23 C
Dhaka
রবি মার্চ ২৪, ২০১৯, ৭:২৫ পূর্বাহ্ন.
প্রচ্ছদ ব্লগ সংবাদ পেজ 3

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের ‘অনলাইন-অফলাইন’ নিদের্শনা !

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের ‘অনলাইন-অফলাইন’ নিদের্শনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ‘অনলাইন-অফলাইন’ দিক নির্দেশনা আসছে। প্রতিটি আসনেই একজনকে সমন্বয়কারী করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট উপ-কমিটি গঠন করবে ছাত্রলীগ। যার দিক নির্দেশনা দেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে নির্বাচনী মাঠে নামবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ। বিজয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে শুরু আসন ভিত্তিক কমিটি গঠন করতে চলছে সংগঠনটি। সারা দেশের ৩০০ আসনেই নির্বাচনের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করবে জেলা ছাত্রলীগ। কিন্তু, কেন্দ্র থেকে উপ-কমিটির অনুমোদন দেয়া হবে। এই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচনের সকল দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। সমন্বয়কের মাধ্যমে পরিচালনা হবে এই উপ-কমিটিগুলো। আর সমন্বয়কে দিকনির্দেশনাসহ সকল মনিটরিং করবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

কুমিল্লা-গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো জাতীয় নির্বাচনের মাঠে থাকবে ছাত্রলীগ। কাজ করবে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে। ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোটও চাইবে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা আসছে পারে। সেই কমিটির মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেয়া হবে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘গত কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জাতীয় নির্বাচনের মাঠে অবস্থান করবে। সেই উপলক্ষে আসন ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দুই-তিন দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। ৩০০ আসনেই নির্বাচনী উপ-কমিটি গঠন করা হবে।’

মোশাররফ-এমাজউদ্দিনের অডিও ফাঁস , রব- মান্না ফালতু

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ এর আলাপচারিতায় উঠে আসে- `নাগরিক ঐক্যের মান্না ৪০ আসন দাবি করায় বিব্রত অবস্থায় পড়েছে বিএনপি।’

ফোনালাপে শোনা যায়, এমাজউদ্দিন: ‘অনেক রাত ধরে কাজ করছেন আপনাদের পরিশ্রম যাচ্ছে । ঐক্যফ্রন্ট কি খুব বেশি দাবি দাওয়া করছে নাকি শুনলাম।’

খন্দকার মোশাররফ: `হ্যাঁ দাবি দাওয়ার শেষ নাই। মান্নার পার্টির তো কোন নিবন্ধন নাই। তাকে বগুড়ার আসন দিতে চেয়েছি। সে পেলে আমাদের তিনবারের পাস করা এমপি পাবে না। আর সে যদি চল্লিশটা চায়।’

এমাজউদ্দিন: `চল্লিশ টা!!’ খন্দকার মোশাররফ: `তাদের দাবি রক্ষা করা খুব কঠিন হচ্ছে।’

এমাজউদ্দিন: ‘তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিএনপিকে উদ্ধার করতে নেমেছে।’

খন্দকার মোশাররফ: `তাদের এমন ব্যবহার খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। তারা এখন আছে তাই ভাল ব্যবহার করি। আপনি বলেন এইটার কোন যুক্তি আছে। মান্নাকে আমরা অনেক সম্মান দিয়ে ফেলেছি।’

এমাজউদ্দিন: `আর অন্যদের রবের কি ব্যাপার।’

খন্দকার মোশাররফ: ‘রবের ঢাকাতে এমন সিট দিতে পারি সে পাস করবে। না রব লক্ষীপুর থেকেই করবে। ওখানে নাজিম আছে। ২০০৮ সালে ৩৩ আসনের মধ্যে একটা ঐ ছেলে পেয়েছিল। রব তার কাছে জামানত হারায়ছিল। কিন্তু সে এখন বলছে ওই খান থেকেই দাঁড়াবে। ঐখানে নির্বাচন করলে সে ফাইট করবে কিন্তু ঢাকায় সে পাস করবে। এরা এমনই ফালতু লোক।’

এমাজউদ্দিন: ‘এখন মনে হচ্ছে ব্ল্যাক মেইলিংয়ের দিকে চলে যাচ্ছে।’

খন্দকার মোশাররফ: `আপনারা বলেন ঐক্য ভাল ঐক্য ধরে রাখতে হবে। কিন্তু আর কত। জনসভায় আমরা লোক যোগাড় করি। এরা বক্তব্য দেয়। কামাল হোসেন সাহেবকে বলেছি একটা লিস্ট দেন। এই লিস্ট দেখে কাজ হবে। আমাদের ৩০০ আসনে জনসভা করতে হবে। আমাদের লোক যোগাড় করতে হবে। অথচ দেখেন তারা একটা লোক খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই বলে না। কামাল হোসেনকে বলছি আপনারা নির্বাচন করেন একা। আমরা লোক দিব। জনসভাও করে দিব। কেন বলবো না বলেন ওরা এমন ব্যবহার করলে কেন বলবো না।’

এমাজউদ্দিন: ‘এটা খুব খারাপ কথা আসলেই। এরা যেমন করছে। তাহলে ২০ দলীয় জোট কি দোষ করলো। খন্দকার মোশাররফ: `হ্যাঁ ২০ দলীয় জোট আমাদের সাথে থাকলো। তারাওতো নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কামাল হোসেন সাহেবের আসলে বয়স হয়ে গেছে।’

সুনুন অডিও

মনোনয়ন দ্বন্দ্বে ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আ’লীগের হামলা

মনোনয়ন দ্বন্দ্বে ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আ’লীগের হামলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টিকে এ আসন ছেড়ে দেয়ার খবরে এ হামলা চালানো হয়।

রোববার রাত ৮টার দিকে পৌর সদরের পশু হাসপাতাল রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সাথে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

এর আগে এ আসনে (ময়মনসিংহ-৮) আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মনোনয়নের দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাস্তা অবরোধ করে দুপুর ১২টা থেকে মিছিল-সমাবেশ ও রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ঈশ্বরগঞ্জের সাবেক সাংসদ আবদুস ছাত্তারের কর্মী-সমর্থকরা। বর্তমানে এখানকার সংসদ সদস্য মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির ফকরুল ইমাম।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি বলেন, হামলায় তাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার সময় ককটেল, গুলি ছোঁড়া হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে চেয়ার-টেবিল, তিনটি মোটরসাইকেল।

তিনি বলেন, সারা দেশে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করছে মহাজোট। তাই এখানে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন পাওয়ায় কারো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহমেদ কবির হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড রাবার বুলেট ও এক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিইসি সহ চার কমিশনারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

সিইসি সহ চার কমিশনারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাসহ চার কমিশনারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিট আবেদনে সিইসি এবং অন্য কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত গেজেট বাতিল চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ নভেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেন আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন।

হাইকোর্টে করা এ রিট আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো: আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের (কজলিস্টে) কার্যতালিকায় রিট আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে রিটকারীর আইনজীবী ইউসুফ আলী জানান, সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন প্রণয়ন করে এর বিধান সাপেক্ষে সিইসিসহ চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে। অথচ এখনো কোনো আইন ও বিধান হয়নি। এসব ব্যতিরেকে সিইসিসহ অপর নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংবিধানের ১১৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে এবং এই সংবিধান ও আইনের অধীনে হবে। স্বাধীন দায়িত্ব পালনের পূর্বাভিজ্ঞতা ব্যতিরেকে সিইসি হিসেবে কে এম নূরুল হুদাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।

রিটে সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ করে সিইসিসহ অন্য কমিশনারদের নিয়োগে বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিচ্ছেন আবু সাইয়িদ !

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিচ্ছেন আবু সাইয়িদ

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ গণফোরামে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তিনি গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামালের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানা গেছে। গণফোরামের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের টিকেট নিয়ে তার নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচন করতে পারেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে তার নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১/১১’র পর সংস্কারপন্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন। সে সময় তিনি আওয়ামীলীগের সাবেক এই তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। সে কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৪ জন।

১৯৭৫ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পাবনা জেলার গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি সামরিক শাসকের একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন। ২০১৩ সালে আবু সাইয়িদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ: এ ডিপ্লোমেটিক ওয়ার’।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি।

এদিকে, গত সপ্তাহে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবীদ ড. রেজা কিবরিয়া, সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) ও কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিন ও একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম গণফোরামে যোগ দেন।

এছাড়া, আরো ২০ থেকে ২৫ জন ‘হেভিওয়েট প্রার্থী’ গণফোরামে যোগ দিবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবু‌বে আলমের স্বপ্ন ভঙ্গ

হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবু‌বে আলমের স্বপ্ন ভঙ্গ

রোববার আওয়ামীলীগ চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রাপ্তদের নামের তালিকা ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তালিকায় খুব বেশি চমক না থাকলেও বেশ কয়েক জন ‘হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশীর’ স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মুন্সীগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র কিনেছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর মনোনয়নফরম সংগ্রহ করার পরই বলেছিলেন দল মনোনয়ন দিলে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকেও পদত্যাগ করবেন তিনি।

কিন্তু রোববার ঘোষিত তালিকায় তার নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ এই আসনে বর্তমান এমপি অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির প্রতিই আস্থা রেখেছে। এই যাত্রায় সংসদ সদস্য হওয়ার খায়েশ অপূর্ণই থেকে গেলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তার।

জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন।

অ্যাটার্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে কয়েক বছর ধরেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। প্রতি সপ্তাহে নির্বাচনী এলাকা লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ীতে বিভিন্ন জনসেবা মূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছিলেন। এমনকি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও একমি গ্রুপের পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহাকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। এরপর ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচনে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত !

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। রবিবার (২৫ নভেম্বর) থেকে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এদিক থেকে এখনও পিছিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন চিঠি ইস্যু না করলেও খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করেছে দলটি। আজ কালের মধ্যে চিঠি দিবে দলটি।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনকে ঘিরে বেশ সতর্ক বিএনপি। কেননা ১৯৯১ সালের পর থেকে বিগত নির্বাচনগুলোতে যারা ঢাকার আসন নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে, তারাই সরকার গঠন করেছে। যে কারণে এবারের নির্বাচনেও ঢাকার ২০টি আসনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

তাই যেকোন মূল্যে প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ঢাকার আসনগুলো ধরে রাখতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে যদি জোট এবং ঐক্যফ্রন্টকে ছাড় দিতে হয় তাতেও রাজি দলটি।

বিগত ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ১৩টি আসনের সবক’টিতেই জয় পায় বিএনপি। কিন্তু ১৯৯৬ সালের সবক’টি আসন পায় আওয়ামী লীগ। তখন তারাই সরকার গঠন করে।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনে ১৩টি আসনের মধ্যে ৭টি পায় আওয়ামী লীগ এবং ৬টি আসন পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আসন ১৩টি বেড়ে হয় ২০টি। সেবার আওয়ামী লীগ পায় ১৯টি আর একটি আসন পায় তাদের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় সংসদে তাদের কোন প্রতিনিধি নেই।

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সেই হিসাব মাথায় রেখে ঢাকার প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা করেছে বিএনপি। এবার ঢাকা-১ আসনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের ধানের শীষের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। বর্তমানে ঢাকার জেলা বিএনপির সভাপতি এ আসনে তিনবার এমপি হয়েছেন।

ঢাকা-২ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। ঢাকসুর সাবেক ভিপি এর আগে ঢাকা-৩ থেকে দু’বার এমপি হয়েছেন।

ঢাকা-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি কোন কারণে নির্বাচন করতে না পারলে, তার পুত্রবধূ দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়কে দেয়া হবে। যদিও তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন।

ঢাকা-৪ আসনে শক্ত ভিত রয়েছে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের। তবে বিকল্প হিসেবে তার ছেলে তানভির আহমেদ রবিন।

ঢাকা-৫ আসনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারপাম্যান সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইসরাক হোসেন মনোনয়ন তুলেছেন। তবে বিকল্প হিসেবে রয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।

ঢাকা-৬ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য এ আসনটি ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। তবে এখানে বিকল্প হিসেবে পেশাজীবী নেতা বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া ও মহানগর বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবী।

ঢাকা-৭ আসনে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনাকে। পিন্টু পুরাতন ঢাকা-৮ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুকে এটি ছেড়ে দেয়া হতে পারে।

ঢাকা-৮ আসনে চূড়ান্ত তালিকায় নাম রাখা হয়েছে হাবীব-উন নবী খান সোহেলের। তবে তিনি কোন কারণে বাদ পড়লে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা হাবীবুর রশিদ হাবীবকে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও এ আসনে মনোনয়ন তুলেছেন।১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে ঢাকা-৬ থেকে নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।

তবে এ আসনটি ভাগ হলে এর বড় একটা অংশ নিয়ে ঢাকা-৯ আসন করা হয়। মির্জা আব্বাসকে সে আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত দেয়া হবে। যদিও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে মনোনয়ন তুলেছেন।

ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়নে চূড়ান্ত তালিকা রয়েছেন আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম। তবে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা রবিউল আলম রবি। ঢাকা-১১ আসনে মনোনয়নে চূড়ান্ত তালিকা রয়েছেন এমএ কাইয়ুম। যদিও তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।

ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচন করতে চান ড. কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তবে এখানে বিএনপির মনোনয়ন তুলেছেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব।

ঢাকা-১৩ আসনে রয়েছে ছাত্রনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালীর নাম। তবে ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামও রয়েছেন। এ ছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী রয়েছেন এ আসনে।

ঢাকা-১৪ আসনে রয়েছেন আলোচিত প্রার্থী এসএ খালেক। তবে তার ছেলে এসএ সিদ্দীক সাজুও মনোনয়ন তুলেছে। এসএ খালেক ১৯৭৯ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। এরপর থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ড. কামাল হোসেনও বিপুল ভোটে পরাজিত করেছিলেন।

ঢাকা-১৫ আসনে রয়েছেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এবং যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান। এ ছাড়া বিকল্প হিসেবে আছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যমত শরিক জামায়াতের শফিকুল ইসলাম ও লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

ঢাকা-১৬ আসনে মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার। কিন্তু, সম্প্রতি তিন বছরে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবরণের কারণে বিকল্প হিসেবে তার স্ত্রী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. শাহিদা রফিককে রাখা হয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত মেজর (অব.) রুহুল আলম চৌধুরীর। তবে এখানে ২০ দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীমকে রাখা হয়েছে বিকল্প হিসেবে।

ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন তুলেছেন যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া জেএসডির তানিয়া রবও এ আসন থেকে নির্বাচনে মনোনয়ন তুলেছেন।

ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু। তিনি ঢাকা-১৩ (পুরাতন) থেকে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা-২০ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান তিনি পুরনো আসন ঢাকা-১৩ থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২৩-দলীয় জোট শরিকদের যেসব আসন দিচ্ছে বিএনপি

২৩-দলীয় জোট শরিকদের যেসব আসন দিচ্ছে বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী সঙ্গী দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোট। একটি ২০-দলীয় জোট (সম্প্রসারিত ২৩ দল); অন্যটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

দুটি জোটের সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরেই বিএনপির আসন বণ্টন নিয়ে দরকষাকষি চলছে। জোটের প্রার্থী ঠিক করার শেষ মুহূর্তে এসে চূড়ান্ত দরকষাকষি চলছে।

বিএনপি ২৪০ আসনে প্রার্থী দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শরিকদের সর্বোচ্চ ৬০ আসন দেবে।

এর মধ্যে ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলো পাচ্ছে ৪০-৪২ আসন। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো পাচ্ছে ১৮-২০ আসন।

২০-দলীয় জোটে বিএনপিসহ দল আছে ২৩টি। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি ছাড়া দল আছে চারটি।

২০ দলকে বিএনপি ৪০-৪২ আসন দেবে এটি মোটামুটি নিশ্চিত। জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে অনেকটা সমঝোতা হয়ে গেছে। তবে শরিকদের দাবি আরও চার-পাঁচটি আসন তাদের ছেড়ে দেয়া হোক।

আজ চূড়ান্ত দরকষাকষির সময় জোটভুক্ত দলগুলো চাইবে আর দুই-একটি আসন বাগিয়ে নিতে।

২০ দল বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী ও বিশ্বস্ত মিত্র। প্রায় এক দশক ধরে জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে চলছে জোটভুক্ত দলগুলো।

২০ দলের বেশিরভাগ দলেরই রাজনৈতিক আদর্শ বিএনপির আদর্শের সঙ্গে মিল আছে। প্রায় প্রত্যেকটি দল জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ধর্মীয় মূল্যবোধে তারা বিশ্বাসী।

বিগত দিনে বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের যেসব কর্মসূচি দিয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগেই সমর্থন ছিল ২০ দলের।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। তখন জোটের শরিক দলগুলোও বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে।

তখন ২০ দলের শরিক দলগুলোর অনেক নেতাকে ক্ষমতাসীন দল থেকে নিশ্চিত আসন দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। দুই-একজনকে জোট ছেড়ে এলে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু কেউ ওই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। তারা বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা দেখিয়েছে। জোটের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে।

যদিও আন্দোলন-সংগ্রামে ২০ দলের শরিক দলগুলোর সফলতা খুব একটা চোখে পড়েনি। তবে বিএনপির ছায়াসঙ্গী হওয়ায় এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি তাদের আনুগত্যের কারণে জোটের নেতাদের প্রতি বিএনপির এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

আর সে কারণেই আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে ২০ দলকে গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি। প্রায় ৪০টির মতো আসন দেয়া হচ্ছে জোটের শরিক দলগুলোকে।

২০-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে রোববার দিনভর বৈঠক করে বিএনপি। দুপুরে এলডিপি, এনপিপিসহ জোটের কয়েকটি শরিকের সঙ্গে বৈঠক করেন দলটির নেতারা।

গুলশান কার্যালয়ে ওই বৈঠকে শরিকরা তাদের সম্ভাব্য তালিকা বিএনপির কাছে হস্তান্তর করেন। এর পর বিএনপির নীতিনির্ধারকরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

পরে রাতে আবারও শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা। সেখানে কোন কোন আসনে ছাড় দেয়া হবে তা জানিয়ে দেয়া হয়।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০-দলীয় জোটের শরিকদের ৪২ আসন দেবে বিএনপি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ২৪ আসন পাচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাচ্ছে এলডিপি। দলটি চারটি আসন পাচ্ছে।

এ ছাড়া বিজেপিকে ১টি, এনপিপিকে ১টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টিকে ১টি, খেলাফত মজলিসকে ১টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামকে ১টি আসন দেয়া হবে।

জামায়াতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন, বিএনপি এখন পর্যন্ত ২৫ আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে। জামায়াত আরও কয়েকটি আসনে ছাড় পেতে চেষ্টা করছে। তার দাবি, শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩০ আসন পেতে পারে।

জোটের মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমে বলেন, বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জোট ও ফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা করে বাকিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অপেক্ষাকৃত যোগ্য, দক্ষ ও জনপ্রিয় নেতারাই দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন।

যেসব আসনে ছাড় দেয়া হয়েছে

জামায়াত ২৪টি

জামায়াতকে যেসব আসনে বিএনপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো হল- ঠাকুরগাঁও-২ মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ মাওলানা আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু, রংপুর-৫ অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-৪ নূর আলম মুকুল, গাইবান্ধা-১ অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ ডা. আবদুর রহীম সরকার, বগুড়া-৪ মাওলানা তায়েব আলী, সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-১ আবদুল বাসেত, পাবনা-৫ ইকবাল হোসাইন, যশোর-২ আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আবদুল আলীম; খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরওয়ার; খুলনা-৬ আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-২ শামীম সাঈদী, সিলেট-৫ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আজাদ।

এলডিপি চারটি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪), মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), আবদুল করিম আব্বাসীকে (নেত্রকোনা-২) আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে।

তবে দলটির পক্ষ থেকে আরও কিছু আসনের জন্য জোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। এর মধ্যে রয়েছে- এম ইয়াকুব আলী (চট্টগ্রাম-১২) ও অ্যাডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ (ময়মনসিংহ-১০) অন্যতম।

জাতীয় পার্টি (জাফর) দুটি

জাপা (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআই ফজলে রাব্বী (গাইবান্ধা-৩), দলের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার পিরোজপুর-১ আসনে জোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন।

এই দলের পক্ষ থেকে আরও দুটি আসনের জন্য জোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আহসান হাবীব লিংকন (কুষ্টিয়া-২) অন্যতম।

আর কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজী কুমিল্লা-১১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। ওই আসনটি জামায়াতকে দেয়া হচ্ছে।

জমিয়তে ওলামা দুটি

জমিয়তে ওলামায়ের মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস যশোর-৫ আসনে জোটের হয়ে নির্বাচন করবেন।

একই দলের শাহীনুর পাশা চৌধুরী (সুনামগঞ্জ-৩) আসনে প্রার্থী হবেন।

বিজেপি ১টি

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপিকে একটি আসন দেয়া হচ্ছে। দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন এটি মোটামুটি নিশ্চিত। এ আসন থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন পার্থ।

কল্যাণ পার্টি ১টি

কল্যাণ পার্টিকে একটি আসনে ছাড় দেবে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন। তবে ওই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

জাগপা ১টি

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপাকে এবারের নির্বাচনে মূল্যায়ন করতে চায় বিএনপি। জাগপার প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধান ২০-দলীয় জোট গড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছেন।

শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানকে পঞ্চগড়-২ আসন দেয়া হচ্ছে এটি মোটামুটি নিশ্চিত।

পিপলস পার্টি ১টি

মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রিটা রহমান নীলফামারী-১ আসনে জোটের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।

মাইনরিটি জনতা পার্টি ১টি

বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডল যশোর-৪ থেকে জোটের হয়ে নির্বাচন করবেন।

সুকৃতি কুমার মণ্ডল বলেন, তাকে মৌখিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ মনোনয়নের চিঠি পেলে নিশ্চিত করতে পারব।

খেলাফত মজলিস ১টি

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে জোটের হয়ে নির্বাচন করবেন।

এনপিপি ১টি

এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ আসন থেকে জোটের মনোনয়ন পাবেন।

আরও যারা আসন চাইছেন

সাম্যবাদী দরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইদ আহমেদ (নারায়ণগঞ্জ-৫), বাংলাদেশ লেবার পার্টি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-১ আসনে মনোনয়ন চাইছেন। তবে তাদের নিশ্চিত করেনি বিএনপি।

এ বিষয়ে সাইদ আহমেদ জানান, ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান তাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন জমা দিতে বলেছেন। তবে তাকে এখনও আসনটির বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়নি।

মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জানান, দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর-১ আসনে কাজ করছেন বলে তিনি এ আসনের মূল দাবিদার। এ ছাড়া জোটের শরিক বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টিও কয়েকটি আসনে মনোনয়ন চাইছে। তবে তাদের কোনো আসন দেয়া হয়নি।

জামায়াত ছাড়া ২০ দলের শরিক দলগুলো বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে জামায়াত ইসলামী স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করার কথা ভাবছে। তবে ভোটের হিসাব-নিকাশ শেষ পর্যন্ত তারা ধানের শীষই বেছে নিতে পারে।

নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র নয় আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন দলটির প্রার্থীরা। এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে আজকালের মধ্যে।

জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার যুগান্তরকে জানিয়েছেন, তারা ৫৩ আসনের তালিকা বিএনপিকে দিয়েছেন। ২৮ নভেম্বর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। ধানের শীষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হবে কিনা তা বলতে রাজি হননি তিনি।

জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির প্রত্যয়ন নিয়েই মনোনয়ন দাখিল করা হবে। জামায়াত ৫৩ আসনের তালিকা দিলেও সেখান থেকে কটি পাবে? এ প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আলোচনায় এ বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। জামায়াত যেসব আসনে নির্বাচন করতে চায়, সেখানে নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে গেছেন। জামায়াত আশাবাদী সম্মানজনক সংখ্যক আসনে জোটের মনোনয়ন পাওয়া যাবে।

তবে জামায়াতের একটি সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে, ৫৩ আসনের তালিকা দেয়া হলেও ৩৫ আসন পেতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৮ আসনে নির্বাচন করা জামায়াত ৩৩টিতে জোটের মনোনয়ন পেয়েছিল। পাঁচ আসনে বিএনপি ও জামায়াত দুদলেরই প্রার্থী ছিল।

গতবারের ৩৩টির ২৭টিতে এবারও জোটের মনোনয়ন চায় জামায়াত। গতবারের উন্মুক্ত পাঁচ আসনের তিনটিতে জামায়াত দ্বিতীয় হয়েছিল। বিএনপির অবস্থান ছিল তৃতীয়। এগুলোতেও এবার জোটের মনোনয়ন চায় জামায়াত। নতুন করে রাজশাহী-১, বগুড়া-৪, ঢাকা-১৫, সাতক্ষীরা-১ ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জোটের মনোনয়ন চায়।

জামায়াতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন, বিএনপি এখন পর্যন্ত ২৫ আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে। জামায়াত আরও কয়েকটি আসনে ছাড় পেতে চেষ্টা করছে। তার দাবি, শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩০ আসন পেতে পারে। জামায়াতের চাওয়া ৩৫টির আসনের মধ্যে নীলফামারী-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, চুয়াডাঙ্গা-২, ঝিনাইদহ-৩, ঢাকা-১৫ ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে বিএনপি ইতিমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ওই নেতা বলেন, প্রার্থী দিলেও অসুবিধা নেই। যেখানে বিএনপি মনোনয়ন পাবে, সেখানে জামায়াত থাকবে না। যেখানে জামায়াত পাবে, সেখানে বিএনপি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবে। তবে ৯ ডিসেম্বর জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। সুত্রঃ যুগান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকিট পেলেন না যারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকিট পেলেন না যারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও ডাকসাইট সাংসদ দলের নির্বাচনী টিকিট নিশ্চিত করতে পারেননি। এর মধ্যে অন্যতম ঢাকার জাহাঙ্গীর কবির নানক। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে বিএম মোজাম্মেল হক ও মাদারিপুর-৩ আসনের এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম এই তালিকায় নেই।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এর আসনে নতুন মুখ ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খান। আর বিএম মোজাম্মেল হক ও এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম এর পরিবর্তে আসন দুটি থেকে যথাক্রমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ মনোনয়ন পেতে চলেছেন।

আজ রবিবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ চিঠি দেয়া শুরু হয়েছে। যারা নির্বাচনের টিকিট পেয়েছেন, তাদেরই এ চিঠি দেয়া হচ্ছে।

এই পর্যন্ত এমন ১৩ জন নেতার নাম পাওয়া গেছে যারা মনোনয়ন দৌড়ে থাকলেও চূড়ান্তভাবে দলের টিকেট পাননি। তবে এর বাইরেও আরও বেশ কয়েকজনের নাম থাকার কথা জানা গেলেও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ জনই দশম জাতীয় সংসদের এমপি। এর মধ্যে আবার দুজন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে রয়েছেন।

এ পর্যন্ত সারা দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩২টি আসনের জন্য আওয়ামী লীগ তার প্রার্থীর একটি খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করেছে।

এবার বেশ কিছু আসনে নতুন মুখকে বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বেশ কিছু আসনে হেভিওয়েট নেতাও বাদ পড়েছেন। জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরাও মনোনয়ন পাননি। গাজীপুর-৩ আসনেও প্রার্থী বদল হয়েছে। এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে এমপি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী রহমত আলী। বার্ধক্য জনিত কারণে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।

বাদ পড়েছেন টাঙ্গাইলের আলোচিত সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা। তার বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন আতাউর রহমান খান। তিনি রানার বাবা।

কক্সবাজারের সমালোচিত এমপি আবদুর রহমান বদিও বাদ পড়েছেন। ওই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন তার স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী।

মনোনয়ন না পাওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি ঢাকা-১৩ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এ আসনে এবার নতুন মুখ হিসেবে সাদেক খানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সাদেক খান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এবারের মনোনয়নের তালিকায় নেই ১১ জন এমপি। তারা হলেন- মাগুরা-১ আসনের এটিএম আব্দুল ওয়াহাব, রাজশাহী-৫ আসনের আব্দুল ওয়াদুদ দারা, যশোর-২ আসনের মনিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-১১ আসনের মোহাম্মদ আমানুল্লাহ, টাঙ্গাইল-২ আসনের খন্দকার আসাউজ্জামান, টাঙ্গাইল-৩ আসনের আমানুর রহমান খান রানা, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সোহরাব উদ্দিন, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, নেত্রকোনা-৩ আসনের ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, শরীয়তপুর-২ আসনের কর্নেল (অব.) শাখাওয়াত আলী ও কক্সবাজার-৪ আসনের আব্দুর রহমান বদি।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসন থেকে ও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে ও সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম শরীয়তপুর-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।

তবে জোটের শরিদের জন্য আওয়ামী লীগ যেসব আসন ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সেখানে কোনো প্রার্থী ঠিক না করলেও ঢাকা-১ আসনের জন্য দলের সভাপতি শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে বেছে নিয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম বর্তমানে এই আসনের এমপি।

ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে দলটির বর্তমান ১৩ জন এমপি মনোনয়ন পেবেন। এসব আসনের মধ্যে জোটের শরিকদের ৩টি আসনের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ঢাকা-৪ ও ৬ আসনে জাতীয় পার্টি ও ঢাকা-৮ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির এমপি রয়েছেন। আর ঢাকা-১৭, ১৮ ও ২০ আসনে কারা মনোনয়ন পেতে চলেছেন সেটি জানা সম্ভব হয়নি।

এর মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনের এমপি বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের প্রধান আবুল কালাম আজাদ। এই দলটি ক্ষমতাসীন দলের জোটের মধ্যে নেই। এই আসন থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ প্রার্থী হতে চান। ঢাকা-১৮ ও ২০ আসনের বর্তমান এমপি যথাক্রমে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন ও এমএ মালেক।

আওয়ামী লীগ বলছে, এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সব আসনের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

ডিগবাজি দিয়েও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলেন না শমশের মবিন

ডিগবাজি দিয়েও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলেন না শমশের মবিন

ছিলেন ডাক সাইটের কূটনৈতিক। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ‍কূটনৈতিক উইংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দিলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমশের মবিন চৌধুরী। এরপর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বি চৌধুরীর বিকল্পধারায় যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দলটির সংলাপেও ছিলেন তিনি। প্রত্যাশা ছিল সিলেট সদর আসন বা সিলেট-৬ আসন থেকে মনোনয়ন পাবেন।

কিন্তু রোববার ঘোষিত তালিকায় সিলেট সদর আসনে অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই ও সাবেক কূটনৈতিক, জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে মোমেন মনোনয়ন পান।

অন্যদিকে সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন পান শিক্ষামন্ত্রী ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়লেন তিনি।

অন্যদিকে সিলেট-৬ আসনে মহাজোট থেকে তার প্রার্থিতার কথা শোনা গেলেও অবশেষে এ আসন থেকে শিক্ষামন্ত্রী ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদকেই মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে বেশ ক্ষুব্ধ শমশের মবিন চৌধুরী। তিনি বিকল্পধারা থেকে এ আসনে মনোনয়ন জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে মৌলভীবাজার-২ আসনেও বিকল্পধারার প্রার্থী এমএম শাহীনের ভাগ্য ঝুলে আছে। বিএনপির সাবেক এই সংসদ সদস্য বেশ কয়েকদিন আগে মনোনয়ন পাবার আশায় বিকল্পধারায় যোগ দেন। এই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নপ্রত্যাশী সুলতান মনসুর।

তবে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে গতরাত পর্যন্ত কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি। এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হতে জাতীয় পার্টির এরশাদের দ্বারস্থ হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য নবাব আলী আব্বাস।

শমশের মবিন চৌধুরী মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি সিলেটসহ সারাদেশেই বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার এটা ছিল ‘টক অব দ্য সিটি’।

সিলেট সদর বা সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের সুযোগ কম বলেই জানা গেছে। সুত্র ঃ নয়া দিগন্ত

সর্বশেষ সংবাদ