26 C
Dhaka, BD
শুক্র নভেম্বর ১৬, ২০১৮, ৮:০৫ অপরাহ্ন.
প্রচ্ছদ ব্লগ সংবাদ পেজ 3

তসলিমা নাসরিনের অভিযোগের জবাব দিলেন মাসুদা ভাট্টি

তসলিমা নাসরিনের অভিযোগের জবাব দিলেন মাসুদা ভাট্টি
ছবি : সংগৃহীত

একটি টিভি চ্যানেলের টক শোতে লেখিকা মাসুদা ভাট্টিকে অশালীনভাবে আক্রমণ করায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অনেক মানুষ মাসুদা ভাট্টির পাশে দাঁড়িয়ে মইনুল হোসেনকে ক্ষমা চাইতে বলছেন। দেশের ৫৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক তার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু বেশ আশ্চর্যজনকভাবেই প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন মাসুদা ভাট্টির কঠোর সমালোচনা করলেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাসুদা ভাট্টিকে তিনি ‘চরিত্রহীন’ আখ্যা দিয়েছেন!

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তললিমা নাসরিনের দেওয়া স্ট্যাটাসের জবাবে পাল্টা একটি স্ট্যাটাস দেন মাসুদা ভাট্টি। পাঠকের জন্য সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

মাসুদা ভাট্টি লিখেছেন, ‘তসলিমা নাসরিনকে আমি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি এরকম একটি মোক্ষম সময়কে বেছে নিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভকে প্রকাশ করে ২০ বছর আগে দেয়া আমার একটি বক্তব্যের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।

যে সকল ঘটনার উল্লেখ তিনি করেছেন তা ২০০০ সালের এবং তিনি সত্যিই আমাকে চিঠি দিয়েছিলেন কারণ তখন আমাকে ব্রিটেন থেকে বের করে দেওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। একটি আলোচিত সাক্ষাতকার গ্রহণের পর থেকে আমার সে দেশে টিকে থাকা মুস্কিল হয়ে পড়েছিল এবং তখনও অনেক সাংবাদিক আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, এখন যেমন দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তসলিমা নাসরিন কখনোই আমাকে তার পাবলিশার হিসেবে চিঠি দেননি, দিয়েছিলেন তার একজন ‘ফ্যান’ বা সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করে। খুঁজলে সে চিঠি আমি নিশ্চয়ই পাবো।

যখন তার প্রথম আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘ক’ বের হলো তখন এই বই নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবেই আমি একটি পুস্তক সমালোচনা লিখি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, আমার তখন নারীবাদ, নারীর প্রতি সহিংসতা, উদারনৈতিক ও সমতাভিত্তিক সমাজব্যাবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি একাডেমিক লেখাপড়া ছিল না। আমি সমালোচনায় বইটি সম্পর্কে এই কথাই বলতে চেয়েছিলাম যে, একজন ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির স্বেচ্ছা-সম্পর্কের দায় দু’পক্ষের সমান এবং তা প্রকাশের আগে অন্যপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন পড়ে- ‘ক’ বইটি পাঠে আমার তা মনে হয়নি। প্রায় কুড়ি বছর আগের লেখা এবং সেখানে আমি তসলিমা নাসরিনকে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণ করিনি। করতে পারি না কারণ আমি সবসময় একথাই বলে এসেছি যে, আজকে যে আমরা মেয়েরা অনায়াস-লেখা লিখতে পারছি তার মূলপথ আমাদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন। অথচ গত কুড়ি বছর যাবত তসলিমা নাসরিন অন্ততঃ কুড়িবারেও বেশি এই প্রসঙ্গে আমাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন তার প্রকাশিত বইতে, লেখায় এবং তার ও আমার জানাশোনা ব্যক্তিবর্গের কাছে।

২০০০ সালের পরে অসংখ্য লেখায় আমি তসলিমা নাসরিনের প্রশংসা করেছি এবং সে কারণে আমাকে সমালোচকরা ‘নতুন তসলিমা নাসরিন’ আখ্যা দিয়ে আমার বিচার, অপমান এবং ফাঁসিও চেয়েছে। তসলিমা নাসরিন এসব কথা কখনও উল্লেখ করেননি, তিনি সব সময় গত কুড়ি বছর ধরে বহুবার, বহু জায়গায় আমার এই পুস্তক-সমালোচনার কথা উল্লেখ করে আমাকে চরম আঘাত করেছেন। আমি বিরত থেকেছি জনসমক্ষে কিছু বলা থেকে কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে আমি বহুবার একথা বলেছি যে, তার বইয়ের সমালোচনায় আমি যা বলেছি সেটা একেবারেই তার বইয়ে সন্নিবেশিত তথ্যের সমালোচনা, তার ব্যক্তি-সমালোচনা নয়।

আমি একথা ২০০৩ সালেই প্রকাশ্যেও লিখেছি, এমনকি যখন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তখন আমি প্রতিবাদ করেছি, লেখকের বিরুদ্ধে মামলা বা বই নিষিদ্ধের দাবীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি। আমার সেসব প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সব ভেসে গেছে, থেকে গেছে কেবল সমালোচনাটুকু। এমনকি এই সেদিনও বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত লিট ফেস্ট ২০১৭ তে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছি যে, তিনি আমাদের পুরোধা লেখক যিনি পথ দেখিয়েছেন, অনেক শব্দকে ছাপার অক্ষরে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তিনি মুক্ত করে দিয়েছেন।

তসলিমা নাসরিনের প্রতি আমার কোনো ধরনের বিদ্বেষ, রাগ কখনোই ছিল না। বরং আমার দুঃসময়ে তিনি পাশে ছিলেন সেটা আমি ভুলিনি। তাই বলে তার প্রকাশিত বইয়ের সমালোচনা আমি করতে পারবো না সেটাতো হতে পারে না। হতে পারে তিনি মনে করেছেন যে, আমার সমালোচনাটি কুৎসিৎ ব্যক্তি আক্রমণ, কিন্তু আমি নিজে জানি যে, তখনও আমি সেটা করিনি আর এখনতো আরও করবো না। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি একটি লেখার জন্য আমাকে ক’বার শাস্তি দেবেন? এরতো কোথাও না কোথাও একটা শেষ হতে হবে, নয়? হয়তো এবারই সেই চরম শাস্তিটুকু তিনি আমায় দিলেন। আমি মাথা পেতে নিলাম।

তসলিমা নাসরিন তার মতামত দিয়েছেন আমার সম্পর্কে। আমি সে সম্পর্কে আমার ব্যাখ্যা দিতে পারি মাত্র, এর বেশি আর কীই বা করতে পারি? তবে এমন একটি সময়কে ২০ বছর আগে লেখা সমালোচনার (যার জন্য বহুবার তিনি প্রকাশ্যে আমায় গাল দিয়েছেন) জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন যখন আমি কেবল আক্রান্তই নই, আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিও তিনি আমলে আনেননি, আমার চেয়ে তার এই নিরাপত্তা-সংকটের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি বোঝার কথা ছিল।

আজকে তার দেওয়া চারিত্রিক সার্টিফিকেট নিয়ে যারা আমাকে তুলোধনুা করছেন তারাই প্রতিদিন তার মাথা চায়, নোংরা আক্রমনে জর্জরিত করে, কখনও বা তাকে দেশছাড়া করতে চায়। কিন্তু আজ আমার বিরুদ্ধে তারই দেওয়া ‘ভীষণ চরিত্রহীন’ তকমার করাত দিয়ে আমাকে টুকরো টুকেরো করছে। জানি না, এতে কার লাভ কী হলো? কিন্তু কিছু একটা হলো নিশ্চয়ই।

এরকম একটি চরম সংকটকালে যখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কবলে থেকে একদল মানুষ ন্যয়ের জন্য লড়ছে, তখন মইনুল হোসেনের দেওয়া তকমা “চরিত্রহীন”-কে একটি “ভীষণ” শব্দ জুড়ে দিয়ে আমার চরিত্রের সার্টিফিকেট-কে আরো শক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন- আমি এ জন্যও তার কাছে কৃতজ্ঞ। অগ্রজ লেখক হিসেবে হয়তো এটুকুই আমার প্রাপ্য তার কাছে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এন ডি এস

কিছুদিন পরপরই হেঁটে হেঁটে থানায় যায় ৯ ফুটের এই কুমির, কেন?

হেঁটে হেঁটে থানায় যায় ৯ ফুটের এই কুমির
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ স্টেশনে আচমকাই অনাহূত অতিথি। না, পুলিশের কোনও বড় কর্তা নন। কোনও রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিও নন। রাতের অন্ধকারে হেঁটে হেঁটে থানায় হাজির ৯ ফুটের এক কুমির।

রবিবার রাতে এই নিয়েই উত্তেজনা ছড়াল ভোপালের ভাদভরা বাঁধের রতিবাদ পুলিশ আউটপোস্টে। হঠাত্‍‌ই সেখানে কুমিরের আগমণ দেখে সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় ডায়াল ১০০ পুলিশ টিম ও বন দফতরকে। এলাকার লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে ছবি তোলা, ভিডিয়ো রেকর্ডিং শুরু করে দেন। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠির সাহায্যে কুমিরটিকে জলাশয়ে ফেরত পাঠায়।

এলাকাটি কুমিরের বেশ পছন্দের জায়গা। সে জন্যই বোধহয় কিছুদিন অন্তর অন্তরই দেখা দেয় এই সরীসৃপ। পুলিশ আউটপোস্টের কর্মী দেবেন্দ্র ঠাকুর জানালেন, ‘এখানে কুমির দেখাটা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। প্রতি ৬ মাস অন্তর কুমিরকে হেঁটে হেঁটে এই আউটপোস্টে আসতে দেখা যায়। অনেকসময় থানার গেটের সামনেও তাদের দেখা গিয়েছে। রাস্তার কুকুরগুলো কুমির দেখে চিত্‍‌কার শুরু করলেই আমরা বুঝে যাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোনু আহিরওয়ার রসিকতার সুরে বললেন, ‘কয়েক মাস বাদে বাদেই এখানে কুমির আসে। আমরা প্রচুর ছবি ও ভিডিয়ো তুলেছি। তবে ওই থানাই কুমিরের পছন্দের জায়গা বলে মনে হয়।

মাসুদা ভাট্টি যদি চরিত্রহীন না হয়, দুনিয়াতে চরিত্রহীন কে?

মাসুদাভাট্টি যদি চরিত্রহীন না হয়, দুনিয়াতে চরিত্রহীন কে
ছবি : সংগৃহীত

কে মইনুল হোসেন, কী করেন, কী তাঁর চরিত্র, কী তাঁর আদর্শ আমি জানি না, তবে জানি মাসুদা ভাট্টি একটা ভীষণ রকম চরিত্রহীন মহিলা। চরিত্রহীন বলতে আমি কোনওদিন এর ওর সঙ্গে শুয়ে বেড়ানো বুঝি না। চরিত্রহীন বলতে বুঝি, অতি অসৎ, অতি লোভী, অতি কৃতঘ্ন, অতি মিথ্যুক, অতি প্রতারক, অতি নিষ্ঠুর, অতি স্বার্থান্ধ,অতি ছোট লোক। মাসুদা ভাট্টি এসবের সবই।

মহিলাটির জন্য ১৯৯৬ বা ১৯৯৭ সালে আমার কাছে খুব করে আব্দার করেছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। লন্ডন থেকে স্টকহোমে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘মাসুদা ভাট্টি বাংলাদেশের মেয়ে। এক পাকিস্তানি লোককে বিয়ে করে এখানে ছিল। পাকিস্তানির সঙ্গে তালাক হয়ে গেছে। ব্রিটেনে এসাইলাম চেয়েছিল, পায়নি, এখন ব্রিটেন থেকে ওকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন তুমিই একমাত্র বাঁচাতে পারো ওকে।

ওর জন্য ব্রিটিশ সরকারকে একটা চিঠি লিখে দাও। লিখে দাও মাসুদা ভাট্টি বাংলাদেশে তোমার পাব্লিশার ছিল, তোমার জন্য আন্দোলন করেছে। ও যদি এখন দেশে ফিরে যায়, ওকে মেরে ফেলবে মৌলবাদিরা’। আমি বললাম, ‘মহিলাকে আমি চিনিই না। আর আপনি বলছেন ও আমার পাবলিশার ছিল? আমি মিথ্যে বলি না। আমি মিথ্যে কথা বলতে পারবো না।’ এরপর ওই মহিলা আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি, আমাকে বাঁচান।

আপনি না বাঁচালে আমি মরে যাবো জাতীয় কান্না। কাউকে কাঁদতে দেখলে নিজের চোখেও জল চলে আসে। ব্রিটিশ সরকারের কাছে মাসুদা ভাট্টিকে না তাড়ানোর জন্য অনুরোধ করলাম। মহিলার জন্য মিথ্যে কথা আমাকে লিখতে হলো, লিখতে হলো, আমার পাবলিশার ছিল সে, দেশে ফিরলে তাকে মেরে ফেলবে মৌলবাদিরা। তখন আমার খুব নাম ডাক। আমার চিঠির কারণে মাসুদা ভাট্টির পলিটিক্যাল এসাইলাম হয়ে গেল, ব্রিটেনের নাগরিকত্বও হয়ে গেল।

তারপর কী হলো? তারপর ২০০৩ সালে আমার আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ‘ক’ যখন বাংলাদেশে বেরোলো,আমি কেন নারী হয়ে দেশের এক বিখ্যাত পুরুষের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছি, আমি কেন নারী হয়ে নিজের যৌনতার কথা লিখেছি, সারা দেশের নারী-বিদ্বেষী আর ধর্মান্ধ মৌলবাদি গোষ্ঠি উন্মাদ হয়ে উঠলো আমাকে অপমান আর অপদস্থ করার জন্য, আমাকে অবিরাম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালি তো দিতেই লাগলো, আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে শুরু করলো, সেই মিছিলে সামিল হলো মাসুদা ভাট্টি।

আমার বিরুদ্ধে এ যাবৎ প্রচুর কুৎসিত লেখা লিখেছে লোকে, সর্বকালের সর্বকুৎসিত লেখাটি লিখেছে মাসুদা ভাট্টি। সবচেয়ে জঘন্য, সবচেয়ে অবিশ্বাস্য, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, সবচেয়ে বীভৎস সে লেখা। এত ভয়াবহ আক্রমণ আমার চরমতম শত্রুও আমাকে কোনওদিন করেনি। ক বইটি নাকি ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে শরীরে ঘিনঘিনে ঘা ওলা রাস্তায় পড়ে থাকা এক বুড়ি বেশ্যার আত্মকথন।

মাসুদাভাট্টি আমার উপকারের জবাব ওভাবেই দিয়েছিল। ও যদি চরিত্রহীন না হয়, দুনিয়াতে চরিত্রহীন কে?

আজ দেশের ৫৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির পক্ষে লড়ছেন কারণ কেউ তাকে চরিত্রহীন বলেছে। যত অশ্লীল শব্দ বাক্য পৃথিবীতে আছে, তার সবই আমার বিরুদ্ধে উচ্চারিত হচ্ছে আশির দশক থেকে। আমি তো জনপ্রিয় কলাম লেখক ছিলাম তখন, জনপ্রিয় লেখক ছিলাম, কই কোনও বিশিষ্ট সম্পাদক আর কোনও সিনিয়র সাংবাদিককে তো আমার বিরুদ্ধে হওয়া লাগাতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ করতে কোনওদিন দেখিনি!

আমার মাথার দাম ঘোষণা করা হলো, আমার বিরুদ্ধে লক্ষ লোকের লং মার্চ হলো, আমার ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে দিনের পর দিন মিছিল হলো, সরকার একের পর এক আমার বই নিষিদ্ধ করলো, আমার মত প্রকাশের বিরুদ্ধে মামলা করলো, আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল, কই দেশের কোনও সম্পাদক বা সাংবাদিক কেউ তো টুঁ শব্দ করেননি। সে তো করেনইনি, বরং যে সব পত্রিকায় আমি নিয়মিত কলাম লিখতাম, সে সব পত্রিকার বিশিষ্ট সম্পাদকরা আমার কলাম ছাপানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

এই যে আজ ২৪ বছর আমাকে অন্যায়ভাবে কোনও সরকারই দেশে ফিরতে দিচ্ছে না, কোনও বিশিষ্ট জন তো মুখ খোলেন না। নারী সাংবাদিকরা আজ মাসুদা ভাট্টির পক্ষে প্রেস কনফারেন্স করছেন। নারীর সমানাধিকারের পক্ষে প্রায় ৪০ বছর লিখছি , লেখার কারণে আমাকে যে এত হেনস্থা করলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, কই কোনও নারী সাংবাদিক তো আমার পক্ষে না হোক, আমার ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনওদিন দুটো বাক্য উচ্চারণ করেননি! একজনের বেলায় বোবা, আরেকজনের বেলায় বিপ্লবী, এ খেলার নাম কী?

মাহীর সঙ্গে ভাইরাল ছবি নিয়ে বোমা ফাটালেন সাঈদীপুত্র !

মাহীর সঙ্গে ভাইরাল ছবি নিয়ে বোমা ফাটালেন সাঈদীপুত্র
ছবি : সংগৃহীত

এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী যখন নানা টিভি টক শো আর নানা অনুষ্ঠানে জামায়াত নিয়ে আপত্তির কথা জানাচ্ছেন। ঠিক সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীর সঙ্গে মাহীর এক ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে।

এদিকে দেশের কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা ও কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শনিবার মাহীর সঙ্গে সাঈদীপুত্রের ভাইরাল হয়ে পড়া ছবিটি প্রসঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে বলেন, ছবিটি নাকি সাঈদীপুত্র শখের বশে তুলেছিলেন। শামীম সাঈদীকে তিনি নাকি চেনেনও না বলে জানান।

গণমাধ্যমে দেয়া ছবিটি এবং মাহীর এমন বক্তব্যে শনিবার দিবাগত রাতে শামীম সাঈদী নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেন- ‘ভাইরাল হওয়া ছবিটি গতকালই আমার নজরে আসে। এ ছবি নিয়ে আমার কোনো অনুভূতি তৈরি হয়নি।’ ছবিটিকে আর সব সাধারণ ছবির মতোই মনে হয়েছে শামীম সাঈদীর।

সমসাময়িক রাজনৈতিক খরার মধ্যে থেকেও মাহী বি চৌধুরীর অহমিকাবোধ কমেনি বলেও মন্তব্য করেছেন যুদ্ধাপরাধীর দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীপুত্র শামীম সাঈদী। কারণ হিসেবে তিনি একটি যুক্তিও তুলে ধরেন। বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কট্টর বিরোধী দল বা মতাদর্শের ব্যক্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চে কিংবা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেক বড়মাপের ব্যক্তিদের অহরহ যুগল ছবি থাকে বা আছে। ইন্টারনেট সার্চ করলে এ রকম অসংখ্য বিপরীত মতাদর্শের লোকদের যুগল ছবি পাওয়া যায়। বলা যায়, এটি একটি নিয়মিত সৌজন্যতা বোধ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

‘হঠাৎ করেই অনেক আগের তোলা এ ছবিটি কে বা কারা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ছবিটি নিয়ে আমাকে সাংবাদিক প্রশ্ন করবে বা আমাকে কিছু বলতে হবে বা লিখতে হবে এটি আমি মোটেও ভাবিনি। এমনকি বহুল প্রচারিত কিছু দৈনিকে এ ছবি ছাপিয়ে সংবাদ করা হবে সেটিও আমার কল্পনায় আসেনি।’

‘মাহী বি চৌধুরী তাকে চেনেন না’ এ ব্যাপারে শামীম সাঈদী বলেন, ‘মাহী নিজেকে যথেষ্ট উঁচু জায়গায় রেখে কথা বলেছেন। তিনি উঁচু স্তরের মানুষই বটে! তবে মাহী বি চৌধুরী আমাকে চেনেন কি চেনেন না সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি তাকে এবং তার শ্রদ্ধেয় বাবাকে খুব ভালোভাবে চিনি। তার বাবা আমাদের বাসায় কয়েকবার এসেছেন।’ ‘তাদের বাসায় আমরাও কয়েকবার গিয়েছি। সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী আমাকে স্নেহ করেন। আমি তাদের শ্রদ্ধা করি।’

গণমাধ্যমে বলা মাহীর বক্তব্যে অহমিকা প্রকাশ পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শামীম সাঈদী। বলেন, ‘জনগণ মাহীর এমন অহমিকা মোটেও পছন্দ করেন না।’ তিনি মাহীর প্রতি অনুরোধ করেন, ‘নিউজ পোর্টালের করা নিউজগুলোর কমেন্টগুলো একটু ভালো করে পড়ুন, তার পর নিজেকে সেই জায়গা থেকে মাপুন।’

ছবিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাধারণত বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের প্রতি পারস্পরিক রাজনৈতিক সম্মানবোধের প্রবণতার সংস্কৃতি খুবই দুর্লভ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এ রাজনৈতিক সংকট উত্তরণ ঘটিয়ে ছবিটি সুস্থ রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রে উদাহরণ তৈরি করতে পারত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সাবেক সাংসদ মাহীর প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে- নিজেকে মাপুন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আপনার বাবা, এই স্থান থেকে নয়; নিজের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করুন। নিজের জায়গা বুঝুন তার পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করুন। অন্তত জনগণের হাসির খোরাকে পরিণত না হওয়ার চেষ্টা করুন।’

রাজধানী ঢাকায় ভিক্ষুক বানানোর কারখানার সন্ধান ও চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

রাজধানী ঢাকায় ভিক্ষুক বানানোর কারখানার সন্ধান ও চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

ভিক্ষুক বানানোর কারখানার- মাণ্ডায় পানির পাম্প এলাকার দুদু মিয়ার গলি ধরে পূর্ব দিকে ৩০ গজের মতো এগোলেই হাতের ডানে-বাঁয়ে বস্তির মতো ছয়-সাতটি ঘর। তবে ঘরগুলো সেমিপাকা। সাত্তার মিয়ার বাড়ি বললে সবাই চেনে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। ঘরগুলোর একটি থেকে কাঠের হুইলচেয়ারে বসে বের হয়ে এলেন এক যুবক। চেয়ারটি পেছন থেকে ঠেলছে এক কিশোর।যুবকের বয়স ২৮-৩০ বছর। কিশোরের ১২ থেকে ১৪। দুজনই প্রতিবন্ধী এবং ভিক্ষুক। যুবকের দুই পা সরু লাঠির মতো। কিশোরটি কুঁজো।

কিশোরকে একটু দূরে ডেকে নিয়ে নাম-পরিচয় জানতে চাইলে সে জানায়, তার নাম আলতাফ, বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। যুবক তার আপন বড় ভাই, নাম মোক্তার। তাদের বাবা প্রয়াত আলী হোসেন। অভাবের সংসারে ভাইকে নিয়ে সে ভিক্ষা করে।

এরপর কিশোরকে দূরে রেখে যুবকের কাছে তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ঘাবড়ে যান।পরে জানান, তাঁর নাম মোক্তার হোসেন। কিশোরটি তাঁর ছোট ভাই, নাম আলতাফ। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি এলাকায়। তাঁদের বাবার নাম সোলায়মান। তিনি আগে রিকশা চালাতেন, এখন অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই থাকেন। মোক্তার আর আলতাফ মিলে ঢাকা থেকে টাকা পাঠায়। তাতে মা-বাবার সংসার কোনোমতে চলে।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত দুজনই স্বীকার করে তারা ভাই নয়, আত্মীয়ও নয়। দিনভর ভিক্ষা করে যা আয় হয়, রাতে ঘরে ফিরে তা দুজন সমান ভাগ করে নেয়। তা দিয়েই চলে খাওয়া, ঘরভাড়া, পোশাক ও নিত্যদিনের হাতখরচ এবং সরদারের ‘সপ্তাহ’।

জানা গেল, সাত্তার মিয়ার সাতটি সেমিপাকা ঘর ছাড়াও এই এলাকায় ৮০টির মতো ঘরে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করে হাজারের ওপরে ভিক্ষুক। ঘরগুলো বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি থেকে শুরু করে তিনতলা পাকা ভবন পর্যন্ত।

ভিক্ষুকদের প্রায় সবাই পঙ্গু। যারা পঙ্গু না, তারাও বয়স আর অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। আর রয়েছে শিশু। তাদের কারো কারো অবস্থা এতটাই করুণ যে, হঠাৎ করে দেখে বোঝার উপায় নেই সে জীবিত না মৃত।

এই ভিক্ষুকদের নিয়ে কয়েক দিন ধরে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া গেছে নানা চাঞ্চল্যকর অজানা তথ্য। ভিক্ষুকদের একেকটি ঘর থেকে বের হয়ে আসা তথ্যচিত্রগুলো এমনই যে, কখনো শ্বাসরুদ্ধকর, কখনো বিস্ময়ে চোখ কপালে ওঠে, আবার কখনো চোখ ভিজে আসে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, আসাদুজ্জামান তপন ও মাসুদ রানা নামের দুই ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদনটি।

পুলিশের অনুরোধে অনুসন্ধানের দিন-তারিখ গোপন রাখা হলো। কারণ, পুলিশের কোনো অভিযানের সঙ্গে থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। বরং প্রতিবেদন তৈরিতে সাংবাদিককে সহযোগিতার জন্যই পুলিশ সদস্য সঙ্গে ছিলেন।

ছিলেন র‌্যাব-পুলিশের কয়েকজন সোর্সও। শনিবার, রাত দেড়টা। মাণ্ডায় রশিদ মিয়ার তিনতলা বাড়ি। নিচতলার একটি ঘরে বেশ কয়েকবার কড়া নাড়লে ভেতর থেকে দরজা খুলে দেন এক নারী। বয়স ৩০-৩৫ বছরের মতো। চোখে-মুখে রাজ্যের বিরক্তি। কিন্তু পুলিশ দেখে চুপ।

ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, বাসায় তিনটি ঘর। একটি ঘরে মহিলা তাঁর স্বামীকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘরে মশারি টানানো খাট, আলনা, ছোট কাঠের আলমারির ওপর ১৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন।

মহিলা তাঁর নাম জানালেন আয়েশা আক্তার। তবে এলাকাবাসী তাঁকে হেলালের মা নামে চেনে। ততক্ষণে তাঁর স্বামীও ঘুম থেকে উঠে পুলিশ দেখে বাথরুমের ওপরে মালামাল রাখার জায়গায় গিয়ে লুকিয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে সেখান থেকে টেনে নামানো হলো।

তাঁর নাম সালাম। নিজেকে রিকশাচালক দাবি করলেও সঙ্গে থাকা পুলিশের সোর্স রফিক জানান, তিনি আসলে ভিক্ষুকদের সরদার। পাশের একটি ঘর বাইরে থেকে তালা দেওয়া। অন্ধকার।

ভেতরে কারো চাপা গলার স্বর শুনতে পেয়ে পুলিশের আদেশে তালা খুলে দেন আয়েশা। ভেতরে গিয়ে আলো জ্বেলে দেখা যায়, মেঝেতে বসে আছেন পাঁচজন বৃদ্ধা। কারো বয়সই ৮০ বছরের নিচে হবে না। জীর্ণ শরীরে শতছিন্ন নোংরা পোশাক। ঘরের মধ্যেই মলমূত্র ত্যাগ করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

আয়েশা জানান, এই বৃদ্ধারা তাঁর ভাড়াটে। মাথায় গণ্ডগোল আছে। রাতে পালিয়ে যেতে পারে আশঙ্কায় ঘর বাইরে থেকে তালা মেরে রাখা হয়। বৃদ্ধারা তাঁর স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থেকে ভিক্ষা করেন।বৃদ্ধাদের মধ্যে একজন নিজেকে সম্ভবত শাহিদা নামে পরিচয় দিলেন। মুখে দাঁত নেই একটাও।

অস্পষ্ট উচ্চারণের কারণে তাঁর কথা বোঝা কঠিন। বয়স ৯০-এর কম হবে না। বৃদ্ধা যা বললেন অনুমান করা যায়, তাঁর বাড়ি কোথায় মনে নেই। শুধু এটুকু মনে আছে, বাড়ি নদীতে ভেঙে গেছে।

এখানে তাঁকে দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। কত টাকা পান, জানেন না। তবে তাঁর ধারণা, পরিমাণ কম হবে না। খুব ক্ষুধা লাগে, কিন্তু ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। খাবার চাইলে মারধর করা হয়। ছয়-সাত দিন পর গোসল করানো হয়। অসুস্থ হলে ওষুধ দেওয়া হয় না।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে থাকা পুলিশের সোর্স রফিক ও আরেক বৃদ্ধা ভিক্ষুক জানান, সুস্থ থাকলে আয় কম হয়, পথচারীরা ভিক্ষা দিতে চায় না। তাই তাঁদের অসুস্থ করে রাখা হয়। খাবার দেওয়া হয় কম।

রাতে ঘুমানোর জন্য বিছানা দেওয়া হয় না। এই ভিক্ষুকদের যে বাসায় আটকে রাখা হয়েছে, সেই বাসার ভাড়াটে আয়েশা ও তাঁর স্বামী সালাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের বেশি খাবার দিলে মল-মূত্র দিয়ে ঘর নোংরা করে ফেলে। তাই কম খাবার দেওয়া হয়।

রাত আড়াইটা। পাশের আরেক বাড়ি। এটি বুলু মিয়ার বাড়ি নামে পরিচিত। মেস বা ছাত্রাবাসের মতো সারিবদ্ধ ১২টি ঘর। প্রতিটি ঘর আলাদাভাবে ভাড়া দেওয়া। সবটাতেই ভিক্ষুকরা থাকে।

একটি ঘরে পাওয়া যায় ভিক্ষুকদের সরদার হিসেবে পরিচিত মোক্তারকে। মোক্তারের ঘরের বাথরুম বাইরে থেকে সিটকিনি দেওয়া। সেটা খুলতেই সবার চোখ ছানাবড়া।টয়লেটের প্যানে কার্টনের কাগজ বিছিয়ে বিছানার মতো করে তার ওপর হাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে আছেন এক অশীতিপর বৃদ্ধা। দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি জেগে আছেন না ঘুমিয়ে আছেন। এত লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়েও সাড়া নেই বৃদ্ধার।

তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেক প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু প্রতিটি প্রশ্নের জবাবেই বৃদ্ধা মাথা না তুলে শুধু একটা কথাই বলতে থাকেন, ‘বলব না, বলব না, ওরা মারবে।’ বৃদ্ধা তাঁর নাম-পরিচয় কিছুই বলতে পারেন না।মোক্তার আর তাঁর স্ত্রী জানান, এই বৃদ্ধাকে তাঁরা ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনেছেন। বিক্রেতা তাঁকে পথে কুড়িয়ে পেয়েছিল। এখন বৃদ্ধাকে দিয়ে তাঁরা ভিক্ষা করান।

অনুসন্ধান চালানো হয় দুদু মিয়ার গলি ও পাশের পুরনো গলির কমপক্ষে ১৫-১৬টি বাড়িতে। সবখানেই একই চিত্র। সবচেয়ে বেশি ভিক্ষুককে আটকে রাখা হয়েছে গলির বুলু মিয়া, সাজু মিয়া ও সদু মিয়ার বাড়িতে। সদু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় ভিক্ষুক সুফিয়া বেগমের সঙ্গে। বয়স ষাটের কাছাকাছি। তাঁর পাশে বসা দুজন শামসুন্নাহার, বয়স ত্রিশের মতো আর সুলতানা, কিশোরী বয়সী। সুফিয়া জানান, এরা তাঁর মেয়ে।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওরা কেউই বৃদ্ধার সন্তান না। জানা গেল, বাড়ির মালিক সদু মিয়া সাংবাদিক টের পেয়েই পালিয়ে গেছেন। সাজু মিয়ার বাড়ির একটি ঝুপড়িঘরে বিছানায় মৃতের মতো পড়ে থাকতে দেখা যায় এক বৃদ্ধাকে।

জানা যায়, তাঁর নাম হামিদা বেগম। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। তাঁর পাশে বসা আরেক মহিলা, নাম রহিমা। তাঁর ডান হাতের পাঁচটি আঙুলই কাটা। রহিমা বৃদ্ধাকে মা বলে পরিচয় দিতেই অনুসন্ধানে তা অসত্য প্রমাণিত হয়। জানা যায়, রহিমা নিজেই একজন ভিক্ষুক ব্যবসায়ী। হামিদাকে কিনে এনে তাঁকে দিয়ে ভিক্ষা করান তিনি।

এ ব্যাপারে হামিদার সঙ্গে কথা বলতে গেলে রহিমা দৌড়ে পালিয়ে যান। পাঠিয়ে দেন বাড়ির মালিক সাজু-শ্যামলের মাকে। নাম জানতে চাইলে তিনি বললেন, সবাই তাঁকে শ্যামলের মা নামেই চেনে। তিনি বলেন, তাঁর ১০টি ঘর ভিক্ষুকদের ভাড়া দিয়েছেন। এদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া পাওয়া যায়।

ঝামেলা করলে বিদায় করাও সহজ। এই বাড়িতে আরো একটি ভিক্ষুক-পরিবার পাওয়া যায়। বৃদ্ধা সখিনা বিবি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। কথা বলতেও কষ্ট হয়। জানালেন, তাঁকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। খাবার চাইলে মারধর করা হয়। ক্রমে পঙ্গু হতে চলেছেন। চোখেও কম দেখেন।

রানী বেগম (সলুর মা) নামে এক ভিক্ষুক জানালেন, তিনি ভিক্ষা পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন ভিক্ষুক কিনে এনে ব্যবসা করেন। তাঁকে সবাই সরদার বলে জানে। এই এলাকায় এ রকম সরদার আছেন ৫০ জনের মতো। তাঁরা ভিক্ষুক কিনে এনে নিজের কাছে আটকে রেখে ভিক্ষা করান। এদের কোনো মাসোহারা দিতে হয় না।

শুধু খাবার আর রাতে থাকার জায়গা দিলেই চলে। আবার কিছু ভিক্ষুক তাঁরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিচালনা করেন কমিশনের ভিত্তিতে। বাড়িভাড়া, দেখভাল করা আর পুলিশ ধরে নিয়ে ভবঘুরে কেন্দ্রে পাঠালে ছাড়িয়ে আনার দায়িত্ব তাঁদের বা সরদারদের।

এসব ভিক্ষুকের কাছ থেকে তারা সপ্তাহভিত্তিক টাকা পান। এই টাকাকে তাঁদের ভাষায় ‘সাপ্তা’ বলে। রানী বেগমের কাছ থেকে জানা গেল, মানসিক রোগে আক্রান্ত (বিশেষ করে প্রতিবন্ধী) সারা দেশের পথহারা বৃদ্ধ মহিলা আর শিশু-কিশোরদের ধরে আনার একটি চক্র আছে।

এই চক্র ওই বৃদ্ধা ও শিশুদের ধরে এনে তাঁদের কাছে বিক্রি করে। দাম ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যে শিশু বা বৃদ্ধা যত বেশি অসুস্থ, তার দাম তত বেশি। কেনার পর তাঁরা এদের নিজের কাছে রেখে ঠিকমতো খাবার বা চিকিৎসা না দিয়ে আরো অসুস্থ করে তোলেন।

এভাবে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত তাদের আটকে রাখা হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এভাবে শিশুদের অনেকে পঙ্গু হয়ে পড়ে। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কাউকে কেনা হয় না। ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা বৃদ্ধা ও শিশুদের চট্টগ্রামে আর চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা শিশু ও মহিলাদের ঢাকায় রাখা হয়।

চট্টগ্রামেও এই ভিক্ষুক-ব্যবসায়ীদের একাধিক আস্তানা রয়েছে বলে রানী জানান। রানীর কথার সূত্র ধরে হজরত নামে স্থানীয় এক প্রতিবাদী যুবককে নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয় ওই এলাকায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুদু মিয়ার গলির (পুরনো গলি) বুলু মিয়ার বাড়িতেই এক বৃদ্ধাকে পাওয়া যায়। বুলু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন ভিক্ষুক-ব্যবসায়ী নাসিমা।

নাসিমা শুধু সরদারই নন, এই চক্রের নেত্রী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর ঘরের মেঝেতে নির্জীব হয়ে পড়ে আছেন এক বৃদ্ধা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন। সাংবাদিক দেখেই দৌড়ে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে চিৎকার শুরু করেন নাসিমা।

ডেকে আনেন এলাকার কয়েকজন ছিঁচকে সন্ত্রাসী ধরনের যুবককে। তারা এসে বাধা দেয় তথ্য সংগ্রহে। একপর্যায়ে যুবকরা হজরতকে ধরে মারধর শুরু করে। পরে এই প্রতিবেদক স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে হজরতকে উদ্ধার করে সেখান থেকে নিয়ে আসেন।

হজরত পরে টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, নাসিমা ছেলেধরা চক্রেরও নেত্রী। ওই রাতে মেঝেতে নির্যাতিতা যে বৃদ্ধ মহিলাকে দেখা গেছে, তাঁকে নাসিমা রাস্তা থেকে জোর করে ধরে এনেছে।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা করায় সোমবার রাতে আবারও নাসিমাসহ ওই সন্ত্রাসীরা বৃদ্ধাকে ধরে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাতভর মারধর করেছে। পুলিশকে জানালে খুন করা হবে বলে হুমকি দিয়ে সকালে তাঁকে ছাড়া হয়।

বুলু মিয়ার বাড়ির দুই ঘরের ভাড়াটিয়া প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ফিরোজ মিয়া ও রকিবুল জানান, এখানে সরদারচক্র আছে। যারা নিজেরা চলাচল করতে পারে না, তারাই সরদারের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

তাঁদের জোর করে আটকে রেখে ভিক্ষা করানো হয়। তবে তাঁরা কোনো সরদারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে ফিরোজ ও রকিবুল জানান। রাজিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা জানান, তিনি তাঁর নাম-পরিচয়-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেন না।

তাঁকে সুফিয়া নামে যে মহিলা আটকে রেখে ভিক্ষা করায়, সে তাঁকে রাজিয়া বলেই সবার কাছে পরিচয় দেয়। আর এতেই তিনি ধরে নিয়েছেন, তাঁর নাম রাজিয়া।রাজিয়ার এক পায়ের হাঁটুতে আর মাথার মাঝখানে দগদগে ঘা।

মাথায় ক্ষতের চারপাশে চুল কেটে ফেলা হয়েছে, যাতে ঘা আরো স্পষ্ট হয়ে চোখে পড়ে। দেখেই বোঝা যায়, চিকিৎসা হয়নি। ‘চিকিৎসা করাচ্ছেন না কেন’ প্রশ্ন করলে রাজিয়া ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন।

অনেকবার জিজ্ঞেস করার পর রাজিয়া জানান, তাঁকে ওষুধ দেওয়া দূরে থাক, ঠিকমতো খাবারই দেওয়া হয় না। ব্যথায় ঘুমাতে পারেন না। রাস্তায় বসে যখন ভিক্ষা করেন, তখন মাছি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাথা ও পায়ের ঘা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন।

কিন্তু সুফিয়া এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে। পথচারীরা ঘা না দেখলে ভিক্ষা দেবে না বলে সুফিয়া তাঁকে জানিয়েছে। শুধু একটু খাবারের জন্যই তিনি সুফিয়ার কথা মেনে চলেন। কেউ জানতে চাইলে বলেন, সুফিয়া তাঁর মেয়ে।

সুফিয়া অবশ্য তাঁকে মা বলেই ডাকে।দুদু মিয়ার গলির উল্টোদিকে গ্যারেজ গলিতে একটি তিনতলা ভবনের নিচতলা। নিচতলা না বলে মাটির তলা বলাই ভালো। কারণ, এই নিচতলার ধরনই অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ড ভবনের বেজমেন্ট রুমের মতো।

রশিদ মিয়ার ঘরে যাওয়া হয় রাত সাড়ে ৩টার দিকে। বিছানায় চার মাস বয়সের এক শিশু কোলে নিয়ে শুয়ে ছিলেন রশিদ ও তাঁর স্ত্রী। খাটের নিচে পুরনো কার্পেট ও কাপড় চাপা দেওয়া অবস্থায় ঘুমন্ত পাওয়া গেল পাঁচ-ছয় বছরের দুই শিশুকে।

রশিদ জানান, শিশু দুটি তাঁরই সন্তান। ‘সন্তান হলে ওদের এভাবে খাটের তলায় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে কেন’ জানতে চাইলে রশিদ জানান, খাটে জায়গা না হওয়ায় ওদের নিচে শুতে দেওয়া হয়েছে। আর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে মশা ও ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করতে।এই ভিক্ষুক ব্যবসায়ীচক্রকে ঘিরে এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক অপরাধচক্র।

এ ধরনের কয়েকটি চক্রের দলনেতা হচ্ছেন দানব, ইয়ারু, নিয়ামত, সোহেল, জসিম, হায়দার, ভুট্টো, সুরুজ ও মাসুম। এঁদের কয়েকজন এলাকায় রিকশা গ্যারেজ মালিক হিসেবে পরিচিত। সোহেল, ভুট্টো ও হায়দার জানান, তাঁরা কোনো দল বা চক্রের নেতা নন।

তাঁদের রিকশায় করে এখান থেকে পঙ্গু ভিক্ষুকদের প্রতিদিন ভোরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পেঁৗছে দেওয়া হয় এবং রাতে আবার নিয়ে আসা হয়। এর জন্য তাঁরা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু বেশি ভাড়া পান। এর বাইরে এই ভিক্ষুক বা এদের নেতাদের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

হেলপ ফর হিউম্যান নামে একটি বেসরকারি সংগঠন গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই এলাকার ভিক্ষুকদের নিয়ে একটি জরিপ চালায়। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট নিগার সুলতানা জানান, মাণ্ডা এলাকায় ভিক্ষুকের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি।

এরা মাঝেমধ্যে বাসা পরিবর্তন করলেও মাণ্ডা এলাকাতেই থাকে। এখানে এদের কমপক্ষে ৩০ জন দলনেতা বা নেত্রী আছেন, যাঁরা সরদার নামে পরিচিত। বস্তি, স্টেশন বা রাস্তাঘাট থেকে অসহায় বৃদ্ধা আর শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে বা জোর করে ধরে এনে তাদের দিয়ে ভিক্ষা করানো হচ্ছে।

এটা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনাহারে রেখে কৌশলে এদের পঙ্গু বানানো হচ্ছে। তবে অবাক করার বিষয়, কারো বিরুদ্ধেই এদের কোনো অভিযোগ নেই। জোর করে ধরে আনার কথা এরা কেউ স্বীকারও করতে চায় না।

এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি এমনিতেই আইনে নিষিদ্ধ। এর পরও মানবিক নানা কারণে অনেক সময় ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে ওঠে না। তবে কাউকে জোর করে আটকে রেখে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা বড় অপরাধ।

মাণ্ডাসহ রাজধানীর অনেক এলাকাতেই ভিক্ষুকদের বসবাস আছে। তবে কারো বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে পুলিশ গোপনে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে বলে তিনি জানান।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

কারাগারে থেকেই শহিদুল আলমের দুই পুরস্কার

কারাগারে থেকেই শহিদুল আলম দুই পুরস্কার
ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্প্রতি লন্ডনের ফ্রন্টলাইন ক্লাব কর্তৃক ট্রিবিউট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। গত ৯ই অক্টোবর এ অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়। ১১ই অক্টোবর আলোকচিত্রী শহিদুলের পক্ষ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তার ভাগ্নি সোফিয়া করিম। তার বোন ড. কাজী নাজমা করিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় শহিদুলের মুক্তির বিষয়ে বিশ্ব নেতাদের কাছে আহ্বান জানান সোফিয়া করিম। ফ্রন্টলাইন ক্লাব সবসময় স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। এছাড়া আলোকচিত্রের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের লুসি ফাউন্ডেশন শহিদুলকে এ বছর ‘হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ ২০১৮-এর জন্য নির্বাচিত করেছে। আলোকচিত্রের ‘অস্কার’ বলা হয় এ পুরস্কারকে।

২৮শে অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে তার এ পুরস্কার গ্রহণ করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের আলোকচিত্রী, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, দৃক গ্যালারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতায় এশিয়া থেকে একমাত্র তিনিই ছিলেন জুরি বোর্ডের সভাপতি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্বজনরা কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। শহিদুল কারাগারে বই পড়ে সময় কাটান। কিছু দিন ধরে তার দাঁতের ব্যথা দেখা দিয়েছে। জেলখানার ভেতরে থাকা একটি সেফালি ফুলের গাছ থেকে অনেকগুলো ফুল কুড়িয়ে পলিথিনে মুড়িয়ে তা স্বজনদের শুভেচ্ছা হিসেবে দিয়েছেন তিনি। তার দেয়া সেফালি ফুলগুলো ইতিমধ্যে টুইটার ও ইন্সটাগ্রামে স্থান করে নিয়েছে। অনেকেই তার সেফালি ফুলের ছবি দিয়ে টুইট করে লিখেছেন, ‘লাভ ফ্রম আওয়ার প্রিজনার অব শহিদুল আলম’।

শহিদুল আলমের জন্ম ঢাকায় ১৯৫৫ সালে। তার বাবার নাম ডা. কাজী আবুল মনসুর এবং মায়ের নাম কাজী আনোয়ারা মনসুর। তারা দুই ভাই-বোন। নাজমা করিম ও শহিদুল আলম। তিনি রসায়ন নিয়ে লেখাপড়া করেন। পরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জৈব রসায়নে পিএইচডি করেন। ১৯৮৯ সালে দৃক ফটো গ্যালারি প্রতিষ্ঠা করেন শহিদুল আলম। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ এশিয়ার ফটোগ্রাফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠশালা। তিনি ছবি মেলারও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নেদার?ল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ডপ্রেস ফটো প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম এশীয় হিসেবে তিনি এ সম্মান অর্জন করেন। ‘যেই যুদ্ধ আমরা ভুলে গেছি।’ তার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে সবচেয়ে সফল চিত্রপ্রদর্শনীর একটি। ১৯৮৩ সালে তিনি হার্ভে হ্যারিস ট্রফি জেতেন। ১৯৯৩ সালে তথ্যচিত্রের জন্য জিতে নেন মাদার জোন্স পদক। ‘৯৮-এ তিনি আন্দ্রে ফ্রাঙ্ক ফাউন্ডেশন ও হাওয়ার্ড চ্যাপনিক অ্যাওয়ার্ডস লাভ করেন। ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক ও ২০১৭ সালে চীনের ডালি ইন্টারন্যাশনাল চিত্রপ্রদর্শনীতে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।

সূত্র জানায়, ড. শহিদুলের বাবা ডা. কাজী আবুল মনসুর ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ও অণুজীব বিজ্ঞানী। তিনিই মনসুর’স ডায়েট বা ওরস্যালাইনের অন্যতম আবিষ্কারক। মনসুর’স মিডিয়া তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। যেটা দিয়ে ওলাওঠা বা কলেরার ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু চিহ্নিত করা যায় এবং বিশ্বব্যাপী এটা মনসুর’স মিডিয়া নামেই পরিচিত। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের ‘সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার’ হিসেবে পরিচিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয় তাকে। একই বছর শহিদুলের চাচাতো ভাই কাজী সালাহউদ্দীন (বর্তমানে বাফুফে সভাপতি) ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বাধীনতা পুরস্কার পান। একই পরিবারের দুজন একই বছরে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। শহিদুলের মা ড. কাজী আনোয়ারা মনসুর ছিলেন অগ্রণী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। ছিলেন আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েরও প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন। নারী শিক্ষায় পেয়েছেন রোকেয়া পদক। ১৯৯৯ সালে তাকে রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুজব ছড়ানো ও উস্কানি দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। এরপর থেকে তিনি কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

দিন-রাতের পার্থক্য মুছে ফেলতে কৃত্রিম চাঁদ বানাতে যাচ্ছে চীন

দিন-রাতের পার্থক্য মুছে ফেলতে কৃত্রিম চাঁদ বানাতে যাচ্ছে চীন
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর হিসেবে ২৪ ঘন্টাকে দিন-রাত দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। এ গ্রহের সমস্ত কাজ-কর্মও পরিচালিত হয় দিন-রাতের হিসেবকে মাথায় রেখে। তবে এবার দিন-রাতের পার্থক্য মুছে ফেলতে কৃত্রিম চাঁদ বানাতে যাচ্ছে চীন।

মূলত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর থেকে চাপ কমাতে ও রাতের অন্ধকার কমিয়ে আনতে এমন উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে হাত দিয়েছে চীন। দেশটির সিচুয়ান প্রদেশের চেংডু শহরে অবস্থিত তিয়ানফু নিউ ডিস্ট্রিক্ট সিস্টেম সায়েন্স রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান ইউ চুনফেং সংবাদসংস্থা এবিসি-কে জানান, ২০২০ সালের মধ্যে তিনটি কৃত্রিম চাঁদ তৈরি করবে চীন।

২০২২ সালে কৃত্রিম চাঁদ তিনটি মহাকাশে পাঠানো হবে। ওই চাঁদগুলো আসলে বড় উপগ্রহ, যাতে থাকবে বড় বড় আয়না, যা সূর্যের আলো পৃথিবীতে আরও বেশি ভালো করে প্রতিফলিত করবে।

আয়না থেকে প্রতিফলিত সূর্যালোক প্রায় ৩৬০০–৬৪০০ বর্গফুট এলাকা আলোকিত করবে এবং তার ঔজ্জ্বল্য হবে চাঁদের থেকে প্রায় আটগুণ বেশি। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে ৩৮০,০০০ কিলোমিটার দূর থেকে। কৃত্রিম চাঁদগুলি পৃথিবী থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে রাখা হবে বলে ঠিক করেছেন চীনা মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।

তবে, কৃত্রিম চাঁদগুলোকে কোন কক্ষপথে, কীভাবে রাখা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। চুনফেং জানান, কৃত্রিম চাঁদগুলো স্থাপিত হলে প্রতিবছর ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যে সমস্ত এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেসব এলাকায় কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করা যাবে। রাতে বিভিন্ন ধরণের জরুরি উদ্ধারকাজেও বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে এই কৃত্রিম চাঁদ।

তবে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কৃত্রিম চাঁদের ফলে দিন-রাতের তারতম্যে পার্থক্য হয়ে পৃথিবীর জীবনচক্রে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

এ ধরণের বিতর্ককে উড়িয়ে দিয়ে চুনফেং বলেন, প্রতিফলিত আলো যেহেতু মানুষের তৈরি তাই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পৃথিবী থেকে ওই চাঁদগুলোকে উজ্জ্বল তারার মতোই লাগবে।

ঐক্যবদ্ধ থাকলে মাদরাসা শিক্ষকদের সকল দাবি-দাওয়া পূরণ হবে

ঐক্যবদ্ধ থাকলে মাদরাসা শিক্ষকদের সকল দাবি-দাওয়া পূরণ হবে
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সাথে মাদরাসা শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সকল দাবি-দাওয়া পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীন। তিনি বলেন, অতীতে মাদরাসা শিক্ষকদের অনেক দাবি-দাওয়া পূরণ হয়েছে। রাস্তায় কোন আন্দোলন ছাড়াই ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন, স্কুল-কলেজের ন্যায় মাদরাসা শিক্ষকদের মর্যাদা, ইবতেদায়ী নীতিমালা ও নিয়োগ কাঠামো হয়েছে।

এগুলো সবই হয়েছে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের অধীনে সকল মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে। এখনো যে দাবি-দাওয়াগুলো আছে সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী দিনেও তা পূরণ হবে কোন আন্দোলন ছাড়াই। শনিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীস্থ গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দেশের মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের পেশাজীবী অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন জাতীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন।

সভায় জমিয়াত সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে কোন সময় কি করবেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সকলেই চিন্তা-ভাবনা করছেন। এই শিক্ষা সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটা ধারনা ছিল যে, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশেষ করে আলিয়া ধারার মাদরাসা শিক্ষাকে তারা সাধারণ শিক্ষার সাথে মিশিয়ে ফেলতে পারবে। এজন্য নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাও দিয়েছে। যে কাজ শুরু হয়েছিল চার দলীয় জোট সরকারের সময়। সে সময় বলেছিল একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা হবে। এটা বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন। সেই প্রেসক্রিপশন এখনো দুর্বল হয়নি, এখন তারা কৌশল পরিবর্তন করেছে। সময় হয়তো বৃদ্ধি করেছে। তাদের এই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষা শুধু দাবি-দাওয়ার জন্য নয় স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এদেশে মাদরাসা শিক্ষা যারা প্রতিষ্ঠিত করেছেন- ফুরফুরা, ছারছীনা, জৈনপুরী, ফুলতলীসহ বিভিন্ন পীর-আওলিয়াম কেরাম, খানকা দরবার। তারা এদেশে একটি ইসলামী ধারা, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার জন্য একাজ করেছেন। কোন বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে না। জমিয়াত সভাপতি বলেন, দাবি-দাওয়া মৃত্যু পর্যন্ত প্রত্যেকটা মানুষের থাকবে। কিন্তু এটিকে কেন্দ্র করে যেন কেউ বিভক্তি সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আলেম সমাজ ও সাধারণ শিক্ষক সমাজ, অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্যে ফারাক থাকতে হবে। অন্যদের দাবি-দাওয়ায়ই মূল লক্ষ্য, আমাদের লক্ষ্য দেশে ইসলামী শিক্ষা ও ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত করা।

এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন,এখন সমাজ এমন একটা জায়গায় আছে যেখানে মাদক থেকে শুরু করে, নানাবিধ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষা এবং শিক্ষিতদের অনেক সঙ্কটের মধ্যে এখন তারা চিন্তা শুরু করেছে কিভাবে মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিতদের সঠিক ব্যবহার করা যায়। মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা এখন সমাজের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত শ্রেণিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। এজন্য একপক্ষ চায় যে এটাকে সাধারণ শিক্ষার সাথে একীভূত করতে, আবার আরেক পক্ষ চায় সকিয়তা ঠিক রাখার জন্য।

তিনি বলেন, দাবি-দাওয়া করতে গিয়ে মূল ধারাকে ভুললে চলবে না। আমরা শিক্ষার জাতীয়করণ চাই। মাদরাসা শিক্ষার সকল ধরনের সুযোগ সুবিধার বিষয়ে আমরা আরও সক্রিয়। ইবতেদায়ী শিক্ষকদের নীতিমালা ও নিয়োগ কাঠামো হয়েছে। এটি জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সক্রিয় ও একক ভূমিকাতেই হয়েছে। এটা গ্রামে-গঞ্জে ইবতেদায়ী শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। সব সময় সর্তক থাকতে হবে আমাদের মূল দাবি শিক্ষার জাতীয়করণ।

মাদরাসায় আলেমদের প্রাধান্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জমিয়াত সভাপতি বলেন, যেভাবে মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম হচ্ছে এতে মাদরাসা শিক্ষায় আলেমদের আধিপত্য থাকবে না। সাধারণ শিক্ষকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে। এজন্য কারিকুলাম সিলেবাসে দেখতে হবে যাতে মাদরাসায় আলেম-ওলামারা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকে। মাদরাসার প্রিন্সিপাল যাতে একজন আলেম হতে পারে সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

জমিয়াত মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজীর পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি মাওলানা রুহুল আমীন খান,যুগ্ম মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, প্রিন্সিপাল মাওলানা এ কে এম মনোওর আালী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আবদুর রাজ্জাক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মিয়া, অর্থ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ রেজাউল হক, ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ শামসুল হক কাসেমী, প্রিন্সিপাল মাওলানা ড. মুহাম্মদ কাফীলুদ্দীন সরকার, সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু জাফর মোঃ ছাদেক হাছান, বরিশাল মহানগর সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আবদুর রব, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ শাজহাজান মিয়া, চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ মুখতার আহমদ, মহানগর সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা কাজী আবুল বয়ান হাসেমী, সিলেট মহানগরীর সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু ছালেহ মোঃ কুতবুল আলম, রাজশাহী জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল গফুর মিঞা, বরিশাল জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা আ ন ম আনছার উল সরদার, গাজীপুর জেলার সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ জহিরুল হক, শেরপুর জেলার সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ নুরুল আমীন, সরসিংদী জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আবদুল জলিল মিয়া, ফেনী জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা হোছাইন আহমদ ভূইয়া, গাইবান্ধা জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলান মোঃ এবাদুর রহমান, বরগুনা জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানাশাহ মোঃ মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস, যশোর জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল ইসলাম, নোয়াখালী জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা হাফেজ মোঃ ওহিদুল হক, বগুড়া জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আব্দুল হাই বারী, টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আবু সাঈদ, কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাঃ নূর বখত্, লালমনিরহাট জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ মোসলেম উদ্দিন, শরীয়তপুর জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা তাছলীম উদ্দিন, জামালপুর জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ মোতালেব হোসেন খান, ঝালকাঠী জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু জাফর মোঃ ছালেহ্, পঞ্চগড় জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা ড. মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, দিনাজপুর জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ হাসান মাসুদ, মুন্সিগঞ্জ জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা এ বি এম মহিউদ্দিন হোসাইন, নাটোর জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আখতার হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ মাসউদ আলম, কক্সবাজার জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ কামাল হোছাইন, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আব্দুল মতিন, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আতিকুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা জাখেরুল ইসলাম, পাবনা জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আনছারুল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ রুহুল কুদ্দুস।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আব্দুল হান্নান, নাটোর জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল মতিন, নওগাঁ জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ ওয়ারেছ আলী, সিলেট জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ ছরওয়ারে জাহান, গাজীপুর মহানগর সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা এ কে এম কেরামত আলী, হবিগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি আলী মোহাম্মদ চৌধুরী, রংপুরের সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, বরিশাল জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মো ইব্রাহীম খান, মাদারীপুর জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ আবু রাফে, পিরোজপুর জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ ফারুক আহম্মদ হাওলাদার প্রমুখ।

খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করলো সৌদি আরব

খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করলো সৌদি আরব
ছবি : সংগৃহীত

রাজতান্ত্রিক সৌদি সরকার শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির সরকার-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন ‘প্রাথমিক তদন্তের’ বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ‘এক মারামারির ঘটনায়’ খাশোগি নিহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় টিভি আরো জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সৌদি আরবের উপ গোয়েন্দা প্রধান আহমাদ আল-আসিরি এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র সহকারী সৌদ আল-কাহতানিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় টিভির নিউজ বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে ১৮ সৌদি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এই প্রথম সৌদি রাজতন্ত্রের পক্ষ থেকে জামাল খাশোগির নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করা হলো।

সৌদি রাজা সালমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রীয় টিভির নিউজ বুলেটিনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগির সঙ্গে কয়েকজন ‘সাক্ষাৎপ্রার্থী ব্যক্তির মারামারি’ হয় এবং এর জের ধরে তার মৃত্যু হয়েছে।

খাশোগি হত্যার দায়ে বরখাস্ত হওয়া সৌদ আল-কাহতানি সৌদি রাজপ্রাসাদের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র উপদেষ্টা। এ ছাড়া, মেজর জেনারেল আহমাদ আল-আসিরি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে রাজতান্ত্রিক দেশটির শীর্ষ মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জেনারেল আসিরি ২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের ওপর সৌদি বর্বরতা সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তারা শুরু থেকে এই দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলে আসলেও রিয়াদ সেসব অভিযোগ বেমালুম অস্বীকার করে আসছিল।

গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করে গুম হয়ে যাওয়ার পর থেকে সৌদি রাজা সালমান, যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানসহ দেশটির সরকার দাবি করে আসছিল, খাশোগি তার কাজ শেষ করে কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন। রাজা এবং যুবরাজ খাশোগিকে হত্যা বা এ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি জোর গলায় অস্বীকার করে আসছিলেন।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে আরো বলা হয়েছে, সৌদি রাজা সালমান দেশটির গোয়েন্দা বিভাগকে ঢেলে সাজানোর জন্য খাশোগি হত্যার মূল হোতা যুবরাজ বিন সালমানকে প্রধান করে একটি মন্ত্রিপরিষদীয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

পিরোজপুর-৩ আসনে আ’লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডা. নজরুল

পিরোজপুর-৩ আসনে আ’লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডা. নজরুল
ছবি : সংগৃহীত

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. এম নজরুল ইমলাম গণসংযোগ করছেন।

তিনি একাধারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব, বিএমএ স্বাচিপ কেন্দ্রীয় নেতা এবং হৃদরোগ ও বাতজ্বর বিশেষজ্ঞ। তিনি মঠবাড়িয়ার পৌরশহরসহ উপজেলার ১১ ইউনিয়নে সর্বস্তরের জনগণকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ ব্যাপক সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি ১৯৬৮ সালে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগে যোগ দেন। এরপর তিনি তৎকালীন মঠবাড়িয়া থানা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

ডা. নজরুল ইসলাম জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় আমি মঠবাড়িয়া থেকে প্রথম হয়েছিলাম। কিন্তু সরকারি চাকরি করার কারণে তখন প্রার্থী হতে পারিনি। ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শুধু নির্বাচন করার লক্ষ্যে সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি। বর্তমানে আমার আর কোনো আইনি বাধা নেই। আমি কোনো গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করি না। তাই মনোনয়ন পেলে শেখ হাসিনাকে মঠবাড়িয়া আসন থেকে নৌকার বিজয় উপহার দিতে পারব।

সর্বশেষ সংবাদ