30 C
Dhaka
বুধ জুলাই ২৪, ২০১৯, ৭:২৯ পূর্বাহ্ন.
প্রচ্ছদ ব্লগ

নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য,প্রভাবশালী মহলবিশেষের অ’পক’র্ম আড়াল করতেই নয়ন বন্ড ক্র*সফা*য়ারে

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জা’মিনের আবেদন গ্রহণ করে শুনানির জন্য ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেছে জেলা আ’দালত। জা’মিনের আবেদন নাকচ করে ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে মিন্নির আপিল মি’স কে’স হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ম্যা’জিস্ট্রে’ট আদালতের নথি তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত এই মা’মলার প্রধান আ’সামি নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগমের দাবি, প্রভাবশালী মহলবিশেষকে আড়াল করতেই তার ছেলেকে ক্র’সফায়া’রে মা’রা হয়েছে।

মিন্নির আইনজীবী মাহাবুবুল বারী আসলাম জানান, বেলা সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা শুনানি শেষে আবেদনটি মিস কেস হিসেবে নথিভুক্তির পাশাপাশি ম্যা’জিস্ট্’রেট আ’দালতের নথি তলব করা হয়েছে। তিনি বলেন, রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলায় ১৫ জন স্বীকারো’ক্তি দিলেও মা’মলার প্রধান সা’ক্ষী মিন্নি তার জ’বানব’ন্দি প্র’ত্যাহার করতে চাচ্ছেন। তার দাবি, মিন্নিকে নি’র্যাতন ও ভ’য়ভী’তি দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বী’কারো’ক্তিমূ’লক জ’বানব’ন্দি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গতকাল দুপুরে শহরের ডিকেপি রোড (বরগুনা সরকারি কলেজের পেছনে) এলাকায় নিজের বাড়িতে নয়ন বন্ডের মা সঙ্গে কথা বলেন। শাহিদা বেগম বলেন, ‘কেউ ষ’ড়য’ন্ত্র করেছে। কারও ইশারায়ই নয়নকে মে’রে ফেলা হয়েছে। ছেলেটার শরীরজুড়ে শুধু আ’ঘাতের চিহ্ন। হাতের নখ ওঠা’নো। পায়ে লা’ঠির আ’ঘাতের দা’গ। কানও কা’টা। আর গু’লিতে বুকটা ঝাঁ’জরা করা।’ ক্র’সফায়া’র হলে কি শুধু বুকেই গু’লি লাগবে? প্রশ্ন নয়ন বন্ডের মায়ের। তিনি বলেন, ‘ওর বাবা মা’রা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইছি। কিন্তু নয়নকে কখনো কথা শোনাতে পারি নাই।

একবার নাকি ১২ লাখ টাকার মা’দকদ্র’ব্য নয়নের কাছে পাওয়া গেছে।’ এত টাকা সে কোথায় পেল? কে দিল? জানতে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘নয়নকে নজরে রাখতে বাসায় সিসি ক্যামেরা লাগাইছি। হ’ত্যার পরপরই কারা যেন বাসায় এসে ওর কম্পিউটার নিয়ে গেছে। সিসি ক্যামেরাগুলা ভেঙে দিছে। শুনছি পুলিশের লোকজনই বাসায় আসছিল।’ শাহিদা বেগম বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গেও তো নয়নের সম্পর্ক ভালো ছিল। মাঝে মাঝে ফোন আসলে জানতে চাইতাম কে ফোন করেছে। তখন বল তো এসপি সাহেব ফোন করেছে। ওসি সাহেব ফোন করেছে। মাঝে মাঝে পুলিশের অনেকেই নয়নের খোঁজখবর নিতে বাসায় আসত।’

নয়ন বন্ডের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে দোষী, এটা আমি জানি। কিন্তু সে তো এক দিনে নয়ন বন্ড তৈরি হয়নি। তাকে তৈরি করা হয়েছে। বড় বড় লোকজন তাকে ব্যবহার করার জন্য নয়ন বন্ড হিসেবে তৈরি করেছে।’ কারা নয়নকে ব্যবহার করত- এমন প্রশ্নে শাহিদা বেগম বলেন, ‘সে আওয়ামী লীগ করত, এলাকার আওয়ামী লীগের অনেক নেতা নয়নকে বিভিন্ন জায়গায় ডেকে নিয়ে যেত। আমি নাম বলতে পারব না। তবে আমার ছেলেকে হ’ত্যা করা হয়েছে। কারণ, তার মুখ থেকে যদি প্রভাবশালী মহলের সব অ’পক’র্মের ঘটনা ফাঁ’স হয়ে যায়, সেই জন্যই।’

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স’ন্ত্রাসী’রা প্র’কাশ্যে রা’মদা দিয়ে কু’পিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী মিন্নি হা’মলাকা’রীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে ব্যর্থ হন। গুরুতর আ’হত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মা’রা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বা’দী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আ’সামি করে বরগুনা থানায় একটি হ’ত্যা মা’মলা দা’য়ের করেন। ওই মা’মলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রে’ফতার করেছে। গত ২ জুলাই ভোরে মা’মলার প্রধান আ’সামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হয়। পরে মিন্নিকেও রিফাত হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি করে গ্রে’ফতার দেখানো হয়। সুত্র :বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

গভীর রাতে বিবৃতি দিয়ে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান পদে রওশন এরশাদের অস্বীকার

জাতীয় পার্টি আর গৃহবিবাদ দলটির জন্য যেন সমার্থক শব্দ হয়ে দাড়িয়েছে। ৯০’এর গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীণ সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে দ্বন্ধ-গৃহবিবাদ যেন দলটির পিছু ছাড়ছে না। দফায় দফায় ভাঙ্গনে জর্জরিত দলটির নেতৃত্বের কোন্দল যেন লেগেই আছে। এই দ্বন্ধ-গৃহবিবাদের সর্বশেষ সংস্করণ পার্টির সদ্যঘোষিত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে অস্বীকার করে সোমবার গভীররাতে প্রয়াত এরশাদপত্মী রওশন এরশাদের বিবৃতি। শনিবার তার গুলশানের বাসায় জিএম কাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তিনি দেবর জিএম কাদেরকে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়াও করে দেন। কিন্তু ৪৮ ঘন্টা না পেরুতেই সোমবার গভীর রাতে জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান নন বলে গণমাধ্যমে ওই বিবৃতিটি পাঠান।

এদিকে জাতীয় পার্টির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে ছাড়ছে না গৃহবিবাদ। তার জীবদ্দশাই পাঁচবার ভাঙ্গনের মুখে পড়ে দলটি। তারপরও এরশাদের কৌশলী খেলায় রাজনীতির ময়দানে তার নেতৃত্বাধীন জাপাই ছিল মূল দল হিসাবে। এরশাদের মৃত্যুর পর পৃথক স্থানে অনুষ্ঠিত চারটি জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি পার্টির নেতাকর্মীদের দারুণভাবে চাঙ্গা করে তোলে। এতে দল আরো শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন জাপা নেতারা। এই অবস্থায় জাপার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের যৌথভাবে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলে আগামীতে তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়ে সরকার গঠন করে এরশাদের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এরশাদ তার মৃ*ত্যুর আগে গত ৪ মে জিএম কাদেরকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেন এবং তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে একটি সাংগঠনিক নির্দেশনাও দিয়ে গেছেন। তখন থেকেই জাপায় রওশন এরশাদ অনুসারী বলে পরিচিত কয়েকজন সিনিয়র নেতা তা মেনে নিতে পারেননি। এরশাদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর পর কয়েকদিন এ বিষয়ে কোন আলোচনা না হলেও তার কুলখানির পর বিষয়টি অনেকের নজরে আসে।

যদিও এরশাদের মত্যুর পরদিন থেকেই জাপার সিংহভাগ নেতাকর্মীরা জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুলাই জাপার বনানী কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা হঠাৎ করে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করলে অসন্তুষ্ট হন রওশনপন্থী সিনিয়র নেতারা।

এমন অবস্থায় শনিবার ভাবি রওশন এরশাদের মান ভাঙ্গাতে তার গুলশানের বাসভবনে যান জিএম কাদের। এসময় দেবরকে দোয়াও করে দেন রওশন এরশাদ। কিন্তু ৪৮ ঘন্টা না পেরুতেই সোমবার গভীর রাতে জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান নন বলে একটি বিবৃতি পাঠান। যদিও বিবৃতির নিচে রওশন এরশাদ ও যেসব নেতাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের স্বাক্ষর নেই। দেবর-ভাবির এমন টানপোড়নে অস্থিরতা বিরাজ করছে দলটিতে।

পার্টির চেয়ারম্যান, বিরোধীদলের নেতা ও রংপুর-৩ আসন থেকে দল থেকে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তেই আসতে পারছে না দলটির শীর্ষনেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্টির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, পার্টি চলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। দলের চেয়ারম্যান জীবিত অবস্থায় তার অবর্তমানে দল পরিচালনা করার জন্য গঠনতন্ত্রের ২০/১-ক ধারা মোতাবেক তার অনুজ জিএম কাদেরকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন এবং বলেছেন তার অবর্তমানে জিএম কাদেরই হবেন পার্টির চেয়ারম্যান। একই গঠনতন্ত্রে রওশন এরশাদকে বিরোধীদলের উপনেতা বানানো হয়েছে। উনি এখন বিরোধীদলের নেতা হবেন এটাই স্বাভাবিক। এখানে ভুল বোঝাবুঝির কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। পার্টির সবাইকে বলবো আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এরশাদের দলকে শক্তিশালী করে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাই।

পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, প্রয়াত পল্লীবন্ধু এরশাদের ইচ্ছা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান, রওশন এরশাদ বিরোধীদলের নেতা। তাদের যৌথ নেতৃত্বেই পার্টি পরিচালিত হবে। এর বাইরে গিয়ে নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার জন্য পার্টির দু’একজন নেতা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করছেন। অথচ পার্টির তৃণমূলের কাছে তাদের নুন্যতম গ্রহণযোগ্যতাও নেই।

প্রেসিডিয়াম আরেক সদস্য প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, হঠাৎ করে এভাবে ঘোষণা না করে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সবাই জিএম কাদেরকে আমরা চেয়ারম্যান ঘোষণা করতে পারতাম তাহলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতোনা, আমরাও সম্মানিত হতাম।

জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, স্যার (এরশাদ) যে সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন তার কোনো বিকল্প নেই। জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান এ নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই এবং বিকল্পও নেই। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চেয়ারম্যান ঘোষণা করলে ভালো হতো। অতি উৎসাহীদের জন্য দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জাপা যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, যখন বিএনপি থেকে নেতাকর্মীরা জাপায় আসতে শুর করেছে, ঠিক সেই সময়ে দলের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপির এজেন্টরা দলের বিবেদ সৃষ্টি করে পার্টির ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করছেন। তাদের এ উদ্দেশ্য সফল হবে না।

রওশনের বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী বিবৃতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো বিবৃতিতে স্বাক্ষর করিনি। পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের নির্দেশনা অনুযায়ী জিএম কাদেরই পার্টির চেয়ারম্যান।

সার্বিক বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, রওশন এরশাদ আমার মাতৃসম্যতুল্য। উনি আমার অভিভাবক। তার পরামর্শক্রমেই দল পরিচালিত হবে। রওশন এরশাদের বিবৃতিতে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনি এমন বিবৃতি দিতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না। দুইদিন আগেও ভাবির বাসায় গিয়েছি। আবারও যাবো। আমি আবারও বলছি আমাদের মাঝে কোনো বিবোধ নেই।

জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান মানেন না রওশন

এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদে জিএম কাদেরকে অস্বীকার করে সোমবার গভীররাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার প্যাডে হাতে লেখা এক বিবৃতিতে রওশন এরশাদ দাবি করেছেন, যথাযথ কোনও ফোরামে আলোচনা না করেই জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ওই বিবতিতে তিনি পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। রওশনের এ বিবৃতিকে সমর্থন জানিয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সাত জন সংসদ সদস্য। বিবৃতির সত্যতা নিশ্চিত করে রওশন এরশাদ এরশাদ বলেন, আমি এই বিবৃতি দিয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে করার কারণে বিবৃতিটি হাতে লেখা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৪ জুলাই মা*রা যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর আগে গত জুনে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরকে দায়িত্বভার অর্পণ করেন তিনি। বিষয়টি তাৎক্ষণিক মেনে নিলেও এরশাদের মৃ*ত্যুর চার দিনের মাথায় গত ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে গণমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। আর এর পাঁচ দিন পরেই তাকে চেয়ারম্যান পদে মানতে আপত্তি জানালেন রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা।

সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার প্যাডে হাতে লেখা এই বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ লিখেছেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের মারফত আমরা জানতে পেরেছি জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা আদৌ কোনও যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র ধারা ২০ (২) এর খ-এ দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। যথা−মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০ (২) এর ‘ক’ কে উপেক্ষা করা যাবে না। আশা করি বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি পার্র্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। বিবৃতিতে দলের সব নেতাকর্মীকে গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

রওশনের এই বিবৃতিতে সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে রয়েছেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, ফখরুল ইমাম এমপি, সেলিম ওসমান এমপি, অধ্যাপিক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী এমপি, নাসরিন জাহান রত্মা এমপি ও মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এর বাইরে লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি ও রওশন আরা মান্নান এমপি।

এদিকে রওশনের এই বিবৃতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে বিভক্তির বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। এরশাদের মৃত্যুর পর জিএম কাদের ও রওশন এরশাদের মধ্যে দলের নেতৃত্ব এবং ক্ষমতা নিয়ে যে বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে তা রাজনৈতিক মহলে অনুমিতই ছিল। বিশেষ করে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার আসন নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্ধের বিষয়টি এমন আভাস আগেই দিয়েছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলের আসনে গিয়ে গত জানুয়ারিতে জিএম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ঘোষণা করলেও সে সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেননি পার্টিও প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরেই তাকে সরিয়ে রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করতে বাধ্য হন তিনি।

এরও আগে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া-না নেওয়া নিয়ে রওশন ও জিএম কাদেরের পারস্পরিক মত পার্থক্য ভীষণ দোটানায় ফেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে তাদের সঙ্গে জোট গড়ার লবি করেন রওশন এরশাদ। এরশাদ তার চাপে মহাজোটে থাকার ঘোষণা দেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রী থাকার পরেও বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় জাতীয় পার্টিকেও নির্বাচনের বাইরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান জিএম কাদের ও তার অনুসারীরা।

ফলে দোটানায় পড়ে এরশাদ একবার নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দেন, আবার পর মুহূর্তে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক তামাশার সৃষ্টি করেন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি থাকতে হয় তাকে। নির্বাচনে না গিয়ে টানা পাঁচ বছর সংসদের বাইরে ছিলেন জিএম কাদের। এদিকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন রওশন এরশাদ। আর হাসপাতালের শয্যায় থেকেও নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন এরশাদ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

তারেক রহমান ও জামায়াত ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে ড. কামালের দূরত্ব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অনেকটাই ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়েছে। গঠনের পর জাতীয় ইস্যুতে ফ্রন্ট যতটুকু সরব ছিল, এখন ততটাই নীরব। নির্বাচন-উত্তর ড. কামাল হোসেনের নানা সিদ্ধান্তে তার দল গণফোরামে সমালোচনা হয়েছে। ফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপিও অন্তুষ্ট তার ওপর। যার কারণে শরিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে আর সামনে এগোতে চায় না বিএনপি।

জানা গেছে, গত দেড় মাসে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কিংবা সমন্বয় কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। বিভাগীয় শহরগুলোতে গণশুনানি ও সমাবেশ করার ঘোষণা দিলও তা আর এগোয়নি। নুসরাত হত্যা নিয়ে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েও স্থগিত করা হয়। সম্প্রতি বেশিরভাগ সময়ই বিএনপির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করে বৈঠক ডেকেছেন ড. কামাল। এসব কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দল যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ঐক্যফ্রন্টের পেছনে না ছুটে দল ও দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠন

গোছানোকে যুক্তিযুক্ত মনে করছেন তারা। নির্বাচনের পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে স্কাইপে মতবিনিময় করেন। সেখানেও ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেতারা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে সরে আসার মতও দেন অনেকে।

এর কারণ হিসাবে তারা বলেছেন, যে কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত সব নেতাকর্মী বিএনপির। অথচ খালেদা জিয়ার নামে সেøাগান দেওয়া যাবে না, ফ্রন্টের নেতারা তার মুক্তি চাইবে না- এমন জোট রাখা দরকার নেই।

সম্প্রতি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম- জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানেও নেতাদের অধিকাংশের মত ছিল- ঐক্যফ্রন্টের প্রয়োজন নেই।

এ বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি এই ফ্রন্ট রেখে কোনো লাভ নেই। তারা থাকলে থাকবে, না থাকলে নেই। যেহেতু নির্বাচনের সময় জাতীয় প্রয়োজনে জোট গঠন করা হয়েছে, তাই চাইলেও ঘোষণা দিয়ে জোট ভেঙে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা ঘোষণা দিয়ে ভেঙেও দেব না। কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত হলে ফ্রন্টের নেতারা যদি তার নেতৃত্ব মেনে থাকতে চায়; থাকবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের আপত্তি থাকবে না।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, আমরা সবকিছুতেই আছি। বিগত দিনে ২০-দলীয় জোট অথবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নানা কর্মসূচি করেছি। এখন দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। আবার সময় সুযোগ হলে পরিস্থিতি বুঝে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অথবা ২০-দলীয় জোটের ব্যানারে কর্মসূচি করব।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কর্মসূচি নেই। তবে ভবিষ্যতে ফ্রন্টের কী অবস্থান হবে এবং কী কর্মসূচি হবে তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

বিএনপি নেতারা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ার পেছনে দলটির নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্য ছিল- কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অভাব পূরণ করতে দেশে-বিদেশে পরিচিত- এমন কোনো রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। তাই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব মেনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি।

যদিও কামাল হোসেনকে খালেদা জিয়ার আসনে বসানো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন অনেক নেতাই। বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাকে নিয়ে বিএনপিতে ওই সময় থেকে সন্দেহ তৈরি হয়। স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, এখন মনে হয় ড. কামাল হোসেন বিএনপি নয়; সরকারেরই সুবিধা করে দিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল। ড. কামাল এই ফ্রন্টের নেতৃত্বে আছেন অথচ বিএনপি নেত্রীসহ নেতাকর্মীদের মুক্তি চাইবেন না। এটি কী হতে পারে? ফ্রন্টের অবস্থাটা এমন যে, রাজ্য আছে, রাজা নেই। দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি হওয়ার পর তিনিই ঠিক করবেন ফ্রন্টের ভবিষ্যতে কী হবে।

বর্তমান সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কার্যকর আছে কি নেইÑ সেই প্রশ্নে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, দেখুন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে নির্বাচন সামনে রেখে। মূল লক্ষ্য রেখে সেই ফ্রন্ট হয়েছিল। সেই মূল লক্ষ্য তো আমাদের থাকবেই।

জানা যায়, গত দুই মাস ফ্রন্টের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ডেঙ্গু, ধর্ষণ, গণপিটুনিতে হত্যা, শেয়ারবাজারে ধসসহ নানা ইস্যু থাকলেও কর্মসূচি তো দূরে থাক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিবৃতিও দেওয়া হয়নি। গত ১০ জুন সর্বশেষ ফ্রন্টের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ বৈঠক বসেছিল উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায়। সেই বৈঠকে ড. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ‘অসুস্থতার’ কথা বলে তিনি যাননি। এ অবস্থায় গত ১০ জুলাই অসন্তুষ্ট হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তাকেও ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেই।

বর্তমানে আ স ম আবদুর রব চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না লন্ডনে রয়েছেন। এ অবস্থায় বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করছে। ১৮ জুলাই বরিশালে ও ২০ জুলাই চট্টগ্রামে সমাবেশ করেছে। ২৫ জুলাই খুলনায় ও ২৯ জুলাই রাজশাহীতে সমাবেশ করবে। এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগের জন্য আলাদা ৫টি ত্রাণ কমিটি করে গতকাল মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছে। এসব কর্মসূচিতে ২০-দলীয় জোট অথবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুছুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের সভা-সমাবেশে বক্তব্য মানে শুধু বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু। অথচ সরকারের বিরুদ্ধে, সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে সেভাবে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলতে চান না। এটি হলে কেন আমরা তাকে (ড. কামাল হোসেন) নেতা বলব। আমার নেত্রী অসুস্থ হয়ে কারাগারে নির্যাতিত হচ্ছে, চিকিৎসা পাচ্ছেন না সেই মানবিকতাবোধও তার মধ্যে নেই। এর পরও কেন আমরা তথাকথিত ঐক্যফ্রন্ট ধরে রাখব?

ড. কামাল হোসেন ঘনিষ্ঠ গণফোরাম নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম দল বিএনপির কার্যক্রমেও ড. কামাল হোসেনও খুশি নন। তারেক রহমান ও জামায়াত ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে ড. কামালের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে জানান ওই নেতা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

অমলা পলের ন*গ্ন দৃশ্যের নতুন ভিডিও ভাইরাল! (ভিডিও)

পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনের কারণে এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর চলচ্চিত্র জগতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সময়কার সিনেমায় নায়ক-নায়িকার চুম্বনের দৃশ্য তো সকলেই দেখে থাকবেন। পিছিয়ে নেই বলিউড ইন্ডাস্ট্রিও।

এখনকার সিনেমা মানেই তাতে চুম্বন দৃশ্য থাকবে। আর সিনেমায় চুম্বন দৃশ্য বা কিস সিন নিয়ে মানুষের মনে কখনোই উত্তেজনার শেষ নেই। কে কাকে কখন কিভাবে চুমু খেল কতক্ষণ খেল, এসব নিয়ে চর্চা চলতেই থাকে।

এই বিষয়গুলোকে আগে সমাজে খুব লজ্জার বিষয় হিসেবে মনে করা হতো সেগুলোর দৃশ্য এখন সিনেমায় অবলীলায় ধারণ হচ্ছে। শুধু চুম্বন দৃশ্যই নয়, বর্তমানে ন*গ্ন দৃশ্যও খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে বলিউডের চলচ্চিত্রে।

সিনেমায় ন*গ্ন দৃশ্যের ব্যবহার ও তা নিয়ে বিতর্ক। এ সমস্যা নতুন কিছু নয়। সেই বিতর্কে নতুন সংযোজন তামিল ছবি ‘আদাই’। টিজার প্রকাশের পর থেকেই নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে অমলা পল অভিনীত এই ছবি।

ছবি নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা চরমে থাকলেও ন*গ্নতা*কে প্রচার করা ও তামিল সংস্কৃতি ধ্বংসের অভিযোগে এই ছবির বিরুদ্ধে সম্প্রতি মামলা করলেন তামিলনাড়ুর এক রাজনীতিক।

তামিলনাড়ুর আনাইথু মাক্কাল কাটচি দলের প্রতিষ্ঠাতা রাজেশ্বরী প্রিয়া। তিনিই তামিল সংস্কৃতির অবমাননার বিষয় নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন হলে এই ছবির প্রদর্শনী বন্ধ করতে। কিন্তু তার মা*মলা প্রদর্শনী বন্ধ করতে পারেননি সে*ন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া এই ছবির।

‘আদাই’-এ অভিনয়ের জন্য ইতিমধ্যেই সিনেমা প্রেমীদের একাংশ অমলার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অবশ্য কেউ কেউ তার সমালোচনাতেও সুর মেলাচ্ছেন। আর এ সবের মধ্যেই গতকাল ওই ছবির ন*গ্ন দৃশ্যটি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন অমলা। তার পরই ভাইরাল হয়েছে সেটি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

মোবাইলে ২০ টাকা ব্যালেন্সের জন্য স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী!

সাভারের ধামরাই উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর যৌ*নাঙ্গ কে*টে দিয়েছে স্ত্রী। সোমবার (২২ জুলাই) মধ্যরাতে সোমবাগ ইউনিয়নের কংসপট্টিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ভু*ক্তভোগী*র স্বজনরা বা*দী হয়ে একটি মা*মলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত গৃহবধূকে গ্রে*ফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ভু*ক্তভো*গী স্বামীর নাম ইউসুফ আলী (২৭)। তিনি ধামরাই উপজেলার সোমভাগের কংসপট্টি এলাকার মৃ*ত ইদ্রিস আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন ভ্যানচালক। তার স্ত্রী পারভীন (২৪) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং দুলাল মিয়া ওরফে আইচান বেপারির মেয়ে। পারভীন স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। পাঁচ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝ*গড়া হতো। সোমবার কাজ শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন স্ত্রী। পথিমধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয় তার। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে কোনো কথা না বলে দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বসেন স্বামী। কিছুক্ষণ পর বাড়ি এসে স্ত্রীর মোবাইলটি নিয়ে যান স্বামী। এতে রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যান পারভীন।

এ ঘটনার পর স্বামী বাসায় ফিরে পারভীনকে দেখতে না পেয়ে আত্মীয়দের বাসায় খোঁজ নেন। কিন্তু কোথাও স্ত্রীকে খুঁজে পাননি স্বামী। রাত ১০টার দিকে পারভীন বাসায় আসলে তাদের মধ্যে ঝ*গড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হা*তাহা*তি হয়। এতে ক্ষি*প্ত হয়ে ছু*রি দিয়ে স্বামীর পু*রুষা*ঙ্গ কে*টে দেন স্ত্রী। এতে ইউসুফের যৌ*নাঙ্গে*র এক তৃতীয়াংশ কে*টে যায়।

এ সময় স্বামী চি*ৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। ঘটনার পরপরই পারভীন পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা আ*হত অবস্থায় ইউসুফকে প্রথমে ধামরাই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে ইউসুফ বলেন, ওর (পারভীনের) মোবাইলে ২০ টাকা ব্যালেন্স ছিল। কথা বলে ব্যালেন্স শেষ করেছি। এটাই আমার অ*পরাধ! আমি এই অ*ন্যায়ের বি*চার চাই। ওর সঙ্গে আর সংসার করবো না। তার যৌ*নাঙ্গে ৬টি সেলাই পড়েছে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ধামরাই থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল বলেন, পারভীনের মোবাইলে ২০ টাকা ব্যালেন্স ছিল। দোকানে আড্ডা দেয়ার সময় সেই টাকা খরচ করে ফেলেছিলেন স্বামী। এটাই স্বামীর অপরাধ। মূলত এটা নিয়েই তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই গৃহবধূকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

একে অন্যকে ‘ছেলে ধ’রা’ বলে গ’ণ ধো’লাই খেলেন স্বামী-স্ত্রী

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার মাঝে একজন আরেকজনকে ‘ছে’লে’ধ’রা’ বলায় গ’ণ ধো’লাই খেতে হয়েছে দুজনকেই। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নয়নপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ’ণ ধো’লাই দেওয়ার পর স্বামী পালিয়ে গেলেও স্ত্রীকে আ’টক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জি’জ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, পরিবারের এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে রিকশা খুঁজছিলেন ওই স্বামী-স্ত্রী। এর মধ্যে ঝগড়া বাধে দুজনের। একপর্যায়ে চরমপর্যায়ে চলে যায় সেই ঝগড়া। এর মধ্যেই রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে স্বামীকে ইঙ্গিত করে ‘ছে’লে ধ’রা’ বলে চিৎকার করে ওঠেন স্ত্রী। তখন স্বামীও স্ত্রীকে ইঙ্গিত করে ‘ছে’লে ধ’রা-ছে’লে ধ’রা’ চিৎকার করতে থাকেন। পরিবারের ওই বন্ধুটি দুজনকে সামলাতে চাইলেও পারছিলেন না।

ততক্ষণে আশেপাশের মানুষজন জড়ো হয়ে যায়। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করে পে’টাতে শুরু করেন তারা। গ’ণ ধো’লাইয়ের শি’কার হন ওই পরিবারিক বন্ধুও। বি’ক্ষুব্ধ জনতার গ’ল ধো’লাই খেয়ে স্বামী ও বন্ধুটি পালিয়ে গেলেও বাঁচতে পারেননি স্ত্রী।

জানা গেছে, ওই নারীর নাম তানিয়া। তিনি স্থানীয় বেড়াইদেরচালা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা এবিএম তাজউদ্দিনের মেয়ে। গ’ণ পি’টুনি খাওয়ার সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, ‘তার স্বামী আরেক বিয়ে করেছেন শুনে ঝগড়া বাধে তাদের মধ্যে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে,ছে’লে’ধ’রা নন।

কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা তার কথা কানে তোলেনি। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তানিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে তিনি বার বার একই কথা বলেছেন।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল হক জানান, তানিয়াকে জি’জ্ঞাসাবাদের সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধা তাজউদ্দিনের মেয়ে বলে জানিয়েছেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করছিলেন। সে সময় একজন আরেকজনকে ছে’লে ধ’রা বলায় জনতা গ’ণ ধো’লাই দেয় তাদের।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

ভিপি নুরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ক্লাস-পরীক্ষা সচলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ নেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত তিনদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যারা শুরু থেকেই সাত কলেজের অধিভুক্তির বিরোধীতা করে আসছিলেন। সাত কলেজ বিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ডাকসু ভিপি নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন সমর্থন ও উস্কানি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের।

ছাত্রলীগের নেতারা অভিযোগ করেন, আখতার হোসেন অবৈধভাবে ডাকসুর টাকা খরচ করে তালা কিনেছেন এবং ভিপি নুরুল হক নুর তাতে সমর্থন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতারা। এ কারণে নুর ও আখতারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা শুনেছি, যে তালা এখানে লাগানো হয়েছে, সেই তালা আগের দিন রাতেই ডাকসু সম্পাদকের কাছে দেওয়া হয়। সেই তালা নিয়ে, সেই শিকল নিয়ে ক্যাম্পাসে তালা দিয়েছেন ডাকসুর ওই সম্পাদক।’

রাব্বানী অভিযোগ করে বলেন, সাত কলেজের অধিভুক্ত বাতিলের আন্দোলনে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদকের অংশগ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গেট ও ভবনে তালা দেওয়া শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ।

ডাকসু সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দেশে ফিরে এলে ছাত্রলীগ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজসেবা সম্পাদকের পদ বাতিল করার জন্য আবেদন করবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, নুর ও আখতারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে ছাত্রলীগের দাবিকে পাগলের প্রলাপ বলে মন্তব্য করছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘তাদের এই দাবি পাগলের প্রলাপ। আমরা তা কেয়ার করি না।’

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত তিনদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যারা শুরু থেকেই সাত কলেজের অধিভুক্তির বিরোধীতা করে আসছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

কুমিল্লাতে প্রিয়া সাহার বি*রুদ্ধে করা মা*মলাও খারিজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ‘বাংলাদেশি সংখ্যাল*ঘুরা নি*পীড়নের শি*কার হচ্ছে- এমন মন্তব্য করার অ*ভিযোগে প্রিয়া সাহার বি*রুদ্ধে কুমিল্লায় করা রা*ষ্ট্রদ্রো*হের মা*মলা খা*রিজ করে দিয়েছে আ*দালত।

মঙ্গলবার কুমিল্লার সিনিয়র জু*ডিশি*য়াল ম্যা*জেস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতের বিচারক সোহেল রানা মা*মলাটি আমলে না নিয়ে খা*রিজ করে দেন। খা*রিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বা*দীপক্ষের আইজীবী অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম।

এর আগে, সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জু*ডিশি*য়াল ম্যাজেস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ও মহানগর ১১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল মা*মলাটি দা*য়ের করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

“মিন্নি নয়, রিফাত হ’ত্যার নেপথ্যে চেয়ারম্যানের স্ত্রী-পুত্ররা?”

বরগুনার আলোচিত রিফাত হ’ত্যাকাণ্ড নিয়ে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শুরুতে নি’হত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি এই হ’ত্যা মা’মলার প্রধান সাক্ষী থাকলেও পরবর্তীতে তিনিই হয়ে যান আ’সামি। প’রকীয়াই এই হ’ত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তবে এবার বেরিয়ে এসেছে আরেক তথ্য। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র বলছে, রিফাত হ’ত্যার নেপথ্যে থাকতে পারেন বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্ত্রী সামসুন্নাহার খুকি। তিনি রিফাত হ’ত্যার অন্যতম দুই আ’সামি রিফাত ফরাজি ও রিশান ফরাজির খালা।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনার কলেজ রোডে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে স্ত্রী মিন্নির সামনে যারা কু’পিয়ে হ’ত্যা করেন তাদের অগ্রভাগে ছিলেন রিফাত ফরাজী ও রি’শান ফ’রাজী। ওইদিনের ঘটনার প্রকাশিত ভিডিও-তে দেখা যায়, ছোট ভাই রি’শান পেছন দিক থেকে রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে ছিলেন। আর বড় ভাই রিফাত ফরাজি দা’ দিয়ে কো’পাচ্ছিলে’ন। বড় ভাইয়ের সেই দা’য়ের আ’ঘাতে রি’শানের হাতও অনেকটা কে’টে গিয়েছিল। রিফাত হ’ত্যার প্রধান আ’সামি ছিলেন নয়ন। নয়ন-রিফাত দ্বন্দ্বের কারণ হিসেবে রিফাতের স্ত্রী মিন্নির সঙ্গে নয়নের প’রকীয়াকে দায়ী করা হচ্ছিলো। ভাবা হচ্ছিলো, মিন্নির কারণেই রিফাতের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন নয়ন। কিন্তু রিফাতকে কো’পানোর সময় ফরাজি ভাইরাই কেন সবচেয়ে বেশি নৃ’শং’স হয়ে উঠেছিলেন সেই প্রশ্ন উঠছেই। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ঘটনার পেছনে জড়িয়ে আছে আরেক কাহিনি।

রিফাত ফরাজি ও রি’শান ফ’রাজির বাসা শহরের ধানসিড়ি রোডে হলেও তারা থাকতেন শেখ রাসেল স্কয়ার লাগোয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসায়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শামসুন্নাহার খুকী তাদের খালা হন। খুকীর একমাত্র প্র’তিবন্ধী ছেলে কয়েক বছর আগে পানিতে ডু’বে মা’রা যায়। তখন থেকেই দুই ভাই রিফাত ও রিশান তাদের খালা চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে মা বলে ডেকে আসছিলেন। তারা দুই ভাই ওই বাসায়ই থাকতেন। এমনকি চেয়ারম্যানের স্ত্রী তার ভাগ্নেদের সব অ’পকর্মেই প্রশ্রয় দিতেন বলেও জানা যায়। রিফাতের বিরুদ্ধে চারটি মা’মলা রয়েছে। তিনি একাধিকবার গ্রে’প্তারও হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তার খালা চেয়ারম্যানের স্ত্রী খুকি প্র’ভাব খাটিয়ে তাকে জা’মিনে ছাড়িয়ে আনেন।

দেলোয়ার হোসেনের বাসার সামনেই রয়েছে তার মালিকানাধীন দোকান। সেটি ভাড়া নিয়ে এক ব্যবসায়ী খাবারের হোটেল ‘মাটিয়াল ক্যাফে অ্যান্ড মিনি চায়নিজ’ করেছেন। রিফাতকে কু’পিয়ে হ’ত্যার ঘটনার আগে গত ৫ মে মিন্নি তার স্বামীকে নিয়ে ওই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন। রিফাত শরীফ তার মোটরসাইকেল চেয়ারম্যানের বাসার একেবারে সামনে সড়কের পাশে রাখার চেষ্টা করেন। তখন সামসুন্নাহার খুকি বাধা দেন। এ নিয়ে খুকির সঙ্গে রিফাতের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। রিফাত তার সঙ্গে বা’জে ব্যবহার করেন। তখন রিফাতকে দেখে নেওয়ার হু’মকি দিয়েছিলেন খুকি। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরেই দুই ভাই রিফাত শরীফের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন রিফাত-রিশান।

মিন্নি তার সংবাদ সম্মেলনেও এ বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বরগুনা সরকারি কলেজ ফটকের সামনে তার স্বামীকে রিশান ফরাজি প্রথম পথ রোধ করেছিলেন। রিশান তখন দাবি করেছিলেন, রিফাত শরীফ তার মাকে (খুকি) অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন। কেন করেছেন সেটা জানতে চান রিশান। ঠিক একই সময় রিফাত ফরাজী বলেন, ‘তুই (রিফাত) আমার চোখের দিকে তাকাইয়া ক, মাকে কেন তুই গালি দিয়েছো।’ তখন রিফাত-রিশানের সঙ্গে থাকা অন্য আ’সামিরা রিফাতের কাছে অ’স্ত্র আছে বলে চিৎকার করে এবং ধর ধর বলে তাকে কি’লঘু’ষি মা’রতে শুরু করে।

রিফাত হ’ত্যার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে বরগুনা সরকারি কলেজের ফটক থেকে ধরে আনার আগে থেকেই রিফাত ফরাজি কলেজ ফটকে অবস্থান করছিলেন এবং তার সহযোগীদের নানা নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।

পুরো বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি হ’ত্যার সঙ্গে নিজের এবং শামসন্নাহার খুকির জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। রফাতের সঙ্গে তার স্ত্রীর কোনো কথাকা’টাকা’টির ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

রেনু হ’ত্যার প্রধান আ’সামি হৃদয়কে গ্রে’ফতার

রাজধানীর বাড্ডায় ছে’লে ধ’রা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনু হ’ত্যার ঘটনায় হ’ত্যাকা’ণ্ডের প্রধান আ’সামি হৃদয়কে গ্রে’ফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিকেলে গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে মো. মাহবুব আলম নামক এক ব্যক্তি হৃদয়কে দেখতে স্থানীয়দের সহোযোগিতায় তাকে আ’টক করে পুলিশের নিটক সোপর্দ করে।

গুলিস্তান পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জানিয়েছে, মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি হৃদয়কে দেখতে পেয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন আমি এ ধরণের কোন সংবাদ পাইনি এখনও।

এর আগে সোমবার (২২ জুলাই) রাতে গ্রেফতার কামাল ও আবুল কালাম আজাদ নামে দুইজনকে আ’টক করা হয়। সোমবার সকালে গ্রে’ফতার করা হয় বাচ্চু নামের একজনকে। রোববার অভিযান চালিয়ে পুলিশ বাপ্পী, শাহীন ও জাফর নামে তিনজনকে গ্’রেফতার করে।

গ’ণ পি’টুনির ঘটনায় উদ্ধার করা মোবাইলে ধারণকৃত একটি ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্টতা পাবার পর তাদেরকে গ্রে’ফতার করা হয়। জড়িত অন্যদেরকে শনাক্ত করে গ্রে’ফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় মেয়েকে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে স্থানীয় একটি স্কুলে যান মা তসলিমা বেগম রেনু (৪০)। এ সময় তাকে ছে’লে ধ’রা সন্দেহে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে বের করে গ’ণ পি’টুনিতে হ’ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আ’সামি করে একটি মা’মলা দা’য়ের করেন নি’হতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ সংবাদ