26 C
Dhaka, BD
শনি অক্টোবর ২০, ২০১৮, ৮:২৫ পূর্বাহ্ন.
প্রচ্ছদ ব্লগ

মইনুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য ১৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

মইনুলকে প্রকাশ্যে মার্জনা প্রার্থনার জন্য ১৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিক, কলামিস্ট ও দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তি করায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কে প্রকাশ্যে মার্জনা প্রার্থনার জন্য বিবৃতি দিয়েছেন ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক। শুক্রবার নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তারা এর তীব্র নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয় মাসুদা ভাট্টি একাত্তর টেলিভিশনে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে একটি প্রশ্ন করার প্রেক্ষিতে মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলে গাল দেওয়ায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, কেবলমাত্র সাংবাদিকসুলভ প্রশ্ন করায় কাউকে এরকম ক্ষিপ্ত হয়ে চরিত্রহীন বলার এখতিয়ার কারোরই নেই।

স্বাধীন সাংবাদিকতা ও উম্মুক্ত গণমাধ্যম যখন বিভিন্ন ভাবে আক্রান্ত, তখন রাজনীতিবিদ ও আইনবিদ হিসেবে ব্যারিস্টার মইনুলের কাছ থেকে এরকম আচরণ অনভিপ্রেত।

এতে আরও বলা হয় মইনুল হোসেনের এই নিন্দনীয় আচরণে দেশের সকলেই ক্ষুব্ধ। আমরাও অবিলম্বে এই অনভিপ্রেত বক্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক প্রকাশ্যে মার্জনা প্রার্থনা আশা করছি। এটা শুধু মাসুদা ভাট্টি কে অপমান করা হয়েছে বলে নয়, ভবিষ্যতে যাতে কেউ আর এভাবে কাউকে ব্যক্তি আক্রমন না করতে পারে সেটা নিশ্চিত করার জন্যই অবিলম্বে তার কাছ থেকে প্রকাশ্যে একটি মার্জনা প্রার্থনা আসা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

বিবৃতিতেবলা হয়, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাজের প্রতিটি স্তরে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিষ্ঠাই আমাদের সকল নাগরিকের লক্ষ্য।

বিবৃতিদাতারা হলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, নাট্যকার রমেন্দু মজুমদার, অনুপম সেন, আতাউর আমান, ফেরদৌসি মজুমদার,আলী জাকের,মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, তারিক আলী, সারা জাকের, শিমূল ইউসূফ,কবি মুহাম্মদ সামাদ, হাসান আরিফ, গোলাম কুদ্দুস।

এরা বাংলাদেশের শিবসেনা, এরা দিল্লির দালাল, এরা বাংলাদেশের শত্রু।

এরা বাংলাদেশের শিবসেনা, এরা দিল্লির দালাল, এরা বাংলাদেশের শত্রু।
ছবি : সংগৃহীত

প্রণবের ছবি বিতর্ক নিয়ে ভারতের টেলিগ্রাফের রিপোর্ট। এখানে মাসুদা ভাট্টি যা বলেছেন তার অনুবাদ দিচ্ছি।

“(যারা প্রণবের সমালোচনা করছে) তাঁরা চিহ্নিত ভারত বিরোধী শক্তি এবং তাঁরা ভারত বিরোধিতার নামে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির সুযোগ খুজতে থাকে। যেহেতু বছরের শেষে নির্বাচন আসছে তাই এই সমস্ত মানুষেরা তাঁদের বিএনপি ও জামাতে তাঁদের রাজনৈতিক প্রভুদের খুশী করার জন্য অতি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

মাসুদা জোর দিয়ে বলেন, পিনাকী সবচেয়ে সোচ্চার ভারত বিরোধী কণ্ঠ এবং তার পিছনে বিরোধী দলের সমর্থন আছে, যারা একটি হিন্দু নাম ব্যবহার করে নির্বাচনের আগে ভারত বিরোধী জিগির তুলতে চায়।”

কোন রাষ্টের শাসকগোষ্ঠীর নীতি, কর্মসূচি, কার্যক্রম বা অভিপ্রায়ের বিরোধিতা করলেই কেউ সংশ্লিষ্ট সেই রাষ্ট্র বা দেশের ‘বিরোধী’ হয়ে যায় না। এইটা অতি সাধারণ কান্ডজ্ঞান। মাসুদার রাজনীতির বোধ তো দুরে থাক, সেই সাধারণ কান্ডজ্ঞানের অভাব আছে।

আমি ‘ভারত বিরোধী’ নই; তবে বর্তমান ভারতের শাসকগোষ্ঠীর বিশেষ করে বাংলাদেশ নিয়ে বহু নীতি, কর্মসূচি, কার্যক্রম বা অভিপ্রায়ের তীব্র বিরোধিতা করি। অন্যদেরও বিরোধিতা করতে উৎসাহিত করি। ভারতেও বহু নাগরিক আছে যারা ভারত রাষ্ট্রের বহু নীতি-কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রতিমুহূর্তে লড়ছে এবং মরছে। ভারতের জনগণের সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নাই।

যারা কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্র-দেশ-সমাজ-শাসকগোষ্ঠী-নাগরিক-জনগণ সবকিছুকে একাকার করে ফেলেন, তারা এখনো রাজনৈতিক দিক দিয়ে ‘শৈশবকাল’ অতিক্রম করতে পারেন নাই।

মাসুদা বলতে চায়, ভারত রাষ্ট্রের বাংলাদেশ বিরোধী নীতি, কর্মসূচি, কার্যক্রম বা অভিপ্রায়ের বিরোধিতা করাটাই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা।

ভারত রাষ্ট্রের সকল আগ্রাসী নীতিকে এরা হিন্দু বিরোধিতা বলে ভারতের গায়ে হিন্দু নামাবলীর বর্ম জড়ায়ে দিয়ে বৈধ করে দিতে চায়। তাঁদের খুব সমস্যা হয়ে গেছে আমার নামটা হিন্দু হওয়ায়।

এরা বাংলাদেশের শিবসেনা, এরা দিল্লির দালাল, এরা বাংলাদেশের শত্রু।

টেলিগ্রাফ এর মূল লিখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

লেখকঃ পিনাকী ভট্টাচার্য

বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে পাকিস্তান

বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে পাকিস্তান
ছবি : ইএসপিএনক্রিকইনফো

আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে একদিন বাকি থাকতেই জয় তুলে নিল পাকিস্তান। আর প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছেন মোহাম্মদ আব্বাস। সাথে ছিলেন বিলাল আসিফ। ম্যাচের তৃতীয় দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে এক উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু চতুর্থ দিনটি ছিল তাদের জন্য বড়ই বিপদের। ৯টি উইকেটের বিনিময়ে তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে মাত্র ১১৭ রান। মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৪ রান।

পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস একাই নিয়েছেন ৫টি উইকেট। এছাড়া বিলাল আসিফ ৩টি ও ইয়াসির শাহ নিয়েছেন ২টি উইকেট।

এর আগে পাকিস্তান তাদের দুই ইনিংসে করেছে যথাক্রমে ২৮২ ও ৪০০ রান। অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে করে ১৪৫ রান।

ফলে ৩৩৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় পাকিস্তান।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেছেন আরন ফিন্স। এছাড়া বড় স্কোরের মধ্যে ছিল মিশেল স্টার্কের ৩৪।

টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে এক উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান তুলে অস্ট্রেলিয়া। ৫৩৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে দলীয় ১০ রানেই প্রথম উইকেট হারায় অসিরা। ওসমান খাজার পরিবর্তে ইনিংস ওপেন করতে নামা শন মার্শকে বোল্ড করেন পাকিস্তানি পেসার মির হামজা। পাকিস্তানের ইনিংসের সময় ফিল্ডিং না করায় ইনিংসের শুরুতে ব্যাট করতে নামতে পারেননি ওসমান খাজা।

নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ দলের ইনিংসে কোন খেলোয়াড় ফিল্ডিং না করে যত ওভার মাঠের বাইরে থাকবে, নিজ দলীয় ইনিংসে ঠিক তত ওভার পর তাকে ব্যাট করতে নামতে হবে।

মোট ১২ ওভার ব্যাটিং করে শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি অ্যারন ফিঞ্জ ও ট্রেভিস হেড। দিন শেষে ফিঞ্চ অপরাজিত আছেন ব্যক্তিগত ২৪ রানে আর হেড ১৭ রানে।

এই টেস্ট জিততে হলে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ৫৩৮ রান। আর ড্র করতে হবে ক্রিজে কাটাতে হবে আরো ছয় সেশন বা ১৮০ ওভার। আর পাকিস্তানকে তুলে নিতে হবে বাকি ৯টি উইকেট। হাতে আছে পুরো দুটি দিন। ফলে এই টেস্টে পাকিস্তান পুরোপুরিই চালকের আসনে।

পাকিস্তানের ইনিংস
বৃহস্পতিবার টেস্টের তৃতীয় দিন মধ্যাহ্ন বিরতির পর থেকেই দর্শক আর টিভি ভাষ্যকরাদের প্রশ্ন- কখন ইনিংস ঘোষণা করবেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। কিন্তু চা বিরতির সময়ও সেই ঘোষণা এলো না, যখন এলো ততক্ষণে বিশাল রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দিনের খেলা ১৪ ওভার বাকি থাকতে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪০০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের টার্গেট দাড়িয়েছে ৫৩৮ রানের। ক্রিকেটে যাকে ‘অসম্ভব’ টার্গেট হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে এই টার্গেট তাড়া করা অথবা পুরো দুই দিন ক্রিজে কাটিয়ে ম্যাচ ড্র করা দুটোই কার্যত কঠিন অস্ট্রেলিয়ার জন্য।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের পরই এই টেস্টে কী হতে চলেছে তা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাকিস্তানের ২৮২ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ১৪৫ রানে। ১৩৭ রানের লিড পায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা তাই দলকে নিয়ে যান আরো উচ্চতায়।

দ্বিতীয় উইকেটে আজহার আলী ও ফখর জামানের ৯০ রানের জুটির পরও তৃতীয় দিনের শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ। সাজঘরে ফিরে গেছেন সকালে ব্যাট হাতে নামা দুই ব্যাটসম্যান। ফখর জামান ৬৬ ও আজহার আলী ৬৪ রান করেন। ১৬০ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় সরফরাজ আহমেদের দল। তবে পঞ্চম উইকেটে আসাদ শফিক ও বাবর আজমের ৭৫ রানের জুটি দলে বড় সংগ্রহের আভাস দেয়। আসাদ শফিকের বিদায়ের পর বাবর আজমের সাথে জুটি গড়েন সরফরাজ। এই জুটিতে পাকিস্তান পায় ১৩৩ রান। এই জুটির কল্যাণেই ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যায় পাকিস্তানে রান।

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে বাবর আজম ফিরে যান মিচেল মার্শের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। আম্পায়ারের সঙ্কেতের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েছিলেন বাবর, কিন্তু সফল হননি। তাই ক্যারিয়ারের ১৫তম টেস্টে এসেও সেঞ্চুরি পাওয়া হলো না তার। চমৎকার ব্যাটিং করা বাবরের ১৭১ বলের ইনিংসে ছিলো ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। বাবরকে নিয়ে এই টেস্টে পাকিস্তানের নার্ভাস নাইন্টিসে আউটের ঘটনা তিনটি। প্রথম ইনিংসে ৯৪ রান করে আউট হয়েছিলেন ফখর জামান ও সরফরাজ আহমেদ।

বাবর আজমের আউটের পরও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ব্যাটিং চালিয়ে যান সরফরাজ আহমেদ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮১ রানে তিনিও আউট হয়ে যান মারনুস লেবুশেনের বলে। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ তখন ৪০০ রান। সরফরাজ আউট হওয়ার এক ওভার পরেই ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান।

মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে বিবৃতিতে যা বললেন ব্যারিস্টার মইনুল

মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে বিবৃতিতে যা বললেন ব্যারিস্টার মইনুল
ছবি : সংগৃহীত

ইংরেজি দৈনিক দি নিউ নেশনের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, ‘মাসুদা ভাট্টি আমার রাজনৈতিক সত্তা ও সততা নিয়ে দারুণ আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য রেখেছেন। তাই আমি তার সাংবাদিকতার নিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করেছি। তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি না, তাই তার ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলারও প্রশ্ন ওঠে না।’

বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রে প্রকাশের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। বিবৃতিতে মইনুল হোসেন বলেন, ফোনে মাসুদা ভাট্টির কাছে দুঃখ প্রকাশ করার পরও দেখা যাচ্ছে মহলবিশেষ আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অশালীন ভাষায় বক্তব্য রাখছে। তাই বিষয়টির ব্যাপারে একটি ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে ৭১ টেলিভিশনে জার্নাল’ ৭১ প্রোগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিভূ (চর) হিসেবে আমি জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ায় ঢুকেছি দাবি করে তিনি প্রশ্ন করেন। দল বিশেষের চর হিসেবে মন্তব্য করে আমাকে এ দেশের কোনো সাংবাদিক প্রশ্ন করতে পারে তা আমার কাছে অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। অন্যান্য বিষয়েও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রেখেছেন।’

মইনুল হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বলেছেন লোকে আমাকে সেইভাবে দেখে বলেই তিনি বলেছেন। কিন্তু ফেইসবুকে মাসুদা ভাট্টির ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে জঘন্য ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে আমি তো তার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করছি না।’ তিনি বলেন, ‘অবাধ নির্বাচনের দাবিতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় কিছু লোক বেসামাল হয়ে যাওয়ার কারণ আমি বুঝি।’

সরকার যাওয়ার আগে একটা মরণ কামড় দেবে

দেশকে ভয়াবহ সঙ্ঘাত থেকে বাঁচাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে সবাইকে এ ফ্রন্টে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নবগঠিত ফ্রন্টটির নেতারা। গতকাল জাতীয় প্রেস কাবে এক আলোচনা সভায় তারা এ আহ্বান জানান। ন্যায় প্রতিষ্ঠার সামাজিক আন্দোলন ‘মুভমেন্ট ফর জাস্টিস’-এর আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের প্রধান সমন্বয়ক সাবেক ছাত্রনেতা সানাউল হক নীরুর সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা তাপস পাঠানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ ব ম মোস্তফা আমিন, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এনামুল করিম শামীম, সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ উদ্দিন খান, শহিদুল্লাহ শহীদ, সাবেক ছাত্রনেত্রী আসমা শহীদ প্রমুখ।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, দেশ আবার ভয়াবহ সঙ্ঘাতের দিকে যাচ্ছে। এ থেকে দেশকে বাঁচানো যায় কিনা সে লক্ষ্যেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। গণতন্ত্র ফেরাতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্য গড়েছি। এই প্রক্রিয়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। তিনি বলেন, দলীয় অন্ধগলির রাজনীতি করতে গিয়ে আজ আমরা বিভক্ত হয়ে পড়েছি। অবিশ্বাস আজকে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের জন্যই।

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট দেখে সরকার ভয় পেতে শুরু করেছে। সরকার জানে এবার কাজটা এত সহজ হবে না। কিন্তু তারা যাওয়ার আগে একটা মরণ কামড় দেবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো দলীয় জোট নয়, এতে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ সব দল অংশ নিতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাচ্ছি জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। সরকার গঠন হবে জনগণের ভোটে, বিদেশীদের কথায় নয়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে দু’টি অংশ ছিল। প্রথমত, ভারত আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে লড়াই করেছিল। আমরা স্বাধীন ভূমি পেয়েছি; কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাইনি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ তাই এখনো শেষ হয়নি।
বিশিষ্ট এ আইনজীবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটা বোকারাও বিশ্বাস করে না। ভারত, ব্রিটেন কোথাও সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হয় না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বর্তমান সরকারি দলই আন্দোলন করে এনেছে। এখন তারা বলছে এটা চলে না। পদ্ধতির প্রয়োগে ভুল থাকতে পারে, তাই বলে পদ্ধতি ভুল হবে কেন? রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে আবার ভুলে যাওয়া মেনে নেয়া যায় না। ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, গত নির্বাচনের পর সরকার বলল এটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। কিন্তু পরে আর নির্বাচন দিলো না। এভাবে জাতিকে বোকা মনে করার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে যে সংসদ চলছে তার এমপিরা নির্বাচিত নয়। দেশকে লুটেরাদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, ডা: জাফরুল্লাহ সেনাপ্রধান নিয়ে একটি মন্তব্য করে একটি ভুল করেছিলেন, এ জন্য তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাই বলে একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা কেন?

ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন চান। কিন্তু তার আশপাশে যেসব চাটুকার আছে তাদের বিশ্বাস নেই। তারা আমাদের সিকি, আধুলি বলেছেন। একবার সিকি আধুলিদের সুযোগ দিয়েই দেখেন আমরা পারি কিনা। তিনি বলেন, স্কুলশিক্ষার্র্থীরা আন্দোলনের সময় লিখেছিল-রাষ্ট্রযন্ত্রের মেরামত চলছে। আসলেই, এখন এ রাষ্ট্রযন্ত্রের মেরামতের সময় এসেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজন। কিন্তু সে পরিবেশ নেই। সরকার নিজে কথা বলছে, জনসভা করছে, কিন্তু বিরোধীরা করতে গেলেই বাধা দেয়া হচ্ছে।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন সবাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেই। জনগণ সাহস দিলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রধানমন্ত্রীও লাভবান হবেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনিও জিততে পারেন। আর যদি হারেন তাহলে তাকে জেলে যেতে হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। সেনাপ্রধান সম্পর্কে দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমার শব্দ চয়নে কিছু ভুল হয়েছে। আমি সেটি স্বীকারও করেছি। তারপরও রাষ্ট্রদ্রোহ হয় কী করে? আমরা আসল জিনিস দেখতে পাচ্ছি না।

নবগঠিত ঐক্যপ্রক্রিয়ার উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় যারাই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় আসবে তাদেরকেই সাথে নেবেন। আগে থেকেই শর্ত দেবেন না। কোন দল মতায় আসবে কি আসবে না সেটি জনগণের ওপর ছেড়ে দিন।

 

মাথার পাশে মোবাইল রেখে ঘুমালে ঘটতে পারে ভয়ংকর দুর্ঘটনা

মাথার পাশে মোবাইল রেখে ঘুমালে ঘটতে পারে ভয়ংকর দুর্ঘটনা
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে আমরা মোবাইল ও ইন্টারনেটে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি, চাইলেই এর ব্যবহার থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। যেহেতু মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য নানাভাবে ক্ষতিকর। তাই প্রয়োজন মোবাইল ব্যবহারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা। আসুন, আমরা সে বিষয়ে আলোকপাত করি।

এক. দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে কথা বলবেন না। এক নাগাড়ে পনের মিনিটের বেশি কথা বলা কোনভাবেই উচিৎ নয়।

দুই. দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে স্পিকারে বা হেডফোনে কথা বলুন। আপনার সেটটি শরীর থেকে দুই-তিন ইঞ্চি দূরে রেখে কথা বলুন। বাসায় বা অফিসে যদি ল্যান্ডফোন থাকে তাহলে ল্যান্ডলাইনে কথা বলুন, তবে হ্যান্ডসেটে ( তার বিহীন) নয়।

তিন: যখন মোবাইল ফোনের সিগন্যাল দুর্বল থাকবে বা ব্যাটারির চার্জ কম থাকবে তখন মোবাইল ব্যবহারে বিরত থাকুন।

চার: যানবাহন ( কার, বাস, ট্রেন, প্লেন) এবং লিফটে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিরত থাকুন। কারণ ধাতব বস্তুর নিকটবর্তী থাকলে রেডিয়েশনের মাত্রা বেড়ে যায়।

পাঁচ: পকেট বা শরীরের সংস্পর্শে মোবাইল ফোন না রেখে ব্যাগে রাখুন।

ছয়: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন দিবেন না। বিশেষ করে যাদের বয়স আঠারো বছরের কম।

সাত: মাথার পাশে মোবাইল রেখে ঘুমাবেন না। কমপক্ষে কয়েকফুট দূরে রাখুন। যদি ফোনে এলার্ম সেট করতে চান এয়ারপ্লেন মুডে রাখুন।

আট: ল্যাপটপ বা ট্যাবে কাজ করার সময় টেবিলে বসে করুন। কোলে বা বুকের ওপর কখনো রাখবেন না।

নয়: মোবাইল ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় কখনো ব্যবহার করবেন না।

দশ: ওয়াইফাই রাউটার আপনার বেডরুম বা যে রুমে আপনি বেশীরভাগ সময় কাটান তা থেকে দূরে রাখুন এবং রাতের বেলায় বন্ধ রাখুন।

এগারো: অন্ধকারে মোবাইল, ল্যাপটপ ব্যবহারে বিরত থাকুন। কারণ অন্ধকারে মনিটর থেকে যে রশ্মি নির্গত হয় তা আমাদের চোখের জন্য ক্ষতিকর।

বারো: যদি মোবাইলে কোন ভিডিও বা মুভি দেখতে বা গান শুনতে চান তাহলে আগে ডাউনলোড করে নিন। পরে এয়ারপ্লেন মুডে উপভোগ করুন।

তেরো: শিশুরা যদি মোবাইল বা ল্যাপটপে গেম খেলতে চায় তাহলে এয়ারপ্লেন মুডে সেট করে দিন।

উল্লেখ্য, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য আরও অনেক জিনিস আছে যা থেকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ বা রেডিয়েশন নির্গত হয়। যেমন: মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এলইডি টিভি, এলইডি লাইট, রিমোট কন্ট্রোল, রেডিও ইত্যাদি। কাজেই এই জিনিশগুলো ব্যবহারেও আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিকল্পধারা থেকে বি. চৌধুরী-মান্নান-মাহী বহিষ্কার

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিকল্পধারা থেকে বি. চৌধুরী-মান্নান-মাহী বহিষ্কার
ছবি : সংগৃহীত

বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীকে দল থেকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিক সম্মলন করে এ ঘোষণা করেন ড. নরুল আমিন ব্যাপারী। তিনি নিজেকে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শাহ আহম্মেদ বাদলের নাম ঘোষণা করেন।

নরুল আমিন বলেন, ‘দলীয় গঠন তন্ত্র অনুযায়ী বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী চৌধুরীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’

শাহ আহম্মেদ বাদল বলেন, ‘প্রেস ক্লাবে আমাদের হল বুকিং দেওয়া থাকলেও হঠাৎ করে তা বাতিল করে দেওয়া হয়। তাই আজকে এখানে (প্রেস ক্লাব চত্বরে) ঘোষণা দিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বি. চৌধুরী অত্যন্ত ভালো মানুষ। কিন্তু তার ছেলে মাহী চৌধুরীর কূটচালে তিনি শেষ পযন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে পারেননি।’

জামায়াত প্রশ্নে বি. চৌধুরীর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যায়নি আপনারা কী করবেন এমনে প্রসঙ্গে নুরুল আমিন বলেন, ‘আমাদের দলের কেউ জামায়াতকে সমর্থন করে না। এটা মাহী চৌধুরীর কূটচাল।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেজর মান্নানের দুর্নীতির খবর বের হয়েছে। কোনও দুর্নীতিবাজ বিকল্প ধারায় থাকতে পারে না।’ তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যাবে বলেও জানান নুরুল আমিন।

হঠাৎ কেউ স্ট্রোক করলে কি করবেন? আপনিও পারেন জীবন বাচাতে সাহায্য করতে।

হঠাৎ কেউ স্ট্রোক করলে কি করবেন?
ছবি : সংগৃহীত

স্ট্রোক অাজ অকালে কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রান৷ যদি দেখেন কারো স্ট্রোক হচ্ছে তাহলে রোগীকে বাঁচানোর জন্য আপনাকে জরুরীভিত্তিতে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে: যখন কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় তখন তার রক্তচাপ বেড়ে যায়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরন হয় ও মস্তিষ্ক কোষ ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়। এসময় একজন মানুষের জরুরী ভিত্তিতে ফার্স্ট এইড এবং বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।

যদি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী দেখেন তবে তাকে তাৎক্ষনিক সরানো যাবে না কারন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বিস্ফোরিত হতে পারে, এটা ভাল হবে যদি আপনার বাড়ীতে পিচকারি সুই থাকে, অথবা সেলাই সুই থাকলেও চলবে, আপনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য আগুনের শিখার উপরে সুচটিকে গরম করে নেবেন যাতে করে এটি জীবাণুমুক্ত হয়৷ তারপর রোগীর হাতের ১০ আঙ্গুলের ডগার নরম অংশে ছোট ক্ষত বা বিদ্ধ করতে এটি ব্যবহার করুন। এমনভাবে করুন যাতে প্রতিটি আঙুল থেকে রক্তপাত হয়, কোন অভিজ্ঞতা বা পূর্ববর্তী জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র নিশ্চিত করুন যে আঙ্গুল থেকে যথেষ্ট পরিমাণে রক্তপাত হচ্ছে কি না।

এবার ১০ আঙ্গুলের রক্তপাত চলাকালীন, কয়েক মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন দেখবেন ধীরে ধীরে রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে। যদি আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বিকৃত হয় তাহলে তার কানে ম্যাসেজ করুন। এমনভাবে তার কান ম্যাসেজ করুন যাতে ম্যাসেজের ফলে তার কান লাল হয়ে যায় এবং এর অর্থ হচ্ছে কানে রক্ত পৌঁছেছে। তারপর প্রতিটি কান থেকে দুইফোঁটা রক্ত পড়ার জন্য প্রতিটি কানের নরম অংশে সুচ ফুটান। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন দেখবেন মুখ আর বিকৃত হবে না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে রোগীর অবস্থা একটু স্বাভাবিক হলে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করান।

জীবন বাঁচাতে রক্তক্ষয়ের এই পদ্ধতি চীনে প্রথাগতভাবে চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই পদ্ধতির ব্যবহারিক প্রয়োগ, ১০০% কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

মানবতাবাদী ও জাতীয় জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ

মানবতাবাদী ও জাতীয় জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

মানবতাবাদী ও জাতীয় জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১৮ সালের ১০ জুন তৎকালীন যশোর জেলার মাগুরা মহকুমায় মাঝআইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে ইন্তেকাল করেন এ মহান কবি।

খানসাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ও রওশন আখতারের দ্বিতীয় ছেলে ফররুখ। কলকাতার বালিগঞ্জ হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা, ১৯৩৯ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। কলকাতা স্কটিশ চার্চ কলেজে ১৯৩৯ সালে দর্শন বিষয়ে এবং ১৯৪১ সালে কলকাতা সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএতে ভর্তি হন। কিন্তু নানাবিধ কারণে এখানেই অ্যাকাডেমিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। ১৯৪৩ সালে আইজি প্রিজন অফিস ও ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাই অফিসে স্বল্পকাল চাকরি ছাড়াও বিভাগ-পূর্বকালে মাসিক মোহাম্মদীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

‘কে আসে কে আসে সাড়া পড়ে যায়- কে আসে কে আসে নতুন সাড়া/জাগে সুষুপ্ত মৃত জনপদ জাগে শতাব্দী ঘুমের পাড়া, কিংবা রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?/এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?/ সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?/তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে;/ অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা হেরি…. এমন অসংখ্য কালজয়ী কাব্য পঙ্ক্তির রচয়িতা কবি ফররুখ।

কবি ফররুখ আহমদের চিন্তাচেতনা দর্শন সবই ছিল এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাক্সার প্রতিফলন। তার কবিতা ছিল মানবতাবাদী দর্শনে পরিপূর্ণ।
তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় রেডিও পাকিস্তান, ঢাকা ও বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান প্রযোজক স্ক্রিপ্ট রাইটার কিশোর মজলিসের প্রযোজক ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসস্বীকৃত এক অসাধারণ জননন্দিত কবি তিনি। স্বপ্নরাজ্যের সিন্দবাদ, ঐতিহ্যের কবি ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যাকাশে এক উজ্জ্বল তারকা। অফুরান সৌন্দর্য, উধাও কল্পনা, রূঢ় বাস্তবতা, প্রদীপ্ত আদর্শ, সমুদ্রবিহার, রোমান্টিকতা, প্রেম প্রভৃতি তার কবিতার এক মৌলিক চরিত্র নির্মাণ করেছে। গানের ভুবনেও তার পদচারণা ছিল সর্বত্র। সর্বোপরি শিশুসাহিত্য, নাটক, অনুবাদ সাহিত্যেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

তার প্রথম ও সেরা কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া সিরাজাম মুনিরা, নৌফেল ও হাতেম, মুহূর্তের কবিতা, হাতেম তায়ী, হে বন্য স্বপ্নেরা, পাখির বাসা, হরফের ছড়া, নতুন লেখা, ছড়ার আসর, চিড়িয়াখানা, কিস্সা কাহিনী, ফুলের জলসা, ফররুখ আহমদের গল্প প্রভৃতি তার অমর সাহিত্যকীর্তি।

ফররুখ আহমদ ‘তোরা চাসনে কিছু কারো কাছে খোদার মদদ ছাড়া, দূর দিগন্তের ডাক এলো, ঝড়ের ইশারা ওরা জানে, এমন অসংখ্য গান-কবিতার মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে যুগ থেকে যুগান্তরে বেঁচে থাকবেন।

বিকল্পধারার বৈধতা বি. চৌধুরীর হাতে নেই , অব্যাহতি পাচ্ছেন বাপ-বেটা!

বিকল্পধারার বৈধতা বি. চৌধুরীর হাতে নেই
ছবি : সংগৃহীত

ভোট ঘিরে জোটের রাজনীতি নাটকীয় মোড় নিচ্ছে। এবার ভেঙে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ। বিকল্পধারার অন্য অংশ এ উপলক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলন থেকে বিকল্পধারার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) এমেএ মান্নান, যুগ্ম-মহাসচিব মাহী. বি চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

বিকল্পধারা থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আহাম্মেদ বাদল এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিকল্পধারায় গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা নেই। দল বাপ-বেটার কাছে জিম্মি। এজন্য বৃহত্তর গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে বি. চৌধুরী, মেজর (অব.) মান্নান ও মাহী. বি. চৌধুরীকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিকল্পধারার ছিটকে পড়ার জন্য মাহীকে দায়ী করেন বাদল। তিনি বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিকালে জাতীয় ঐক্য নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন কাজ করেছি। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে মাহী বি. চৌধুরীর নাটকের কাছে সব ভেস্তে গেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে বাদল বলেন, ‘বিকল্পধারার বৈধতা বি. চৌধুরীর হাতে নেই। এর প্রকৃত মালিকই এখন দায়িত্ব নিবেন।’

ওই নেতার নাম না বললেও তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলন থেকে এ বিষয়ে সব ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হবে। তারপর জনগণই দেখতে পাবেন, দলটির মালিকানা আসলে কার?

বিকল্পধারা সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহতি দেয়ার পর বিকল্পধারার নেতৃত্ব আনা হচ্ছে দীর্ঘদিন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে। আর মহাসচিব পদে থাকবেন শাহ আহম্মেদ বাদল।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রেসসচিব জাহাঙ্গীর আলম  জানান, দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করায় বিকল্পধারার দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন, বিকল্পধারার সহ-সভাপ‌তি অ্যাডভোকেট শাহ আহাম্মেদ বাদল ও কৃ‌ষিবিষয়ক সম্পাদক জানে আলম হাওলাদার।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এই দুই নেতার প্রাথ‌মিক সদস্য পদ স্থ‌গিত করে সতর্ক করা হয়। বিকল্পধারার মহাস‌চিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দলের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৫ এর ৫:২ গ ধারা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করেন।

আইয়ুব বাচ্চুর জন্য চিৎকার করে কাঁদলেন জেমস (ভিডিও)

আইয়ুব বাচ্চুর জন্য কাঁদলেন জেমস
ছবি : সংগৃহীত

আজ সকালে যখন আইয়ুব বাচ্চু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জেমস তখন রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন মেলার কনসার্টে যোগ দিতে বরগুনার পথে ছিলেন জেমস। সেখান থেকেই আইয়ুব বাচ্চুর জন্য শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন আসতে না পারার আক্ষেপও।

বলেছিলেন, সন্ধ্যায় যখন মঞ্চে আসবেন তার বাচ্চু ভাইকে স্মরণ করবেন। কথা রেখেছেন তিনি। মঞ্চে পা রেখেই ঘোষণা দিলেন আজকের কনসার্ট আইয়ুব বাচ্চুর জন্য উৎসর্গ করেছেন তিনি। সেই ঘোষণা ছিল আবেগতাড়িত। আইয়ুব বাচ্চুর নাম নিতে গিয়ে চাপা কান্নার স্রোতে কথা হারিয়ে ফেলেন তিনি।

নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান হোক এটাই চাইছিলাম না। কিন্তু বাচ্চু ভাইয়েরই একটা কথা মনে পড়ে গেল। একটা গল্প বলি। অনেক আগে একটা শোতে হাস্যোজ্জ্বল বাচ্চু ভাই বলেছিলেন- যাই হোক শো ইজ মাস্ট অন! আজও অন। আমি চেষ্টা করছি।’

এরপর জেমস বাচ্চুর স্মরণে গিটারে সুর তোলেন। সেই সুরে ছিল কান্না। তিনিও কাঁদছিলেন। বাচ্চুর জন্য জেমসের চোখভেজা সেই কান্নার আবেগ ছুঁয়ে গেছে বরগুনার মঞ্চ পেরিয়ে সারা বাংলাদেশ।

কান্নার সেই ভিডিও শোভা পাচ্ছে ফেসবুকে বিভিন্নজনের দেয়ালে দেয়ালে।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বজনের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হাইকোর্ট সংলগ্ন কেন্দ্রীয় মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে আইয়ুব বাচ্চুর জন্মভিটা চট্টগ্রামে।

সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু।

দেখুন ভিডিও

সর্বশেষ সংবাদ