। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা শিগগিরই এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন এবং চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে আরেকটি সূত্র বলছে যে, ওবায়দুল কাদের নিজে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের দায়িত্ব নিতে যদি না পারেন তবে তিনি তার অনুগামী এবং বিশ্বস্ত কাউকেই, যেমন জাহাঙ্গীর কবির নানক বা এনামুল হক শামিমকে দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, নানক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কখনো ডাকসুর নেতৃত্বে ছিলেন না। এনামুল হক শামিম ছাত্রলীগের সভাপতি থাকলেও তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও ভিপি ছিলেন। এ জন্যই এ দায়িত্ব তোফায়েল আহমেদকে দেয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে।

ড. কামাল হোসেনের চেয়ে অনেক যোগ্য নেতা বিএনপিতেই আছেন তার নেতৃত্বে নির্বাচন বড় ভুল ছিল

ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গঠন করা হয়। এই জোটের শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হন ড. কামাল হোসেন। তার নেতৃত্বেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ড. কামালের নেতৃত্বে নির্বাচনে যাওয়া বিএনপির জন্য ভুল ছিল বলে মনে করেন ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে এমন কথা জানান তিনি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচনে যাওয়া বিএনপি’র জন্য একটা বড় ভুল ছিল- এমনটাই মনে করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের। ড. কামালের জনসম্পৃক্ততা, ভোটের অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তার চেয়ে অনেক যোগ্য নেতা বিএনপিতেই আছেন।

তবে এ নিয়ে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম এখনই প্রতিক্রিয়া জানাতে চায় না। তাদের মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

গত বছরের ১৩ই অক্টোবর বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ আত্মপ্রকাশ করে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার-বিরোধী এই রাজনৈতিক জোটের হাল ধরেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

শোনা যায়, শুরু থেকেই এই জোটের শীষ নেতৃত্ব ড. কামাল হোসেনের হাতে দেয়া নিয়ে বিএনপির নেতাদের মধ্যে ছিল মতবিরোধ। তবে রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে বিষয়টি সেভাবে সামনে আনেন নি তারা।

তবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর নড়েচড়ে বসেছেন বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের মতে, ড. কামাল হোসেনকে নেতা বানিয়ে ভুল করেছে বিএনপি।

তিনি বলেন, ‘জনগণের সাথে কোন সম্পর্ক নাই, যারা ভোটের রাজনীতি কখনো করেননি তারা এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ন্তারূপে কথাবার্তা বলছেন। বিএনপির মতো বড় দল যে তাদের দ্বারস্থ হয়েছে এটিকে আমি সঠিক বলে মনে করি না।’

মেজর হাফিজ বলেন, ‘আদর্শগত বিভেদ আছেই। সুতরাং আদর্শের ঐক্য না থাকলে তাদের সাথে জোট করেও খুব একটা সুবিধা হয় না। আমরা শুধু অন্যদেরকে নেতা বানিয়ে দিয়েছি। আমাদের বিএনপির অনেক সিনিয়র, যোগ্য, ক্যাপাবল নেতা আছেন। তাদেরকে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম।’

দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এ নেতা এরইমধ্যে তাগিদ দিয়েছেন, বিএনপিকে জোটগত রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য।

হাফিজ বলেন, ‘বিএনপির একা পথ চলাই ভালো বলে আমি মনে করি। বিএনপি যথেষ্ট শক্তিশালী দল। আমাদের কোনো জোটেরও প্রয়োজন নেই। শুধু শুধু নাম-গোত্রহীন, জনসমর্থনহীন লোকজনকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনার কোনো প্রয়োজন নেই। বিএনপির নিজেরই এখন এগিয়ে চলা উচিৎ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরও ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে। সেটি নিয়ে আত্মসমালোচনা করে, জনগণকে সাথে নিয়ে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের করা এমন মন্তব্যের জবাব দেয়ার সময় এখনও আসেনি বলে মনে করেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমি ওই বিতর্কে যাব না। আমি বলব যে, যার যার দলের মূল্যায়ন হতেই পারে। সেটা নেতিবাচক হতে পারে, ইতিবাচকও হতে পারে। মানুষের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখেছি এবং এখনও পর্যন্ত এত বড় ঘটনা ঘটার পরেও, জালিয়াতির পরেও মানুষ মনে করে, ড. কামাল হোসেন স্যার জাতিকে নেতৃত্ব দেবেন।’

আলোচনা-সমালোচনা যাই হোকে, বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

সর্বশেষ সংবাদ